[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.youtube.com/@itihasergolpo/videos
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.youtube.com/watch?v=OGOPQVohzEI
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.youtube.com/watch?v=OGOPQVohzEI
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.facebook.com/itihasergolpo
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.facebook.com/groups/169370998212533
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.facebook.com/groups/169370998212533
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.youtube.com/watch?v=lUYAdDxCBHo
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.youtube.com/watch?v=lUYAdDxCBHo
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.youtube.com/watch?v=X_qey8QfzY0
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: History of Africa 1870-1885 Documentary 3/6
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: https://www.youtube.com/watch?v=X7crC8izX2w
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: ক্রিটিকাল জিওপলিটিক্স তিনটি স্তরে কাজ করে: (১) ফরমাল জিওপলিটিক্স, যা নীতিনির্ধারক, গবেষক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্মিত হয়; (২) প্র্যাক্টিক্যাল জিওপলিটিক্স, যা রাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়; এবং (৩) পপুলার জিওপলিটিক্স, যা মিডিয়া, সিনেমা, সংবাদ, পত্রিকা ও সাধারণ চর্চায় উঠে আসে। এই তিনটি স্তরের বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, ভূরাজনীতি কীভাবে জনগণের চেতনায় ঢুকে পড়ে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভৌগোলিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে জিওপলিটিক্স (ভূরাজনীতি) একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। কিন্তু প্রচলিত জিওপলিটিক্স প্রায়ই রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্মিত হয়, যা ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক ভাষ্য ও স্বার্থকেই গুরুত্ব দেয়। এই একমুখী দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে বিকল্প হিসেবে উঠে আসে "ক্রিটিকাল জিওপলিটিক্স" বা সমালোচনামূলক ভূরাজনীতি।
ক্রিটিকাল জিওপলিটিক্স একটি সাম্প্রতিক চিন্তাধারা, যা ১৯৮০ ও ১৯৯০ দশকে পশ্চিমা বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই তত্ত্বটি মূলত প্রচলিত ভূরাজনৈতিক বয়ান ও ধারণাগুলোকে প্রশ্ন করে এবং তা তৈরি ও প্রচারে ভাষা, মাধ্যম, সংস্কৃতি ও ক্ষমতার ভূমিকাকে বিশ্লেষণ করে। বলা যেতে পারে, এটি ভূরাজনীতির ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনার পেছনে যে ক্ষমতা, ভাবনা এবং আদর্শ কাজ করে, সেটি উন্মোচনের চেষ্টা করে।
ক্রিটিকাল জিওপলিটিক্সের মূল ভিত্তি হলো, ভূরাজনীতি কোনো নিরপেক্ষ বা বস্তুগত বাস্তবতা নয় বরং এটি একটি নির্মিত ধারণা। রাষ্ট্র, সরকার, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম এবং শিক্ষাব্যবস্থা—এই সবের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়ান তৈরি হয়, যা জনগণের কাছে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘প্রাকৃতিক’ বলে প্রতিভাত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপ করে, তখন নিজেদেরকে ‘গণতন্ত্রের রক্ষক’ হিসেবে তুলে ধরে এবং প্রতিপক্ষকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এই বয়ানের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি হয়।
সমালোচনামূলক ভূরাজনীতিবিদরা মনে করেন, এই বয়ানগুলো নিরপেক্ষ নয় বরং ক্ষমতার একটি হাতিয়ার। যারা এই বয়ান তৈরি করে, তারাই রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তৃত্ব বজায় রাখে। এই ভাবনাটি পোস্ট-স্ট্রাকচারালিজম (পরিকাঠামোগত-বিচার-বিরোধী) চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যা ভাষা, প্রতীক ও ধারণার বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থ ও ক্ষমতার নির্মাণ প্রক্রিয়াকে বোঝার চেষ্টা করে।
ক্রিটিকাল জিওপলিটিক্স তিনটি স্তরে কাজ করে: (১) ফরমাল জিওপলিটিক্স, যা নীতিনির্ধারক, গবেষক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্মিত হয়; (২) প্র্যাক্টিক্যাল জিওপলিটিক্স, যা রাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়; এবং (৩) পপুলার জিওপলিটিক্স, যা মিডিয়া, সিনেমা, সংবাদ, পত্রিকা ও সাধারণ চর্চায় উঠে আসে। এই তিনটি স্তরের বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, ভূরাজনীতি কীভাবে জনগণের চেতনায় ঢুকে পড়ে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই তত্ত্ব প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে ভারত, চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে। ধরুন, বাংলাদেশে ভারতকে নিয়ে প্রচলিত কিছু বয়ান আছে, যেমন—‘ভারত বন্ধু রাষ্ট্র’ কিংবা ‘ভারত আমাদের দখল করতে চায়’। এই দুই বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গিই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের, মিডিয়ার বা জনগণের দৃষ্টিকোণ থেকে উঠে এসেছে। কিন্তু এদের মধ্যে কোনটা সত্য আর কোনটা কল্পনা—তা নির্ভর করে কে, কখন, কোন উদ্দেশ্যে এসব বয়ান তৈরি করছে।
ক্রিটিকাল জিওপলিটিক্স আমাদের এই চিন্তার জায়গাতেই নিয়ে যায়—এই বলে যে, ভূরাজনীতি মানে শুধু মানচিত্রে সীমান্ত টানা নয়, বরং এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি, যা ভাষা, ক্ষমতা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে গড়ে ওঠে এবং জনগণের রাজনৈতিক চেতনা তৈরি করে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: ইউরোপের রাজনৈতিক বিভাজন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মূল ক্ষেত্র ছিল ইউরোপ, যেখানে বিভিন্ন দেশ এবং সাম্রাজ্য একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল। এই যুদ্ধের ফলে ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল।
সার্বিয়া ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সম্পর্ক: সার্বিয়ার প্রতি অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির আক্রমণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়, যা বালকান অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছিল।
ফ্রান্স ও জার্মানির সীমান্ত: জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে সীমান্তের লাইন, বিশেষ করে পশ্চিম ফ্রন্ট, যেখানে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চলছিল, যুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্থান ছিল।
ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের ভূমিকা: ভূমধ্যসাগরের জলের উপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ইতালি, ব্রিটেন, এবং অটোমান সাম্রাজ্য নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল।
পূর্ব ফ্রন্টে রাশিয়া: রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে পূর্ব সীমান্তে বড় ধরনের যুদ্ধ সংঘটিত করেছিল।
অটোমান সাম্রাজ্যের পতন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে গিয়ে তুরস্কের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তিত হয়।
বালকান অঞ্চলের অস্থিরতা: বালকান অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগত এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগেও বিদ্যমান ছিল, যা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে সহায়ক হয়েছিল।
ভৌগলিক অবস্থান এবং সমুদ্রপথ: সমুদ্র পথে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য ব্রিটেন এবং জার্মানি নিয়মিত সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল, বিশেষত আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগরে।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতীয় সৈন্যদের ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলির ভৌগলিক অবস্থা তাদের সেনাবাহিনী পাঠাতে সহায়তা করেছিল, যা যুদ্ধের অন্যতম বড় অংশ ছিল।
পশ্চিম আফ্রিকার ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলির ভূখণ্ডও ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে জার্মানদের বিরুদ্ধে।
রাশিয়ার অগ্রগতি এবং দিক পরিবর্তন: রাশিয়ার ভূগোল যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তারা ইউরোপের পূর্ব দিকের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত এবং যুদ্ধের পর রাশিয়া নতুন রাজনীতির দিকে অগ্রসর হয়।
কেমব্রিজ এবং প্যারিসের শান্তি চুক্তি: যুদ্ধ শেষে কেমব্রিজ এবং প্যারিসে অনুষ্ঠিত শান্তি চুক্তি ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করেছিল।
জার্মান সাম্রাজ্যের অবসান: জার্মান সাম্রাজ্যের পতন এবং তার শাসিত অঞ্চলগুলো (যেমন, পশ্চিম আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া) নতুন রাজনৈতিক সীমানার জন্ম দেয়।
পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ: যুদ্ধের সময় জাপান নতুন ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের সাম্রাজ্যিক বিস্তার ঘটায়, যা বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করে।
আফ্রিকায় কলোনি যুদ্ধ: আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং অন্যান্য সাম্রাজ্যগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে, বিশেষ করে পশ্চিম ও পূর্ব আফ্রিকায়।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: ইউরোপের রাজনৈতিক বিভাজন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র ছিল ইউরোপ, যেখানে বেশ কিছু শক্তিশালী সাম্রাজ্য একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। যুদ্ধের ফলে ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্রের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে এবং অনেক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এই পরিবর্তনগুলি ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সার্বিয়া ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সম্পর্ক: ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির আক্রমণ সার্বিয়ার উপর, অস্ট্রো-সার্বিয়ান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। এই সংঘর্ষটি বালকান অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ইউরোপে বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা করে।
ফ্রান্স ও জার্মানির সীমান্ত: পশ্চিম ফ্রন্ট ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে জার্মানি এবং ফ্রান্স একে অপরকে ঘিরে চলমান আক্রমণ ও প্রতিরোধের মাধ্যমে বিরাট সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। এই সীমান্তরেখা যুদ্ধের পুরো অবস্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের ভূমিকা: ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যা তুরস্ক, ব্রিটেন, এবং ইতালির মধ্যে দ্বন্দ্বের কেন্দ্রস্থল ছিল। এই অঞ্চলটি যুদ্ধের সময় জার্মানির কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মূলত ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করেছিল।
পূর্ব ফ্রন্টে রাশিয়া: রাশিয়ার পূর্ব সীমান্ত ছিল যুদ্ধের অন্যতম প্রবল কেন্দ্র, যেখানে রাশিয়া জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। এই যুদ্ধ অঞ্চলটি বিপুল পরিমাণে সৈন্য এবং রিসোর্স ব্যবহারের ফলে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধের গতিপথকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল।
অটোমান সাম্রাজ্যের পতন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং তার ভূখণ্ডে তুরস্কের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র নতুনভাবে গঠিত হয়, যেখানে ব্রিটেন এবং ফ্রান্স তাদের উপনিবেশিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করে।
বালকান অঞ্চলের অস্থিরতা: বালকান অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগেও ছিল। সার্বিয়া, গ্রিস, বুলগেরিয়া এবং অন্যান্য ছোট জাতির মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল, যা যুদ্ধের আগেই অঞ্চলের অস্থিরতা তৈরি করেছিল। এই অস্থিরতা পরবর্তীতে ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বড় সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভূগোলিক অবস্থান এবং সমুদ্রপথ: সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য ব্রিটেন এবং জার্মানির মধ্যে মারাত্মক লড়াই চলছিল। আটলান্টিক এবং ভূমধ্যসাগরের উপর ব্রিটেনের নৌবাহিনীর কর্তৃত্ব ছিল যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেহেতু এই পথগুলি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং রসদ পরিবহনের জন্য অপরিহার্য ছিল।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতীয় সৈন্যদের ভূমিকা: ব্রিটিশ উপনিবেশ কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতীয় সৈন্যদের ব্যাপক অবদান ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। তাদের সহায়তায় ব্রিটেন সামরিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল, এবং এসব দেশ তাদের সৈন্য পাঠিয়ে ইউরোপে যুদ্ধের শক্তি সমর্থন করেছিল।
পশ্চিম আফ্রিকার ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পশ্চিম আফ্রিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের উপনিবেশগুলি যুদ্ধের সময় সামরিক রিসোর্স সরবরাহ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং এই অঞ্চলে যুদ্ধের কিছু মূল প্রতিরোধ ও আক্রমণ সংঘটিত হয়েছিল।
রাশিয়ার অগ্রগতি এবং দিক পরিবর্তন: রাশিয়ার ভূগোল যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তারা ইউরোপের পূর্ব দিকের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। যুদ্ধ শেষে রাশিয়ার সমাজে বিপ্লব ঘটে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন হয়, যা পুরো পূর্ব ইউরোপের রাজনৈতিক কাঠামোকে পুনরায় গঠিত করে।
কেমব্রিজ এবং প্যারিসের শান্তি চুক্তি: যুদ্ধের পর কেমব্রিজ এবং প্যারিসে শান্তি চুক্তি সই করা হয়, যা ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন করে গড়ে তোলে। প্যারিস চুক্তি বিভিন্ন দেশের সীমান্ত পুনর্বিন্যাস করে এবং নতুন জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করে।
জার্মান সাম্রাজ্যের অবসান: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, যার ফলে বহু অঞ্চলে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। জার্মানি হারানো অঞ্চলগুলির মধ্যে পশ্চিম ইউরোপ এবং আফ্রিকার কিছু অংশ ছিল, যা যুদ্ধের পর নয়া রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ: যুদ্ধের সময় জাপান নতুন ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের সাম্রাজ্যিক বিস্তার ঘটায়। প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জে জাপানী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্যকে পরিবর্তিত করে।
আফ্রিকায় কলোনি যুদ্ধ: আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং অন্যান্য সাম্রাজ্যগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। যুদ্ধের সময়, বিশেষ করে পশ্চিম এবং পূর্ব আফ্রিকার অঞ্চলগুলো ছিল সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রস্থল, যা পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
এই ১৫টি ভূগোল বিষয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কেন্দ্রস্থলে থাকা অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা এবং তাদের প্রভাবকে চিত্রিত করে, যা পরবর্তীতে বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: টয়েনবির প্রতিবন্ধকতা এবং মোকাবেল তত্ত্ব হল আর্নল্ড টয়েনবির উন্নয়নমূলক ইতিহাসের তত্ত্ব, যেখানে তিনি সভ্যতার উত্থান-পতন এবং সেগুলির অভিযোজনমূলক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করেছেন। এই তত্ত্বের মূল অংশ হল, সভ্যতা যখন কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়, তখন তা কিভাবে মোকাবিলা করতে পারে, তা তার ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ করে।
নিচে টয়েনবির প্রতিবন্ধকতা এবং মোকাবেল তত্ত্ব ব্যাখ্যা করা হলো:
• চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিক্রিয়া তত্ত্বের ধারণা: আর্নল্ড টয়নবি তার গ্রন্থ "অধ্যায়গুলি" (Studies of History) তে সভ্যতার ইতিহাস এবং এর বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে ‘চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিক্রিয়া’ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, সভ্যতাগুলির উত্থান, বিকাশ এবং পতন চ্যালেঞ্জের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
• চ্যালেঞ্জ: টয়নবি মতে, সভ্যতাগুলি যখন একটি নতুন বা পুরানো সংকট বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তখন তাদের অস্তিত্বে বিপদের সৃষ্টি হয়। এই চ্যালেঞ্জগুলি সাধারণত সমাজের ভিতর বা বাইরের কোনও সমস্যার কারণে সৃষ্টি হয়, যা সভ্যতাকে নতুনভাবে চিন্তা এবং কাজ করার জন্য বাধ্য করে।
• প্রতিক্রিয়া: সভ্যতাগুলি চ্যালেঞ্জের প্রতি যে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটি তাদের ভবিষ্যৎকে স্থির করে। যদি তারা সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তাহলে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে। কিন্তু যদি তারা অসফল হয়, তবে তা তাদের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
• চ্যালেঞ্জের উৎস: চ্যালেঞ্জের উৎস হিসেবে টয়নবি বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, যুদ্ধ, বিদেশী আক্রমণ, বা সামাজিক অস্থিরতা।
• সভ্যতার উত্তরণ: চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলে, সভ্যতাগুলি নতুন কৌশল, ধারণা বা প্রযুক্তি আবিষ্কার করে, যা তাদের উত্তরণের পথ খুলে দেয়। এই প্রতিক্রিয়া সভ্যতার অগ্রগতির প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে।
• নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: চ্যালেঞ্জের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রায়শই নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং চিন্তা-ভাবনার জন্ম দেয়, যা সভ্যতাকে শক্তিশালী করে তোলে এবং তাদের সামনে আসা সমস্যাগুলি সমাধান করতে সহায়ক হয়।
• ধ্বংসের কারণ: সভ্যতাগুলি যখন সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্যর্থ হয় এবং নিজেদের সমস্যা সমাধানে অক্ষম হয়, তখন তারা ধ্বংসের দিকে চলে যায়। টয়নবি মনে করেন, চ্যালেঞ্জের প্রতি অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া সভ্যতার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
• ধ্বংসের পূর্বাভাস: টয়নবি তাঁর তত্ত্বে বলেন যে, যখন একটি সভ্যতা তার অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয় বা বাহ্যিক চ্যালেঞ্জের প্রতি সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে না, তখন তার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই পর্যায়ে সভ্যতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধ্বংসের দিকে চলে যায়।
• চ্যালেঞ্জের ধরন: চ্যালেঞ্জের ধরন অনেক রকম হতে পারে। কিছু চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধ, আবার কিছু চ্যালেঞ্জ নতুন অর্থনৈতিক বা সামাজিক কাঠামোর দাবি হতে পারে। যে কোনও চ্যালেঞ্জ সভ্যতাকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে।
• সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: একটি সভ্যতার রাজনৈতিক এবং সামাজিক কাঠামোই তার চ্যালেঞ্জের প্রতি প্রতিক্রিয়া ঠিক করে। নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সভ্যতাগুলি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, বা অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করে, যা তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
• আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: এক সভ্যতার চ্যালেঞ্জ শুধু তাদের নিজস্ব সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না। অন্যান্য সভ্যতাও তাদের চ্যালেঞ্জের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হয়, এবং এটি বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে বা বৈরিতা সৃষ্টি করে।
• সভ্যতার শক্তি ও দুর্বলতা: টয়নবি বলেন, সভ্যতার শক্তি তাদের চ্যালেঞ্জের প্রতি সঠিক প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। যদি তারা সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়, তবে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু যদি তাদের প্রতিক্রিয়া দুর্বল হয়, তবে তারা ধ্বংসের দিকে চলে যাবে।
• ধারণার পরিবর্তন: সভ্যতার প্রতিক্রিয়া প্রায়শই চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। নতুন পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া সংস্কৃতির উন্নতি, ধর্মীয় বিশ্বাস বা দার্শনিক ধারণার পরিবর্তন ঘটায়।
• সামাজিক চ্যালেঞ্জ: টয়নবি বলেছেন যে, সভ্যতার উত্থান-পতন শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক কারণে নয়, বরং সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কারণে ঘটতে পারে। যেমন, সামাজিক সম্পর্ক, শ্রেণী বিভাজন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সভ্যতার ভবিষ্যত নির্ধারণ করে।
• প্রতিক্রিয়া নির্ধারণকারী উপাদান: সভ্যতার চ্যালেঞ্জের প্রতি প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে তার ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতির উপর। কিছু সভ্যতা ভালোভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম হয়, আবার কিছু সভ্যতা নিজেদের সংকট থেকে উত্তরণে ব্যর্থ হয়।
• মুলুকের উপর বৈষম্য: টয়নবি দেখান যে, একই চ্যালেঞ্জ একটি সভ্যতার মধ্যে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করতে পারে, কারণ সভ্যতার অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল একে অপর থেকে ভিন্ন হতে পারে।
• ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উত্তর: চ্যালেঞ্জের প্রতি প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র সমাজের রাজনৈতিক বা শাসক শ্রেণির দায়িত্ব নয়, তা সাধারণ জনগণের ওপরও নির্ভর করে। যে শ্রেণি বা ব্যক্তি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেয়, তাদের সিদ্ধান্ত সভ্যতার ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করে।
• সংস্কৃতির পরিবর্তন: যখন একটি সভ্যতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তারা তাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে। কখনও কখনও সভ্যতাগুলি নিজেদের চিন্তা, ধর্ম, সাহিত্য, এবং প্রযুক্তির দিক থেকে পুনরায় গঠন করে নেয়।
• যুদ্ধ এবং আক্রমণের ভূমিকা: অনেক সময় সভ্যতার চ্যালেঞ্জ বাহ্যিক আক্রমণ বা যুদ্ধ হতে পারে। একটি সভ্যতা যদি এই আক্রমণের প্রতি সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তবে তারা তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। তবে, যদি তারা অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া জানায়, তারা পরাজিত হতে পারে।
টয়নবির ‘চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিক্রিয়া’ তত্ত্বটি সভ্যতার উত্থান ও পতনের একটি স্বতন্ত্র ব্যাখ্যা প্রদান করে। চ্যালেঞ্জের প্রতি সঠিক প্রতিক্রিয়া সভ্যতাকে শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল করে তোলে, আর অসফল প্রতিক্রিয়া সেই সভ্যতার পতন আনতে পারে। এটি ইতিহাসের একটি চিরন্তন পাঠ, যা সভ্যতার ভবিষ্যত নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ এবং তার প্রতিক্রিয়ার গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তোলে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: “Man achieves civilization, not as a result of superior biological endowment or geographical environment, but as a response to a challenge in a situation of special difficulty which rouses him to make a hitherto unprecedented effort.”
― Arnold Toynbee, A Study of History**
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: "From the river to the sea, Palestine will be free" — বিশ্লেষণ (বিস্তৃত রূপে)
১. ভূগোলিক অর্থ
"নদী থেকে সমুদ্র" বলতে জর্দান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অঞ্চল বোঝানো হয়, যেখানে বর্তমানে ইসরায়েল, পশ্চিম তীর এবং গাজা ভূখণ্ড অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের পূর্ণ মানচিত্রের ইঙ্গিত দেয়।
২. পূর্ণ ফিলিস্তিনের দাবি
এই স্লোগানটি বোঝাতে চায় যে, পুরো ফিলিস্তিনি ভূমি দখলমুক্ত হবে এবং সেখানে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। কোনো অংশকে বাদ দিয়ে নয়, সম্পূর্ণ ভূখণ্ডকে মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা।
৩. রাজনৈতিক বক্তব্য
এটি ফিলিস্তিনিদের একটি রাজনৈতিক অধিকার দাবি করার প্রকাশ: আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভূমির উপর মালিকানা, এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন।
৪. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৪৮ সালের নাকবা (Catastrophe) -র সময় লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবেও এই স্লোগানটি গড়ে উঠেছে।
৫. শরণার্থীদের অধিকার
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিজস্ব ঘরে ফেরার অধিকার, জাতিসংঘের রেজোলিউশন ১৯৪-এর আলোকে, এই দাবির একটি প্রধান ভিত্তি।
৬. জাতীয়তাবাদ
এই শ্লোগানটি ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজেদের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিকে শক্তিশালী করে।
৭. প্রতিরোধের ভাষা
এটি একটি প্রতিরোধমূলক আহ্বান — দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করার প্রতিশ্রুতি।
৮. বিভ্রান্তির সৃষ্টি
অনেক ইসরায়েলপন্থী বা পশ্চিমা মিডিয়া একে ইসরায়েল ধ্বংসের ডাক হিসেবে চিত্রিত করে, যদিও বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি এটি ব্যাখ্যা করেন একটি মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত, মানবিক সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে।
৯. আন্তর্জাতিক সমর্থন
বিশ্বের নানা দেশ ও আন্দোলন — যেমন Black Lives Matter বা দক্ষিণ আফ্রিকার এন্টি-আপারথাইড আন্দোলন — ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
১০. সমালোচনার মুখোমুখি
বিশেষ করে পশ্চিমা রাজনীতিতে কিছু মহল মনে করে এই স্লোগানটি "বিতর্কিত" বা "উস্কানিমূলক", যদিও বাস্তবে এটি অধিকাংশ ফিলিস্তিনির কাছে স্বাধীনতার আশা প্রকাশ করে।
১১. রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যবহার
হামাসের মতো দল এই স্লোগান ব্যবহার করে প্রতিরোধের ডাক দেয়, যদিও এটি শুধুমাত্র কোনো এক সংগঠনের না — এটি বৃহত্তর ফিলিস্তিনি জনগণের আবেগের প্রতিফলন।
১২. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রশ্ন
সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন, পুরো অঞ্চল দাবি করা মানে কি ইসরায়েলিদের উপস্থিতি অস্বীকার করা? অন্যদিকে অনেক ফিলিস্তিনি বলেন, তারা একটি বহুসাংস্কৃতিক, ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্র চায়।
১৩. মানবাধিকার দৃষ্টিভঙ্গি
এই দাবির মূল হলো মানুষের বেঁচে থাকার, বসবাসের এবং নিজেদের ভবিষ্যত নির্ধারণের অধিকার — যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
১৪. সাংস্কৃতিক শক্তি
গান, কবিতা, শিল্পকর্ম, গ্রাফিতি — সব জায়গায় এই স্লোগান ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ এবং পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
১৫. মুক্তি আন্দোলনের একতা
এই স্লোগানটি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জাতিগত, রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বিভেদ অতিক্রম করে ঐক্য গঠনের মাধ্যম হয়েছে।
১৬. মৌলিক দাবি
এটি একটি মৌলিক এবং সাধারণ দাবি: দখলদারিত্বের অবসান, বৈষম্যের শেষ, এবং একটি মুক্ত, সমান সমাজ গঠন।
১৭. আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন
"নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত" ধারণাটি ফিলিস্তিনি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এবং নিজেদের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার প্রতিজ্ঞা।
১৮. আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব
ফিলিস্তিন সমস্যা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনীতির একটি কেন্দ্রবিন্দু। এই স্লোগান কেবল একটি দেশের বিষয় নয়, বরং পুরো অঞ্চলের শান্তি-অশান্তির সাথে জড়িত।
১৯. আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ প্রস্তাবনার সাথে সম্পর্ক
জাতিসংঘের অনেক প্রস্তাবনা (বিশেষ করে ১৯৪ এবং ২৪২ নং রেজোলিউশন) শরণার্থীদের অধিকার ও দখলদারিত্ব বন্ধের কথা বলেছে, যার সাথে এই স্লোগানের মর্ম মিলে যায়।
২০. ভবিষ্যতের দৃষ্টি
এই স্লোগান একটি আশার স্বপ্ন তুলে ধরে — যেখানে সমস্ত জাতি ও জনগণ সম্মান, সমতা ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে একসঙ্গে বসবাস করবে।
"From the river to the sea, Palestine will be free" কোনো হিংসাত্মক চেতনার প্রকাশ নয় বরং একটি জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সম্মানের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। এটি ইতিহাস, রাজনীতি, অধিকার এবং ভবিষ্যতের প্রতি একটি জোরালো দাবি।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: ১. প্রতিশোধ
এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রতিশোধ। ডিয়েগো এবং পরে আলেহান্দ্রো – দুজনেই তাদের প্রিয়জন হারানোর বেদনা থেকে প্রতিশোধের পথ বেছে নেয়।
২. ন্যায়বিচার বনাম দুর্নীতি
জোরো প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য, যেখানে শাসকেরা নিপীড়ন ও দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি।
৩. পরিচয়
আসল ডিয়েগো ও নতুন জোরো আলেহান্দ্রো – দুজনেই লড়াই করে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় ও ‘নকল মুখোশের’ ভিতরের মানুষকে খুঁজে পেতে।
৪. উত্তরাধিকার ও সিংহাসন হস্তান্তর
ডিয়েগো তার দায়িত্ব ও দক্ষতা নতুন প্রজন্ম আলেহান্দ্রোর হাতে তুলে দেন, যেখানে উত্তরাধিকার কেবল রক্তের নয়, আদর্শেরও।
৫. মুক্তি ও পুনরুজ্জীবন
আলেহান্দ্রো একজন চোর থেকে একজন বীর হয়ে ওঠে, তার নিজের চরিত্রের মুক্তি ও সংশোধনের পথে হাঁটে।
৬. উপনিবেশিক নিপীড়ন
চলচ্চিত্রটি স্প্যানিশ উপনিবেশিক শাসনের শোষণ ও বৈষম্য তুলে ধরে, যেখানে স্থানীয় এবং মিশ্র জাতিসত্তা নিপীড়নের শিকার।
৭. প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ
সাধারণ মানুষের নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ – জোরো যেন একটি আন্দোলনের প্রতীক।
৮. রূপান্তর
আলেহান্দ্রোর ব্যক্তিত্ব ও জীবনধারা এক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ রূপে বদলে যায়।
৯. প্রেম ও আনুগত্য
আলেহান্দ্রো ও এলেনার প্রেম ছাড়াও আছে পরিবারের প্রতি, আদর্শের প্রতি গভীর আনুগত্য।
১০. বিশ্বাসঘাতকতা
ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা – যেমন ডিয়েগোর মেয়েকে দত্তক নেওয়ার নামে চুরি করে নেওয়া হয়।
১১. বীরত্ব
সত্যিকারের বীরত্ব কেবল লড়াইয়ে নয়, ত্যাগে ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোয় প্রকাশ পায়।
১২. ছদ্মবেশ ও দ্বৈততা
মুখোশের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা ও দ্বৈত জীবনের প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে।
১৩. প্রতিশোধ বনাম ন্যায়বিচার
সিনেমাটি প্রশ্ন তোলে – ন্যায়বিচার কি ব্যক্তিগত প্রতিশোধ থেকে আসা উচিত, নাকি নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধ থেকে?
১৪. ক্ষমতা ও লোভ
ডন রাফায়েলের মতো খলনায়করা জমি, সোনা ও নিয়ন্ত্রণের লোভে পরিচালিত হয়।
১৫. উপনিবেশিক শ্রেণি বিভাজন
ধনী স্প্যানিশ শ্রেণির সাথে দরিদ্র স্থানীয় জনগণের ফারাক স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
১৬. প্রশিক্ষণ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ
নিজেকে নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ কিভাবে বীর হয়ে ওঠে – সেটিই এই থিমে তুলে ধরা হয়েছে।
১৭. হারানো পরিবার ও পুনর্মিলন
ডিয়েগোর দীর্ঘ অপেক্ষা – তার কন্যা এলেনার সাথে সত্য জানিয়ে পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষা।
১৮. প্রতীক ও মিথ
জোরো শুধু একজন মানুষ নয়, বরং আশা, ন্যায় ও প্রতিরোধের প্রতীক।
১৯. সাহস ও আত্মত্যাগ
নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে অন্যদের বাঁচানো – এটাই একজন বীরের প্রকৃত পরিচয়।
২০. মুক্তি
চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে ভয়, অন্যায় ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত করা।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: দ্য গলের (Charles de Gaulle) পররাষ্ট্রনীতি ছিল এক বৈপ্লবিক কূটনৈতিক কৌশল, যা ফ্রান্সের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, গৌরব এবং স্বাধীনতাকে রক্ষার লক্ষ্যে গড়ে উঠেছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, ফ্রান্সকে বিশ্বমঞ্চে একটি স্বাধীন ও মর্যাদাসম্পন্ন শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে হলে তাকে অবশ্যই কোনো পরাশক্তির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৬৬ সালে ফ্রান্সকে NATO’র সামরিক কাঠামো থেকে প্রত্যাহার করেন, যদিও জোটের রাজনৈতিক অংশে সদস্যপদ বজায় রাখেন। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা ফ্রান্সের নিজস্ব প্রতিরক্ষা নীতির সূচনা করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের উপর নির্ভর না করে ফ্রান্সের নিজস্ব পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা—যাকে বলা হয় "Force de frappe"—উন্নয়নের ওপর জোর দেন, যাতে ফ্রান্স যেকোনো বৈশ্বিক সংকটে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
দ্য গল বহুধ্রুবীয় (multipolar) বিশ্বব্যবস্থার পক্ষপাতী ছিলেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমেরু আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিশ্ব রাজনীতি যেন একক কোনো পরাশক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভর না করে বরং বিভিন্ন শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে পারে। ইউরোপের ক্ষেত্রে তিনি চেয়েছিলেন একটি আমেরিকান প্রভাবমুক্ত, ফরাসি নেতৃত্বাধীন ইউরোপ গড়ে তুলতে। এই উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ে (EEC) যোগদানের বিরোধিতা করেন, কারণ তার মতে, যুক্তরাজ্যের মাধ্যমে আমেরিকান প্রভাব ইউরোপে প্রবেশ করতে পারে। তার স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন ইউরোপ, যার বিস্তার হবে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে উরাল পর্বতমালা পর্যন্ত।
উপনিবেশবাদ থেকে বেরিয়ে আসার প্রশ্নে দ্য গল বাস্তববাদী ও দূরদর্শী ছিলেন। তিনি আলজেরিয়াকে স্বাধীনতা দিয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার নবগঠিত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেন। এসব অঞ্চলের দেশগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতা করে তিনি ফ্রান্সের প্রভাব ও অবস্থানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করেন। একই ধারাবাহিকতায়, ১৯৬৪ সালে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের বিরোধিতা উপেক্ষা করে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে স্বীকৃতি দেন। এটি ছিল একটি সাহসী পদক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফ্রান্সের স্বাধীন অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করে।
দ্য গল শুধু ভূরাজনৈতিক কৌশলে নয়, সংস্কৃতি ও ভাষার প্রসারে ফ্রান্সের ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতেও আগ্রহী ছিলেন। তিনি “Francophonie” আন্দোলনের সূচনা করেন, যার মাধ্যমে ফরাসি ভাষাভাষী দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক সংযোগ ও ঐক্য গড়ে তোলা হয়। তার এই কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শুধু প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সমন্বিত রূপকল্প—যেখানে ফ্রান্স রাজনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিক এবং কৌশলগতভাবে একাধারে নেতৃত্বে থাকছে। সব মিলিয়ে, দ্য গলের পররাষ্ট্রনীতি ছিল তার সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে, যা ফ্রান্সকে শুধু একটি রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং একটি গৌরবময় জাতি হিসেবেও বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করেছিল।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: দ্যা গলের পররাষ্ট্রনীতির মূল বিষয়গুলো কী ছিল?
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: চিয়াং কাইশেক (Chiang Kai-shek) কে “
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: চিয়াং কাইশেক (Chiang Kai-shek) ছিলেন একজন চীনা রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা, যিনি ২০শ শতকের প্রথমার্ধে চীনের ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৮৮৭ সালের ৩১ অক্টোবর চীনের চেচিয়াং প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল তাইওয়ানে মৃত্যুবরণ করেন। চিয়াং কাইশেক ছিলেন চীনা জাতীয়তাবাদী দল কুওমিনতাং (Kuomintang - KMT)-এর নেতা এবং তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চীনের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুন ইয়াত সেনের মৃত্যুর পর চিয়াং কাইশেক দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে সামরিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে সংগঠিত করতে শুরু করেন।
চিয়াং কাইশেকের নেতৃত্বে কুওমিনতাং ১৯২৮ সালে পুরো চীনকে একত্রিত করে ন্যাশনালিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠা করে। তিনি কমিউনিজমের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) সঙ্গে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হন। এই সংঘর্ষ চীনকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত করে তোলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে, চিয়াং কাইশেক মিত্রশক্তির অন্যতম অংশীদার হিসেবে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তবে তার সরকারের দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা তাকে জনগণের দৃষ্টিতে অপ্রিয় করে তোলে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে চীনে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯৪৯ সালে মাও সে তুং-এর নেতৃত্বাধীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বিজয়ী হয়। পরাজিত চিয়াং কাইশেক তার অনুসারীদের নিয়ে চীন ত্যাগ করে তাইওয়ানে (তৎকালীন ফরমোসা) আশ্রয় নেন এবং সেখানে “রিপাবলিক অব চায়না” নামে একটি পৃথক সরকার গঠন করেন। তিনি তাইওয়ানে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং আজীবন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিয়াং কাইশেক পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করেন, কারণ সে সময় তিনি "কমিউনিজম বিরোধী" শক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
তাঁর শাসনামলে তাইওয়ানে অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন ও শিল্পোন্নয়ন ঘটলেও গণতন্ত্রের চর্চা ছিল সীমিত এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করা হতো। তাঁর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে তাইওয়ানে গণতান্ত্রিক সংস্কার শুরু হয়। চিয়াং কাইশেক চীনের আধুনিক ইতিহাসে একজন বিতর্কিত চরিত্র—তিনি একদিকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, অন্যদিকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচিত। তাঁর রাজনৈতিক জীবন চীন ও তাইওয়ানের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: জার্মানির একত্রীকরণ (Unification of Germany) উনিশ শতকের ইউরোপীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত, যুদ্ধ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল। ১৮৭১ সালে জার্মানির একীকরণ সম্পন্ন হয়, যার মূল স্থপতি ছিলেন প্রুশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ওটো ভন বিসমার্ক (Otto von Bismarck)। তিনি “রক্ত ও লোহা” (Blood and Iron) নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাধীন জার্মান রাজ্যকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী জার্মান সাম্রাজ্য গঠন করেন।
ঐ সময়ে ইউরোপে প্রায় ৩৯টি স্বাধীন জার্মান রাজ্য ছিল, যেগুলো একদিকে অস্ট্রিয়া এবং অন্যদিকে প্রুশিয়ার প্রভাবাধীন ছিল। অস্ট্রিয়া ঐতিহাসিকভাবে জার্মান জনগণের নেতৃত্বের দাবিদার ছিল, কিন্তু প্রুশিয়া তখন সামরিক ও শিল্প ক্ষেত্রে অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। বিসমার্ক বুঝতে পেরেছিলেন যে, একত্রীকরণের পথে অস্ট্রিয়াকে সরিয়ে দেওয়াই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রথমে তিনি ১৮৬৪ সালে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেন এবং শ্লেসভিগ-হলস্টেইন অঞ্চল জয় করেন। এরপর ১৮৬৬ সালে অস্ট্রো-প্রুশিয়ান যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে প্রুশিয়া বিজয়ী হয়ে অস্ট্রিয়াকে জার্মান রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
এরপর বিসমার্ক উত্তর জার্মান সংঘ (North German Confederation) গঠন করেন, যেখানে অস্ট্রিয়ার অংশগ্রহণ ছিল না। দক্ষিণের কিছু জার্মান রাজ্য তখনো প্রুশিয়ার নেতৃত্ব মানতে চাইছিল না। বিসমার্ক তাদের একত্রিত করতে ফ্রান্সকে যুদ্ধের উস্কানি দেন। ১৮৭০ সালে ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধ শুরু হয় এবং এতে প্রুশিয়া ও তার মিত্ররা ফ্রান্সকে পরাজিত করে। এই বিজয়ের ফলে জাতীয়তাবাদী আবেগ আরও তীব্র হয় এবং দক্ষিণ জার্মান রাজ্যগুলো প্রুশিয়ার নেতৃত্বে একত্রীকরণে সম্মত হয়।
১৮৭১ সালের ১৮ জানুয়ারি, ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জার্মান সম্রাট প্রথম উইলহেল্মকে (Wilhelm I) জার্মানির ক্যাইজার (সম্রাট) ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে একীকৃত জার্মান সাম্রাজ্যের (German Empire) জন্ম হয়। এটি ছিল প্রুশিয়া-নেতৃত্বাধীন একটি ফেডারেল সাম্রাজ্য, যেখানে বিসমার্ক চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জার্মানির একত্রীকরণের ফলে ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়। একটি নতুন শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানির উত্থান ব্রিটেন ও ফ্রান্সের জন্য একপ্রকার হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। একইসঙ্গে, এটি ইউরোপের সামরিকীকরণ ও পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধের বীজ রোপণ করে। বিসমার্কের কৌশলী নেতৃত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং সামরিক বিজয় এই ঐতিহাসিক একত্রীকরণ সম্ভব করেছে। এটি শুধু জার্মান জাতির জন্য নয়, ইউরোপের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত ইউনিয়নের নীতি ছিল একাধারে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সামরিক আধিপত্য এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ বিস্তারের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপকে একটি "বাফার জোন" বা প্রতিরক্ষামূলক অঞ্চল হিসেবে দেখতে শুরু করে, যা পশ্চিমা পুঁজিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রক্ষা দেওয়ার কৌশলগত ভূখণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ফলে, যুদ্ধশেষে পূর্ব ইউরোপের যেসব দেশ নাৎসি জার্মানির দখল থেকে মুক্ত হয়েছিল, সেগুলোর ওপর সোভিয়েত সেনাবাহিনী কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এই অঞ্চলের দেশগুলোতে সোভিয়েতপন্থী কমিউনিস্ট সরকার গঠন করা হয় এবং একদলীয় শাসন চালু করা হয়।
প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। সোভিয়েত ইউনিয়ন নিশ্চিত করে যে পূর্ব ইউরোপের প্রতিটি দেশে কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় থাকবে। ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কারচুপি, বিরোধীদলীয় নেতাদের নিপীড়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব ছিল সাধারণ চিত্র। হাঙ্গেরি, চেকোস্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া এবং পূর্ব জার্মানিতে একইরকম কাঠামোর সরকার গঠিত হয়, যেগুলো সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করত।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রবর্তন করা হয়। শিল্প ও কৃষি খাতে ব্যক্তিমালিকানা বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানা চালু করা হয়। পরিকল্পিত অর্থনীতি, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা এবং কেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল এর মূল বৈশিষ্ট্য। COMECON (Council for Mutual Economic Assistance) গঠন করে সোভিয়েত ইউনিয়ন তার নিয়ন্ত্রিত দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত করত।
তৃতীয়ত, সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য Warsaw Pact গঠন করা হয় ১৯৫৫ সালে, যা ছিল NATO-এর প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোট। এই জোটের মাধ্যমে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সোভিয়েত মডেলে রূপান্তর করা হয় এবং মস্কোর নির্দেশে পরিচালিত হতো। কোনো দেশ এই কাঠামো থেকে সরে আসার চেষ্টা করলে, সোভিয়েত ইউনিয়ন সামরিক হস্তক্ষেপ করত—যেমন ১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরি এবং ১৯৬৮ সালে প্রাগ বসন্ত (চেকোস্লোভাকিয়া) দমন।
চতুর্থত, সংস্কৃতি ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও সোভিয়েত আদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হয়। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয় এবং সাহিত্য, সিনেমা ও সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হতো।
এইভাবে, সোভিয়েত নীতি পূর্ব ইউরোপে একটি নিয়ন্ত্রিত, সমমনস্ক সমাজতান্ত্রিক ব্লক গড়ে তোলে, যা ১৯৮৯-৯১ সালের কমিউনিজম পতনের আগ পর্যন্ত টিকে ছিল। যদিও এই নীতির ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বল্পমেয়াদে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি জনঅসন্তোষ, অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার জন্ম দেয়, যার ফলশ্রুতিতে শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles) ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তি, যা ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মানি এবং মিত্র শক্তিগুলোর মধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধপরবর্তী ইউরোপীয় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা, তবে বাস্তবে এটি জার্মানির উপর একতরফাভাবে কঠোর শর্ত আরোপ করে এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়।
চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল জার্মানির প্রতি দায় আরোপ। ২৩১ নম্বর ধারা, যা ‘War Guilt Clause’ নামে পরিচিত, তাতে বলা হয় যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার জন্য একমাত্র দায়ী দেশ হলো জার্মানি। এর ফলে জার্মানিকে বিশাল পরিমাণ যুদ্ধক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানির জন্য এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব, যার ফলে দেশের মধ্যে চরম অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্ব দেখা দেয়।
চুক্তির আওতায় জার্মানির ভূখণ্ডেরও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। আলসেস-লোরেন অঞ্চল ফ্রান্সকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, পোল্যান্ড লাভ করে পশ্চিম প্রুশিয়া এবং পসেন অঞ্চল, এবং রাইনল্যান্ডকে একটি নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যেখানে জার্মান সেনাবাহিনী মোতায়েন করা নিষিদ্ধ ছিল। এছাড়াও, জার্মানির ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য ছিনিয়ে নিয়ে মিত্রশক্তিগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
এই চুক্তির মাধ্যমে জার্মানির সামরিক শক্তিকেও কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়। সেনাবাহিনীর সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারবে না, নৌবাহিনী সীমিত থাকবে এবং বিমানবাহিনী গঠন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এতে জার্মানির সামরিক গর্বে আঘাত লাগে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা দানা বাঁধে।
চুক্তির ফলে ইউরোপের মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য ভেঙে নতুন জাতি-রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়, যেমন চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া ও ইউগোস্লাভিয়া। জাতিপুঞ্জ (League of Nations) গঠন করা হয় ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজের তৈরি এই সংগঠনে শেষ পর্যন্ত যোগ দেয়নি।
ভার্সাই চুক্তিকে অনেকেই মনে করেন "একটি অসম শান্তিচুক্তি", যা একদিকে যেমন জার্মান জনমনে গভীর ক্ষোভ, অপমান ও প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি করে, অন্যদিকে ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। এই ক্ষোভের সুযোগ নিয়েই পরবর্তীতে অ্যাডলফ হিটলার রাজনৈতিক উত্থান ঘটান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ প্রশস্ত হয়। সুতরাং, ভার্সাই চুক্তি কেবল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তিই নয়, বরং পরবর্তী সংঘাতের বীজও বপন করেছিল।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: সুয়েজ সংকট (Suez Crisis) ছিল ১৯৫৬ সালে সংঘটিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ঘটনা, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘটেছিল। এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সুয়েজ খাল, একটি কৌশলগত জলপথ যা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং মূলত ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৯৫৬ সালের জুলাই মাসে, মিশরের রাষ্ট্রপতি গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। মূলত ব্রিটিশ ও ফরাসি মালিকানাধীন একটি কোম্পানি তখন খাল পরিচালনা করছিল। নাসের এই পদক্ষেপ মিশরের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু ব্রিটেন ও ফ্রান্স এটিকে তাদের স্বার্থের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেন ও ফ্রান্স একটি গোপন চুক্তি করে ইসরায়েলের সঙ্গে, যা ইতিহাসে “সেভর চুক্তি” নামে পরিচিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল প্রথমে মিশরের সিনাই উপদ্বীপে আক্রমণ চালাবে এবং এরপর ব্রিটেন ও ফ্রান্স “শান্তি রক্ষা” ও খাল নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে মিশরে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। অক্টোবর ১৯৫৬ সালে ইসরায়েল আক্রমণ চালায় এবং দ্রুত অগ্রসর হয়, এরপর ব্রিটেন ও ফ্রান্স বিমান হামলা শুরু করে। এই আগ্রাসন মিশরের বিরুদ্ধে ছিল সরাসরি ঔপনিবেশিক শক্তির শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রয়াস।
তবে এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়ে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন—যারা শীতল যুদ্ধের বিপরীত দুই শক্তি—দু’জনেই এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েলকে পিছু হটতে বাধ্য করেন। একই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন হুমকি দেয় যে, তারা মিশরকে সমর্থন করতে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে। এই জোটবদ্ধ আন্তর্জাতিক চাপের ফলে অবশেষে আগ্রাসন থেমে যায় এবং খাল আবার মিশরের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে।
সুয়েজ সংকটের তাৎপর্য ছিল বহুস্তরীয়। একদিকে এটি দেখিয়ে দেয় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে পুরনো ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য আর বজায় নেই এবং নতুন পরাশক্তিগুলো—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—বিশ্ব রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। অপরদিকে, এটি নাসের ও মিশরের জন্য এক রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তাকে আরব জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিশ্বমঞ্চে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং তারা বুঝতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
সুয়েজ সংকট ছিল শুধুই একটি সামরিক সংঘর্ষ নয়, বরং এটি ছিল ঔপনিবেশিক যুগের পতনের প্রতীক এবং আধুনিক ভূরাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই সংকট মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদে আরব জাতীয়তাবাদ, পশ্চিমা হস্তক্ষেপবিরোধী মনোভাব এবং তৃতীয় বিশ্বের আত্মনির্ভরতার ধারণা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: বান্দুং সম্মেলন (Bandung Conference) ছিল ১৯৫৫ সালের এপ্রিল মাসে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যা এশিয়া ও আফ্রিকার ২৯টি নবস্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনকে তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার পথচলার একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব যখন শীতল যুদ্ধের মেরুকরণের মধ্যে পড়ে—যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদী পশ্চিমা ব্লক ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক পূর্বা ব্লকের মুখোমুখি অবস্থানে—তখন এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক নবস্বাধীন দেশ এই দ্বৈত আধিপত্যের বাইরে থেকে নিজেদের আলাদা অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে বান্দুং সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম।
সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তারা ছিলেন ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মিশর, ঘানা এবং যুগোস্লাভিয়া, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন যথাক্রমে সুকর্ণো, জওহরলাল নেহরু, গামাল আবদেল নাসের, কোয়ামে এনক্রুমা এবং টিটো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, ঔপনিবেশিক শাসন থেকে সদ্য মুক্তপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং একটি নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। সম্মেলনে উপনিবেশবাদ, বর্ণবৈষম্য, অর্থনৈতিক শোষণ এবং সংস্কৃতিগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করা হয়।
বান্দুং সম্মেলনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল "দশ দফা বান্দুং ঘোষণা", যেখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতিগুলোর মধ্যে সমতা ও অ-হস্তক্ষেপের নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই নীতিমালা ভবিষ্যতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (Non-Aligned Movement)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক জোটের সদস্য না হয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা এবং তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষা করা।
বান্দুং সম্মেলনের গুরুত্ব কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিনিময় উৎসাহিত হয়। একইসঙ্গে, পশ্চিমা বিশ্বের সাংস্কৃতিক প্রভাব মোকাবিলায় নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়াস দেখা যায়।
এছাড়া, বান্দুং সম্মেলন ছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূলধারায় তুলে আনার একটি উদ্যোগ। এটি দেখিয়েছে যে, ছোট বা দুর্বল দেশগুলো একত্রিত হয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রভাবের বাইরে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। সম্মেলনটি ঔপনিবেশিক যুগের অবসান এবং নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সূচনার প্রতীক হয়ে ওঠে।
সার্বিকভাবে, বান্দুং সম্মেলন তৃতীয় বিশ্বের রাজনৈতিক আত্মনির্ভরতা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের ভিত্তি তৈরি করে দেয়, যা পরবর্তী কয়েক দশকজুড়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War) ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সংঘটিত এক দীর্ঘমেয়াদী আদর্শিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দ্বন্দ্ব। যদিও এটি সরাসরি যুদ্ধ ছিল না, তবে এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিকে কয়েক দশক ধরে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। নিচে স্নায়ুযুদ্ধের ২০টি প্রধান কারণ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হলো:
১. পুঁজিবাদ বনাম সমাজতন্ত্রের আদর্শিক দ্বন্দ্ব:
স্নায়ুযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল আদর্শিক বিরোধ। যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষপাতী ছিল, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা, ব্যক্তিমালিকানা ও মুক্ত বাজার ছিল প্রধান বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্র ও একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে অনুসরণ করত, যেখানে রাষ্ট্রই অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করত। এই পরস্পরবিরোধী আদর্শ দুটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং শত্রুতার জন্ম দেয়।
২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো, যেমন ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি—সবই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই প্রধান পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। এই দুই পরাশক্তির মধ্যে নেতৃত্ব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা স্নায়ুযুদ্ধকে উস্কে দেয়।
৩. ইউরোপের রাজনৈতিক বিভাজন:
জার্মানি ও ইউরোপকে পূর্ব ও পশ্চিমে ভাগ করা হয়। পশ্চিম ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এবং পূর্ব ইউরোপ সোভিয়েত প্রভাবে ছিল। এই বিভাজন ইউরোপকে দু’ভাগে ভাগ করে দেয়—একদিকে গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদী পশ্চিম ইউরোপ, অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব ইউরোপ।
৪. জার্মানির ভাগ:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে জার্মানিকে চারটি অংশে ভাগ করা হয়—যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে। পশ্চিম অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স মিলে পশ্চিম জার্মানি (FRG) গঠন করে এবং পূর্ব অংশে সোভিয়েত নেতৃত্বে পূর্ব জার্মানি (GDR) গঠিত হয়। এটি দুই ব্লকের মধ্যে স্থায়ী বিভেদ তৈরি করে।
৫. বার্লিন সংকট ও বার্লিন প্রাচীর:
১৯৪৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিনে অবরোধ আরোপ করে, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে বার্লিন প্রাচীর নির্মাণ করা হয় যাতে পূর্ব জার্মানির নাগরিকেরা পশ্চিমে পালিয়ে যেতে না পারে। এটি স্নায়ুযুদ্ধের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
৬. NATO গঠন (১৯৪৯):
যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে NATO (North Atlantic Treaty Organization) গঠন করে। এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য হুমকি মনে হয় এবং প্রতিক্রিয়াস্বরূপ পরবর্তীতে ওয়ারশ প্যাক্ট গঠিত হয়।
৭. Warsaw Pact গঠন (১৯৫৫):
NATO-র প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার উপগ্রহ রাষ্ট্রগুলো Warsaw Pact নামে একটি সামরিক জোট গঠন করে। এটি পূর্ব ও পশ্চিম ব্লকের মধ্যে সামরিক বিভাজনকে আরও গভীর করে।
৮. পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা:
দুই পরাশক্তির মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালে পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৯ সালে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে। এরপর শুরু হয় 'arms race'।
৯. স্পেস রেস (Space Race):
টেকনোলজি ও মহাকাশ অভিযানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন 'স্পুটনিক' নামে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলে।
১০. প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ:
উভয় দেশ মিডিয়া, সিনেমা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ প্রচার করে এবং অপর পক্ষকে হেয় করার প্রচেষ্টা চালায়। এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভয় ও বিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করে।
১১. কোরিয়া যুদ্ধ (১৯৫০-১৯৫৩):
উত্তর কোরিয়া সোভিয়েত ও চীনের সমর্থনে দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রমণ করে এবং মার্কিন নেতৃত্বে জাতিসংঘ বাহিনী এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এটি ছিল স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম বড় সামরিক সংঘর্ষ।
১২. ভিয়েতনাম যুদ্ধ:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কমিউনিজম রুখতে দক্ষিণ ভিয়েতনামের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং উত্তর ভিয়েতনাম ও ভিয়েতকং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল ও বিভাজন সৃষ্টিকারী ছিল।
১৩. কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (১৯৬২):
সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দেয়। অবশেষে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংকটের অবসান ঘটে, তবে এটি স্নায়ুযুদ্ধকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়।
১৪. ডমিনো থিওরি (Domino Theory):
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করত যে, একটি দেশে কমিউনিজম বিস্তার লাভ করলে আশপাশের দেশগুলোও কমিউনিস্ট হয়ে পড়বে। এই বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক দেশে সামরিক হস্তক্ষেপে উৎসাহিত করে।
১৫. মার্শাল প্ল্যান (Marshall Plan, 1948):
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ পুনর্গঠনের জন্য মার্শাল প্ল্যানের আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এটিকে নিজের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত চাল বলে মনে করে এবং পূর্ব ইউরোপকে এতে অংশ নিতে বাধা দেয়।
১৬. কমিউনিস্ট বিপ্লবের ভয়:
যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করত যে কমিউনিস্ট মতবাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেবে। এই আশঙ্কা থেকেই তারা বিভিন্ন দেশে কমিউনিজম বিরোধী সরকারকে সমর্থন দেয়।
১৭. সোভিয়েত সম্প্রসারণবাদ:
সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোয় সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে তাদের উপগ্রহ রাষ্ট্রে পরিণত করে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে এক ধরনের আগ্রাসন মনে হয়।
১৮. চীন-সোভিয়েত সম্পর্ক:
১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লব ঘটে এবং মাও সেতুং নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে চীন-সোভিয়েত ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়, যা পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়ায়।
১৯. তৃতীয় বিশ্বের জন্য প্রতিযোগিতা:
আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার নবস্বাধীন দেশগুলোকে নিজেদের পক্ষে টানতে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।
২০. জাতিসংঘে মতপার্থক্য ও ভেটো যুদ্ধ:
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উভয় পক্ষ ভেটো ব্যবহার করে একে অপরের প্রস্তাব নস্যাৎ করত। এটি জাতিসংঘকে কার্যকরভাবে কাজ করতে বাঁধা দেয় এবং দ্বন্দ্ব আরও গভীর করে তোলে।
[5/26, 23:11] Mohammad Sajid Hasan: স্নায়ুযুদ্ধের ফলাফল ছিল বহুমাত্রিক এবং জটিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শুরু হয়ে এটি ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে শেষ হয়। এই দীর্ঘ সময়কালে বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্র, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতি প্রকৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। নিচে স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান ১০টি ফলাফল বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন:
স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও চূড়ান্ত ফলাফল ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন। ১৯৯১ সালে বিভিন্ন জাতিগত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এটি ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে যায়। এই পতনের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার উপর আস্থা হ্রাস পায় এবং অনেক দেশ গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
২. যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা:
সোভিয়েত পতনের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটি “Unipolar World Order” নামে পরিচিত। এই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব নিতে থাকে।
৩. পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতন ও গণতন্ত্রের উত্থান:
স্নায়ুযুদ্ধের সময় পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে সোভিয়েত-সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক সরকার ছিল। কিন্তু সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দেশগুলোতে গণতন্ত্রের উত্থান ঘটে। চেকোস্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও রোমানিয়ায় গণআন্দোলনের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক শাসন ভেঙে পড়ে।
৪. জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ:
১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি একত্রিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বার্লিন প্রাচীর ধ্বংসের মাধ্যমে জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ সম্ভব হয়। এটি ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫. আঞ্চলিক সংঘাত ও 'প্রক্সি যুদ্ধ'-এর প্রভাব:
স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে বহু 'প্রক্সি যুদ্ধ' সংঘটিত হয়, যেমন কোরিয়া যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধ ইত্যাদি। এসব সংঘাতে পরাশক্তিরা সরাসরি না জড়িয়ে পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। এই যুদ্ধগুলোতে লাখো মানুষের মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতি এবং দারিদ্র্যের সৃষ্টি হয়।
৬. অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ব্যয়:
যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ই সামরিক খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। সোভিয়েত অর্থনীতি এই প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, যা তাদের পতনের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও বিশাল সামরিক বাজেট জনগণের উপর প্রভাব ফেলে।
৭. নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি:
স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার পর ধীরে ধীরে উভয় পক্ষ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী হয়। SALT (Strategic Arms Limitation Talks), START (Strategic Arms Reduction Treaty), এবং INF Treaty (Intermediate-Range Nuclear Forces Treaty) ইত্যাদি চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা কমানোর প্রচেষ্টা চালানো হয়।
৮. জাতিসংঘের ভূমিকায় সীমাবদ্ধতা:
স্নায়ুযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একে অপরের প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করত। এর ফলে অনেক আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে জাতিসংঘ সক্রিয় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়।
৯. জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) প্রসার:
অনেক উন্নয়নশীল দেশ শীতল যুদ্ধের দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের জন্ম হয়। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, যুগোস্লাভিয়া প্রভৃতি দেশ এতে নেতৃত্ব দেয়। এই আন্দোলন তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর কণ্ঠস্বর তুলে ধরে।
১০. তৃতীয় বিশ্বের রাজনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা:
স্নায়ুযুদ্ধের সময় অনেক উন্নয়নশীল দেশ পরাশক্তির প্রভাববলয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ, সামরিক অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হয়। বিশেষ করে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় এই প্রভাব স্পষ্ট ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত সমর্থিত সরকারগুলো নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অবমূল্যায়ন করত।
No comments:
Post a Comment