Search This Blog

Tuesday, June 24, 2025

POL-301 - Gender and Politics (with special reference to Bangladesh) লিঙ্গ এবং রাজনীতি (বিশেষ করে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করে) MS Shahabanu Eva

 নারীবাদ (Feminism) হলো একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিক মতবাদ, যার মূল লক্ষ্য নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর ওপর পুরুষের আধিপত্য ও বৈষম্যের অবসান ঘটানো425। এই মতবাদের মূল বিষয়বস্তু হলো—নারী যেন রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা পায়42

নারীবাদের মূল উদ্দেশ্য

  • লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ ও সমতা প্রতিষ্ঠা: নারীবাদী তত্ত্ব লিঙ্গ বৈষম্য বিশ্লেষণ করে এবং সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার পক্ষে কথা বলে134

  • নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাধীনতা: নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি অধিকার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সম্পত্তির অধিকার, ভোটাধিকার, প্রজনন অধিকার, এবং পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সংগ্রাম নারীবাদের মূল লক্ষ্য45

  • পিতৃতন্ত্র ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান: নারীবাদী চিন্তাধারা সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো, স্টেরিওটাইপ, যৌন নিপীড়ন ও নারীর প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার125

নারীবাদের বিভিন্ন ধারা

নারীবাদ একক কোনো মতবাদ নয়; বরং এতে রয়েছে নানা ধারা ও দৃষ্টিভঙ্গি। প্রধান কিছু ধারার সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

ধারামূল বৈশিষ্ট্য
উদারনৈতিক নারীবাদ (Liberal Feminism)আইন ও সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে নারী-পুরুষ সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে56
মার্কসীয় নারীবাদ (Marxist Feminism)নারীর নিপীড়নের মূল কারণ শ্রেণি বৈষম্য ও পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা বলে মনে করে589
রেডিক্যাল নারীবাদ (Radical Feminism)পিতৃতন্ত্রকে নারীর নিপীড়নের মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার বিলোপ চায়5
সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ (Socialist Feminism)শ্রেণি ও লিঙ্গ—দু’টি কাঠামোর মিলিত নিপীড়ন বিশ্লেষণ করে589
সাংস্কৃতিক নারীবাদ (Cultural Feminism)নারীর স্বতন্ত্র গুণাবলী ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব দেয় এবং সমাজে নারীর ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরে5
পরিবেশ নারীবাদ (Eco Feminism)নারী ও প্রকৃতির ওপর সমান্তরাল নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়5
বৈশ্বিক নারীবাদ (Global Feminism)বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে5

নারীবাদী তত্ত্বের ক্ষেত্র

নারীবাদী তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব, অর্থনীতি, সাহিত্য, শিল্প, শিক্ষা, মনোবিজ্ঞান, দর্শনসহ নানা জ্ঞানশাখায় লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, ক্ষমতার সম্পর্ক, যৌন রাজনীতি, স্টেরিওটাইপিং ইত্যাদি বিষয় বিশ্লেষণ করে12

উপসংহার

নারীবাদ মূলত নারীর মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার জন্য পরিচালিত একটি মতবাদ ও আন্দোলন, যা সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, নিপীড়ন ও পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে45

  1. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80_%E0%A6%A4%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC
  2. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6
  3. https://bgc.ac.in/pdf/study-material/Feminist-apporach-to-international-relations.pdf
  4. https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6
  5. https://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/sksali/29898700
  6. https://www.rbu.ac.in/home/avz9s6ve0gq6/public_html/ckfinder/userfiles/files/MousumiDas_MA4-OEC4_1_20062020.pdf
  7. https://www.surendranatheveningcollege.com/wp-content/uploads/2020/04/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BF-or-Feminist-Approach-to-IR-both-Bengali-and-English-version.pdf
  8. https://hmmcollege.ac.in/uploads/dept_teaching_plan/Naribad.pdf
  9. https://www.dumdummotijheelcollege.ac.in/pdf/1588571779.pdf
  10. https://crpmahavidyalaya.in/wp-content/uploads/2020/04/6th-sem-GEprogramme-History-of-Feminist-Movement.pdf

নারীবাদ একটি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন যা নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে। এই মতবাদের মূল লক্ষ্য হল লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করা এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

নারীবাদের মূল নীতিসমূহ:

সমতার নীতি: নারী ও পুরুষের মধ্যে সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে সমতা।

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: নারীদের নিজস্ব পছন্দ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জীবনযাত্রার ধরন নির্ধারণের অধিকার। এর মধ্যে বিবাহ, মাতৃত্ব, পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত।

পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমালোচনা: ঐতিহ্যগত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের অধীনস্থ অবস্থানের বিরোধিতা এবং এই কাঠামোর পরিবর্তনের দাবি।

নারীবাদের বিভিন্ন ধারা:

উদার নারীবাদ: আইনি ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। শিক্ষা, ভোটাধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে সমতার উপর জোর দেয়।

মার্কসবাদী নারীবাদ: অর্থনৈতিক শোষণ এবং শ্রেণি সংগ্রামের সাথে নারী নিপীড়নের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে।

র‍্যাডিক্যাল নারীবাদ: পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নারী নিপীড়নের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং এর মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে।

সাংস্কৃতিক নারীবাদ: নারীর বিশেষ গুণাবলী ও অবদানকে তুলে ধরে এবং নারী সংস্কৃতির মূল্যায়নে বিশ্বাসী।

নারীবাদের প্রভাব:

নারীবাদী আন্দোলনের ফলে বিশ্বব্যাপী নারী অধিকারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভোটাধিকার, শিক্ষার অধিকার, কর্মক্ষেত্রে সমান বেতন, এবং পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের মতো বিষয়গুলি এই আন্দোলনের ফসল।

বাংলাদেশেও নারীবাদী চিন্তাধারা বিভিন্ন রূপে প্রভাব বিস্তার করেছে, বিশেষত নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন থেকে শুরু করে আধুনিক সময়ের নারী অধিকার কর্মীরা এদেশে নারীবাদী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।


নারীবাদ (Feminism) একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিক মতবাদ যা লিঙ্গসমতা অর্জন, নারীর অধিকার রক্ষা এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। নারীবাদের বিভিন্ন শাখা ও মতাদর্শ রয়েছে, যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে নারী ও লিঙ্গের সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে।  


### **নারীবাদের মূল ধারণা:**  

1. **লিঙ্গসমতা (Gender Equality):** নারীবাদের মূল লক্ষ্য হলো সমাজে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।  

2. **নারীর স্বায়ত্তশাসন (Autonomy):** নারীর নিজের দেহ, কর্মজীবন, শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।  

3. **লিঙ্গভিত্তিক কাঠামো ভাঙ্গা (Dismantling Patriarchy):** পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা যা নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখে, তার বিরোধিতা করা।  

4. **সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন:** সাহিত্য, শিল্প, আইন ও রাজনীতিতে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং লিঙ্গবৈষম্য দূর করা।  


### **নারীবাদের প্রধান শাখাসমূহ:**  

1. **উদারনৈতিক নারীবাদ (Liberal Feminism):**  

   - আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে নারীর সমান অধিকার দাবি করে (যেমন, ভোটাধিকার, সমান বেতন)।  

   - প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পক্ষে।  


2. **সমাজতান্ত্রিক/মার্কসবাদী নারীবাদ (Socialist/Marxist Feminism):**  

   - নারীর শোষণকে পুঁজিবাদ ও শ্রেণীসংগ্রামের সাথে যুক্ত করে।  

   - গৃহস্থালি শ্রমের অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দাবি।  


3. **র্যাডিক্যাল নারীবাদ (Radical Feminism):**  

   - পুরুষতন্ত্রকে নারীর প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে।  

   - যৌনতা, প্রজনন অধিকার ও পারিবারিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের দাবি।  


4. **কালো নারীবাদ/উইম্যানিজম (Black Feminism/Womanism):**  

   - কৃষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘু নারীদের অভিজ্ঞতা কেন্দ্রে রেখে নারীবাদ বিশ্লেষণ করে।  

   - জাতি, লিঙ্গ ও শ্রেণীর মধ্যে ছেদচেতনা (Intersectionality) গুরুত্বপূর্ণ।  


5. **উত্তর-আধুনিক/তৃতীয় তরঙ্গ নারীবাদ (Postmodern/Third-Wave Feminism):**  

   - লিঙ্গ ও যৌনতার বহুত্ববাদী ধারণাকে স্বীকৃতি দেয়।  

   - ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিচয়ের রাজনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া।  


6. **ইকোফেমিনিজম (Ecofeminism):**  

   - প্রকৃতির শোষণ ও নারীর শোষণের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে।  


### **নারীবাদের সমালোচনা:**  

- কিছু সমালোচক মনে করেন নারীবাদ "পুরুষবিদ্বেষী" বা "পরিবারবিরোধী"।  

- অন্যরা যুক্তি দেন যে নারীবাদ শুধু মধ্যবিত্ত নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে।  

- কিছু সংস্কৃতিতে নারীবাদকে পশ্চিমা ধারণা হিসেবে দেখা হয়।  


### **নারীবাদের গুরুত্ব:**  

আধুনিক বিশ্বে নারীবাদ লিঙ্গসমতা, যৌন হয়রানি বিরোধী আন্দোলন (#MeToo), নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।  


আপনি যদি নারীবাদের কোনো নির্দিষ্ট দিক নিয়ে জানতে চান (যেমন ইসলামী নারীবাদ, ভারতে নারীবাদ ইত্যাদি), জানাতে পারেন!


নারীবাদের মতবাদ (Feminist Ideology) একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিক আন্দোলন এবং চিন্তাধারা, যার মূল লক্ষ্য হল নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের বৈষম্য, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।

নারীবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  1. সমতা: নারী-পুরুষের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহে সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করা।

  2. স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ: নারীর শরীর, পছন্দ, মতামত ও জীবনের ওপর তার নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

  3. পিতৃতান্ত্রিকতার সমালোচনা: সমাজে বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো ও রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানানো।

  4. লিঙ্গবৈষম্যের বিরোধিতা: কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাক্ষেত্র, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে নারীর প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদ।


নারীবাদের ধারা বা প্রকারভেদ:

১. উদার নারীবাদ (Liberal Feminism):

  • মূলধারার সমাজ কাঠামোর মধ্য দিয়েই নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের চেষ্টা করে।

  • আইন ও নীতিমালায় পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।

২. মার্ক্সবাদী / সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ:

  • নারীর শোষণকে শ্রেণি ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করে।

  • নারীর মুক্তির জন্য অর্থনৈতিক শোষণের অবসান প্রয়োজন বলে মনে করে।

৩. র‌্যাডিকাল নারীবাদ:

  • মনে করে পিতৃতন্ত্রই নারীর সকল নিপীড়নের মূল কারণ।

  • পরিবার, ধর্ম ও যৌনতা সম্পর্কিত প্রচলিত ধারণাগুলোর গভীর সমালোচনা করে।

৪. উত্তর-আধুনিক নারীবাদ (Postmodern Feminism):

  • লিঙ্গ ও পরিচয়ের ধারণাকে প্রশ্ন করে এবং নারীত্বের একক সংজ্ঞা দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

  • ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মাধ্যমে নারীকে যেভাবে গঠিত করা হয়, তা বিশ্লেষণ করে।

৫. কালচারাল বা সাংস্কৃতিক নারীবাদ:

  • নারীর অভিজ্ঞতা, আবেগ, যত্ন, মাতৃত্ব ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিয়ে নারীসত্তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য উদ্‌যাপন করে।


নারীবাদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • নারীরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিক্ষার, কর্মসংস্থানের, সম্পত্তির, মতপ্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।

  • এখনও অনেক দেশে নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি, বৈষম্যমূলক মজুরি, রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের অভাব বিদ্যমান।

  • নারীবাদ এই সব সমস্যার সমাধান চায় এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের চেষ্টা করে।



নারীবাদ একটি বহুমাত্রিক ধারণা এবং একটি সামাজিক আন্দোলন, যা লিঙ্গ বৈষম্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে চায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি লিঙ্গ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নারী তার নিজস্ব পরিচিতি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে এবং পুরুষের মতো একজন মানুষ হিসেবে পূর্ণ অধিকার ভোগ করবে।

নারীবাদী মতবাদ মূলত নিম্নলিখিত মূলনীতিগুলোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে:


১. লিঙ্গ সমতা

নারীবাদ লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমতার পক্ষে। এর অর্থ হলো, একজন ব্যক্তি নারী বা পুরুষ যাই হোক না কেন, তার মেধা, যোগ্যতা বা মূল্য লিঙ্গের উপর নির্ভরশীল হবে না। নারীবাদ চায় নারী ও পুরুষ উভয়ই রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমান অধিকার ও সুযোগ লাভ করুক।


২. পিতৃতন্ত্রের বিরোধিতা

নারীবাদীরা মনে করেন, সমাজে একটি পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, যেখানে পুরুষ নারীকে নিয়ন্ত্রণ, শোষণ ও নিপীড়ন করে। এই পিতৃতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা পরিবার, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র, আইনি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং প্রচারমাধ্যম সহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। নারীবাদ এই পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে চায়।


৩. ব্যক্তিগত বনাম রাজনৈতিক

নারীবাদী স্লোগানগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ হলো, "যা ব্যক্তিগত তা-ই রাজনৈতিক" (Personal is Political)। এর অর্থ হলো, নারীর ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া বৈষম্য বা নিপীড়ন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং সমাজের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও ক্ষমতার কাঠামোর অংশ। যেমন, পারিবারিক সহিংসতা বা ঘরে নারীর অবৈতনিক শ্রম ব্যক্তিগত বিষয় মনে হলেও তা আসলে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঠামোরই প্রতিফলন।


৪. অধিকার আদায়

নারীবাদ নারীর বিভিন্ন অধিকার আদায়ে গুরুত্ব দেয়, যেমন:

  • আইনগত অধিকার: চুক্তির অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, বৈবাহিক অধিকার, ভোটাধিকার।

  • দৈহিক স্বাধীনতা: শারীরিক অখন্ডতা রক্ষা, চলাফেরার স্বাধীনতা, প্রজনন অধিকার (যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের অধিকার, সন্তানের সংখ্যা নির্ধারণের অধিকার)।

  • কর্মক্ষেত্রে অধিকার: সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ।

  • শিক্ষার অধিকার: শিক্ষার সকল স্তরে নারীর সমান সুযোগ।

  • রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।


৫. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন

নারীবাদ কেবল আইনগত বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি করে না, বরং সমাজের গভীরrooted সাংস্কৃতিক অসমতা ও স্টিরিওটাইপগুলো দূর করতে চায়। এটি নারীর গৎবাঁধা ভূমিকা ও ইমেজের পরিবর্তন, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বিলোপ এবং সমাজের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সাধনে সচেষ্ট।


নারীবাদের বিভিন্ন ধারা

নারীবাদের একটি একক সংজ্ঞা বা মতবাদ নেই। বরং সময়ের সাথে সাথে এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীবাদী চিন্তাধারায় বিভিন্ন ধারা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

  • উদারপন্থী নারীবাদ (Liberal Feminism): এটি মূলত আইনগত ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলে। তারা সমাজের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন না ঘটিয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেয়।

  • র্যাডিক্যাল নারীবাদ (Radical Feminism): এই ধারা মনে করে, পিতৃতন্ত্রই নারীর নিপীড়নের মূল কারণ। তারা শুধু আইনগত সংস্কার নয়, বরং পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চায় এবং অনেক সময় নারীর নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার উপর বেশি জোর দেয়।

  • মার্কসীয় নারীবাদ (Marxist Feminism): এই ধারা অর্থনৈতিক অসমতাকে নারীর নিপীড়নের মূল কারণ হিসেবে দেখে। তারা পুঁজিবাদী ও শ্রেণিগত শোষণের অবসানের মাধ্যমে নারীর মুক্তি সম্ভব বলে মনে করে।

  • সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ (Socialist Feminism): এটি মার্কসীয় ও র্যাডিক্যাল নারীবাদ - উভয় ধারার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। তারা শ্রেণিগত শোষণ এবং পিতৃতন্ত্র উভয়কেই নারীর বঞ্চনার কারণ হিসেবে দেখে এবং উভয় ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা বলে।

  • উত্তর-ঔপনিবেশিক নারীবাদ (Postcolonial Feminism) ও তৃতীয় বিশ্বের নারীবাদ: এই ধারা পশ্চিমা নারীবাদের একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে। তারা মনে করে, পশ্চিমা নারীবাদ শ্বেতাঙ্গ ও মধ্যবিত্ত নারীর অভিজ্ঞতার উপর বেশি জোর দিয়েছে এবং তৃতীয় বিশ্বের নারীদের বর্ণ, জাতি, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটজনিত ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করেছে। তারা স্থানীয় প্রেক্ষাপটে নারীর অধিকার ও মুক্তির আন্দোলনের কথা বলে।

নারীবাদ একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা নারী ও পুরুষের মধ্যে সত্যিকারের সমতা অর্জনের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। এটি শুধুমাত্র নারীর জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।


নারীবাদের মূল মতবাদ হলো নারী-পুরুষের মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা। এর ভিত্তি হলো নারীদের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করা এবং তাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। নারীবাদ বিভিন্ন রূপে বিকশিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন তত্ত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি, যেমন - উদারবাদী নারীবাদ, সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ, এবং কট্টর নারীবাদ। 

নারীবাদের মূল ধারণাগুলো হলো: 

লিঙ্গ সমতা:

নারী ও পুরুষের মধ্যে সুযোগ, অধিকার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে সমতা থাকা উচিত।

নারীর ক্ষমতায়ন:

নারীদের আত্ম-মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং সমাজের সকল ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

বৈষম্য দূরীকরণ:

লিঙ্গ, জাতি, শ্রেণী, ইত্যাদি কারণে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করা।

পুরুষতান্ত্রিকতা বিরোধিতা:

পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাঠামো এবং তার দ্বারা সৃষ্ট বৈষম্যমূলক ধারণার বিরোধিতা করা।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা:

নারীর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্যমূলক আচরণ, এবং অন্যান্য অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি:

নারীবাদ একটি ব্যাপক ধারণা এবং এর বিভিন্ন রূপ রয়েছে, যেমন - উদারবাদী নারীবাদ, সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ, কট্টর নারীবাদ, ইত্যাদি। প্রতিটি রূপই নারীর অধিকার ও সমতার জন্য বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল নিয়ে কাজ করে।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নারীবাদ বিভিন্ন রূপে বিকশিত হয়েছে। প্রথম তরঙ্গ নারীবাদ মূলত ভোটাধিকার ও আইনি অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে, দ্বিতীয় তরঙ্গ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে, এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তরঙ্গ লিঙ্গ, জাতি, শ্রেণী এবং অন্যান্য বিষয়গুলির মধ্যে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। 

সংক্ষেপে, নারীবাদ একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন যা লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে নারী-পুরুষের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমতাবাদী সমাজ তৈরি করতে চায়। 





CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women) বা "নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ"—এটি জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার মূল লক্ষ্য নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ। এতে মোট ৩০টি ধারা (Article) রয়েছে, যা ছয়টি ভাগে বিভক্ত12

CEDAW-এর প্রধান ধারা ও বৈশিষ্ট্য

ধারা (Article)বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্য
ধারা ১নারীর প্রতি বৈষম্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ: লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য, বর্জন বা বিধিনিষেধ, যা নারীর মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার সমান ভিত্তিতে উপভোগ বা অনুশীলনে বাধা দেয়, তা বৈষম্য হিসেবে গণ্য হবে132
ধারা ২বৈষম্য বিলোপে রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা: সংবিধান ও অন্যান্য আইনে নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিতকরণ, বৈষম্যমূলক আইন বাতিল, নতুন সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক ও বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ132
ধারা ৩নারী-পুরুষের সমান মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ132
ধারা ৪সমতা ত্বরান্বিত করতে অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ বৈষম্য নয়; মাতৃত্বের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা বৈষম্য বলে বিবেচিত হবে না132
ধারা ৫লিঙ্গভিত্তিক কুসংস্কার, প্রথা ও স্টেরিওটাইপ দূরীকরণ; সন্তান লালনে নারী-পুরুষের অভিন্ন দায়িত্বের স্বীকৃতি132
ধারা ৬নারী পাচার ও যৌন শোষণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ132
ধারা ৭-৯রাজনৈতিক ও জনজীবনে নারীর সমান অধিকার, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব, নাগরিকত্ব বিষয়ে সমানাধিকার1
ধারা ১০-১৪শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, ও গ্রামীণ নারীর বিশেষ সুরক্ষা1
ধারা ১৫-১৬আইন ও পারিবারিক জীবনে সমান অধিকার এবং বিবাহ ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা1
ধারা ১৭-২২বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য কমিটি গঠন ও রাষ্ট্রীয় রিপোর্টিং ব্যবস্থা1
ধারা ২৩-৩০অন্যান্য চুক্তির সাথে সম্পর্ক, রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক বিষয়াবলি1

CEDAW-এর বৈশিষ্ট্য

  • নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য নিরসনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: এটি একমাত্র আন্তর্জাতিক সনদ, যা শুধু নারীর অধিকার ও সমতা বিষয়ক2

  • রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা: সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে আইনগত, প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে1432

  • সমতা ও বিশেষ সুরক্ষা: নারীর প্রতি ইতিবাচক বৈষম্য (affirmative action) বৈষম্য নয় বলে স্বীকৃতি দেয়132

  • লিঙ্গভিত্তিক কুসংস্কার ও প্রথা দূরীকরণ: সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো পরিবর্তনের নির্দেশনা132

  • বাস্তবায়ন ও তদারকি: আন্তর্জাতিক কমিটি ও রিপোর্টিং পদ্ধতির মাধ্যমে অগ্রগতি মূল্যায়ন1

CEDAW তাই নারীর মানবাধিকার, সমতা, এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড ও বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে দিয়েছে132

  1. https://en.wikipedia.org/wiki/Convention_on_the_Elimination_of_All_Forms_of_Discrimination_Against_Women
  2. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AA_%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A6%A6
  3. https://www.ohchr.org/en/instruments-mechanisms/instruments/convention-elimination-all-forms-discrimination-against-women
  4. https://asiapacific.unwomen.org/en/digital-library/videos/2014/10/cedaw-quick-concise-the-principle-of-state-obligation
  5. http://cedawsouthasia.org/wp-content/uploads/2011/04/CEDAW_-Bengali-Text-1.pdf
  6. https://rocketsuggestionbd.com/cedaw-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A5%A4/
  7. https://www.unwomen.org/en/digital-library/publications/2016/12/cedaw-for-youth
  8. https://www.un.org/womenwatch/daw/cedaw/cedaw.htm
  9. https://sattacademy.com/academy/single-question?ques_id=338957
  10. https://girlchildforum.org/%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%A6/%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A6%A6/

CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women) নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন, যা ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।

CEDAW এর কাঠামো ও ধারাসমূহ:

CEDAW এ মোট ৩০টি অপারেটিভ ধারা রয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি মূল ধারা (১-১৬) বৈষম্য সংক্রান্ত এবং নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিলোপের জন্য জাতীয় কর্মসূচি প্রদান করে। ধারা ১৭-২২ গঠনমূলক ও পদ্ধতিগত বিষয়ে আলোচনা করে।

প্রথম অংশ (ধারা ১-৬):

এই অংশ অবৈষম্য, লিঙ্গ কুসংস্কার এবং নারী পাচারের উপর ফোকাস করে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ধারা ১: বৈষম্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ
  • ধারা ২: রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা এবং বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ
  • ধারা ৩: নারী অধিকার নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা
  • ধারা ৪: অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ
  • ধারা ৫: লিঙ্গ ভূমিকা ও কুসংস্কার পরিবর্তন
  • ধারা ৬: নারী পাচার ও যৌন শোষণ রোধ

দ্বিতীয় অংশ (ধারা ৭-৯):

এই অংশ জনপরিসরে নারীর অধিকার, বিশেষত রাজনৈতিক জীবন, প্রতিনিধিত্ব এবং নাগরিকত্বের অধিকারের উপর জোর দেয়।

তৃতীয় অংশ (ধারা ১০-১৪):

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নারী অধিকার বর্ণনা করে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • শিক্ষার অধিকার
  • কর্মসংস্থানের অধিকার
  • স্বাস্থ্যসেবার অধিকার
  • গ্রামীণ নারীদের বিশেষ সমস্যা

চতুর্থ অংশ (ধারা ১৫-১৬):

পারিবারিক জীবনে নারী-পুরুষের সমতা এবং আইনি সমতা নিশ্চিতকরণ।

পঞ্চম অংশ (ধারা ১৭-৩০):

ধারা ১৭-২২ CEDAW কমিটির কার্যপ্রণালী বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে, যার মধ্যে কনভেনশন বাস্তবায়নের তদারকিতে তাদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত। ধারা ২৩-৩০ CEDAW এর প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা করে।

CEDAW এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

ব্যাপক পরিসর: এটি নারী জীবনের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণের জন্য একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।

রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা: CEDAW এর পক্ষ হয়ে রাষ্ট্র আইনগতভাবে নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূর করতে এবং লিঙ্গ সমতা অগ্রসর করতে সকল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য।

অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থা: ইতিবাচক বৈষম্যের মাধ্যমে নারীর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিধান।

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন: কনভেনশনের সকল বিধানে পুরুষের জগত হিসেবে জনপরিসর এবং নারীর ক্ষেত্র হিসেবে ঘরোয়া পরিসরকে সংজ্ঞায়িত করা সাংস্কৃতিক নিদর্শনসমূহকে দৃঢ়ভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে।

বাংলাদেশে CEDAW:

বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে CEDAW অনুসমর্থন করেছে কিন্তু ধারা ২, ১৩(ক), ১৬.১(গ), এবং ১৬.১(চ) এর উপর সংরক্ষণ রেখেছে।

ঐচ্ছিক প্রোটোকল: ঐচ্ছিক প্রোটোকল CEDAW বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত পদ্ধতি চালু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক লঙ্ঘনের বিষয়ে CEDAW কমিটির অনুসন্ধান পদ্ধতি এবং নারী ও মেয়েদের জন্য সরাসরি CEDAW কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করার উপায়।

CEDAW নারী অধিকারের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী আন্তর্জাতিক দলিল যা বিশ্বব্যাপী নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


**CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women)** হলো নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘে গৃহীত হয় এবং ১৯৮১ সালে কার্যকর হয়। এটি নারী অধিকারের জন্য একটি মৌলিক দলিল এবং প্রায় সব দেশ (১৮৯টি রাষ্ট্র) এটি অনুমোদন করেছে (যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া)।  


### **CEDAW-এর মূল ধারাসমূহ ও বৈশিষ্ট্য:**  


#### **১. বৈষম্যের সংজ্ঞা (ধারা ১)**  

- **নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য** বলতে লিঙ্গভিত্তিক এমন কোনো পার্থক্য, বর্জন বা সীমাবদ্ধতাকে বোঝায় যা নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।  


#### **২. রাষ্ট্রের দায়িত্ব (ধারা ২-৪)**  

- **আইনি সংস্কার (ধারা ২):** রাষ্ট্রকে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালা সংশোধন করতে হবে।  

- **অধিকার সুরক্ষা (ধারা ৩):** নারীর পূর্ণ উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।  

- **অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থা (ধারা ৪):** সমতা অর্জনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র নারীদের জন্য অস্থায়ী বিশেষ সুবিধা (যেমন কোটা) দিতে পারে।  


#### **৩. লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা ও কুসংস্কার দূরীকরণ (ধারা ৫)**  

- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা (যেমন শিশুকন্যার বিবাহ, যৌতুক) পরিবর্তন করতে হবে।  

- নারী ও পুরুষের জন্য stereotyped roles (যেমন "নারীর কাজ রান্না", "পুরুষের কাজ আয় করা") ভাঙতে হবে।  


#### **৪. নারীর মানবাধিকার (ধারা ৬-১৬)**  

- **নারী পাচার ও যৌন শোষণ রোধ (ধারা ৬)**  

- **রাজনৈতিক ও সরকারি জীবন (ধারা ৭-৮):** ভোটদান, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও সরকারি পদে নিয়োগে সমতা।  

- **জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব (ধারা ৯):** নারীর স্বাধীনভাবে নাগরিকত্ব বেছে নেওয়ার অধিকার।  

- **শিক্ষা (ধারা ১০):** শিক্ষাক্ষেত্রে সমান সুযোগ, বাল্যবিবাহ ও গর্ভাবস্থায় বৈষম্য রোধ।  

- **চাকরি (ধারা ১১):** সমান বেতন, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও যৌন হয়রানি থেকে সুরক্ষা।  

- **স্বাস্থ্য (ধারা ১২):** প্রজনন স্বাস্থ্য, গর্ভপাত ও পরিবার পরিকল্পনার অধিকার।  

- **আর্থিক সুবিধা (ধারা ১৩):** ঋণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সমান অংশগ্রহণ।  

- **গ্রামীণ নারী (ধারা ১৪):** কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ সহায়তা।  

- **আইনের সামনে সমতা (ধারা ১৫):** সম্পত্তি, চুক্তি ও বিচার প্রক্রিয়ায় সমান অধিকার।  

- **বিবাহ ও পারিবারিক জীবন (ধারা ১৬):** জোরপূর্বক বিবাহ নিষিদ্ধ, বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের অভিভাবকত্বে সমতা।  


#### **৫. নিরীক্ষা ও বাস্তবায়ন (ধারা ১৭-২২)**  

- **CEDAW কমিটি (ধারা ১৭):** ২৩ জন বিশেষজ্ঞের কমিটি রাষ্ট্রগুলোর রিপোর্ট পর্যালোচনা করে।  

- **রাষ্ট্রীয় রিপোর্ট (ধারা ১৮):** অনুমোদনকারী দেশগুলো নারী অধিকারের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতি ৪ বছরে রিপোর্ট জমা দেয়।  


### **CEDAW-এর বৈশিষ্ট্য:**  

1. **সর্বব্যাপী (Comprehensive):** নারীর জীবনের সব ক্ষেত্রে (রাজনীতি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা) অধিকার কভার করে।  

2. **বাধ্যতামূলক (Obligatory):** অনুমোদনকারী রাষ্ট্রগুলোকে আইনি সংস্কার করতে বাধ্য।  

3. **অন্তর্ভুক্তিমূলক (Intersectional):** গ্রামীণ নারী, আদিবাসী নারী ও প্রতিবন্ধী নারীদের বিশেষ বিবেচনা করে।  

4. **প্রগতিশীল (Progressive):** সময়ের সাথে নতুন চ্যালেঞ্জ (যেমন ডিজিটাল সহিংসতা) মোকাবিলায় প্রাসঙ্গিক।  


### **CEDAW-এর সীমাবদ্ধতা:**  

- **বাস্তবায়নে ঘাটতি:** অনেক দেশ আইন পাস করলেও বাস্তবে নারীর অবস্থার উন্নতি হয় না।  

- **ধর্ম ও সংস্কৃতির অজুহাত:** কিছু দেশ CEDAW-এ **আরক্ষণ (Reservations)** যোগ করে (যেমন ইসলামী দেশগুলো ধারা ১৬-এ আপত্তি করে)।  


### **বাংলাদেশ ও CEDAW:**  

বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে CEDAW অনুমোদন করে, তবে ধারা ২ (আইনি সংস্কার) ও ১৬.১(গ) (বিবাহ ও পরিবারে সমতা)-এ **আরক্ষণ** রেখেছে। নারী উন্নয়নে অগ্রগতি থাকলেও বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও সহিংসতা এখনও চ্যালেঞ্জ।  


CEDAW নারী অধিকারের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, তবে এর সফলতা নির্ভর করে রাষ্ট্র ও সমাজের সদিচ্ছার উপর।


CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women) হচ্ছে নারীর প্রতি সব ধরণের বৈষম্য নির্মূলকরণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ, যা জাতিসংঘ ১৯৭৯ সালে গৃহীত করে এবং ১৯৮১ সালে কার্যকর হয়। একে প্রায়ই নারীর অধিকার রক্ষায় একটি "আন্তর্জাতিক নারীবিল" (International Bill of Rights for Women) বলা হয়।


🔷 CEDAW-এর বৈশিষ্ট্য:

  1. বৈষম্য নিরসন:
    CEDAW মূলত রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করে যে তারা নারীর প্রতি যে কোনো ধরণের বৈষম্য দূর করতে পদক্ষেপ নেবে—চলমান আইনি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থায়।

  2. আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা:
    সনদ স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলো বাধ্য হয় সনদের ধারা অনুযায়ী রিপোর্ট জমা দিতে এবং তা জাতিসংঘের CEDAW কমিটি পর্যালোচনা করে।

  3. আইনি সমতা প্রতিষ্ঠা:
    নারীর অধিকারকে সংবিধান ও আইন দ্বারা নিশ্চিত করার উপর জোর দেয়।

  4. বেসরকারি ক্ষেত্রেও বাধ্যবাধকতা:
    CEDAW শুধুমাত্র রাষ্ট্র নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক নারীর ওপর বৈষম্যর বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয়।

  5. প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা:
    যেখানে প্রয়োজন সেখানে "বিশেষ ব্যবস্থা" বা Affirmative Action গ্রহণে রাষ্ট্রগুলোকে উৎসাহিত করে, যাতে নারীরা কার্যকরভাবে সমান সুযোগ পায়।

  6. প্রতি চার বছরে রিপোর্ট জমা:
    প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্র প্রতি চার বছরে তাদের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট জাতিসংঘের CEDAW কমিটিতে জমা দেয়।


🔷 CEDAW-এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা সমূহ (Articles):

🔹 ধারা ১ – বৈষম্যের সংজ্ঞা প্রদান

নারীর প্রতি বৈষম্য কাকে বলে, তার একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

🔹 ধারা ২ – বৈষম্য দূরীকরণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব

রাষ্ট্রকে আইনি সংস্কারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ হয়।

🔹 ধারা ৩ – মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা

নারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পুরুষদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

🔹 ধারা ৪ – বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ

সমতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় "বিশেষ ব্যবস্থা" বৈষম্য নয়।

🔹 ধারা ৫ – সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা পরিবর্তন

লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক রীতিনীতিকে বদলে নারী-পুরুষের সমান মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

🔹 ধারা ৬ – মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নারীদের পাচার ও যৌন শোষণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর আইন ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

🔹 ধারা ৭-৮ – রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ

নারীদের ভোটাধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণের অধিকার থাকতে হবে।

🔹 ধারা ১০ – শিক্ষা

নারী ও পুরুষের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

🔹 ধারা ১১ – কর্মসংস্থান

সমান মজুরি, প্রসূতি ছুটি, চাকরির নিরাপত্তাসহ কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকার।

🔹 ধারা ১২ – স্বাস্থ্যসেবা

নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দূর করতে হবে, বিশেষত প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা।

🔹 ধারা ১৩ – অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা

নারীদের ব্যাংক ঋণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার থাকতে হবে।

🔹 ধারা ১৪ – গ্রামীণ নারীদের অধিকার

কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সহায়তা—সবকিছুতে গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

🔹 ধারা ১৫-১৬ – আইন ও পরিবারে সমতা

আইনের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ সমান হবে এবং পরিবারের মধ্যে নারীর অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।


🔷 বাংলাদেশ ও CEDAW:

  • বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে CEDAW অনুসমর্থন করে।

  • তবে ধারা ২ ও ১৬(১)(c) এ কিছু সংরক্ষণ (reservation) রয়েছে, ধর্মীয় ও পারিবারিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক বিবেচনায়।


🔚 উপসংহার:

CEDAW হচ্ছে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নীতি কাঠামো, যা নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য নির্মূল করে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাষ্ট্রগুলো যদি এটি যথাযথভাবে কার্যকর করে, তাহলে নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশাল অগ্রগতি সম্ভব।


জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women - CEDAW) নারী অধিকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দলিল। এটি "নারীর অধিকারের আন্তর্জাতিক বিল" (International Bill of Rights for Women) নামেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর এটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।


CEDAW এর মূল ধারাগুলো (১-১৬) এবং এর সারসংক্ষেপ:

সিডও সনদকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়: প্রথম ১৬টি ধারা নারীর প্রতি বৈষম্যের বিভিন্ন দিক এবং তা দূর করার উপায় নিয়ে কাজ করে, এবং পরের ১৪টি ধারা (১৭-৩০) সনদের বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে।

প্রথম অংশ: বৈষম্যের সংজ্ঞা ও বিলোপের নীতি (ধারা ১-৬)

  • ধারা ১: বৈষম্যের সংজ্ঞা

    • এই ধারা নারীর প্রতি বৈষম্যের একটি সর্বজনীন সংজ্ঞা প্রদান করে। এটি লিঙ্গের ভিত্তিতে যেকোনো পার্থক্য, বঞ্চনা বা নিষেধাজ্ঞাকে বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করে, যা নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে নারীর মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার স্বীকৃতি, ভোগ বা চর্চাকে ব্যাহত করে।

  • ধারা ২: বৈষম্য দূরীকরণের নীতি

    • এই ধারা সিডও সনদের "হৃদয়" বা "Heart of the Convention" হিসেবে পরিচিত। এটি স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোকে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যের নিন্দা জানাতে এবং অবিলম্বে তা দূরীকরণের জন্য উপযুক্ত নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য করে। এর মধ্যে সংবিধান ও আইনে সমতার নীতি অন্তর্ভুক্ত করা, বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করা, নতুন আইন প্রণয়ন করা, এবং আদালত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা কার্যকর করা অন্তর্ভুক্ত।

  • ধারা ৩: নারীর অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা

    • এই ধারা রাষ্ট্রগুলোকে সকল ক্ষেত্রে নারীর মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে।

  • ধারা ৪: সাময়িক বিশেষ পদক্ষেপ (Special Measures)

    • এই ধারা নারীর প্রকৃত সমতা অর্জনের জন্য অস্থায়ী বিশেষ পদক্ষেপ (যেমন কোটা বা ইতিবাচক বৈষম্য) গ্রহণের অনুমতি দেয়। তবে এই পদক্ষেপগুলো এমনভাবে প্রয়োগ করতে হবে যেন তা বৈষম্যের চিরস্থায়ী রূপ না নেয়।

  • ধারা ৫: সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আচরণ পরিবর্তন

    • এই ধারা পুরুষ ও নারীর চিরাচরিত ভূমিকা, কুসংস্কার এবং প্রথাগত অনুশীলনগুলো দূর করার লক্ষ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আচরণ পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। এটি মাতৃত্বকে একটি সামাজিক কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং সন্তান লালন-পালনে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান দায়িত্ব নিশ্চিত করতে বলে।

  • ধারা ৬: পতিতাবৃত্তি ও নারী পাচার

    • এই ধারা রাষ্ট্রগুলোকে নারীর অবৈধ ব্যবসা এবং যেকোনো ধরনের পতিতাবৃত্তির শোষণ দমন করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয় অংশ: নারীর সুনির্দিষ্ট অধিকার (ধারা ৭-১৬)

  • ধারা ৭: রাজনৈতিক ও জনজীবনে অংশগ্রহণ

    • এই ধারা রাষ্ট্রগুলোকে পুরুষদের সাথে সমান শর্তে নারীর রাজনৈতিক ও জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে বলে, যার মধ্যে ভোট দেওয়া, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া অন্তর্ভুক্ত।

  • ধারা ৮: আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব

    • রাষ্ট্রগুলোকে পুরুষের সাথে সমান শর্তে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কাজে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে বলা হয়।

  • ধারা ৯: জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব

    • এই ধারা নারীকে জাতীয়তা অর্জন, পরিবর্তন বা ধরে রাখার ক্ষেত্রে পুরুষের মতো সমান অধিকার দেয়। এটি নিশ্চিত করে যে বিবাহ বা স্বামীর জাতীয়তা পরিবর্তনের কারণে স্ত্রীর জাতীয়তা পরিবর্তিত হবে না।

  • ধারা ১০: শিক্ষায় সমতা

    • শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মজীবন ও বৃত্তিমূলক নির্দেশনা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত।

  • ধারা ১১: কর্মসংস্থান

    • কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করার কথা বলে, যার মধ্যে সমান মজুরি, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কাজের সমান সুযোগ অন্তর্ভুক্ত।

  • ধারা ১২: স্বাস্থ্যসেবা

    • স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা সহ প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

  • ধারা ১৩: অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা

    • অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করে, যেমন পারিবারিক সুবিধা, ব্যাংক ঋণ এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সুযোগ।

  • ধারা ১৪: গ্রামীণ নারী

    • গ্রামীণ নারীর বিশেষ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এবং তাদের উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে, যাতে তারা কৃষি ঋণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুবিধা পায়।

  • ধারা ১৫: আইনের সামনে সমতা

    • আইনের সামনে নারীর সমান অধিকার এবং আইনগত ক্ষমতা নিশ্চিত করে, যার মধ্যে চুক্তি করার ক্ষমতা, সম্পত্তি পরিচালনা করার ক্ষমতা এবং আদালতে সমান আচরণ পাওয়ার অধিকার অন্তর্ভুক্ত।

  • ধারা ১৬: বিবাহ ও পারিবারিক সম্পর্ক

    • বিবাহ এবং পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করার কথা বলে। এটি বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং সম্পত্তির অধিকার সহ সকল বিষয়ে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার উপর জোর দেয়।

তৃতীয় অংশ: বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া (ধারা ১৭-৩০)

  • ধারা ১৭-২২: সিডও কমিটি ও প্রতিবেদন প্রক্রিয়া

    • এই ধারাগুলো সিডও সনদের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞ কমিটি (সিডও কমিটি) প্রতিষ্ঠা, এর গঠন এবং কার্যপ্রণালী নিয়ে আলোচনা করে। এটি স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে তাদের গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন জমা দিতে বাধ্য করে।

  • ধারা ২৩-৩০: অন্যান্য বিধানাবলী

    • এই ধারাগুলো সনদের ব্যাখ্যা, সংশোধন, সংরক্ষণ এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কিত অন্যান্য সাধারণ বিধানাবলী নিয়ে কাজ করে।


CEDAW সনদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

সিডও সনদ নারীর মানবাধিকারের ক্ষেত্রে কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ধারণ করে:

১. নারীর অধিকারের পূর্ণাঙ্গ দলিল: এটি নারীর মানবাধিকার সংক্রান্ত একমাত্র আন্তর্জাতিক সনদ যা নারীর জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণের কথা বলে। এটি নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক এবং পারিবারিক অধিকারকে সম্মিলিতভাবে উপস্থাপন করে।

২. বৈষম্যের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা: সিডও সনদে নারীর প্রতি বৈষম্যের একটি বিস্তৃত এবং কার্যকর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে (ধারা ১)। এই সংজ্ঞা রাষ্ট্রগুলোকে বৈষম্য চিহ্নিত করতে এবং তা বিলোপ করতে সাহায্য করে।

৩. জনজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য: সিডও সনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধু জনজীবনেই (যেমন কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি) নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনেও (যেমন পরিবারে) নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের উপর জোর দেয়। এটি "যা ব্যক্তিগত তা-ই রাজনৈতিক" (The Personal is Political) এই নারীবাদী ধারণাকে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে।

৪. রাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা: সিডও স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর উপর আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করে যে তারা তাদের সংবিধান, আইন ও নীতিমালায় নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত করবে এবং কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করবে। এটি কেবল একটি ঘোষণাপত্র নয়, বরং একটি চুক্তি, যা রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহি করে।

৫. সাংস্কৃতিক ও প্রথাগত বৈষম্য দূরীকরণের উপর জোর: সনদটি সমাজের গভীর rooted কুসংস্কার, প্রথা এবং পিতৃতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা দূর করার উপর গুরুত্বারোপ করে (ধারা ৫)। এটি বোঝায় যে কেবল আইন পরিবর্তন করলেই হবে না, বরং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।

৬. পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রক্রিয়া: সিডও কমিটি রাষ্ট্রগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রতি চার বছর অন্তর তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করে। এই প্রক্রিয়া রাষ্ট্রগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে সজাগ থাকতে উৎসাহিত করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করে।

৭. সাময়িক বিশেষ পদক্ষেপের স্বীকৃতি: সিডও নারীর প্রকৃত সমতা অর্জনের জন্য সাময়িক বিশেষ পদক্ষেপ (যেমন ইতিবাচক বৈষম্য বা কোটা) গ্রহণের অনুমতি দেয়, যা সমাজের ঐতিহাসিক বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করে (ধারা ৪)।

৮. তৃতীয় বিশ্বের নারীদের অধিকারের প্রতি সংবেদনশীলতা: যদিও এটি একটি আন্তর্জাতিক সনদ, এর কিছু ধারা (যেমন ধারা ১৪, গ্রামীণ নারীর উপর) নির্দিষ্টভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রেক্ষাপটে নারীর বিশেষ সমস্যাগুলোকে তুলে ধরে।

সিডও সনদ নারী অধিকার আন্দোলনের একটি মাইলফলক, যা নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি করেছে এবং বিশ্বজুড়ে নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


সিডও (CEDAW) হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো লিঙ্গ সমতার নীতি, বৈষম্য বিলোপ এবং রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা। সিডও সনদের ৩০টি ধারা রয়েছে, যা নারীর অধিকার সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে আলোকপাত করে। 

সিডও-এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: 

লিঙ্গ সমতার নীতি:

সিডও-এর মূল ভিত্তি হলো নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা। এটি নিশ্চিত করে যে, সকল ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার হবে না।

বৈষম্য বিলোপ:

সিডও সনদে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্য।

রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা:

সিডও-এর প্রতিটি স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রকে তাদের নিজ নিজ দেশে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর করতে বাধ্য করে।

৩০টি ধারা:

সিডও-এর ৩০টি ধারা নারীর অধিকার, সুরক্ষা এবং উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো:

ধারা ২: রাষ্ট্রকে তাদের নিজ নিজ দেশে লিঙ্গ সমতা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে বাধ্য করে।

ধারা ৩: রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলে।

ধারা ৫: লিঙ্গ ভূমিকা ও কুসংস্কার দূর করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলে।

ধারা ৭: রাজনৈতিক ও জনজীবনে নারীর অংশগ্রহণের কথা বলে।

ধারা ১০: শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীর সমতা নিশ্চিত করার কথা বলে।

ধারা ১১: কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীর সমতা নিশ্চিত করার কথা বলে।

ধারা ১২: স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নারীর সমতা নিশ্চিত করার কথা বলে।

ধারা ১৬: বিবাহ ও পারিবারিক জীবনে নারীর সমতা নিশ্চিত করার কথা বলে।

সিডও-এর ধারাগুলো নারীর অধিকার সুরক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করে এবং লিঙ্গ সমতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। 




নারীর প্রতি সহিংসতা বলতে বোঝায়—সেইসব সহিংস, নির্যাতনমূলক বা বৈষম্যমূলক আচরণ, যা নারীর প্রতি কেবলমাত্র তার নারী পরিচয়ের কারণে সংঘটিত হয় এবং যার লক্ষ্য নারীকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানসিক বা শারীরিকভাবে অধীনস্থ করা বা ক্ষতিগ্রস্ত করা। এই সহিংসতা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক নানা স্তরে সংঘটিত হতে পারে123

নারীর প্রতি সহিংসতার প্রধান ধরনসমূহ

  • শারীরিক সহিংসতা

    • মারধর, শারীরিক নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, মারাত্মক জখম, হত্যা23

  • যৌন সহিংসতা

    • ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌন হয়রানি, যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতা, সংঘর্ষের সময় যৌন দাসত্ব, যৌন পাচার, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি123

  • মানসিক/মনস্তাত্ত্বিক সহিংসতা

    • অপমান, হুমকি, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা, মানসিক নির্যাতন, কটাক্ষ বা অপমানজনক আচরণ23

  • অর্থনৈতিক সহিংসতা

    • সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, উপার্জনের সুযোগ না দেয়া, ভরণপোষণ না দেয়া, কর্মসংস্থানে বাধা2

  • পারিবারিক সহিংসতা

    • গৃহ নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন, পণ মৃত্যু123

  • প্রজনন ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সহিংসতা

    • জোরপূর্বক গর্ভপাত, বাধ্যতামূলক নির্বীজন, প্রজননগত জোর-জবরদস্তি, প্রসবকালীন সহিংসতা12

  • সাংস্কৃতিক ও প্রথাগত সহিংসতা

    • কন্যাশিশু হত্যা, লিঙ্গভিত্তিক গর্ভপাত, নারী খৎনা, সম্মান রক্ষার্থে হত্যা (অনর কিলিং), অপহরণপূর্বক বা জোরপূর্বক বিবাহ12

  • রাষ্ট্রীয় সহিংসতা

    • পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্যাতন, যুদ্ধ ও সংঘর্ষকালীন যৌন সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে বৈষম্য12

  • সাইবার সহিংসতা

    • সাইবার বুলিং, অনলাইনে হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান2

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র

  • ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন, পাচার, পতিতাবৃত্তি, যৌতুক, অ্যাসিড নিক্ষেপ, হত্যা—এসব অপরাধ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে সংঘটিত হচ্ছে23

  • কন্যাশিশুরাও নিরাপদ নয়; ধর্ষণ, হত্যা ও আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ছে3

  • পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, সামাজিক কুসংস্কার ও আইনি দুর্বলতা সহিংসতার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম23

“নারীর প্রতি সহিংসতা ব্যক্তি এবং রাষ্ট্র, উভয় দ্বারাই সংঘটিত হয়ে থাকে। ধর্ষণ, পারিবারিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, প্রজননগত জোরজবরদস্তি, কন্যাশিশু হত্যা, লিঙ্গভিত্তিক গর্ভপাত, প্রসবকালীন সহিংসতা, উচ্ছৃঙ্খল জনতার দ্বারা সহিংসতা বা দাঙ্গা, রীতি বা আচরণগত চর্চা; যেমন-যৌতুক বা পণ, অপহরণপূর্বক বা জোরপূর্বক বিবাহ এ ধরনের সহিংসতাগুলো সাধারণত ব্যক্তি দ্বারা সংঘটিত হয়। রাষ্ট্র কর্তৃক সহিংসতার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতা, সংঘর্ষের সময় যৌন দাসত্ব, জোরপূর্বক গর্ভপাত, পুলিশ বা কর্তৃত্বকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা ইত্যাদি। অপরাধচক্রের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতার মধ্যে রয়েছে নারী পাচার, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, সাইবার ক্রাইম, সাইবার বুলিং ইত্যাদি।”2

উল্লেখযোগ্য: নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর গভীর সমস্যা, যার সমাধানে সামগ্রিক ও বহুমাত্রিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
123

  1. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%BE
  2. https://www.jugantor.com/tp-suranjona/880141
  3. https://www.prothomalo.com/opinion/column/9hw48bgvl2
  4. https://bangladesh.un.org/bn/232033-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%95%E0%A7%80
  5. http://old.lawjusticediv.gov.bd/static/GeneralNews/2021/meeting_notice_252_15_06_2021.pdf
  6. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80_%E0%A6%93_%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%A8_%E0%A6%A6%E0%A6%AE%E0%A6%A8_%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8_%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A6%E0%A7%A6
  7. https://dwa.gov.bd/site/page/da969691-e3cb-4de9-b603-f8f22c79f548/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A6%B2-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A7-%E0%A6%93-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%A3
  8. https://www.bbc.com/bengali/articles/c2jm0d41ze5o
  9. https://pressinform.portal.gov.bd/sites/default/files/files/pressinform.portal.gov.bd/page/50aa82ee_7a92_4aa7_817b_bb323c098833/2020-09-09-12-52-be4c37347813b476490ea5518a09679a.pdf
  10. https://mowca.portal.gov.bd/sites/default/files/files/mowca.portal.gov.bd/page/bcf75e01_95e3_48ba_bfe4_3d88ea5f593c/Bangla-National-Actional-Plan-2013-2025.pdf
  11. https://bn.wikiquote.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%BE
  12. https://nhrc.portal.gov.bd/sites/default/files/files/nhrc.portal.gov.bd/page/b996866a_9dfa_4278_9d80_61337f83bf2d/HR%20situation%202017%20new.pdf
  13. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1063.html
  14. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1063.html
  15. https://mowca.portal.gov.bd/site/notices/f7026e6f-fbd6-4175-890c-b6889e231d3b
  16. https://www.unwomen.org/sites/default/files/2022-10/Handbook-on-gender-responsive-police-services-bn.pdf

নারীর প্রতি সহিংসতা একটি বহুমাত্রিক সমস্যা যা বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়। এই সহিংসতাগুলো নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য বৃদ্ধি করে।

শারীরিক সহিংসতা:

পারিবারিক সহিংসতা: স্বামী, শ্বশুরবাড়ির সদস্য বা পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যদের দ্বারা মারধর, আঘাত বা শারীরিক নির্যাতন। এর মধ্যে রয়েছে যৌতুকের জন্য নির্যাতন, পারিবারিক কলহের কারণে মারধর।

এসিড নিক্ষেপ: মুখমণ্ডল বিকৃত করার উদ্দেশ্যে এসিড নিক্ষেপ, যা মূলত প্রেমে প্রত্যাখ্যান, যৌতুক বা পারিবারিক বিরোধের কারণে ঘটে।

হত্যাকাণ্ড: সম্মান রক্ষার নামে হত্যা, যৌতুক হত্যা, বা অন্যান্য কারণে নারী হত্যা।

যৌন সহিংসতা:

ধর্ষণ: জোরপূর্বক বা সম্মতি ছাড়া যৌন মিলন। এর মধ্যে রয়েছে বৈবাহিক ধর্ষণ, গণধর্ষণ, এবং পরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণ।

যৌন হয়রানি: কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা জনপরিসরে অশ্লীল আচরণ, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য।

শিশু যৌন নির্যাতন: অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের উপর যৌন নির্যাতন, যার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক পরিমণ্ডলে এবং বাইরে এই ধরনের নির্যাতন।

মানসিক ও আবেগিক সহিংসতা:

মানসিক নির্যাতন: ভয় দেখানো, হুমকি প্রদান, অপমান করা, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা, আত্মবিশ্বাস নষ্ট করার চেষ্টা।

সাইবার বুলিং: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য প্রকাশ করে হুমকি প্রদান।

সম্মান ক্ষুণ্ণকরণ: সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা, মিথ্যা অভিযোগ আনা, চরিত্র হনন।

অর্থনৈতিক সহিংসতা:

সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিতকরণ: উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার না দেওয়া।

অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: কাজে যেতে বাধা দেওয়া, আয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা, প্রয়োজনীয় অর্থ না দেওয়া।

সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সহিংসতা:

বাল্য বিবাহ: অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া, যা তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।

বহুবিবাহ সংক্রান্ত নির্যাতন: স্বামীর একাধিক বিয়ের কারণে প্রথম স্ত্রীর উপর মানসিক ও আর্থিক চাপ।

ধর্মীয় কুসংস্কার: ধর্মের নামে নারীর চলাফেরা, পোশাক-আশাক বা জীবনযাত্রায় অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ।

প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতা:

বিচার ব্যবস্থায় বৈষম্য: ধর্ষণ বা অন্যান্য সহিংসতার ঘটনায় নারীর বক্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখা।

চিকিৎসা সেবায় অবহেলা: লিঙ্গভিত্তিক স্বাস্থ্য সমস্যায় যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া।

কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য: সমান কাজের জন্য কম বেতন, পদোন্নতিতে বাধা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা না পাওয়া।

সামাজিক প্রভাব:

এই সহিংসতাগুলো শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে প্রয়োজন আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং লিঙ্গ সমতার নীতি বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন এবং অন্যান্য আইনের মাধ্যমে এই সহিংসতা প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।


**নারীর প্রতি সহিংসতা (Violence Against Women - VAW)** হলো লিঙ্গভিত্তিক এমন কোনো শারীরিক, মানসিক, যৌন বা অর্থনৈতিক ক্ষতিকর আচরণ, যা নারীর স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। এটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক পর্যায়ে ঘটতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী নারী অধিকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।  


### **প্রধান ধরনের সহিংসতা:**  


#### **১. শারীরিক সহিংসতা (Physical Violence)**  

- প্রহার, ঘুষি মারা, লাথি মারা, জ্বলানো বা অস্ত্রের ব্যবহার।  

- অ্যাসিড নিক্ষেপ, জোরপূর্বক গর্ভপাত বা অপুষ্টির শিকার করা।  

- **উদাহরণ:** স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতন।  


#### **২. যৌন সহিংসতা (Sexual Violence)**  

- ধর্ষণ, marital rape (বিবাহিত জীবনে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক)।  

- যৌন হয়রানি (অফিস, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশালীন মন্তব্য বা স্পর্শ)।  

- পাচার বা যৌন দাসত্বে বাধ্য করা।  

- **উদাহরণ:** কর্মস্থলে উঁচুপদস্থের দ্বারা হয়রানি, গণধর্ষণ।  


#### **৩. মানসিক/মানসিক নির্যাতন (Psychological/Emotional Abuse)**  

- অবমাননাকর ভাষা, হুমকি, সম্মানহানি বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা।  

- gaslighting (মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করে নিজের স্মৃতি বা বোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা)।  

- **উদাহরণ:** "তুমি কিছু পারবে না", "কোনো গুণ নেই তোমার" ইত্যাদি বলে অপমান।  


#### **৪. অর্থনৈতিক সহিংসতা (Economic Violence)**  

- নারীর আয় বা সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করা, চাকরি বা শিক্ষা থেকে বাধা দেওয়া।  

- যৌতুকের দাবি বা আর্থিক শোষণ।  

- **উদাহরণ:** স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির দ্বারা উপার্জন কেড়ে নেওয়া।  


#### **৫. সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতা (Cultural/Structural Violence)**  

- বাল্যবিবাহ, জোরপূর্বক বিবাহ বা বিধবা নির্যাতন।  

- নারী যৌনাঙ্গচ্ছেদ (FGM), সম্মান রক্ষার্থে হত্যা (Honor Killing)।  

- **উদাহরণ:** কিছু সমাজে মেয়েশিশুকে কম খাবার দেওয়া বা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা।  


#### **৬. সাইবার সহিংসতা (Cyber Violence)**  

- অনলাইনে যৌন হয়রানি, অপপ্রচার বা রেপ ভিডিও ছড়ানো (revenge porn)।  

- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে হুমকি দেওয়া।  

- **উদাহরণ:** সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্ল্যাকমেইল।  


### **কারণসমূহ:**  

- **পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা:** নারীকে নিচু মর্যাদার মনে করা।  

- **অর্থনৈতিক নির্ভরতা:** নারীর স্বাধীন উপার্জনের অভাব।  

- **আইনের দুর্বল প্রয়োগ:** বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি বা সামাজিক চাপ।  

- **সাংস্কৃতিক রীতিনীতি:** যৌতুক, বাল্যবিবাহ ইত্যাদিকে সমর্থন করা।  


### **প্রভাব:**  

- **শারীরিক:** আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, অক্ষমতা বা মৃত্যু।  

- **মানসিক:** PTSD (ট্রমা), ডিপ্রেশন, আত্মহত্যার প্রবণতা।  

- **সামাজিক:** নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়া, দারিদ্র্যের চক্র।  


### **সমাধানের উপায়:**  

1. **আইনি পদক্ষেপ:**  

   - **বাংলাদেশে:** নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০১০।  

   - আন্তর্জাতিক: CEDAW, Istanbul Convention (ইউরোপ)।  

2. **সচেতনতা:** লিঙ্গসমতামূলক শিক্ষা, মিডিয়ার ভূমিকা।  

3. **সহায়তা ব্যবস্থা:** হেল্পলাইন (১০৯), সেল্টার হোম, কাউন্সেলিং।  

4. **পুরুষের সম্পৃক্ততা:** নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।  


### **উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ:**  

- **আন্তর্জাতিক:** **১৬ দিনের Aktivismo (২৫ নভেম্বর - ১০ ডিসেম্বর)**।  

- **বাংলাদেশ:** **ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার**, **মহিলা হেল্পলাইন ১০৯**।  


নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নীতির পরিবর্তন জরুরি। এটি শুধু নারীর সমস্যা নয়, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয়।


নারীর প্রতি সহিংসতা (Violence Against Women) বলতে বোঝানো হয় সেই সকল কার্যকলাপ ও আচরণ, যা নারীদের প্রতি শারীরিক, মানসিক, যৌন, বা অর্থনৈতিক ক্ষতি, আঘাত বা ভীতির সৃষ্টি করে—চাই তা ব্যক্তিগত স্তরে হোক বা সামাজিক-রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে।


🔷 নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকারভেদ:

১. শারীরিক সহিংসতা

এটি হচ্ছে সবচেয়ে দৃশ্যমান সহিংসতা। উদাহরণ:

  • মারধর করা

  • পুড়িয়ে মারা বা অ্যাসিড নিক্ষেপ

  • গৃহবন্দী করে রাখা

  • গর্ভপাত বাধ্য করানো

২. যৌন সহিংসতা

নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন কার্যকলাপে জড়ানো বা তাকে যৌনভাবে হয়রানি করা। উদাহরণ:

  • ধর্ষণ

  • যৌন হয়রানি (কর্মস্থলে, পথে, অনলাইনে)

  • শিশু যৌন নির্যাতন

  • বৈবাহিক ধর্ষণ

  • পর্নোগ্রাফিতে জোরপূর্বক অংশগ্রহণ

৩. মানসিক বা মানসিক নির্যাতন

নারীর আত্মসম্মান ও মানসিক স্থিতি নষ্ট করে এমন যেকোনো আচরণ। উদাহরণ:

  • অপমান করা বা গালাগাল

  • হুমকি দেয়া

  • সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার ভয় দেখানো

  • সন্দেহ ও অবিশ্বাসের মাধ্যমে মানসিক চাপ

৪. অর্থনৈতিক সহিংসতা

নারীর আর্থিক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া বা নিয়ন্ত্রণ করা। উদাহরণ:

  • উপার্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা

  • সম্পত্তিতে অংশ নিতে না দেয়া

  • নারীর আয় কেড়ে নেয়া বা ব্যবহারে বাধা দেয়া

৫. প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতা

রাষ্ট্র বা সমাজের কাঠামো যখন নারীর প্রতি বৈষম্য করে বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। উদাহরণ:

  • ধর্ষণের বিচার না হওয়া

  • পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ

  • নারী সংবেদনশীল আইন বাস্তবায়নে গাফিলতি

৬. ডিজিটাল/অনলাইন সহিংসতা

ইন্টারনেট বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীর প্রতি সহিংসতা। উদাহরণ:

  • আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া

  • সাইবার বুলিং বা ট্রলিং

  • হ্যাকিং বা ব্ল্যাকমেইল করা


🔷 বিশেষ কিছু সহিংসতা (প্রচলিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে):

  • দেনমোহর ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন

  • বাল্যবিবাহ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে শিশুদের প্রজননে বাধ্য করা

  • বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত নারীর প্রতি সমাজের অবজ্ঞা ও নিগ্রহ

  • “অনার কিলিং” (পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে হত্যা)

  • যৌনপল্লীতে নারীর জোরপূর্বক অবস্থান ও শোষণ


🔷 নারীর প্রতি সহিংসতার ফলাফল:

  • মানসিক অবসাদ, আতঙ্ক, PTSD

  • আত্মহত্যার প্রবণতা

  • স্বাস্থ্যহানী, প্রজনন সমস্যা

  • শিক্ষাবঞ্চনা ও কর্মজীবন থেকে সরে আসা

  • সমাজে বিচ্ছিন্নতা ও অসম্মান


🔷 প্রতিরোধ ও করণীয়:

  1. আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ:
    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পারিবারিক সহিংসতা নিরোধ আইন, সাইবার আইন ইত্যাদি।

  2. শিক্ষা ও সচেতনতা:
    পরিবার, স্কুল ও মিডিয়ার মাধ্যমে লিঙ্গ সংবেদনশীলতা তৈরি করা।

  3. নারী সহায়তা কেন্দ্র ও হেল্পলাইন:
    নিরাপদ আশ্রয়, মনোসামাজিক পরামর্শ ও আইনি সহায়তা প্রদান।

  4. পুরুষদের অংশগ্রহণ:
    সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করা।

  5. সামাজিক আন্দোলন:
    MeToo, নারীর জন্য নিরাপদ শহর, এবং স্থানীয় পর্যায়ে নারীবান্ধব উদ্যোগ।



নারীর প্রতি সহিংসতা বলতে এমন যেকোনো কাজকে বোঝায়, যা নারী বা মেয়ে শিশুর বিরুদ্ধে তাদের লিঙ্গের কারণে করা হয় এবং যার ফলে তাদের শারীরিক, যৌন, মানসিক বা অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় অথবা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং বিশ্বজুড়ে নারীর অসমতার একটি প্রধান কারণ।

নারীর প্রতি সহিংসতা বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেতে পারে। নিচে এর প্রধান কিছু প্রকার তুলে ধরা হলো:


১. শারীরিক সহিংসতা

এটি সবচেয়ে স্পষ্ট ধরনের সহিংসতা, যার ফলে নারীর শরীরে আঘাত লাগে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

  • মারধর: চড়, ঘুষি, লাথি মারা, ধাক্কা দেওয়া, কামড়ানো, চুল টানা ইত্যাদি।

  • বস্তু দিয়ে আঘাত: লাঠি, বেল্ট, বা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা।

  • পুড়িয়ে দেওয়া: অ্যাসিড নিক্ষেপ বা অন্য কোনোভাবে আগুনে পোড়ানোর চেষ্টা করা।

  • শারীরিক নির্যাতন: শ্বাসরোধ করা, অঙ্গহানি করা, জোর করে কোনো ক্ষতিকর কাজ করানো।

  • মৃত্যু: শারীরিক সহিংসতার চরম পরিণতি হলো হত্যা, যেমন যৌতুকের জন্য হত্যা বা তথাকথিত "সম্মান রক্ষার নামে হত্যা" (Honor Killing)।


২. যৌন সহিংসতা

এটি এমন যেকোনো যৌন কাজ যা নারীর সম্মতি ছাড়াই করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ধর্ষণ: নারীর সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের যৌন প্রবেশ। এর মধ্যে বৈবাহিক ধর্ষণও (Marital Rape) অন্তর্ভুক্ত।

  • যৌন হয়রানি: কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা জনসমক্ষে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, স্পর্শ, বা অঙ্গভঙ্গি।

  • যৌন নিপীড়ন: জোর করে অশ্লীল ছবি বা ভিডিও দেখানো, অশ্লীল মন্তব্য করা, বা অন্য কোনো যৌন উদ্দেশ্যমূলক আচরণ।

  • মানব পাচার (Human Trafficking): যৌন শোষণ বা জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে নারী ও মেয়ে শিশুদের পাচার করা।

  • বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহ: যেখানে মেয়েদের সম্মতি ছাড়াই বিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করা হয়।

  • মহিলাদের যৌনাঙ্গ বিকৃতি (Female Genital Mutilation - FGM): নারী যৌনাঙ্গের অ-চিকিৎসাগত কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণ বা অন্যান্য ক্ষতিকর পরিবর্তন।


৩. মানসিক বা আবেগিক সহিংসতা

এই ধরনের সহিংসতা সরাসরি শারীরিক আঘাত না করলেও নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মসম্মানের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

  • গালমন্দ ও অপমান: ক্রমাগত অপমান করা, হেয় প্রতিপন্ন করা, নেতিবাচক মন্তব্য করা।

  • ভয় দেখানো ও হুমকি: জীবননাশের হুমকি, প্রিয়জনের ক্ষতি করার হুমকি, বা অন্য কোনোভাবে ভয় দেখানো।

  • মানসিক চাপ ও নিয়ন্ত্রণ: পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, বাইরে যেতে না দেওয়া, সব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা।

  • অবহেলা: ইচ্ছাকৃতভাবে যত্ন না নেওয়া বা মৌলিক চাহিদা পূরণে অস্বীকৃতি জানানো।

  • চরিত্র হনন: মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা।


৪. অর্থনৈতিক সহিংসতা

এই ধরনের সহিংসতায় নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা তাকে অন্যের উপর নির্ভরশীল করে তোলে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • আর্থিক নিয়ন্ত্রণ: নারীর আয় নিয়ন্ত্রণ করা, তাকে টাকা ব্যবহার করতে না দেওয়া বা তার উপার্জিত অর্থ কেড়ে নেওয়া।

  • কাজ করতে বাধা দেওয়া: পড়ালেখা শেষ করতে না দেওয়া বা কর্মজীবনে প্রবেশে বাধা দেওয়া।

  • সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা: পৈতৃক সম্পত্তি বা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

  • যৌতুক আদায়: বিয়ের সময় বা বিয়ের পর যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করা।

  • আয় রোজগারের সুযোগ সীমিত করা: অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা।


৫. ডিজিটাল বা অনলাইন সহিংসতা

আধুনিক যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে নারীর প্রতি নতুন ধরনের সহিংসতা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • সাইবার হয়রানি/বুলিং: অনলাইনে অপমানজনক বার্তা পাঠানো, হুমকি দেওয়া বা হয়রানি করা।

  • প্রাইভেট ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া: নারীর অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ছবি/ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করা।

  • ডক্সিং (Doxing): ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন ঠিকানা, ফোন নম্বর) অনলাইনে ফাঁস করে দেওয়া।

  • ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে হয়রানি: নারীর নামে ভুয়া প্রোফাইল খুলে তার মানহানি করা।


৬. প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সহিংসতা

নারীর প্রজনন ক্ষমতা বা প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

  • জোরপূর্বক গর্ভপাত: অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাত করানো।

  • জোরপূর্বক গর্ভধারণ: নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে গর্ভবতী করা।

  • জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপর নিয়ন্ত্রণ: নারীকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে না দেওয়া বা জোর করে ব্যবহার করানো।

নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু নারীর জীবনেই নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উপরও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি মানবাধিকারের মৌলিক লঙ্ঘন এবং বিশ্বব্যাপী এর অবসান ঘটাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।





জাতিসংঘে নারী মর্যাদা ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধারা ও নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women) এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য ৫ (SDG 5)

জাতিসংঘের নারী মর্যাদার প্রধান ধারা ও নীতিমালা

বিষয়বিবরণ
CEDAW সনদ১৯৭৯ সালে গৃহীত, নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের আন্তর্জাতিক চুক্তি। এতে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে, যা নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমতার জন্য রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে। ধারা ১-১৬ নারী-পুরুষ সমতা, ধারা ১৭-২২ সনদের বাস্তবায়ন ও দায়িত্ব, এবং ধারা ২৩-৩০ প্রশাসনিক বিষয়াদি নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সনদে স্বাক্ষর করেছে, যদিও কিছু ধারায় আপত্তি রয়েছে5
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য ৫ (SDG 5)জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের মধ্যে একটি, যা নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা দূরীকরণ, শিশুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ বন্ধ, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণ, গৃহস্থালি কাজের মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান, এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে1
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নীতিমালানারীর মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংবিধান, আইন-কানুনে নারী-পুরুষ সমতার বিধান রাখা, বৈষম্যমূলক আইন বাতিল, এবং নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ। বাংলাদেশ সংবিধানে নারীর সমান অধিকার ও অংশগ্রহণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে27
নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণজাতিসংঘ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হয়1
সহিংসতা ও বৈষম্য প্রতিরোধপাচার, যৌন হয়রানি, ঘর-বাইরে সহিংসতা, ক্ষতিকর প্রথা যেমন নারী যৌনাঙ্গচ্ছেদ, বাল্যবিবাহ বন্ধে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়1

সারসংক্ষেপ

জাতিসংঘের নারী মর্যাদা সংক্রান্ত নীতিমালা ও ধারা নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা দূরীকরণ, সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন, এবং নারীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করছে, যদিও চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে125

উল্লেখযোগ্য: জাতিসংঘের এই নীতিমালা ও ধারা নারীর মানবাধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে এবং জাতীয় পর্যায়ে আইন, নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  1. https://bangladesh.un.org/bn/sdgs/5
  2. https://www.ittefaq.com.bd/675734/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE-%E2%80%98%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E2%80%99-%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AD%E0%A7%8C%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0
  3. https://bangladesh.un.org/bn/download/144867/249088
  4. https://www.somoynews.tv/news/2023-03-08/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A6%93-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%98
  5. https://www.bonikbarta.com/home/news_description/335235/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%98%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A6%A6-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%A4%E0%A6%BF
  6. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95_%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80_%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8
  7. https://samakal.com/politics/article/149051/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0
  8. https://hannanabegum.org/books/Narir-manush-howar-shangram.pdf

জাতিসংঘ নারী মর্যাদার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধারা ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে যা বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

জাতিসংঘ সনদে নারী মর্যাদা:

মৌলিক নীতি: সমতা ও বৈষম্যহীনতা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি, যা ১৯৪৫ সালে বিশ্ব নেতারা গ্রহণ করেছিলেন।

জাতিসংঘ সনদের ধারা: জাতিসংঘ সনদের ৮ ও ১০১ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, প্রধান ও সহায়ক সংস্থাগুলোতে সকল ক্ষমতায় এবং সমতার শর্তে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের যোগ্যতার উপর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না।

মানবাধিকারের উদ্দেশ্য: জাতিসংঘ সনদের ১ নং ধারায় ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে "জাতি, লিঙ্গ, ভাষা বা ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জন করা।"

নারী মর্যাদা কমিশন (CSW):

নারী মর্যাদা কমিশন (CSW) হল লিঙ্গ সমতা, নারীর অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রচারে একচেটিয়াভাবে নিবেদিত প্রধান বৈশ্বিক আন্তঃসরকারি সংস্থা।

বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা:

ঐতিহাসিক গুরুত্ব: নারী অধিকার অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে প্রগতিশীল নীলনকশা হিসেবে বিবেচিত বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা।

১২টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র: ১৯৯৫ সালে চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে ১৮৯টি সরকার কর্তৃক সম্মতিপ্রাপ্ত এই কর্মপরিকল্পনা ১২টি কর্মক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে যা "উদ্বেগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র" হিসেবে উল্লেখিত। এর মধ্যে রয়েছে চাকরি ও অর্থনীতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, শান্তি, পরিবেশ, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করা এবং আরও অনেক কিছু।

বেইজিং প্ল্যাটফর্মের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র:

১. নারী ও দারিদ্র্য ২. নারীর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
৩. নারী ও স্বাস্থ্য ৪. নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ৫. নারী ও সশস্ত্র সংঘাত ৬. নারী ও অর্থনীতি ৭. ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী ৮. নারীর অগ্রগতির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ৯. নারীর মানবাধিকার ১০. নারী ও গণমাধ্যম ১১. নারী ও পরিবেশ ১২. বালিকা

UN Women এর ভূমিকা:

UN Women লিঙ্গ সমতার জন্য বিশ্বব্যাপী চ্যাম্পিয়ন, যা মানদণ্ড উন্নয়ন ও বজায় রাখার জন্য কাজ করে এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে যেখানে প্রতিটি নারী ও মেয়ে তার মানবাধিকার প্রয়োগ করতে এবং তার পূর্ণ সম্ভাবনা অনুযায়ী জীবনযাপন করতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ১৩২৫:

নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নং রেজোলিউশন (২০০০) স্বীকার করেছে যে যুদ্ধ নারীদের উপর ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে, এবং সংঘাত প্রতিরোধ ও সমাধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা পুনর্নিশ্চিত করেছে।

মানবাধিকারের নীতিমালা:

নারী ও মেয়েরা তাদের সকল মানবাধিকারের পূর্ণ ও সমান ভোগের অধিকারী। বেইজিং কর্মপরিকল্পনা নিশ্চিত করে যে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রচার সরকারের প্রথম দায়িত্ব এবং জাতিসংঘের কাজের মূল বিষয়।

বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ:

নারী মর্যাদা কমিশন মেক্সিকো (১৯৭৫), কোপেনহেগেন (১৯৮০), নাইরোবি (১৯৮৫) এবং বেইজিং (১৯৯৫) নারী বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনগুলো আয়োজন ও ফলোআপের দায়িত্বে রয়েছে। গত দশকে, কমিশন তার বার্ষিক অধিবেশনে বেইজিং কর্মপরিকল্পনায় চিহ্নিত বারটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের ক্ষেত্রে অগ্রগতি পদ্ধতিগতভাবে পর্যালোচনা করেছে।

এই ধারা ও নীতিমালাগুলো বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও লিঙ্গ সমতা অর্জনে মৌলিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং সরকারগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক কর্মসূচি নির্ধারণ করে।


জাতিসংঘ (United Nations) নারীর সমতা ও অধিকার রক্ষার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি, ঘোষণাপত্র এবং নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নিম্নে জাতিসংঘের নারী মর্যাদা ও অধিকার সংক্রান্ত প্রধান ধারা ও নীতিমালাগুলো উল্লেখ করা হলো:


### **১. নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (CEDAW - 1979)**

- **মূল উদ্দেশ্য:** নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

- **প্রধান ধারা:**

  - **ধারা ২:** রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে আইনি সংস্কার।

  - **ধারা ৫:** লিঙ্গভিত্তিক কুসংস্কার ও রীতিনীতি দূরীকরণ।

  - **ধারা ১০-১৪:** শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ নারীদের অধিকার।

  - **ধারা ১৬:** বিবাহ ও পারিবারিক জীবনে সমতা।


### **২. নারী অধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (UDHR - 1948)**

- **ধারা ২:** সকলের জন্য সমান অধিকার (লিঙ্গভেদে নয়)।

- **ধারা ১৬:** বিবাহ ও পরিবারে সমান অধিকার।


### **৩. নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দূরীকরণ ঘোষণা (1993)**

- প্রথমবারের মতো নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

- সরকারগুলোকে নারী সহিংসতা প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ।


### **৪. বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপন্থা (1995)**

- **১২টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি:**

  ১. দারিদ্র্য দূরীকরণ  

  ২. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ  

  ৩. স্বাস্থ্য সেবা  

  ৪. সহিংসতা প্রতিরোধ  

  ৫. সশস্ত্র সংঘাতে নারী সুরক্ষা  

  ৬. অর্থনৈতিক সম্পদে প্রবেশাধিকার  

  ৭. ক্ষমতায়নে নারী অংশগ্রহণ  

  ৮. প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা  

  ৯. মানবাধিকার রক্ষা  

  ১০. মিডিয়া ও সংস্কৃতি  

  ১১. পরিবেশ সুরক্ষা  

  ১২. কন্যাশিশু অধিকার  


### **৫. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ (2000)**

- যুদ্ধ ও সংঘাতের সময় নারীর সুরক্ষা ও শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।


### **৬. টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs - 2015)**

- **লক্ষ্য ৫:** লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন।

  - ৫.১: সবক্ষেত্রে নারীর বৈষম্য দূরীকরণ।

  - ৫.২: নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ।

  - ৫.৩: শিশুবিবাহ ও নারী যৌনাঙ্গচ্ছেদ বন্ধ।

  - ৫.৫: নারীর নেতৃত্বে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।


### **৭. নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা (WPS Agenda)**

- সংঘাত ও শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা জোরদার করে।


### **৮. আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এর কনভেনশন**

- **কনভেনশন ১০০ (1951):** সমমূল্যের কাজে সমান বেতন।

- **কনভেনশন ১৯০ (2019):** কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধ।


### **জাতিসংঘের নারী সংস্থা (UN Women)**

- ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে।


### **বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ:**

- অনেক দেশ CEDAW-এ **আরক্ষণ (Reservations)** যোগ করে (যেমন ইসলামী দেশগুলো ধারা ১৬-এ আপত্তি করে)।

- আইন থাকলেও বাস্তবে নারীর অবস্থার উন্নতি কম।


### **বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট:**

- CEDAW অনুমোদন করলেও ধারা ২ ও ১৬.১(গ)-এ আরক্ষণ রেখেছে।

- নারী উন্নয়নে অগ্রগতি থাকলেও বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও সহিংসতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।


জাতিসংঘের এসব নীতিমালা নারীর অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে বাস্তবায়নে সকল দেশের সদিচ্ছা প্রয়োজন।


জাতিসংঘে নারীর মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বহু ধারা, সনদ ও নীতিমালা গৃহীত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এগুলোর মাধ্যমে নারীকে সমতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের দৃষ্টিতে দেখা হয়।


🔷 জাতিসংঘে নারী মর্যাদা সংক্রান্ত প্রধান ধারা ও নীতিমালা সমূহ:

✅ ১. CEDAW – (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women), 1979

নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ সনদ
🔹 নারী-পুরুষের আইনি, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি।
🔹 নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাধ্যতামূলক সনদ।


✅ ২. বেইজিং ঘোষণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা (Beijing Declaration and Platform for Action), 1995

চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের ফলাফল।
🔹 ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে (Critical Areas of Concern) চিহ্নিত করে যেমন:

  • নারী শিক্ষা

  • নারীর স্বাস্থ্য

  • সহিংসতা

  • নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন

  • পরিবেশ ও যোগাযোগে নারীর ভূমিকা
    🔹 এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি যার লক্ষ্য নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য নির্মূল করা।


✅ ৩. UNSCR 1325 – (United Nations Security Council Resolution 1325 on Women, Peace and Security), 2000

🔹 সশস্ত্র সংঘাতে নারীর নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ ভূমিকা ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
🔹 নারীদের শান্তি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং যুদ্ধের সময় যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


✅ ৪. 2030 টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)

বিশেষত লক্ষ্য ৫ (Goal 5): Gender Equality
🔹 নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ
🔹 বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ে বন্ধ
🔹 নেতৃত্বের জায়গায় নারীর সমান অংশগ্রহণ
🔹 প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার


✅ ৫. ভিয়েনা ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা, 1993

🔹 নারী অধিকারকে “মানবাধিকার” হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
🔹 “Women's Rights are Human Rights” – এই স্লোগানের উৎস এখান থেকেই।


✅ ৬. ইস্তানবুল কনভেনশন (2011, Council of Europe)

🔹 যদিও এটি মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য, তবে এটি আন্তর্জাতিকভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের শক্তিশালী দলিল।


✅ ৭. UN Women (জাতিসংঘ নারী সংস্থা), ২০১০ সালে গঠিত

🔹 জাতিসংঘের অভ্যন্তরে নারী-সম্পর্কিত সকল কার্যক্রমকে ঐক্যবদ্ধ করে।
🔹 CEDAW, SDG, Beijing Platform বাস্তবায়নে কাজ করে।
🔹 লিঙ্গ সমতা, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক সুযোগ, সহিংসতা প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেয়।


🔶 গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি:

  1. লিঙ্গ সমতা (Gender Equality)
    নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা।

  2. নারীর ক্ষমতায়ন (Women Empowerment)
    সিদ্ধান্তগ্রহণে, নেতৃত্বে ও সম্পদে নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ।

  3. অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার
    নারীর অধিকার মানে মানবাধিকার—এই দৃষ্টিভঙ্গি সব কার্যক্রমে যুক্ত।

  4. অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন
    নারীদের ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

  5. সহিংসতা মুক্ত সমাজ
    নারীর প্রতি সহিংসতা একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন, এর প্রতিরোধ রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


🔚 উপসংহার:

জাতিসংঘের বিভিন্ন সনদ, ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা নারীর মর্যাদা, সমতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী একটি যৌথ কাঠামো তৈরি করেছে। এগুলো জাতিগুলিকে বাধ্য করে নারী বান্ধব আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে, এবং নারীর সার্বিক উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণে।



জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী নারী ও মেয়েদের মর্যাদা, অধিকার এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সনদ, নীতিমালা ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো লিঙ্গ সমতা অর্জন এবং নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য ও সহিংসতা দূর করা।


জাতিসংঘে নারীর মর্যাদা সংক্রান্ত প্রধান সনদ ও নীতিমালাসমূহ

জাতিসংঘে নারীর মর্যাদার ভিত্তি মূলত নিম্নলিখিত প্রধান আন্তর্জাতিক দলিল ও সংস্থাগুলোর মাধ্যমে স্থাপিত হয়েছে:

১. নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (CEDAW)

এটি Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women (CEDAW) নামে পরিচিত এবং "নারীর অধিকারের আন্তর্জাতিক বিল" (International Bill of Rights for Women) হিসেবে গণ্য হয়। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত এবং ১৯৮১ সালে কার্যকর হওয়া এই সনদটি নারীর প্রতি বৈষম্যের একটি বিস্তারিত সংজ্ঞা প্রদান করে এবং স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোকে নিম্নলিখিত বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে:

  • বৈষম্য দূরীকরণ: সকল প্রকার লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিন্দা করা এবং তা দূর করার জন্য আইনগত ও নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

  • আইনগত সমতা: সংবিধান ও আইনে নারী-পুরুষের সমতার নীতি অন্তর্ভুক্ত করা এবং বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করা।

  • রাজনৈতিক ও জনজীবনে অংশগ্রহণ: রাজনৈতিক জীবন, সরকারি পদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

  • শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা: শিক্ষা, কর্মসংস্থান (সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি), এবং স্বাস্থ্যসেবায় নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

  • গ্রামীণ নারীর সুরক্ষা: গ্রামীণ নারীর বিশেষ চাহিদা ও সমস্যাগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া।

  • পারিবারিক জীবন: বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

  • মানব পাচার ও যৌন শোষণ: নারীর পাচার এবং যেকোনো ধরনের যৌন শোষণ দমন করা।

২. বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা (Beijing Declaration and Platform for Action)

১৯৯৫ সালে চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে এটি গৃহীত হয়। এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য একটি যুগান্তকারী এবং ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা। বেইজিং প্লাটফর্ম অব অ্যাকশন নারীর ক্ষমতায়নের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে, যা "ক্রিটিক্যাল এরিয়াস অফ কনসার্ন" (Critical Areas of Concern) নামে পরিচিত। এগুলো হলো:

  • নারীর দারিদ্র্য

  • শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ

  • স্বাস্থ্য

  • নারীর প্রতি সহিংসতা

  • সশস্ত্র সংঘাত

  • অর্থনৈতিক কাঠামোয় অংশগ্রহণ

  • ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ

  • প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া

  • মানবাধিকার

  • গণমাধ্যম

  • পরিবেশ

  • মেয়ে শিশুরা

এটি বিশ্বজুড়ে লিঙ্গ সমতা ও নারীর অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কৌশল নির্ধারণে সাহায্য করে।

৩. জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)

২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Sustainable Development Goals - SDGs) এর ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে লক্ষ্য ৫: লিঙ্গ সমতা (Gender Equality) নারীর মর্যাদা ও অধিকারের উপর সরাসরি আলোকপাত করে। এই লক্ষ্য নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ, সহিংসতা বন্ধ করা, প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে নারীর পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সম্পদের উপর নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে। এছাড়াও, অন্যান্য এসডিজি লক্ষ্যগুলো (যেমন দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা) পূরণের জন্যও লিঙ্গ সমতা অপরিহার্য।

৪. নারীর মর্যাদাবিষয়ক কমিশন (Commission on the Status of Women - CSW)

এটি জাতিসংঘের একটি প্রধান আন্তঃসরকারি সংস্থা, যা লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের প্রচারে নিবেদিত। এটি বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার ও বাস্তবতার নথিভুক্তিকরণ, লিঙ্গ সমতার বিষয়ে বৈশ্বিক মান নির্ধারণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর নিউইয়র্কে এর অধিবেশন বসে, যেখানে সদস্য রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য অংশীজনরা একত্রিত হয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।

৫. ইউএন উইমেন (UN Women)

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএন উইমেন জাতিসংঘের একটি সত্তা, যা লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে। এটি জাতিসংঘ ব্যবস্থার মধ্যে লিঙ্গ সমতা বাড়ানোর জন্য সমন্বয় সাধন করে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আইন, নীতি, কর্মসূচি ও পরিষেবা প্রণয়নে সহায়তা করে, যাতে বিশ্বজুড়ে নারী ও মেয়েরা উপকৃত হয়।


অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও সনদ

  • মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা (Universal Declaration of Human Rights - UDHR): ১৯৪৮ সালের এই ঘোষণাপত্রটি "সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং মর্যাদা ও অধিকারের ক্ষেত্রে সমান" এই নীতিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের সমতার কথা বলে। এটি নারীর মানবাধিকারের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

  • নারীর রাজনৈতিক অধিকার সনদ (Convention on the Political Rights of Women - 1952): এই সনদ নারীর ভোটাধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার এবং সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে।

  • বিবাহিত নারীর জাতীয়তা সংক্রান্ত সনদ (Convention on the Nationality of Married Women - 1957): এটি নিশ্চিত করে যে বিবাহ বা স্বামীর জাতীয়তা পরিবর্তনের কারণে স্ত্রীর জাতীয়তা প্রভাবিত হবে না।

  • শিক্ষা বৈষম্য বিরোধী সনদ (Convention against Discrimination in Education - 1960): এটি শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রতি যেকোনো বৈষম্য নিষিদ্ধ করে।

জাতিসংঘের এই সকল ধারা ও নীতিমালাগুলো একত্রিত হয়ে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি, অধিকার সুরক্ষা এবং লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরি করেছে।


জাতিসংঘ নারী অধিকার সুরক্ষার জন্য বেশ কিছু ধারা ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে "নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ" (CEDAW) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত রেজুলেশন এবং বিভিন্ন কনভেনশন নারীর অধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women): 

এই সনদটি নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ করার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় ১৯৭৯ সালে এবং ১৯৮১ সাল থেকে কার্যকর হয়। 

এটি নারীর মানবাধিকারকে স্বীকৃতি দেয় এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ দূর করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করে। 

সিডও সনদে নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ব্যক্তিগত জীবনের সকল ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। 

এই সনদে নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্যের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা বৈবাহিক অবস্থা নির্বিশেষে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে বিবেচিত হবে। 

সিডও সনদের অধীনে, প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য পদক্ষেপ নিতে এবং তাদের মানবাধিকার রক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। 

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও ধারা:

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন রেজুলেশনও নারীর অধিকার সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

এছাড়াও, শিশু অধিকার সনদ (CRC) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনও নারীর অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। 

বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন (Beijing Platform for Action): ১৯৯৫ সালে বেইজিং এ বিশ্ব নারী সম্মেলনে গৃহীত এই প্ল্যাটফর্মটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার সমতা অর্জনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রদান করে। 

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (Sustainable Development Goals - SDGs): এর মধ্যে অভীষ্ট ৫ বিশেষভাবে জেন্ডার সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নির্ধারিত। 

এই সকল ধারা ও নীতিমালাগুলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করে।




বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রকৃতি এবং সীমাবদ্ধতা নিম্নরূপ:

অংশগ্রহণের প্রকৃতি

  • সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা:
    জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে, যেখানে নারীরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না, বরং দলীয় বা পারিবারিক প্রভাবের মাধ্যমে আসন পান। এই আসনগুলোতে নারীর কার্যকর ভূমিকা সীমিত ও গৌণ হয়ে থাকে1

  • রাজনৈতিক দলের নারীর অংশগ্রহণ:
    রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩% নারীর অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও, বাস্তবে কোনো দলই এই শর্ত পূরণে সক্ষম হয়নি। নারীরা দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন না এবং নেতৃত্বের আসনে নারীর সংখ্যা কম147

  • নারী নেতৃত্বের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য:
    স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বে নারী নেত্রীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দীর্ঘকাল দেশের শাসনে ছিলেন। নারীরা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পান567

  • নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব:
    বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়ায় উন্নয়নের জন্য তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি1

অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা

  • রক্ষণশীল সামাজিক মনোভাব:
    সমাজের রক্ষণশীলতা নারীদের মিটিং-মিছিল, জনসভায় অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক পরিবার নারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে মেনে নিতে নারাজ1

  • পারিবারিক ও দলীয় প্রভাব:
    পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাব না থাকলে নারীর শক্ত অবস্থানে পৌঁছানো কঠিন। দলগুলোর পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ও মানসিকতার কারণে নারীর নেতৃত্বে বাধা থাকে15

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা:
    সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারীরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় তাদের দায়বদ্ধতা ও কার্যকর ভূমিকা কম থাকে1

  • রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাব:
    নারীদের জন্য পর্যাপ্ত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়7

  • দলীয় অভ্যন্তরীণ সংস্কারের অভাব:
    নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি হলেও তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি7

সংক্ষেপে

বাংলাদেশে নারীরা রাজনৈতিকভাবে দৃশ্যমান হলেও তাদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ এখনও সীমিত। সংরক্ষিত আসন থাকলেও তা কার্যকর ক্ষমতা দেয় না, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা, দলীয় পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব এবং নিরাপত্তা-প্রশিক্ষণের অভাব নারীদের রাজনীতিতে পূর্ণ সমানাধিকার লাভে বাধা সৃষ্টি করে। এই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে রাজনৈতিক সংস্কার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য157

  1. https://www.jugantor.com/tp-little-talk/743188
  2. https://www.bbc.com/bengali/articles/cd0nd1d4kkdo
  3. http://reposit.library.du.ac.bd:8080/xmlui/handle/123456789/3403
  4. https://www.jaijaidinbd.com/feature/nondini/437832
  5. https://sangbad.net.bd/opinion/post-editorial/2025/132181/
  6. https://nustudy.com/%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A6%B6%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%A4-%E0%A6%A8%E0%A6%B0%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%95-%E0%A6%AD/
  7. https://dailyinqilab.com/politics/news/740165
  8. https://www.dailyjanakantha.com/lifestyle/news/740339

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ একটি জটিল চিত্র উপস্থাপন করে, যেখানে অগ্রগতি এবং সীমাবদ্ধতা উভয়ই বিদ্যমান।

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রকৃতি:

জাতীয় সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব:

সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা: বাংলাদেশের এককক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদে ৩৫০টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি আসন একচেটিয়াভাবে নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এই ৫০টি সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন।

বর্তমান অবস্থান: ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের আসনের অনুপাত ২০.৮৬ শতাংশ ছিল। আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯২তম, যেখানে ২০.৩% সংসদ সদস্য নারী।

স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ:

বিভিন্ন স্তরে সংরক্ষণ: বাংলাদেশে সরকারের তিনটি স্তরে নারীদের জন্য চারটি পৃথক ও ভিন্ন সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা রয়েছে, যা বিভিন্ন লিঙ্গ সমতার ফলাফল প্রদান করে।

ইউনিয়ন পরিষদে নারীর ভূমিকা: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা: ২০১৬ সালে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল, শহর সংস্থা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার মোট ০.৮ শতাংশ।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা:

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা:

লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক নিয়ম: জাতীয় ও স্থানীয় উভয় পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। স্থায়ী লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক নিয়ম ও স্টেরিওটাইপ, পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে উত্থানের জন্য বাধা হিসেবে কাজ করে।

জেন্ডার ওয়াল: প্রমাণ সূত্র দেখায় যে প্রাতিষ্ঠানিক, ঐতিহাসিক, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণগুলো নিয়ে গঠিত একটি জেন্ডার ওয়াল জাতীয় ও স্থানীয় উভয় পর্যায়ে বাংলাদেশী নারীদের আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা:

পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক মডেল: সংরক্ষিত আসনের নারীরা কিছু মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক বাধার সম্মুখীন হন, যেমন রাজনীতির পুরুষতান্ত্রিক মডেল, রাজনৈতিক দলের সমর্থনের অভাব, পাশাপাশি ক্ষমতা ও সম্পদের অভাব।

দলীয় সমর্থনের অভাব: সাধারণ ও সংরক্ষিত উভয় আসনে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিরা লিঙ্গভিত্তিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন।

সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা:

প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের অভাব: বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদে নারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকতে হবে। বর্তমানে এর অর্থ হল আইনসভার ৫০টি আসন নারীদের দ্বারা অধিষ্ঠিত হতে হবে। "সংরক্ষিত আসন প্রকৃতপক্ষে ইঙ্গিত করে যে নারীরা এখানে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে এখনও পিছিয়ে আছে।"

বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও পরিবর্তনের সূচক:

নারী নেতৃত্বের ইতিহাস:

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার অবস্থান ছিল, যা নারী নেতৃত্বের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তবে এই শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে তেমন প্রভাব ফেলেনি।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে নারীর ভূমিকা:

২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, যা চাকরির সুযোগ, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক অসমতার উপর ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং শেখ হাসিনার সরকারের পতনে পরিণত হয়েছিল, এই যুব বিদ্রোহের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব।

সমাধানের দিকনির্দেশনা:

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, রাজনৈতিক দলের সমর্থন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ আসনে নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ বৃদ্ধি।

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ একটি মিশ্র চিত্র উপস্থাপন করে - সাংবিধানিক সংরক্ষণ ও শীর্ষ পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের উপস্থিতি সত্ত্বেও গভীর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা নারীদের প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে।


### **বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রকৃতি ও সীমাবদ্ধতা**  


বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ একটি জটিল ও দ্বন্দ্বময় বিষয়। একদিকে সংবিধান ও আইনে নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাধার কারণে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন এখনও সীমিত। নিম্নে এর প্রকৃতি ও চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষণ করা হলো:


---


## **১. বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রকৃতি**  

### **ক) সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব**  

- **সংরক্ষিত আসন:** বাংলাদেশের সংবিধানের **৬৫(৩) ধারা** অনুযায়ী, সংসদের ৫০টি আসন (মোট ৩৫০টির মধ্যে) নারীদের জন্য সংরক্ষিত। তবে এগুলো **প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নয়**—দলীয় কোটা অনুযায়ী বণ্টন করা হয়।  

- **সাধারণ আসনে নারী:** ২০২৪ সালের হিসাবে, সরাসরি নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) **২২ জন** (মোট ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে), যা মাত্র **৭.৩%**।  

- **নেতৃত্বের পদ:** প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা), স্পিকার (শিরীন শারমিন চৌধুরী) এবং কয়েকজন মন্ত্রী নারী হলেও মন্ত্রিসভায় নারীর অংশগ্রহণ **১৫%-২০%**-এর মধ্যে সীমিত।  


### **খ) স্থানীয় সরকারে নারী**  

- **ইউনিয়ন পরিষদে কোটা:** প্রতিটি ইউনিয়নে **৩টি আসন (১টি চেয়ারম্যান + ২টি সদস্য)** নারীদের জন্য সংরক্ষিত।  

- **পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন:** ২০২৩ সাল পর্যন্ত **১০%-২০%** নারী প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, তবে মেয়র পদে নারীর সংখ্যা নগণ্য (ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ছাড়া)।  


### **গ) রাজনৈতিক দলে নারীর ভূমিকা**  

- **সক্রিয় সদস্য:** আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদসহ প্রধান দলগুলোর **১৫%-৩০%** সদস্য নারী, কিন্তু নীতিনির্ধারণী পদে তাদের উপস্থিতি কম।  

- **নারী শাখা:** প্রায় সব দলেরই পৃথক নারী শাখা (যেমন আওয়ামী লীগের 'মহিলা আওয়ামী লীগ'), কিন্তু এগুলো মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে পারে না।  


### **ঘ) নারী রাজনীতিবিদদের বৈশিষ্ট্য**  

- **পারিবারিক যোগসূত্র:** অনেক নারী রাজনীতিবিদ পরিবারিক পৃষ্ঠপোষকতায় আসেন (যেমন শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, সেলিনা হোসেন ইত্যাদি)।  

- **সামাজিক আন্দোলনের নেত্রী:** কিছু নারী শ্রমিক আন্দোলন, শিক্ষা বা মানবাধিকার সংগ্রাম থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন (যেমন রাশেদা কে. চৌধুরী, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু)।  


---


## **২. নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা**  

### **ক) কাঠামোগত বাধা**  

1. **পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি:**  

   - রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব এখনও পুরুষপ্রধান; নারীদের প্রায়ই "সাংগঠনিক কাজে" সীমিত রাখা হয়।  

   - নারী নেতৃত্বকে প্রায়ই "প্রতীকী" হিসেবে দেখা হয়।  


2. **সংরক্ষিত আসনের সীমাবদ্ধতা:**  

   - সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের **বাজেট বা নীতিনির্ধারণে ভূমিকা কম**।  

   - তারা দলীয় আনুগত্য প্রকাশ করলেই মূলত নির্বাচিত হন, স্বাধীন মতামত দেওয়ার সুযোগ কম।  


3. **আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতা:**  

   - নারীদের রাজনীতিতে আসতে **আর্থিক স্বাধীনতা, শিক্ষা ও নেটওয়ার্কের অভাব**।  

   - **পারিবারিক সমর্থনের অভাব**, বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজে।  


### **খ) সহিংসতা ও বৈষম্য**  

1. **রাজনৈতিক সহিংসতা:**  

   - নির্বাচনী সমাবেশ, মিছিল বা গণজমায়েতে নারী নেতাকর্মীদের **যৌন হয়রানি, শারীরিক আক্রমণ** বা হুমকির শিকার হতে হয়।  

   - উদাহরণ: ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে **অনেক নারী প্রার্থীকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়**।  


2. **মিডিয়া ও সামাজিক কটূক্তি:**  

   - নারী রাজনীতিবিদদের **চরিত্র হনন** বা লিঙ্গভিত্তিক সমালোচনার শিকার হতে হয়।  


### **গ) প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা**  

1. **দলীয় কাঠামোতে নারীর কম প্রতিনিধিত্ব:**  

   - রাজনৈতিক দলের **সিনিয়র কমিটি বা পলিটব্যুরোতে নারীর অংশগ্রহণ ১০%-এর নিচে**।  

   - উদাহরণ: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে ২-৩ জন নারী, বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে ১-২ জন।  


2. **নির্বাচনী ব্যবস্থার দুর্বলতা:**  

   - **নির্বাচনী খরচ** অনেক নারী প্রার্থীর পক্ষে বহন করা কঠিন।  

   - দলীয় মনোনয়ন পদ্ধতিতে নারীদের **অগ্রাধিকার কম দেওয়া হয়**।  


---


## **৩. উত্তরণের উপায়**  

1. **সংরক্ষিত আসনের সংস্কার:**  

   - সংরক্ষিত আসন **সরাসরি ভোটে নির্বাচনের** ব্যবস্থা করা।  

   - স্থানীয় সরকারে নারী কোটা **৫০%**-এ উন্নীত করা।  


2. **দলীয় কাঠামোতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি:**  

   - রাজনৈতিক দলগুলোর **৩০% পদ নারীদের জন্য সংরক্ষণ** (যেমন দক্ষিণ আফ্রিকান ANC দলের মডেল)।  


3. **নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ:**  

   - নারী প্রার্থী ও কর্মীদের জন্য **সিকিউরিটি ফান্ড** ও **লিডারশিপ ট্রেনিং**।  

   - **সাইবার বুলিং ও শারীরিক সহিংসতা রোধে** কঠোর আইন।  


4. **সামাজিক সচেতনতা:**  

   - নারী রাজনীতিবিদদের **ইতিবাচক উদাহরণ** মিডিয়াতে প্রচার।  

   - **লিঙ্গসমতামূলক শিক্ষা** কার্যক্রম জোরদার করা।  


---


## **৪. উপসংহার**  

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ **প্রাতিষ্ঠানিক কোটা ও কিছু নারী নেতৃত্বের কারণে উল্লেখযোগ্য**, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য **গুণগত পরিবর্তন** প্রয়োজন। সংরক্ষিত আসনের সংস্কার, দলীয় কাঠামোতে নারীর অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই নারী রাজনীতিকে প্রাণবন্ত করতে পারে।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচ্য বিষয়। যদিও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নারীরা রাজনীতিতে দৃশ্যমান হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করছেন, তবুও নারী রাজনীতির প্রকৃতি এখনও অনেকাংশে প্রতিনিধিত্বমূলক, সীমাবদ্ধ এবং পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রিত


🔷 বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রকৃতি:

✅ ১. প্রতীকী ও পারিবারিক প্রতিনিধিত্ব

  • অনেক নারী রাজনীতিবিদ এসেছেন রাজনৈতিক পরিবার বা পিতামাতার/স্বামীর উত্তরসূরি হিসেবে।

  • উদাহরণ: শেখ হাসিনা (বঙ্গবন্ধু কন্যা), খালেদা জিয়া (প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্ত্রী)।

✅ ২. সংরক্ষিত আসনে অংশগ্রহণ

  • জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যেগুলো রাজনৈতিক দলগুলো অনুপাতিক হারে মনোনয়ন দিয়ে পূরণ করে।

  • এতে নারীদের সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ কম।

✅ ৩. স্থানীয় সরকারে সক্রিয়তা বৃদ্ধি

  • ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, ও সিটি কর্পোরেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে অনেক নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন।

  • তবে এখানেও বাস্তব ক্ষমতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমিত।

✅ ৪. ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে অংশগ্রহণ

  • কিছু নারী ছাত্রনেতা ও সংগঠক উঠে আসলেও পুরুষের আধিপত্য এখনো প্রবল।

  • নারীর উপর হয়রানি ও সহিংসতার ভয়ে অনেকেই রাজনীতি এড়িয়ে চলে।

✅ ৫. রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে কিছু নারী

  • দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব রয়েছে (আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা, বিএনপিতে খালেদা জিয়া)।

  • কিন্তু নিচের স্তরে, যেমন ওয়ার্ড/থানা/উপজেলা পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে দুর্বল।


🔶 সীমাবদ্ধতা বা প্রতিবন্ধকতা:

❌ ১. পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও সমাজব্যবস্থা

  • রাজনীতিকে ‘পুরুষের কাজ’ মনে করা হয়।

  • নারীর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়াকে ‘অপরাধ’, ‘লজ্জার বিষয়’ বা পারিবারিক দায়িত্বের ব্যাঘাত হিসেবে দেখা হয়।

❌ ২. অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা

  • রাজনীতি করতে হলে অর্থ, সংগঠন, প্রচার ইত্যাদির জন্য বড় পরিমাণ খরচ হয়।

  • অনেক নারীর সে অর্থনৈতিক ভিত্তি বা পৃষ্ঠপোষকতা থাকে না।

❌ ৩. নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংস পরিবেশ

  • রাজনৈতিক সহিংসতা, হুমকি, সাইবার হয়রানি নারীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখে।

❌ ৪. দলের ভিতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত ভূমিকা

  • অনেক নারী সাংসদ বা নেত্রী থাকলেও মূল সিদ্ধান্তগ্রহণে পুরুষদের প্রভাব বেশি।

  • অনেক সময় নারীরা শুধু ‘পোস্টার-মিটিং’-এর মুখচ্ছবি হয়ে থাকেন।

❌ ৫. সংরক্ষিত আসনের সীমাবদ্ধতা

  • সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় এসব নারী প্রতিনিধির প্রকৃত দায়বদ্ধতা ও ক্ষমতা কম।

  • দলনির্ভর হয়ে থাকতে হয়।


🔷 নারী রাজনীতির উন্নয়নে করণীয়:

  1. ✅ সরাসরি নির্বাচন ও মনোনয়নে নারীর অগ্রাধিকার নিশ্চিত

  2. ✅ রাজনৈতিক দলে নারী কোটা বাস্তবায়ন

  3. ✅ নারী-নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি

  4. ✅ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব উন্নয়ন

  5. ✅ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে গণমাধ্যম ও শিক্ষার ব্যবহার


🔚 উপসংহার:

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এটি এখনও সীমিত, প্রতীকী ও নিয়ন্ত্রিত। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং বাস্তব নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ক্ষমতা প্রয়োগে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।



বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বে। প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা উভয়ই নারী হওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে হয়। তবে, এই অংশগ্রহণের প্রকৃতি বেশ জটিল এবং এর সঙ্গে অনেক সীমাবদ্ধতাও জড়িত।


রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রকৃতি

১. উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব: বাংলাদেশ বিশ্বে কয়েকটি হাতেগোনা দেশের মধ্যে অন্যতম, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে নারী নেতৃত্ব সরকার ও বিরোধী দলের প্রধানের ভূমিকা পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নারীরা আসীন আছেন।

২. সংরক্ষিত আসনের ভূমিকা: বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন (বর্তমানে ৫০টি) রাখা হয়েছে। এর ফলে নারীদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে, যা তাদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। স্থানীয় সরকার পর্যায়েও (যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন) নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে, যেখানে নারীরা সরাসরি নির্বাচিত হন।

৩. স্থানীয় সরকারের সক্রিয়তা: স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিরা (যেমন ইউপি সদস্য, কাউন্সিলর) জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছেন। তারা উন্নয়নমূলক কাজ, সালিশ-বিচার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করছেন।

৪. রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনে অংশগ্রহণ: বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী অঙ্গসংগঠন রয়েছে, যার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নারীরা রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন। সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়।

৫. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে সমাজে সচেতনতা বাড়ছে। গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠন নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও ভূমিকার বিষয়ে আলোচনা ও প্রচার চালাচ্ছে।


রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা

নারীর দৃশ্যমান অংশগ্রহণ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের জন্য অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান:

১. পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও সামাজিক বাধা:

* পুরুষতান্ত্রিক সমাজ: বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো গভীরভাবে পুরুষতান্ত্রিক। নারী নেতৃত্বকে প্রায়শই পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে অবহেলা বা অসহযোগিতার শিকার হতে হয়।

* সামাজিক ট্যাবু: অনেক পরিবার ও সমাজে এখনো মনে করা হয় যে রাজনীতি নারীর জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র নয়, যা তাদের অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করে।

* গৎবাঁধা ধারণা: নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

* গতিশীলতার অভাব: নারীদের চলাফেরায় প্রায়শই বিধিনিষেধ থাকে, যা তাদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে বা গণসংযোগে বাধা দেয়।

২. আর্থিক সীমাবদ্ধতা:

* অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা: বেশিরভাগ নারী অর্থনৈতিকভাবে পুরুষদের উপর নির্ভরশীল। রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয় (প্রচারণা, কর্মীদের খরচ ইত্যাদি), তা অনেক নারীর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

* সম্পদের অভাব: অধিকাংশ নারীর নিজস্ব সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই, যা তাদের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে।

৩. রাজনৈতিক দলের ভেতরের সীমাবদ্ধতা:

* প্রাথমিক সদস্যপদে কম অংশগ্রহণ: রাজনৈতিক দলগুলোর মূল কমিটিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো অপ্রতুল। অনেক দলেরই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩৩% নারী সদস্য রাখার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

* মনোনয়ন বঞ্চনা: সাধারণ আসনে রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের মনোনয়ন দিতে আগ্রহী হয় না, কারণ তারা মনে করে নারীদের জয়ের সম্ভাবনা কম। এক্ষেত্রে অনেক সময় পারিবারিক পরিচয়কেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, যোগ্যতাকে নয়।

* পুরুষ সহকর্মীদের অসহযোগিতা: দলের মধ্যে পুরুষ সহকর্মীদের অসহযোগিতা বা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

৪. নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতা:

* শারীরিক ও মানসিক হয়রানি: রাজনীতিতে সক্রিয় নারীরা প্রায়শই শারীরিক, মানসিক বা যৌন হয়রানির শিকার হন, যা তাদের নিরুৎসাহিত করে।

* নিরাপত্তার অভাব: রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বা প্রচারণার সময় নারীরা নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না।

৫. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা:

* সংরক্ষিত আসনের প্রকৃতি: সংরক্ষিত আসনগুলো নারীকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দেয় না, বরং তারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। এতে তাদের জবাবদিহিতা বা জনভিত্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়।

* আইনের প্রয়োগে দুর্বলতা: নারীর অধিকার রক্ষায় অনেক আইন থাকলেও সেগুলোর সঠিক প্রয়োগের অভাব দেখা যায়।

৬. শিক্ষার অভাব ও সচেতনতার ঘাটতি:

* গ্রামীণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের অনেক নারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব থাকে, যা তাদের রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বাধা দেয়।

* রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাবও তাদের অংশগ্রহণকে সীমিত করে।


উপসংহার

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব উচ্চপর্যায়ে প্রশংসনীয় হলেও, তৃণমূল থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। শুধুমাত্র সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি করলেই হবে না, বরং রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীর প্রতি তাদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে, তাদের জন্য আর্থিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং নারীর নেতৃত্বকে সত্যিকার অর্থে মূল্যায়িত করতে হবে। তবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কেবল সংখ্যায় নয়, গুণগতভাবেও বিকশিত হবে।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একদিকে, সংসদে নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে এবং বেশ কয়েকজন নারী গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণে এখনো অনেক বাধা বিদ্যমান। 

প্রকৃতি:

আইন ও সাংবিধানিক সুরক্ষা: বাংলাদেশে সংসদে নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর জন্য কিছু আসন সংরক্ষিত রয়েছে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব: বেশ কয়েকজন নারী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বস্থানীয় পদে রয়েছেন, যেমন - প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, স্পিকার। এটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি ইতিবাচক দিক।

{"Link: BBC reported https://www.bbc.com/bengali/articles/cd0nd1d4kkdo"}: "বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নারীরা আসীন হয়েছেন, তবে তাদের সংখ্যা এখনো পুরুষের তুলনায় কম।"

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন: নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। 

সীমাবদ্ধতা:

রাজনৈতিক সংস্কৃতি: বাংলাদেশে পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নারীর অংশগ্রহণে একটি বড় বাধা। অনেক সময় নারীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে বা নির্বাচনে জয়ী হতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন।

অর্থনৈতিক দুর্বলতা: অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

সুরক্ষার অভাব: রাজনীতিতে সক্রিয় নারীরা অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হন, যা তাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করে।

{"Link: BBC reported https://www.bbc.com/bengali/articles/cd0nd1d4kkdo"}: "বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। সেখানে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় খুব কম অংশগ্রহণ করতে পারে।"

দলীয় মনোনয়ন: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নারীরা দলের মনোনয়ন পেতে বা নির্বাচনে জয়ী হতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। 

উপসংহারে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও, এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাজনীতিতে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য আরও বেশি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন। 





বাংলাদেশে নারীর অধস্তনতার কারণসমূহ বহুমুখী এবং গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িত। এ ক্ষেত্রে পুরুষতন্ত্র (পিতৃতন্ত্র) একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে একক কারণ নয়।

নারীর অধস্তনতার প্রধান কারণসমূহ

  • পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা (পিতৃতন্ত্র):
    বাংলাদেশের সমাজ এখনও পিতৃতান্ত্রিক, যেখানে পুরুষকে প্রধান কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং নারীদের ওপর পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত থাকে। নারীদের স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে124

  • সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কুসংস্কার:
    কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে দেখা, বাল্যবিবাহ, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বাধা, ঘরসংসারের কাজকে নারীর একমাত্র কর্তব্য মনে করা, এসব সামাজিক রীতি ও কুসংস্কার নারীর অধস্তন অবস্থানকে বাড়িয়ে তোলে24

  • অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও দারিদ্র্য:
    অধিকাংশ নারী গ্রামীণ ও নিম্নবিত্ত শ্রেণিতে থাকায় অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর নয়। তারা প্রায়শই ক্ষুদ্র ও অস্থায়ী কাজ করে, যার ফলে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতা কম থাকে13

  • শিক্ষার অভাব:
    বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ কম, যা তাদের আত্মনির্ভরতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়24

  • আইনি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা:
    নারীর অধিকার সুরক্ষায় আইন থাকলেও বাস্তবায়নে অসুবিধা, বিচার ব্যবস্থায় বিলম্ব, সামাজিক লজ্জা ও ভয়বোধের কারণে নারীরা অধিকাংশ সময় নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারেন না57

  • পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব:
    নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় পরিবার ও সমাজের পুরুষ সদস্যদের মনোভাব বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় নারীরা নিজেদের অধিকার বুঝলেও পারিবারিক চাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন না47

পুরুষতন্ত্রের দায়

পুরুষতন্ত্র বাংলাদেশের নারীর অধস্তনতার মূল ও প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ:

  • পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নারীদের স্বাধীনতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমাবদ্ধ করে।

  • নারীদের উপর শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের উৎস পুরুষতন্ত্রের আধিপত্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার।

  • সামাজিক রীতি, প্রথা ও আইন প্রণয়নে পুরুষদের প্রাধান্য নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে1257

সংক্ষেপে

বাংলাদেশে নারীর অধস্তনতার পেছনে পুরুষতন্ত্র একটি কেন্দ্রীয় কারণ, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্তরে নারীর ওপর বৈষম্য ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। তবে এর সঙ্গে অর্থনৈতিক দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, আইনি দুর্বলতা ও সামাজিক কুসংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তন, শিক্ষার প্রসার, অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং আইনি বাস্তবায়ন জরুরি।

  1. https://www.jaijaidinbd.com/todays-paper/nondini/520557
  2. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80
  3. https://www.kalerkantho.com/online/miscellaneous/2021/07/28/1057576
  4. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF
  5. https://nagorik.prothomalo.com/ei74b9dxfx
  6. https://rocketsuggestionbd.com/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A7%81/
  7. https://www.banglatribune.com/national/428863/%E2%80%98%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%80%E2%80%99
  8. https://dwa.gov.bd/site/page/80323a7c-bd5b-486c-9d96-269acd6f9f10/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A6%B2-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A7-%E0%A6%93-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%A3

নারীর অধস্তনতার কারণ একটি বহুমাত্রিক এবং জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কারণের সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে পুরুষতন্ত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ তবে এটি একমাত্র কারণ নয়।

নারীর অধস্তনতার প্রধান কারণসমূহ:

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কারণ:

ঐতিহাসিক বৈষম্য: সহস্রাব্দ ধরে বিভিন্ন সভ্যতায় নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রাচীন গ্রিস, রোম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থায় নারীর অধিকার সীমিত ছিল।

সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ: বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নারীর প্রধান ভূমিকা মাতৃত্ব ও গৃহস্থালী কাজে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা। এই মূল্যবোধ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থায়ী হয়েছে।

ধর্মীয় ব্যাখ্যা: বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা নারীর অধীনস্থ অবস্থানকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

অর্থনৈতিক কারণ:

সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চনা: ঐতিহাসিকভাবে নারীদের সম্পত্তির মালিকানা, উত্তরাধিকার এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের অধিকার সীমিত ছিল।

শ্রম বিভাজন: ঐতিহ্যগত শ্রম বিভাজনে নারীর কাজ অবৈতনিক বা কম মূল্যায়িত হয়েছে। গৃহস্থালী কাজ, সন্তান লালন-পালন অর্থনৈতিক মূল্য পায়নি।

মজুরি বৈষম্য: সমান কাজের জন্য অসমান বেতন, পদোন্নতিতে বাধা এবং নির্দিষ্ট পেশায় প্রবেশে বাধা।

রাজনৈতিক কারণ:

রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চনা: দীর্ঘকাল ধরে ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে নারীদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

আইনি বৈষম্য: বিভিন্ন দেশের আইনে নারীর অধিকার সীমিত করা হয়েছে। বিবাহ, সন্তানের অভিভাবকত্ব, সম্পত্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আইন।

শিক্ষাগত কারণ:

শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য: ঐতিহাসিকভাবে নারীদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল। এই শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতা অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈষম্য বৃদ্ধি করেছে।

জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব: শিক্ষার অভাবে নারীরা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়েছে।

শারীরিক ও জৈবিক কারণ:

শারীরিক বল: শারীরিক শক্তিতে পুরুষের তুলনায় নারীর সাধারণ অসমতা প্রাচীন যুগে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।

প্রজনন ক্ষমতা: গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের প্রাকৃতিক দায়িত্ব নারীর চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।

পুরুষতন্ত্রের ভূমিকা ও দায়িত্ব:

পুরুষতন্ত্রের সংজ্ঞা:

পুরুষতন্ত্র হল এমন একটি সামাজিক ব্যবস্থা যেখানে পুরুষরা প্রাথমিক ক্ষমতা রাখে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নৈতিক কর্তৃত্ব, সামাজিক বিশেষাধিকার এবং সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে প্রাধান্য বিস্তার করে।

পুরুষতন্ত্রের প্রভাব:

কাঠামোগত বৈষম্য: পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, রাজনীতি) এমন কাঠামো তৈরি করেছে যা নারীর অধীনস্থতা বজায় রাখে।

সামাজিক নিয়ম: পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ নারী ও পুরুষের ভূমিকা সম্পর্কে সামাজিক প্রত্যাশা তৈরি করেছে যা নারীর স্বাধীনতা সীমিত করে।

মানসিক নিয়ন্ত্রণ: পুরুষতান্ত্রিক আদর্শ নারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং পুরুষের উপর নির্ভরশীলতার মানসিকতা তৈরি করেছে।

পুরুষতন্ত্রের দায়িত্ব:

প্রাথমিক দায়িত্ব: পুরুষতন্ত্র নারীর অধস্তনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কারণ এটি একটি ব্যাপক সামাজিক ব্যবস্থা হিসেবে নারী-পুরুষের মধ্যে ক্ষমতার অসম বন্টন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

ব্যবস্থাগত প্রভাব: পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো আইন, নীতি, সামাজিক প্রথা এবং মূল্যবোধের মাধ্যমে নারীর অধীনস্থতা স্থায়ী করেছে।

পুরুষতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা:

একমাত্র কারণ নয়: যদিও পুরুষতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, নারীর অধস্তনতার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং ভৌগোলিক কারণও দায়ী।

ঐতিহাসিক বিবর্তন: নারীর অধস্তনতা পুরুষতন্ত্রের আগেও অস্তিত্ব ছিল এবং এটি বিভিন্ন যুগে ভিন্ন রূপ নিয়েছে।

সমসাময়িক পরিস্থিতি:

পরিবর্তনশীল প্রকৃতি: আধুনিক যুগে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য উপায়ে কাজ করে। আইনি সমতা সত্ত্বেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা এখনও বিদ্যমান।

প্রতিরোধ ও পরিবর্তন: নারীবাদী আন্দোলন এবং লিঙ্গ সমতার প্রচেষ্টা পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

উপসংহার:

নারীর অধস্তনতার জন্য পুরুষতন্ত্র একটি প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ, তবে এটি একমাত্র কারণ নয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কারণের সংমিশ্রণে এই অধস্তনতা তৈরি হয়েছে। পুরুষতন্ত্র এই কারণগুলোকে একটি ব্যবস্থাগত রূপ দিয়েছে এবং স্থায়ী করেছে।

নারীর প্রকৃত মুক্তি ও সমতা অর্জনের জন্য শুধু পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তন নয়, বরং শিক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আইনি সংস্কার, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক রূপান্তর - সবকিছুর সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।


### **নারীর অধস্তনতার কারণ ও পুরুষতন্ত্রের ভূমিকা**  


নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধস্তনতার পিছনে **ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত কারণ** কাজ করে। এখানে পুরুষতন্ত্র (**Patriarchy**) একটি প্রধান কিন্তু একমাত্র কারণ নয়—বিভিন্ন উপাদানের জটিল সমন্বয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  


---


## **১. নারীর অধস্তনতার মূল কারণসমূহ**  


### **ক) পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা (Patriarchy)**  

- **সংজ্ঞা:** পুরুষতন্ত্র হলো এমন একটি সামাজিক কাঠামো যেখানে পুরুষের আধিপত্য থাকে এবং নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হয়।  

- **প্রভাব:**  

  - **পরিবারিক কাঠামো:** পুরুষকে "পরিবারের প্রধান" হিসেবে বিবেচনা করা হয়, নারীর সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা সীমিত।  

  - **ধর্ম ও সংস্কৃতি:** অনেক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যায় নারীকে "পুরুষের অনুগত" হিসেবে উপস্থাপন করা হয় (যেমন, "স্ত্রী স্বামীর অধীন")।  

  - **রাজনীতি ও অর্থনীতি:** নেতৃত্বের পদগুলোতে পুরুষের আধিপত্য (বাংলাদেশের সংসদে নারী এমপি মাত্র **২০%)**।  


### **খ) অর্থনৈতিক নির্ভরতা**  

- **কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য:** নারীরা একই কাজে পুরুষের চেয়ে **গড়ে ২০-৩০% কম বেতন** পায় (ILO, 2023)।  

- **অবৈতনিক শ্রম:** গৃহস্থালি কাজ ও সন্তান লালন-পালনকে "নারীর দায়িত্ব" মনে করা হয়, যা অর্থনৈতিকভাবে মূল্যায়িত হয় না।  

- **সম্পত্তির অধিকার:** অনেক সমাজে নারী জমি বা সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত (বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইনে কন্যার সম্পত্তি পেতে বাধা)।  


### **গ) শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব**  

- **বাল্যবিবাহ ও শিক্ষাব্যবস্থা:** গ্রামীণ এলাকায় মেয়েদের **স্কুল ড্রপআউটের হার বেশি** (বাল্যবিবাহ, নিরাপত্তাহীনতা)।  

- **লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষা:** "মেয়েদের জন্য গৃহিণী শিক্ষা, ছেলেদের জন্য কারিগরি শিক্ষা"—এমন মানসিকতা পেশাগত বৈষম্য তৈরি করে।  


### **ঘ) আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য**  

- **আইনের দুর্বল প্রয়োগ:** নারী নির্যাতন বিরোধী আইন থাকলেও (**যেমন: ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট, ২০১০**), মামলার নিষ্পত্তি ধীরগতি।  

- **রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব:** সংরক্ষিত আসন নারীদের **প্রতীকী ক্ষমতা** দেয়, প্রকৃত নীতিনির্ধারণে ভূমিকা কম।  


### **ঙ) সামাজিক কুসংস্কার ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক রীতিনীতি**  

- **যৌতুক প্রথা:** নারীকে "পণ্য" হিসেবে দেখা হয়, যা পরিবারিক সহিংসতার কারণ।  

- **সম্মান রক্ষার্থে হত্যা (Honor Killing):** কিছু সমাজে নারীর স্বাধীনতাকে "পরিবারের অসম্মান" হিসেবে দেখা হয়।  


---


## **২. পুরুষতন্ত্র কি একমাত্র দায়ী?**  

পুরুষতন্ত্র নারীর অধস্তনতার **প্রধান কাঠামোগত কারণ**, তবে একমাত্র নয়। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:  

1. **ধর্মীয় ব্যাখ্যা:** কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী নারীর অধিকারকে সীমিত করে (যেমন: উত্তরাধিকার, বিবাহবিচ্ছেদ)।  

2. **অর্থনৈতিক ব্যবস্থা (পুঁজিবাদ):** নারী শ্রমকে সস্তা রাখার প্রবণতা।  

3. **রাষ্ট্রীয় নীতি:** কিছু দেশে নারীবাদী আন্দোলনকে দমন করা হয়।  

4. **নারীর অভ্যন্তরীণীকৃত পুরুষতন্ত্র (Internalized Misogyny):** অনেক নারী নিজেরাই লিঙ্গবৈষম্যমূলক রীতিনীতি মেনে নেন (যেমন: "মেয়েদের এত পড়াশোনার দরকার নেই")।  


---


## **৩. সমাধানের উপায়**  

1. **শিক্ষা ও সচেতনতা:** লিঙ্গসমতামূলক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা।  

2. **অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:** নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।  

3. **আইনি সংস্কার:** সম্পত্তি, বিবাহ ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার সুরক্ষিত করা।  

4. **পুরুষের সম্পৃক্ততা:** পুরুষদের নারী অধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করানো।  

5. **মিডিয়ার ভূমিকা:** নারীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রচার করা।  


---


## **৪. উপসংহার**  

নারীর অধস্তনতার পিছনে **পুরুষতন্ত্র একটি কেন্দ্রীয় কারণ**, তবে এটি অন্যান্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথেও জড়িত। সমাধানের জন্য শুধু নারীকে "ক্ষমতায়ন" নয়, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও কাঠামোগত বৈষম্য ভাঙতে হবে। বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়লেও এখনও **গুণগত পরিবর্তন** প্রয়োজন।


নারীর অধস্তনতা (subordination of women) বলতে বোঝায়—সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নারীদের পুরুষদের তুলনায় নিকৃষ্ট বা নিচু অবস্থানে রাখা। এটি শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক নয়, বরং গোটা সামাজিক কাঠামো ও চিন্তাধারার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। নারীর অধস্তনতা ইতিহাস, ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির নানা স্তরে গভীরভাবে প্রোথিত।


🔷 নারীর অধস্তনতার প্রধান কারণসমূহ:

✅ ১. পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা (Patriarchy)

  • এটি এমন একটি সামাজিক কাঠামো, যেখানে পুরুষরা ক্ষমতা, সম্পদ ও সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ রাখে।

  • নারীদেরকে আনুগত্য, বিনয়ী ও গৃহকেন্দ্রিক থাকতে বলা হয়।

  • পরিবারের উত্তরাধিকার, সিদ্ধান্তগ্রহণ ও সামাজিক মর্যাদায় পুরুষদের প্রাধান্য থাকে।

✅ ২. শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব

  • বহু নারী এখনও শিক্ষাবঞ্চিত বা অল্পশিক্ষিত।

  • শিক্ষার অভাবে নারীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় না।

  • শিক্ষা না থাকলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশেও বাধা পড়ে।

✅ ৩. অর্থনৈতিক নির্ভরতা

  • নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কম এবং অনেক সময় পরিবারে উপার্জনক্ষম মনে করা হয় না।

  • পুরুষদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নারীরা অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারে না।

✅ ৪. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুশাসন

  • কিছু ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতিতে নারীকে ‘নিম্নতর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

  • নারীর পবিত্রতা, শালীনতা, ঘরের মধ্যেই থাকা উচিত—এই ধারণা অধস্তনতার পক্ষে যায়।

✅ ৫. আইনি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতা

  • অনেক দেশে নারী-বান্ধব আইন থাকলেও বাস্তবায়ন দুর্বল।

  • বিচারপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, হয়রানি বা প্রশাসনের পক্ষপাত অধস্তনতাকে টিকিয়ে রাখে।

✅ ৬. গণমাধ্যম ও জনপ্রিয় সংস্কৃতি

  • বিজ্ঞাপন, সিনেমা ও নাটকে নারীদের অনেক সময় ভোগ্যপণ্য বা পরনির্ভর চরিত্রে দেখানো হয়।

  • এটি নারীকে অধীনস্থ রূপে উপস্থাপন করে সামাজিক মনোভাব গঠন করে।


🔶 তাহলে, পুরুষতন্ত্র (Patriarchy) কি নারীর অধস্তনতার জন্য দায়ী?

হ্যাঁ, পুরুষতন্ত্র নারীর অধস্তনতার মূল কাঠামোগত কারণগুলোর একটি—এমনকি বলা যায়, এটি মূল ও কেন্দ্রীয় কারণ

🔍 কেন পুরুষতন্ত্র দায়ী?

  1. 🔹 পুরুষের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং নারীকে ‘অধীন’ করে তোলে

  2. 🔹 নারীর কর্ম ও অবদানকে অবমূল্যায়ন করে

  3. 🔹 নারীর স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশকে দমন করে

  4. 🔹 নারীর যৌনতা, পোশাক, চলাফেরা সবকিছুতে পুরুষের নিয়ন্ত্রণ চায়

  5. 🔹 পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, সংস্কৃতি সবখানে পুরুষের কর্তৃত্বকে স্বাভাবিক করে তোলে

পুরুষতন্ত্র শুধু পুরুষের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং পুরুষ ও নারীর উভয়ের মাধ্যমে টিকে থাকে—কারণ সমাজের প্রথাগুলোকে অনেক সময় নারীও গ্রহণ করে নেয়।


🔷 নারীর অধস্তনতা থেকে মুক্তির পথ:

  1. শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি

  2. আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত

  3. আইনি কাঠামোর বাস্তব প্রয়োগ

  4. লিঙ্গ সমতার পাঠ্যক্রম ও সামাজিক প্রচারণা

  5. নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি

  6. পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করা

  7. মহিলা-পুরুষ যৌথভাবে পুরুষতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ


🔚 উপসংহার:

নারীর অধস্তনতা একটি বহুস্তরবিশিষ্ট সামাজিক বাস্তবতা, যার শিকড় রয়েছে পুরুষতন্ত্রে। এটি নারীকে নিয়ন্ত্রণ করে, দমন করে এবং তার সম্ভাবনাকে সীমিত করে। পুরুষতন্ত্রবিরোধী চিন্তা, শিক্ষা, সংস্কার ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমেই এই অবস্থা বদলানো সম্ভব।



নারীর অধস্তনতা বলতে বোঝায় সমাজে নারীর পুরুষের চেয়ে নিম্ন মর্যাদা, সুযোগ ও ক্ষমতার অধিকারী হওয়া। এটি একটি জটিল সামাজিক ঘটনা, যা বিভিন্ন ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক কারণের ওপর নির্ভরশীল। এই অধস্তনতার পেছনে পুরুষতন্ত্রের একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে।


নারীর অধস্তনতার প্রধান কারণসমূহ

১. পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো (Patriarchy):

  • ক্ষমতার বিভাজন: পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব পুরুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। পরিবার, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান – সব ক্ষেত্রেই পুরুষের প্রাধান্য দেখা যায়।

  • লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নির্ধারণ: জন্ম থেকেই নারী ও পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট ভূমিকা তৈরি করে দেওয়া হয়। নারীকে গৃহস্থালির কাজ, সন্তান লালন-পালন এবং সেবাযত্নের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যেখানে পুরুষকে বাইরের কাজ, উপার্জন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা দেওয়া হয়। এই বিভাজন নারীকে জনজীবন থেকে দূরে ঠেলে দেয় এবং তার অবদানকে মূল্যহীন করে তোলে।

  • সম্পদে নিয়ন্ত্রণ: পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরুষের নিয়ন্ত্রণ বেশি থাকে। নারীর নিজস্ব সম্পদের অভাব তাকে অর্থনৈতিকভাবে পুরুষের উপর নির্ভরশীল করে তোলে।

২. সামাজিকীকরণ ও শিক্ষা:

  • প্রথাগত মূল্যবোধের শেখানো: পরিবার, স্কুল, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো লিঙ্গভিত্তিক গৎবাঁধা ধারণা (stereotypes) প্রচার করে। মেয়েদের শেখানো হয় নম্র, বিনয়ী, আত্মত্যাগী হতে, যেখানে ছেলেদের শেখানো হয় শক্তিশালী, স্বাধীন ও কর্তৃত্বপরায়ণ হতে।

  • শিক্ষার সুযোগে অসমতা: যদিও আধুনিক সমাজে নারীর শিক্ষার সুযোগ বাড়ছে, অনেক ক্ষেত্রে এখনো মেয়েদের শিক্ষা বা উচ্চশিক্ষায় নিরুৎসাহিত করা হয়, বিশেষ করে গ্রামীণ ও রক্ষণশীল সমাজে। বাল্যবিবাহও এর একটি বড় কারণ।

  • পাঠ্যপুস্তকে লিঙ্গবৈষম্য: অনেক পাঠ্যপুস্তকে এখনো নারীর গতানুগতিক বা অধস্তন ভূমিকাকেই তুলে ধরা হয়, যা শিশুদের মনে লিঙ্গবৈষম্যমূলক ধারণা তৈরি করে।

৩. অর্থনৈতিক কারণ:

  • অবৈতনিক গৃহস্থালি শ্রম: নারীরা ঘরের কাজ, সন্তান লালন-পালন এবং পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের সেবা করার মতো অসংখ্য অবৈতনিক শ্রম দেয়, যার কোনো অর্থনৈতিক মূল্য স্বীকৃত নয়। এটি জিডিপিতেও অন্তর্ভুক্ত হয় না, ফলে নারীর অবদান অদৃশ্য থেকে যায়।

  • কর্মসংস্থানে বৈষম্য: কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে মজুরি বৈষম্য, কম গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের নিয়োগ, পদোন্নতিতে বাধা এবং যৌন হয়রানির মতো সমস্যা বিদ্যমান।

  • আর্থিক স্বাধীনতার অভাব: নিজস্ব আয়ের উৎস না থাকা বা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা নারীর অর্থনৈতিক অধস্তনতার একটি বড় কারণ।

৪. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা:

  • ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা: অনেক সময় ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর ভুল ব্যাখ্যা করে নারীর অধস্তনতাকে বৈধতা দেওয়া হয়। যদিও কোনো ধর্মই নারীর উপর নিপীড়ন সমর্থন করে না, তবুও রক্ষণশীল ব্যাখ্যা সমাজে নারীর অবস্থানকে দুর্বল করে।

  • কুসংস্কার ও প্রথা: বিভিন্ন কুসংস্কার, লোকাচার এবং প্রথা (যেমন যৌতুক প্রথা, বাল্যবিবাহ, সতীদাহ প্রথা - যদিও সতীদাহ এখন নেই) নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।

  • নারীর উপর নিয়ন্ত্রণ: সমাজের প্রচলিত ধারণা নারীকে পরিবারের সম্মান বা ইজ্জতের প্রতীক হিসেবে দেখে, যার ফলে তার চলাফেরা, পোশাক, শিক্ষা এবং বিবাহের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

৫. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা:

  • আইনের প্রয়োগে ঘাটতি: নারীর অধিকার রক্ষায় অনেক ভালো আইন থাকলেও, সেগুলোর সঠিক প্রয়োগের অভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নারীর উপর সহিংসতা ও বৈষম্য বাড়িয়ে তোলে।

  • নারীবান্ধব প্রতিষ্ঠানের অভাব: নারীর অভিযোগ বা সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত কার্যকর ও নারীবান্ধব প্রতিষ্ঠানের অভাবও অধস্তনতার কারণ।

৬. শারীরিক ও যৌন সহিংসতা:

  • নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: নারীর প্রতি শারীরিক, মানসিক ও যৌন সহিংসতা প্রায়শই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে নিয়ন্ত্রণ ও শায়েস্তা করার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  • ভয়ের সংস্কৃতি: সহিংসতার ভয় নারীকে ঘর থেকে বাইরে বের হতে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে বা প্রতিবাদ করতে বাধা দেয়।


পুরুষতন্ত্র কি নারীর অধস্তনতার জন্য দায়ী?

হ্যাঁ, পুরুষতন্ত্র নারীর অধস্তনতার জন্য প্রধানত দায়ী। পুরুষতন্ত্র (Patriarchy) হলো একটি সামাজিক ব্যবস্থা যেখানে পুরুষরা ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী এবং নারীরা তুলনামূলকভাবে অধস্তন অবস্থানে থাকে। এটি শুধু পুরুষের ব্যক্তিগত ক্ষমতা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা।

নারীবাদী তাত্ত্বিকরা মনে করেন, পুরুষতন্ত্রই নারীর অধস্তনতার মূল কারণ। এর কারণগুলো হলো:

  • ক্ষমতার কাঠামোগত অসমতা: পুরুষতন্ত্র লিঙ্গভিত্তিক একটি ক্ষমতা কাঠামো তৈরি করে, যেখানে পুরুষকে শ্রেষ্ঠ এবং নারীকে অধস্তন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কাঠামোগত অসমতা জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ধাপে নারীকে পুরুষের অধীন করে রাখে।

  • দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শের বিস্তার: পুরুষতান্ত্রিক আদর্শগুলি সমাজে নারী-পুরুষ সম্পর্কে নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে এবং তা শিক্ষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেয়। যেমন, "পুরুষই পরিবারের কর্তা" বা "নারীর কাজ ঘরের ভেতরে" - এই ধরনের ধারণাগুলো পুরুষতন্ত্রের ফসল।

  • সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: পুরুষতন্ত্র পুরুষকে নারী এবং সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়। নারীর শ্রম (গৃহস্থালি কাজ, প্রজনন), যৌনতা (যৌন সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, জোরপূর্বক বিবাহ) এবং গতিশীলতা (বাইরে চলাফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা) পুরুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

  • প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কাজ করা: পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনি ব্যবস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং কর্মক্ষেত্র - এই সব সামাজিক প্রতিষ্ঠান পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নারীর অধস্তনতাকে বজায় রাখে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তরাধিকার আইনে পুরুষের বেশি অধিকার থাকা বা নারীর কর্মসংস্থানে বৈষম্য পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোরই প্রতিফলন।

  • মানসিকতা তৈরি: পুরুষতান্ত্রিক সমাজে শুধু পুরুষরাই নয়, অনেক নারীও এই ধারণায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন যে তাদের স্থান পুরুষের নিচে। এটি "অভ্যন্তরীণ পিতৃতন্ত্র" (Internalized Patriarchy) নামে পরিচিত, যেখানে নারীরা নিজেরাই নিজেদের অধিকার আদায়ে বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে দ্বিধাগ্রস্ত হন।

সংক্ষেপে, নারীর অধস্তনতা কোনো প্রাকৃতিক বা জন্মগত বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামাজিক নির্মাণ। পুরুষতন্ত্র এই সামাজিক নির্মাণের মূল চালিকা শক্তি, যা নারী ও পুরুষের মধ্যে অসম ক্ষমতা সম্পর্ক তৈরি করে এবং নারীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত ও দুর্বল করে রাখে। তাই নারীর অধস্তনতা দূর করতে হলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি।


নারীর অধস্তনতার জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কৃতি অনেকাংশে দায়ী। এই ব্যবস্থায়, পুরুষরা প্রভাবশালী অবস্থানে থাকে এবং নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়, যা তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক জীবনে পিছিয়ে দেয়। 

পুরুষতন্ত্রের কারণে নারীরা যে ধরনের অধস্তনতার শিকার হয়: 

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য:

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে, নারীদের দুর্বল, নির্ভরশীল এবং আবেগপ্রবণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়। তাদের ভূমিকা প্রায়শই ঘরোয়া এবং যত্ন নেওয়ার কাজে সীমাবদ্ধ থাকে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়।

অর্থনৈতিক বৈষম্য:

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে, নারীরা সাধারণত কম মজুরি পায় এবং কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সুযোগ কম পায়। তাদের সম্পত্তির উপর সীমিত অধিকার থাকে এবং অর্থনৈতিকভাবে পুরুষের উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য করা হয়।

রাজনৈতিক বৈষম্য:

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে, নারীরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কম প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত থাকে এবং পুরুষদের তুলনায় কম ক্ষমতা ও প্রভাব থাকে।

যৌন হয়রানি ও সহিংসতা:

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে, নারীরা প্রায়ই যৌন হয়রানি এবং সহিংসতার শিকার হয়। তাদের প্রতি সহিংসতা একটি সাধারণ ঘটনা এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুব কমই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আইন ও নীতি:

অনেক দেশে, নারীদের অধিকার সীমিত করে এমন আইন ও নীতি রয়েছে। এই আইন ও নীতিগুলি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে এবং নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণকে উৎসাহিত করে।

পুরুষতান্ত্রিকতা একটি জটিল সামাজিক ব্যবস্থা যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। এর পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, এবং নারীর অধিকারের জন্য আন্দোলন ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই অবস্থার পরিবর্তন করা যেতে পারে। 





জাতিসংঘ মানবাধিকার হলো সেই মৌলিক অধিকারসমূহ, যা প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবে পায় এবং যা অবিচ্ছেদ্য, সর্বজনীন ও সমানভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য। এই অধিকারগুলো শান্তিপূর্ণ জীবন, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, এবং বৈষম্য থেকে মুক্তি নিশ্চিত করে। জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে মানবাধিকার সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে, যা মানুষের মর্যাদা ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে146

নারীদের বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি

  • আইনগত ও নীতিগত সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতা ভিন্ন:
    নারীর মানবাধিকার আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত হলেও, সামাজিক কুসংস্কার, প্রথা, বৈষম্যমূলক আইন ও সংস্কৃতির কারণে নারীরা তাদের অধিকার সমানভাবে ভোগ করতে পারে না। যেমন, পারিবারিক আইন ও সামাজিক রীতিনীতি নারীর ব্যক্তিগত জীবনে সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত করে14

  • বৈষম্য ও সহিংসতা অব্যাহত:
    নারীরা নানা ধরনের সহিংসতা, যেমন শারীরিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, পাচার, বাল্যবিবাহ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব কারণে নারীর নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা সংকুচিত হয়14

  • রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণে অগ্রগতি:
    নারীরা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন, তবে নেতৃত্বের আসনে তাদের উপস্থিতি এখনও সীমিত। জাতিসংঘের সিডও সনদে স্বাক্ষর ও বিভিন্ন উন্নয়ন নীতিমালা থাকলেও বাস্তবায়নে অনেক বাধা রয়েছে23

  • গণতান্ত্রিক অবক্ষয় ও নারী অধিকার হ্রাস:
    জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়ার ফলে নারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং নারী বিদ্বেষ বাড়ছে, যা নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি5

  • বিশেষ উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি:
    জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও আইনি সুরক্ষার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের সরকারও নারীর উন্নয়নে নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তবে বাস্তবায়নে আরও মনোযোগ প্রয়োজন7

সংক্ষেপে

জাতিসংঘ মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও সহজাত অধিকার, যা নারীর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। তবে নারীরা এখনও বৈষম্য, সহিংসতা ও সামাজিক বাধার মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরে নারীর অধিকার সুরক্ষায় প্রচেষ্টা থাকলেও বাস্তবে নারীর অবস্থান এখনও অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল। নারীর পূর্ণ মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সামাজিক মনোভাব পরিবর্তন, আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

  1. https://www.healthtalkbd.org/women_rights
  2. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AA_%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A6%A6
  3. https://bangladesh.un.org/bn/download/144867/249088
  4. https://samakal.com/politics/article/149051/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0
  5. https://www.dw.com/bn/%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%98/a-71847270
  6. https://nhrc.org.bd/site/page/5892901e-edbf-4e2c-9cdc-5f8d7a3682ef/-
  7. https://www.kalerkantho.com/online/miscellaneous/2024/03/08/1369784
  8. https://www.askbd.org/web/wp-content/uploads/2010/03/UPRBook_final.pdf

জাতিসংঘ মানবাধিকার কি?

জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights) ১৯৪৮ সালে প্রণীত হয়েছিল। এটি প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার এবং মর্যাদাকে স্বীকৃতি দেয়। এই ঘোষণায় ৩০টি ধারা রয়েছে যা সকল মানুষের জন্য - নারী, পুরুষ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে - সমান অধিকার নিশ্চিত করে।

মানবাধিকারের মূল ভিত্তিগুলো হলো:

  • জীবনের অধিকার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
  • স্বাধীনতা ও সমতার অধিকার
  • শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকার
  • মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  • ধর্মীয় স্বাধীনতা
  • ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার

বর্তমানে নারীদের অবস্থান ও পরিস্থিতি

বর্তমান বিশ্বে নারীদের অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:

উদ্বেগজনক অবস্থা

২০২৪ সালে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৪%) দেশ নারী অধিকারের ক্ষেত্রে পশ্চাদপদতার কথা রিপোর্ট করেছে। নারী ও কন্যাশিশুদের মৌলিক অধিকার বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

সংঘাতে নারীদের ক্ষতি

২০২৩ সালে সংঘাতে নিহত নারীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে, যা বেসামরিক মানুষের উপর যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব তুলে ধরে।

প্রতিকূলতার মুখে স্থিতিশীলতা

তবে ইতিবাচক দিক হলো, বিশ্বব্যাপী নারীবাদী ও অ্যাক্টিভিস্টরা নারী অধিকার, অগ্রগতি এবং লিঙ্গ সমতার প্রতি তাদের বিশ্বাস অটুট রেখেছেন।

প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগ

জাতিসংঘ নারী সংস্থা (UN Women) লিঙ্গ সমতার জন্য বিশ্বব্যাপী চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাজ করছে এবং প্রতিটি নারী ও কন্যাশিশু যাতে তার মানবাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।

মূল সমস্যাগুলো

বর্তমান বিশ্বে নারীদের প্রধান সমস্যাগুলো:

অর্থনৈতিক অসমতা: কর্মক্ষেত্রে বেতন বৈষম্য, নেতৃত্বের পদে কম প্রতিনিধিত্ব

শিক্ষায় বঞ্চনা: বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত

স্বাস্থ্য সেবায় বৈষম্য: প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ও মাতৃমৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বেগ

সহিংসতা: ঘরোয়া সহিংসতা, যৌন হয়রানি এবং নির্যাতন

রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কম

ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

জাতিসংঘ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) অর্জনের জন্য কাজ করছে, যার মধ্যে লিঙ্গ সমতা অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তবে বর্তমান অগ্রগতির হার অনুযায়ী এই লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জিং হবে।

বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার রক্ষায় সরকার, সুশীল সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।


### **জাতিসংঘ মানবাধিকার: সংক্ষিপ্ত বিবরণ**  

জাতিসংঘ মানবাধিকার হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেই অধিকারসমূহ যা সকল মানুষের জীবন, স্বাধীনতা, সমতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে। এর মূল ভিত্তি হলো **সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (UDHR, 1948)** এবং অন্যান্য চুক্তি যেমন:  

- **ICCPR (নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি)**  

- **ICESCR (অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার চুক্তি)**  

- **CEDAW (নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ)**  


---


## **বর্তমানে নারীদের অবস্থান: বৈশ্বিক ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট**  


### **১. অগ্রগতির ক্ষেত্রসমূহ**  

#### **ক) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য**  

- **শিক্ষা:** বিশ্বব্যাপী মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার বেড়েছে (প্রাথমিকে **৯০%**), তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ব্যবধান রয়ে গেছে।  

- **স্বাস্থ্য:** মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস (১৯৯০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত **৪৪%** কমেছে), কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রসবকালীন সেবার অভাব।  


#### **খ) অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ**  

- **শ্রমবাজার:** বিশ্বব্যাপী নারীর কর্মসংস্থান **৫০%** (পুরুষ **৭৫%**), বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে **৮০%** নারী শ্রমিক।  

- **উদ্যোক্তৃত্ব:** নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়লেও মাত্র **২০%** ব্যবসায়িক ঋণ পান (বিশ্বব্যাংক, ২০২৩)।  


#### **গ) রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব**  

- **বিশ্বব্যাপী:** সংসদে নারীদের গড় প্রতিনিধিত্ব **২৬.৫%** (ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন, ২০২৪)।  

- **বাংলাদেশ:** সংসদে **২০.৬%** নারী (৫০টি সংরক্ষিত আসনসহ), প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার নারী।  


### **২. চলমান চ্যালেঞ্জ**  

#### **ক) সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা**  

- **বিশ্বজুড়ে:** ৩৫% নারী শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার (WHO)।  

- **বাংলাদেশ:** ২০২৩ সালে **৪,৪৪৯টি** নারী নির্যাতনের মামলা রিপোর্ট হয় (মহিলা পরিষদ)।  


#### **খ) লিঙ্গবৈষম্য ও কুসংস্কার**  

- **মজুরি ব্যবধান:** নারী-পুরুষের আয়ে **২৩%** পার্থক্য (ILO)।  

- **অধিকারহীনতা:** উত্তরাধিকার, জমির মালিকানা ও বিবাহবিচ্ছেদে নারীর সীমিত অধিকার (বিশেষত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে)।  


#### **গ) জরুরি পরিস্থিতিতে নারী**  

- **যুদ্ধ ও সংঘাত:** ইউক্রেন, গাজা ও মিয়ানমারে নারী ও শিশুরা যৌন সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার।  

- **জলবায়ু সংকট:** প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারীর মৃত্যুঝুঁকি **১৪ গুণ** বেশি (UN Women)।  


---


## **৩. জাতিসংঘের ভূমিকা ও উদ্যোগ**  

### **ক) CEDAW বাস্তবায়ন**  

- নারী অধিকার রক্ষায় **১৮৯টি দেশ** CEDAW অনুমোদন করলেও অনেক দেশ **আরক্ষণ** রেখেছে (যেমন বাংলাদেশ ধারা ২ ও ১৬-এ)।  


### **খ) SDG-৫: লিঙ্গসমতা**  

- **লক্ষ্য:** ২০৩০ সালের মধ্যে নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা বিলোপ।  

- **অগ্রগতি:** শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে উন্নতি হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় পিছিয়ে।  


### **গ) UN Women ও অন্যান্য সংস্থা**  

- **নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা (WPS):** সংঘাতকালীন নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।  

- **হেল্পলাইন ও আশ্রয়কেন্দ্র:** বিশ্বজুড়ে নারীদের জন্য জরুরি সহায়তা।  


---


## **৪. বাংলাদেশের অবস্থান**  

### **অর্জন:**  

- **মেয়েদের শিক্ষায় সমতা:** প্রাথমিকে লিঙ্গসমতা অর্জন।  

- **রাজনৈতিক নেতৃত্ব:** প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও মন্ত্রিপরিষদে নারী।  

- **অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ:** RMG শিল্পে নারীর অবদান।  


### **চ্যালেঞ্জ:**  

- **বাল্যবিবাহ:** ৫৯% নারীর বিয়ে ১৮ বছরের আগে (UNICEF, ২০২৩)।  

- **যৌতুক ও গৃহস্থালি সহিংসতা:** বছরে **২০০+** যৌতুকের মৃত্যু।  

- **নিরাপদ কর্মপরিবেশ:** পোশাক শিল্পে যৌন হয়রানি ও মজুরি বৈষম্য।  


---


## **৫. উত্তরণের উপায়**  

1. **আইনের কঠোর বাস্তবায়ন:** নারী নির্যাতনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি।  

2. **শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:** STEM শিক্ষা ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল বাড়ানো।  

3. **সামাজিক সচেতনতা:** লিঙ্গসমতামূলক প্রচারণা ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা।  

4. **রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন:** সংরক্ষিত আসন সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।  


---


### **উপসংহার**  

বর্তমানে নারীরা **শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিতে অগ্রগতি** করলেও **সহিংসতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাংস্কৃতিক বাধা** এখনও প্রকট। জাতিসংঘের লক্ষ্য অর্জনে সরকার, সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বাংলাদেশের মতো দেশে নারীর ক্ষমতায়ন **অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি** হলেও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনই মূল চ্যালেঞ্জ।


🌐 জাতিসংঘ মানবাধিকার (United Nations Human Rights) কী?

জাতিসংঘ মানবাধিকার বলতে জাতিসংঘের গৃহীত সেইসব সার্বজনীন নীতিমালা, ঘোষণা ও আইনি কাঠামো বোঝায়, যেগুলো বিশ্বের সব মানুষের জন্মগত, মৌলিক ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার রক্ষায় কাজ করে।


🔷 মূল ভিত্তি:

🕊️ সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR – 1948)

এটি মানবাধিকার বিষয়ক মূল দলিল, যা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। এতে বলা হয়েছে:

"সব মানুষ মর্যাদা ও অধিকার বিষয়ে সমানভাবে জন্মগ্রহণ করে।"


🌍 জাতিসংঘ মানবাধিকার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য:

  1. ✅ বৈষম্য, নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা

  2. ✅ নারী, শিশু, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর অধিকারের নিশ্চয়তা

  3. ✅ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা

  4. ✅ আন্তর্জাতিক শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানব মর্যাদা রক্ষা


👩‍🦰 নারীদের বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি (জাতিসংঘের দৃষ্টিকোণ থেকে):

✅ কিছু অগ্রগতি:

  • বিশ্বের অনেক দেশে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ভোটাধিকার বেড়েছে

  • রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে

  • জাতিসংঘের মাধ্যমে নারী অধিকার বিষয়ক বিশেষ চুক্তি ও কাঠামো গঠিত হয়েছে, যেমন:

    • CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women)

    • Beijing Platform for Action (1995)

    • SDG 5 – Gender Equality: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় লিঙ্গ সমতা


❌ কিন্তু এখনো নারীরা কী অবস্থায় আছেন?

🔴 ১. জন্ম থেকেই বৈষম্য

  • অনেক দেশে নারী শিশুর জন্ম অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবহেলিত

  • কন্যা ভ্রূণ হত্যা, পুষ্টিহীনতা, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা

🔴 ২. শারীরিক ও যৌন সহিংসতা

  • যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, গৃহনির্যাতন, বাল্যবিবাহ

  • যুদ্ধ-সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে নারীরা ধর্ষণ ও পাচারের শিকার

🔴 ৩. অর্থনৈতিক বৈষম্য

  • পুরুষদের তুলনায় নারী অনেক কম মজুরি পায়

  • নারীর অবৈতনিক গৃহকর্মকে শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না

🔴 ৪. রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত

  • বিশ্বজুড়ে জাতীয় সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো গড়ে মাত্র ~২৬%

  • অনেক দেশে নারীরা ভোটাধিকার পেলেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত

🔴 ৫. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা

  • নারীর স্বাধীনতা, পোশাক, চলাফেরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ

  • ধর্মীয় অনুশাসনে নারীর অধিকার খর্ব হয়


📌 জাতিসংঘ কী করছে?

উদ্যোগ বিবরণ
🔹 UN Women জাতিসংঘের নারী অধিকার বিষয়ক সংস্থা
🔹 HeForShe পুরুষদের অংশগ্রহণে লিঙ্গ সমতার জন্য প্রচার
🔹 CSW (Commission on the Status of Women) নারীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও উন্নয়ন পরামর্শ
🔹 বিশ্ব নারী দিবস (৮ মার্চ) লিঙ্গ সমতা ও নারী অধিকার প্রচারে উদযাপিত

🔚 উপসংহার:

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামো নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুরক্ষা-বলয় তৈরি করেছে। যদিও বিশ্বের অনেক দেশে নারীদের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে, তবুও সহিংসতা, বৈষম্য ও অবমূল্যায়ন এখনো বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ। নারী অধিকারের বাস্তব রক্ষায় শুধু আইন নয়, দরকার চেতনার পরিবর্তন, সমবেত প্রচেষ্টা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকার



জাতিসংঘের মূল স্তম্ভগুলোর মধ্যে একটি হলো মানবাধিকারের সুরক্ষা ও প্রচার। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি মৌলিক অঙ্গীকার হিসেবে স্বীকৃত।


জাতিসংঘ মানবাধিকার কী?

মানবাধিকার হলো প্রতিটি মানুষের জন্মগত, সহজাত, অহস্তান্তরযোগ্য এবং অলঙ্ঘনীয় অধিকার, যা জাতি, লিঙ্গ, জাতীয়তা, গোষ্ঠী, ভাষা, ধর্ম বা অন্য কোনো অবস্থা নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

মানবাধিকারের মূল ভিত্তি হলো মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights - UDHR), যা ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। এই ঘোষণাপত্রটি ৩০টি ধারার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে সংহত করে। এর প্রথম অনুচ্ছেদেই বলা আছে, "জন্মগতভাবে সকল মানুষ স্বাধীন এবং সমান সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী।"

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights - OHCHR) মানবাধিকারের সুরক্ষা ও প্রচারে নেতৃত্ব দেয়। এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি, যেমন:

  • নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি (International Covenant on Civil and Political Rights - ICCPR)

  • অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি (International Covenant on Economic, Social and Cultural Rights - ICESCR)

  • নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women - CEDAW)

  • শিশু অধিকার সনদ (Convention on the Rights of the Child - CRC)

  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ (Convention on the Rights of Persons with Disabilities - CRPD)

এই চুক্তিগুলো এবং সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর মাধ্যমে জাতিসংঘ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা করে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করে।


বর্তমানে নারীদের অবস্থান ও পরিস্থিতি (বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে)

জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, বিশ্বজুড়ে নারীর অবস্থান ও পরিস্থিতি এখনো অনেক ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক। যদিও কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে, সামগ্রিকভাবে লিঙ্গ সমতা অর্জনে মিশ্র অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে এবং অনেক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।

অগ্রগতির ক্ষেত্রসমূহ:

  • রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বৃদ্ধি: ১৯৯৫ সালের বেইজিং সম্মেলনের পর থেকে বিশ্বব্যাপী সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব দ্বিগুণ হয়েছে। অনেক দেশে নারী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতি: নারী শিক্ষার হার বেড়েছে, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রসারেও কিছু উন্নতি হয়েছে।

  • অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বৃদ্ধি: বেতনভিত্তিক চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাভোগী নারীর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • আইনগত সংস্কার: অনেক দেশে নারীর অধিকার রক্ষায় নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনের সংস্কার করা হয়েছে, যেমন বৈবাহিক ধর্ষণ বা পারিবারিক সহিংসতা সংক্রান্ত আইন।

চ্যালেঞ্জ এবং উদ্বেগজনক পরিস্থিতি:

  • নারী অধিকারের পশ্চাদপসরণ: ইউএন উইমেনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন (মার্চ ২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী) অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ দেশে নারী অধিকার দুর্বল হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এর অন্যতম কারণ।

  • বৈশ্বিক সহিংসতা বৃদ্ধি: বিশ্বব্যাপী নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ভয়াবহ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় তিনজনের মধ্যে একজন নারী তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা অন্য কারো দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সংঘাতে সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা গত ১০ বছরে ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • অর্থনৈতিক অসমতা: ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে যেখানে ৬৩% বেতনভিত্তিক চাকরিতে রয়েছেন, সেখানে একই বয়সের ৯২% পুরুষ এই ধরনের চাকরিতে রয়েছেন। প্রায় ২০০ কোটি নারী ও মেয়ে সামাজিক সুরক্ষা ছাড়াই বসবাস করছেন।

  • রাজনৈতিক ক্ষমতায় সীমিত প্রবেশাধিকার: যদিও সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে, পুরুষরা এখনো সংসদ সদস্যপদের তিন-চতুর্থাংশ অধিকার করে রেখেছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উচ্চপর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত।

  • ডিজিটাল সহিংসতা: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা বাড়ছে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার ১২টি দেশে অন্তত ৫৩% নারী অনলাইনে এক বা একাধিকবার লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

  • জলবায়ু পরিবর্তন ও সংঘাতের প্রভাব: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয় এবং সশস্ত্র সংঘাত নারীর জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ২০২৩ সালে ৬১ কোটি ২০ লক্ষ নারী সশস্ত্র সংঘাতের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করতেন, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৫৪% বেশি।

  • প্রজনন অধিকারের সংকট: অনেক দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, বিশেষ করে গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে, যা নারীর শারীরিক স্বায়ত্তশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় আঞ্চলিক অসমতা: বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, নারীর শিক্ষা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এখনো সীমিত।

জাতিসংঘ এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচি, দারিদ্র্য মোকাবিলায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জন কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিতে নারীর সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

তবে, নারীর পূর্ণাঙ্গ মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এর জন্য সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের সম্মিলিত ও নিরন্তর প্রচেষ্টা অপরিহার্য।


জাতিসংঘ মানবাধিকার বলতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকারগুলোকে বোঝায়, যা প্রত্যেক মানুষের জন্য প্রযোজ্য, লিঙ্গ নির্বিশেষে। বর্তমানে, নারীদের অবস্থান ও পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রকম। অনেক দেশেই নারীরা এখনও বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, যদিও তাদের অধিকার সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আইন ও উদ্যোগ বিদ্যমান। 

জাতিসংঘ মানবাধিকার:

জাতিসংঘ মানবাধিকার বলতে সাধারণভাবে জাতিসংঘের বিভিন্ন কনভেনশন, ঘোষণা এবং প্রস্তাবনাগুলোর মাধ্যমে স্বীকৃত অধিকারগুলোকে বোঝায়, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের জন্য প্রযোজ্য। এর মধ্যে নারীর অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। 

নারীর অধিকার:

নারীর অধিকার বলতে বোঝায়, নারীরা জন্ম থেকেই কিছু মৌলিক অধিকার ভোগ করবে, যা তাদের পুরুষদের মতোই সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে। এর মধ্যে রয়েছে: 

সহিংসতা ও বৈষম্যমুক্ত জীবন যাপনের অধিকার।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ মান উপভোগের অধিকার।

শিক্ষার অধিকার।

সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকারের অধিকার।

ভোটদানের অধিকার।

সমান মজুরি ও কাজের সুযোগের অধিকার।

রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার।

প্রজনন অধিকার।

বর্তমানে নারীর অবস্থান ও পরিস্থিতি:

কিছু ক্ষেত্রে নারীরা অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে, যেমন: শিক্ষা, কর্মসংস্থান, এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তবে, এখনও অনেক দেশেই নারীরা বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। 

যৌতুক প্রথা, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু পাচার, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের কিছু উদাহরণ। 

নারীরা এখনও অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পায় এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নারীর অধিকার সুরক্ষার জন্য কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অবস্থান:

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে এবং নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার জন্য বিভিন্ন আইন ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক কার্যক্রম চলছে। 

তবে, বাংলাদেশের সমাজে এখনও নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বিদ্যমান। 

গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, নারী পাচার ইত্যাদি সমস্যা এখনো প্রকট। 

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। 





বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা ব্যাপক ও বহুমুখী। সরকার বিভিন্ন নীতি, কর্মসূচি ও আইন প্রণয়ন করে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে।

বাংলাদেশের নারীর উন্নয়নে সরকারের প্রধান ভূমিকা ও পদক্ষেপসমূহ

  • জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি (১৯৯৭, ২০০৪, ২০১১)
    সরকার ১৯৯৭ সালে প্রথমবার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করে, যা নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেয়। পরবর্তীতে ২০০৪ ও ২০১১ সালে সংশোধিত নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে123

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
    প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, শিশুমৃত্যু হার কমানো, টিকা প্রদানের ব্যাপকতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে4

  • অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
    ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে লক্ষাধিক সুবিধাবঞ্চিত নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্প, জয়িতা ফাউন্ডেশন, মহিলা হোস্টেল নির্মাণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ, ১৩৪৩২ জন নারীর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, এবং প্রায় ১৯ লাখ নারীর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সরকারের উদ্যোগের অংশ478

  • আইনি সুরক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধ
    পারিবারিক সহিংসতা দমন আইন ২০১২, মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭, শিশু আইন ২০১৩ প্রণয়নসহ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন, পাসপোর্টে মায়ের নাম অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি নারীর অধিকার সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য4

  • রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব
    সংসদে নারী আসনের সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ করা হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নারী মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ স্পিকার, উপনেতা ও উপদেষ্টা পদে নারীদের নিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে45

  • সামাজিক সচেতনতা ও ক্ষমতায়ন
    গ্রামীণ মাতৃকেন্দ্র স্থাপন, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইনী সহায়তায় সচেতনতা বৃদ্ধি, One Stop Crisis Center-সহ বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে48

  • জেন্ডার সেনসিটিভ বাজেটিং
    সরকারি বাজেটে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার সেনসিটিভ বাজেট প্রদান করা হচ্ছে4

সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশ সরকার নারীর উন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়ন, আইন প্রণয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। তবে এই উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন ও নারীর সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ।

উল্লেখ্য: উপরের তথ্যসমূহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত1234578

  1. https://lxnotes.com/narir-khomotayon/
  2. https://bikoshitonari.net/%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BF/%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A7%A7%E0%A7%AF/
  3. https://bangladesh.gov.bd/sites/default/files/files/bangladesh.gov.bd/policy/d304bc7a_dcb2_42d0_84ba_ec2965071500/116.%20%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F%20%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%20%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%20%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A7%E0%A7%A7.pdf
  4. https://www.amarbarta.com/opinion/35120
  5. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80_%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%95_%E0%A6%97%E0%A7%83%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A4_%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%AA%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9;_%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A6%BE
  6. https://mowca.portal.gov.bd/sites/default/files/files/mowca.portal.gov.bd/publications/e4ec2368_dbe3_4a50_9d78_7512c80a19e2/January-18.pdf
  7. https://jms.gov.bd/site/page/ce018ff1-a4fa-4c4a-a571-cf63b6a9f52c/%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%A8%E0%A7%88%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA-(%E0%A7%A9%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A7%9F)
  8. https://dwa.gov.bd/site/page/2ca7a343-e5c2-4c5a-83a5-53d64d0bc826/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A6%93-%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8

বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে:

শিক্ষা ক্ষেত্রে

সরকার নারী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছেলে-মেয়েদের অনুপাত প্রায় সমান।

অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন

ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গার্মেন্টস শিল্পে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাজনৈতিক অংশগ্রহণ

জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী সদস্য পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবা

মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, দক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে প্রসব সেবা এবং পরিবার নিয়োজন কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।

আইনি সুরক্ষা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন এবং যৌতুক নিরোধ আইনের মতো বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

চ্যালেঞ্জসমূহ

তবে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। গ্রামীণ এলাকায় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সরকার নারী উন্নয়নে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করেছে, তবে সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জনে আরও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।


### **বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা**  

বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা বহুমাত্রিক—**আইনি সংস্কার, অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির** মাধ্যমে নারীর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা হয়েছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও অবশিষ্ট রয়েছে। নিম্নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বিশ্লেষণ করা হলো:

---

## **১. আইনি ও নীতিগত কাঠামো**  
### **ক) সংবিধান ও জাতীয় নীতি**  
- **সংবিধানের ১৯(১) ও ২৮(২) ধারা:** নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে।  
- **জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১:** নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রোডম্যাপ।  

### **খ) নারী নির্যাতন বিরোধী আইন**  
- **নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০০, সংশোধিত ২০২০):** ধর্ষণ, এসিড সন্ত্রাস ও যৌতুকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি।  
- **ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০:** পারিবারিক সহিংসতা রোধে বিশেষ বিধান।  
- **বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭:** বিশেষ পরিস্থিতিতে (১৮ বছরের নিচে) বিয়ের অনুমতি দেওয়ায় সমালোচিত।  

### **গ) আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়ন**  
- **CEDAW (নারী বৈষম্য বিলোপ সনদ) অনুমোদন (১৯৮৪):** তবে ধারা ২ ও ১৬(গ)-তে **আরক্ষণ** রয়েছে।  
- **SDG-৫ (লিঙ্গসমতা):** টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার।  

---

## **২. অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন**  
### **ক) ঋণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন**  
- **প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল:** নারী উদ্যোক্তাদের জন্য **১০% কোটা** ও সুদমুক্ত ঋণ।  
- **একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প:** নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সহায়তা।  

### **খ) কর্মসংস্থান সুযোগ**  
- **গার্মেন্টস শিল্প:** ৮০% শ্রমিক নারী (৪০ লাখের বেশি), অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মূল চালিকাশক্তি।  
- **মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর:** নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ (কুটিরশিল্প, ডিজিটাল লিটারেসি)।  

### **গ) সামাজিক সুরক্ষা**  
- **বিধবা ও অসহায় নারী ভাতা:** মাসিক **৫০০-২০০০ টাকা** সহায়তা।  
- **মাতৃত্বকালীন ভাতা:** গর্ভবতী নারীদের জন্য আর্থিক সহায়তা।  

---

## **৩. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য**  
### **ক) শিক্ষাখাতে অগ্রগতি**  
- **মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি:** মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার **৯৮%** (প্রাথমিক স্তরে)।  
- **STEM শিক্ষায় উৎসাহ:** নারী বিজ্ঞানীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ (যেমন: বেগম রোকেয়া ফেলোশিপ)।  

### **খ) স্বাস্থ্য সেবা**  
- **মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস:** প্রতি ১ লাখে ১৬৫ (২০২৩), যা ২০০১ সালে ছিল ৩২২।  
- **মাতৃত্বকালীন ছুটি:** সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য **৬ মাস** (বেসরকারিতে ৪ মাস)।  

---

## **৪. রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন**  
### **ক) সংরক্ষিত আসন ও স্থানীয় সরকার**  
- **জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন** (তবে সরাসরি নির্বাচিত নয়)।  
- **ইউনিয়ন পরিষদে ৩৩% নারী কোটা** (১টি চেয়ারম্যান ও ২টি সদস্য পদ)।  

### **খ) নেতৃত্বের পদ**  
- **প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও মন্ত্রিপরিষদে নারী:** শেখ হাসিনা, শিরীন শারমিন চৌধুরীর মতো নেতৃত্ব।  

---

## **৫. চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা**  
1. **আইনের বাস্তবায়ন দুর্বল:**  
   - নারী নির্যাতনের মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি।  
2. **সংরক্ষিত আসনের সীমাবদ্ধতা:**  
   - নারী এমপিদের প্রকৃত নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা কম।  
3. **সামাজিক প্রতিবন্ধকতা:**  
   - গ্রামীণ এলাকায় নারীর কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় ধর্মীয় ও রক্ষণশীল মানসিকতা।  
4. **অর্থনৈতিক বৈষম্য:**  
   - গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি।  

---

## **৬. উত্তরণের সুপারিশ**  
- **সংরক্ষিত আসন সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা** করা।  
- **নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ট্যাক্স ছাড়** ও বাজার সুবিধা বৃদ্ধি।  
- **নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত** করতে বেসরকারি খাতে কঠোর নীতি।  
- **ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে** লিঙ্গসমতামূলক বার্তা প্রচার।  

---

## **উপসংহার**  
বাংলাদেশ সরকার নারী উন্নয়নে **অগ্রগতি সাধন** করলেও বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো এখনও বিদ্যমান। নারীর ক্ষমতায়ন শুধু আইন বা নীতিতে নয়, **সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন** ও সুশাসনের ওপর নির্ভরশীল। টেকসই উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

বাংলাদেশে নারীর উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুস্তরবিশিষ্ট। সরকার নানা আইনি, সামাজিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবায়ন ও মানসিকতা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।


🔷 বাংলাদেশের নারীর উন্নয়নে সরকারের প্রধান ভূমিকা ও উদ্যোগসমূহ:

✅ ১. আইন প্রণয়ন ও নীতিমালা

সরকার নারীর সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন আইন ও নীতি গ্রহণ করেছে, যেমন:

  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)

  • যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা (২০০৯, উচ্চ আদালতের নির্দেশনায়)

  • নারী উন্নয়ন নীতি, ২০১১

  • বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭

  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ – সাইবার সহিংসতা মোকাবেলায়।


✅ ২. সংরক্ষিত আসন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ

  • জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী সংরক্ষিত আসন।

  • স্থানীয় সরকারে (ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন) নারীদের জন্য তিনটি করে সংরক্ষিত ওয়ার্ড।

  • নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ কর্মসূচি।


✅ ৩. শিক্ষায় নারীর অগ্রগতি

  • মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি ও বিনা খরচে পড়াশোনার ব্যবস্থা (মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত)।

  • বিশেষ কোটা: বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও কর্মক্ষেত্রে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন।

  • নারী শিক্ষা নীতিমালা ও বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম।


✅ ৪. নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন

  • কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ (জব ট্রেনিং, SME লোন ইত্যাদি)।

  • নারী উদ্যোক্তা তহবিল – ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ।

  • গ্রামীণ নারীর জন্য প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ ও উৎপাদন সহায়তা।

  • Ready-made garment (RMG) শিল্পে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণে সহায়ক নীতিমালা।


✅ ৫. স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা

  • নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন।

  • প্রসূতি সেবা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, পরিবার পরিকল্পনা সচেতনতা।

  • নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে কর্মসূচি।


✅ ৬. সহিংসতা প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন

  • হেল্পলাইন (৯৯৯, ১০৯) – সহিংসতা বা নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য।

  • ওমেন সাপোর্ট সেন্টার, সেফ হোম, প্রতিরক্ষা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র।

  • পুলিশের নারী হেল্প ডেস্ক ও নারী কর্মকর্তা বৃদ্ধি।


✅ ৭. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব

  • CEDAW, SDG (লক্ষ্য ৫: Gender Equality), Beijing Platform – আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ।

  • UN Women, donor agencies, NGOs-র সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়ন।


🔶 বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ:

চ্যালেঞ্জ বিবরণ
🔸 আইন প্রয়োগে দুর্বলতা অনেক আইন আছে, কিন্তু বাস্তব প্রয়োগ ও বিচারপ্রক্রিয়া ধীর।
🔸 সামাজিক প্রতিরোধ পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কার নারীর অগ্রগতিকে ব্যাহত করে।
🔸 রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ সংরক্ষিত আসনের নারীরা অনেক সময় দলে নির্ভরশীল হয়ে থাকেন।
🔸 শহর-গ্রাম বৈষম্য শহরের নারীরা কিছু সুবিধা পেলেও গ্রামের নারীরা এখনও পিছিয়ে।

🔷 সুপারিশ বা করণীয়:

  1. ✅ বাস্তবায়ন পর্যায়ে মনিটরিং ও জবাবদিহিতা জোরদার করা

  2. মেয়ে শিশু ও কিশোরীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মসূচি

  3. ✅ গ্রামাঞ্চলে নারীর জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

  4. পুরুষদের অংশগ্রহণে সচেতনতা কার্যক্রম—মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য

  5. ✅ রাজনীতিতে নারী কোটা বাধ্যতামূলক করা এবং সরাসরি নির্বাচনে উৎসাহ দেওয়া


🔚 উপসংহার:

বাংলাদেশ সরকার নারী উন্নয়নে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে। তবে কেবল আইন বা নীতি প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন, সামাজিক মনোভাব পরিবর্তন ও নারীর জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠন


বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংবিধানের মৌলিক নীতিগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন নীতি, আইন এবং কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়নের জন্য সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। লিঙ্গ সমতা অর্জনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে।


নারীদের উন্নয়নে সরকারের প্রধান ভূমিকা ও পদক্ষেপসমূহ

১. সংবিধানিক অঙ্গীকার ও আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ:

* সংবিধানের ভিত্তি: বাংলাদেশের সংবিধানে (২৭, ২৮, ২৯ ও ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ) নারী-পুরুষের সমান অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

* জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি (২০১১): এই নীতি নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও আইনগত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। এটি নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেয়।

* আইন প্রণয়ন ও সংশোধন: নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করেছে, যেমন:

* ঘরোয়া সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০

* মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২

* যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮

* পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২

* বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (কিছু বিতর্ক সত্ত্বেও বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করছে)

* অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২

২. শিক্ষার প্রসারে জোর:

* বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি: নারী শিক্ষার প্রসারে সরকার ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে উপবৃত্তি প্রদান করছে, যা ঝরে পড়ার হার কমাতে এবং মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে সহায়ক হচ্ছে।

* শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যক্রম: নারী শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হয়েছে।

* ডিজিটাল শিক্ষা: ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা বাড়াতে আইসিটি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

৩. স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতি:

* মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা: মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কর্মসূচি এবং পুষ্টি সহায়তা প্রদান অন্যতম।

* স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ: নারী ও শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

৪. রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন:

* সংরক্ষিত নারী আসন: জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন) নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যা নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে।

* উচ্চপর্যায়ে নারী নেতৃত্ব: প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, বিচারক, সচিব এবং বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পদে নারীরা আসীন আছেন, যা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্টে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে এবং বিশ্বেও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।

* দলে ৩৩% নারী সদস্য: ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩% নারী সদস্য রাখার বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে (যদিও এটি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি)।

৫. অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান:

* নারী উদ্যোক্তা তৈরি: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ও স্বল্পসুদে ঋণ, বিশেষ প্রণোদনা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

* কর্মসংস্থান সৃষ্টি: পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে।

* অবৈতনিক শ্রমের স্বীকৃতি: নারীর অবৈতনিক গৃহস্থালি শ্রমের অর্থনৈতিক স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

* প্রবাসে কর্মসংস্থান: বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

* জেন্ডার রেসপন্সিভ বাজেট: ২০০৯ সাল থেকে সরকার জেন্ডার রেসপন্সিভ বাজেট প্রণয়ন করছে, যার মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়।

৬. নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ:

* ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC): সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য আইনি, স্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তা প্রদানের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

* জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯: নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ চালু করা হয়েছে, যা ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা প্রদান করে।

* ডিএনএ ল্যাব: ধর্ষণের শিকার নারীদের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

* নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র: সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

* সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: গণমাধ্যম ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

৭. বিশেষ কর্মসূচি ও প্রকল্প:

* মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জাতীয় মহিলা সংস্থা, জয়িতা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নারীর উন্নয়নে কাজ করছে।

* বিভিন্ন প্রকল্প: কিশোরী ক্ষমতায়নে স্কুলগামী ছাত্রীদের সাইকেল প্রদান, উপজেলা পর্যায়ে নারীদের জন্য আয়বর্ধক (IGA) প্রশিক্ষণ, নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণসহ অসংখ্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

* ভিজিডি (VGD) কর্মসূচি: ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (VGD) কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র নারীদের খাদ্য সহায়তা ও উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।


উপসংহার:

বাংলাদেশের সরকার নারীর উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলস্বরূপ নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে, বিদ্যমান পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, আইনের দুর্বল প্রয়োগ, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা এখনো নারীর উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।


বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকার নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়াও, সরকার নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। 

শিক্ষার প্রসার:

সরকার নারী শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি, বৃত্তি এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।

বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি এবং নারী শিক্ষকদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মেয়েদের বিদ্যালয়ে যেতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। 

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন:

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

আইন ও নীতি প্রণয়ন:

নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য সরকার বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। 

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা:

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হার কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারীদের জন্য হেল্পলাইন এবং আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কাজ করা হচ্ছে। 

সামাজিক নিরাপত্তা:

দুস্থ ও অসহায় নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার মাধ্যমে নারীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

সরকারের এসব পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। 



No comments:

Post a Comment