Search This Blog

Tuesday, June 24, 2025

POL-304 - Constitution and Politics in Bangladesh বাংলাদেশের সংবিধান এবং রাজনীতি Dr. Md. Shamsul Alam

 

সংবিধান কী

সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনগত দলিল, যা রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো, শাসনব্যবস্থার নিয়মাবলি, নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে। এটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যপ্রণালি ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে এবং জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করে। সংবিধান দুই ধরনের হতে পারে—লিখিত ও অলিখিত। লিখিত সংবিধান নির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে, আর অলিখিত সংবিধান ঐতিহ্য, প্রথা ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে গঠিত হয়12

সংবিধান তৈরির পদ্ধতিগুলো

সংবিধান প্রণয়নের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো—

  • ঐতিহাসিক বিকাশের মাধ্যমে: কিছু দেশে সংবিধান প্রথা, রীতি ও প্রচলিত আইনসমূহের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে। যেমন, যুক্তরাজ্যের সংবিধান2

  • গণপরিষদ বা সংবিধান সভার মাধ্যমে: জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি বা গণপরিষদের সদস্যরা আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সংবিধান রচনা করেন। উদাহরণ: ভারতের ও বাংলাদেশের সংবিধান32

  • বিপ্লবের মাধ্যমে: স্বৈরাচারী শাসকের পতনের পর নতুন শাসকগোষ্ঠী নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে। যেমন, রাশিয়া, কিউবা, চীনের সংবিধান3

  • জনগণের ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন: সংবিধান রচনার পর গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন নেওয়া হয়2

  • বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে: আইন বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিতদের নিয়ে গঠিত কমিটি সংবিধান রচনা করে2

  • বিদ্যমান আইন ও প্রথার ভিত্তিতে: কিছু দেশে প্রচলিত আইন ও ঐতিহ্য সংবিধানের অংশ হয়ে যায়2

উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

একটি উত্তম সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ—

  • সুস্পষ্ট ও সহজ ভাষা: সংবিধানের ভাষা সহজ, সরল ও বোধগম্য হতে হবে, যেন সবাই বুঝতে পারে456

  • সংক্ষিপ্ততা: অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বাদ দিয়ে মূল বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা46

  • লিখিত ও সুসংগঠিত কাঠামো: স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ ও সংগঠিত থাকতে হবে56

  • মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকতে হবে, যেমন বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমানাধিকার456

  • জনগণের সার্বভৌমত্ব: জনগণের সার্বভৌমত্ব ও মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে56

  • ক্ষমতার ভারসাম্য: আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে56

  • স্থায়িত্ব ও সময়োপযোগিতা: সংবিধান দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী হতে হবে, তবে প্রয়োজনে সংশোধনযোগ্য হতে হবে56

  • জনমতের প্রতিফলন: সংবিধানে জনগণের ইচ্ছা ও আশা-আকাঙ্কার প্রতিফলন থাকতে হবে6

একটি উত্তম সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, সময়োপযোগী, জনগণের অধিকার সংরক্ষণকারী এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষাকারী দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

  1. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8
  2. https://suggetion.com/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A4/
  3. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A4%E0%A6%BF
  4. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  5. https://suggetion.com/%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D/
  6. https://www.easyinfobd.com/2024/09/blog-post_21.html
  7. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  8. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  9. https://translate.google.com/translate?u=https%3A%2F%2Fen.wikipedia.org%2Fwiki%2FConstitution&sl=en&tl=bn&client=srp
  10. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-957.html
  11. https://translate.google.com/translate?u=https%3A%2F%2Fwww.britannica.com%2Ftopic%2Fconstitution-politics-and-law&sl=en&tl=bn&client=srp
  12. https://www.youtube.com/watch?v=bWxhLbdtL2w
  13. https://allnubooks.com/biofol/211901x10x18.pdf
  14. https://sattacademy.com/academy/mcq/%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%9F%E0%A6%BF
  15. https://www.youtube.com/watch?v=aXxTiAHXqqQ
  16. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957.html
  17. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8
  18. https://lxnotes.com/sangbidhan-ki/
  19. https://lxnotes.com/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A5%A4-%E0%A6%89%E0%A6%A4/
  20. https://sattacademy.com/academy/mcq/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%80
  21. https://www.ebookbou.edu.bd/Books/Text/OS/SSC/ssc_2672/Unit-05.pdf
  22. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A8
  23. https://songramernotebook.com/archives/376439
  24. https://www.ebookbou.edu.bd/Books/Text/OS/SSC/ssc_2606/Unit-11.pdf

সংবিধান কী?

সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন যা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য এবং সরকার পরিচালনার মূলনীতি নির্ধারণ করে। এটি রাষ্ট্রের সকল আইন ও প্রতিষ্ঠানের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

সংবিধান তৈরির পদ্ধতি

সংবিধান তৈরির প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো:

১. গণপরিষদের মাধ্যমে

জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত বিশেষ পরিষদ সংবিধান প্রণয়ন করে। বাংলাদেশ ও ভারতের সংবিধান এই পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে।

২. বিপ্লবের মাধ্যমে

রাজনৈতিক বিপ্লবের পর নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। ফ্রান্স ও রাশিয়ার সংবিধান এই পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে।

৩. চুক্তির মাধ্যমে

বিভিন্ন রাজ্য বা অঞ্চলের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে সংবিধান প্রণয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এই পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে।

৪. সামরিক সরকারের মাধ্যমে

সামরিক শাসকরা ক্ষমতা দখলের পর নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে।

৫. আইনসভার মাধ্যমে

বিদ্যমান আইনসভা সংবিধান প্রণয়ন বা সংশোধন করে।

৬. গণভোটের মাধ্যমে

জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়ন বা অনুমোদন।

উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

১. স্পষ্টতা ও সরলতা

সংবিধানের ভাষা স্পষ্ট, সহজ ও বোধগম্য হতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে।

২. নমনীয়তা ও স্থিতিশীলতার সমন্বয়

সংবিধান এমন হতে হবে যা সময়ের সাথে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারে কিন্তু অহেতুক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারে।

৩. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার যেমন বাক্‌স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতার অধিকার ইত্যাদি সুরক্ষিত থাকতে হবে।

৪. ক্ষমতার বিভাজন

আইনসভা, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগের মধ্যে ক্ষমতার যথাযথ বিভাজন ও নিয়ন্ত্রণ-ভারসাম্য।

৫. স্বাধীন বিচারবিভাগ

বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. জনগণের সার্বভৌমত্ব

সকল ক্ষমতার উৎস হিসেবে জনগণের স্বীকৃতি ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা।

৭. আইনের শাসন

সকলের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ ও কারো ঊর্ধ্বে না থাকার নিশ্চয়তা।

৮. সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার ব্যবস্থা।

৯. লিখিত ও অলিখিত বিধানের সমন্বয়

প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো লিখিত থাকা এবং ঐতিহ্য ও রীতিনীতির স্থান।

১০. জাতীয় ঐক্য ও সংহতি

দেশের সকল অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধিকারী বিধান।

একটি উত্তম সংবিধান এই সকল বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।


**সংবিধান কি?**  

সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বা মূলনীতির দলিল, যা রাষ্ট্রের কাঠামো, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি এবং সকল আইন ও নীতির ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।  


---


### **সংবিধান তৈরির পদ্ধতি**  

সংবিধান প্রণয়নের সাধারণ পদ্ধতিগুলো হলো:  


১. **লিখিত vs অলিখিত সংবিধান**  

   - **লিখিত সংবিধান** (যেমন: বাংলাদেশ, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র): একটি একক দলিলে সংবিধানের সকল নীতি লিপিবদ্ধ থাকে।  

   - **অলিখিত সংবিধান** (যেমন: যুক্তরাজ্য): বিভিন্ন চুক্তি, ঐতিহ্য, আদালতের রায় ও আইনের সমন্বয়ে গঠিত।  


২. **সংবিধান প্রণয়নের উৎস অনুযায়ী**  

   - **রাজকীয় পদ্ধতি**: শাসক বা রাজা কর্তৃক প্রদত্ত (ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহৃত)।  

   - **জনগণের মাধ্যমে**: গণপরিষদ বা সংবিধান সভার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা প্রণীত (আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রচলিত)।  

   - **সামরিক বা বিপ্লবী সরকার কর্তৃক**: সামরিক শাসনামলে সংবিধান রচিত হতে পারে (যেমন: পাকিস্তানের ১৯৬২ সালের সংবিধান)।  


৩. **সংশোধনীর কঠোরতা অনুযায়ী**  

   - **নমনীয় সংবিধান**: সাধারণ আইনের মতো সহজে সংশোধনযোগ্য (যেমন: যুক্তরাজ্য)।  

   - **কঠোর সংবিধান**: বিশেষ পদ্ধতি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন (যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ)।  


---


### **উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য**  

১. **স্পষ্টতা ও সুসংহত কাঠামো**: সংবিধানের ভাষা ও ধারা পরিষ্কার এবং দ্ব্যর্থহীন হওয়া আবশ্যক।  

২. **মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা**: নাগরিকদের সমতা, স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা।  

৩. **সরকারের ক্ষমতা পৃথকীকরণ**: নির্বাহী, আইনসভা ও বিচারবিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা।  

৪. **জনগণের অংশগ্রহণ**: সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকা।  

৫. **সময়োপযোগীতা**: পরিবর্তিত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ থাকা।  

৬. **ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন**: সংবিধান ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করবে।  

৭. **সংঘাত নিরসনের ব্যবস্থা**: সংবিধানে বিভিন্ন মতপার্থক্য সমাধানের পদ্ধতি উল্লেখ থাকা।  


**উদাহরণ**: ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধানকে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সংবিধানের মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এগুলো নাগরিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসনের নীতিকে প্রাধান্য দেয়।  

সংবিধান একটি রাষ্ট্রের "জীবনের আদর্শ দলিল" হিসেবে কাজ করে, তাই এর প্রণয়ন ও প্রয়োগে সতর্কতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি অপরিহার্য।


সংবিধান কি?

সংবিধান (Constitution) হলো একটি রাষ্ট্রের মূল আইন, যা রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামো, নীতিমালা, শাসনব্যবস্থা, সরকার ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে। এটি একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং অন্য সকল আইন সংবিধানের অধীনস্থ।


সংবিধান তৈরির পদ্ধতিগুলো

সংবিধান তৈরির প্রধান কয়েকটি পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

  1. গঠনতন্ত্র সভার মাধ্যমে (Constituent Assembly):

    • স্বাধীনতা লাভের পর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একটি গঠনতন্ত্র সভার মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়ন করেন।

    • উদাহরণ: ভারতের সংবিধান (১৯৪৯)।

  2. সংসদের মাধ্যমে (Legislative Method):

    • প্রচলিত আইনসভা একটি সংবিধান খসড়া করে এবং তা পাস করে।

    • এতে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে।

  3. গণভোট বা গণসম্মতি (Referendum):

    • প্রস্তাবিত সংবিধান জনগণের সামনে গণভোটে উপস্থাপন করা হয়।

    • জনগণের সম্মতিতে সংবিধান গৃহীত হয়।

    • উদাহরণ: ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড।

  4. চার্টার প্রদানের মাধ্যমে (Grant by Monarch or Ruler):

    • কোন রাজা বা কর্তৃত্বপূর্ণ শাসক নিজ ইচ্ছায় সংবিধান দেন।

    • একে বলা হয় “দেয়া সংবিধান” (Granted Constitution)।

    • উদাহরণ: জাপানের ১৮৮৯ সালের সংবিধান।

  5. বিকশিত বা প্রথাগতভাবে গঠিত (Evolved Constitution):

    • সময়ের সাথে সাথে আইন, রীতি ও প্রথার মাধ্যমে সংবিধান তৈরি হয়।

    • উদাহরণ: যুক্তরাজ্যের সংবিধান (লিখিত নয়, বরং বিকশিত)।


উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

একটি উত্তম সংবিধান সাধারণত নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে:

  1. সুস্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততা:

    • ভাষা সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ জনগণও তা বুঝতে পারে।

  2. নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষা:

    • মৌলিক অধিকার যেমন বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা, আইনের শাসন প্রভৃতি সংরক্ষিত থাকে।

  3. সরকারের কাঠামো নির্ধারণ:

    • রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ, বিচার বিভাগ প্রভৃতির ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে।

  4. ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিভাজন:

    • আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথকীকরণ থাকে।

  5. পরিবর্তনের সুযোগ (Amendability):

    • সময় ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে হয়, তবে তা কঠোর নিয়মে হওয়া উচিত।

  6. গণতান্ত্রিক নীতিমালা:

    • জনমতের ভিত্তিতে সরকার গঠনের পদ্ধতি থাকা উচিত।

  7. আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা:

    • সকল নাগরিক ও শাসকদের জন্য আইন সমভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

  8. একতা ও বহুত্ববাদ উভয়ের ভারসাম্য:

    • সংবিধানে জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত বিভিন্নতা মান্যতা পায়, কিন্তু জাতীয় ঐক্য রক্ষার ব্যবস্থাও থাকে।


একটি দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, তার মৌলিক নীতি ও নিয়মকানুন সংবলিত দলিলই হলো সংবিধান। এটি একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন এবং সমস্ত আইন ও নীতিমালা এর উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়। সংবিধান সরকার, তার বিভিন্ন শাখা (যেমন আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ) এবং নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।


সংবিধান তৈরির পদ্ধতিসমূহ

সংবিধান বিভিন্ন উপায়ে তৈরি হতে পারে। কিছু সাধারণ পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

  • বিপ্লব বা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে: অনেক সময় বিপ্লব বা যুদ্ধে একটি পুরনো শাসন ব্যবস্থার পতনের পর নতুন করে সংবিধান তৈরি হয়। যেমন, আমেরিকান বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি ও জাপানের পরাজয়ের পর তাদের সংবিধান তৈরি হয়েছিল।

  • বিশেষ গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সভা: এটি সংবিধান তৈরির একটি প্রচলিত পদ্ধতি। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সভা গঠন করা হয়, যাদের প্রধান কাজই হলো সংবিধান প্রণয়ন করা। এই পদ্ধতি গণতান্ত্রিক বলে বিবেচিত হয় কারণ এখানে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে।

  • আইনসভা কর্তৃক প্রণয়ন: কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনসভা বা পার্লামেন্ট সংবিধান তৈরি বা সংশোধন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সাধারণত একটি বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (যেমন দুই-তৃতীয়াংশ ভোট) প্রয়োজন হয়।

  • গণভোট: কিছু দেশে সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া জনগণের গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়, যা সংবিধানের প্রতি জনগণের সমর্থন ও বৈধতা নিশ্চিত করে।

  • বিশেষজ্ঞ কমিটি বা কার্যনির্বাহী দল: অনেক সময় বিশেষজ্ঞরা একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেন, যা পরে জনগণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়।

সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়াটি সাধারণত বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

১. প্রস্তুতিমূলক পর্যায়: এই পর্যায়ে সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি, সময়সীমা এবং মৌলিক নীতিগুলো নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২. খসড়া প্রণয়ন পর্যায়: এই ধাপে একটি খসড়া সংবিধান তৈরি করা হয়, যেখানে বিভিন্ন কমিটি বা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করে।

৩. জনগণের পরামর্শ: এই পর্যায়ে খসড়া সংবিধান নিয়ে ব্যাপক জনমত নেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের মতামত ও প্রস্তাবনা সংগ্রহ করা হয়।

৪. চূড়ান্ত পর্যালোচনা ও অনুমোদন: সকল মতামত বিবেচনা করে সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (যেমন গণপরিষদ বা আইনসভা) দ্বারা এটি অনুমোদিত হয়।


উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ

একটি উত্তম সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একটি সুষ্ঠু ও কার্যকরী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য:

  • লিখিত ও সুস্পষ্টতা: উত্তম সংবিধান সাধারণত লিখিত হয়, যা এর ধারাগুলো সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট করে তোলে। এতে ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ কম থাকে এবং নাগরিকদের অধিকার ও সরকারের ক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

  • সংক্ষিপ্ততা: একটি ভালো সংবিধান অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্য পরিহার করে সংক্ষিপ্ত ও সুস্পষ্ট হয়। এতে মৌলিক নীতিগুলো তুলে ধরা হয়, যা সহজে বোঝা যায়।

  • ব্যাপকতা ও স্থিতিস্থাপকতা: সংবিধানের বিধানগুলো এমন হওয়া উচিত যাতে তা দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনশীল চাহিদা মেটাতে পারে। এটি যেন প্রয়োজনে সংশোধন করা যায় (স্থিতিস্থাপক), আবার অযাচিতভাবে পরিবর্তন করা কঠিন হয় (দুষ্পরিবর্তনীয়)।

  • মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: একটি উত্তম সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের (যেমন - বাক স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের শাসন ইত্যাদি) স্পষ্ট নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং এই অধিকারগুলো লঙ্ঘিত হলে বিচার পাওয়ার সুযোগ রাখে।

  • ক্ষমতার বিভাজন: সরকারের তিনটি প্রধান শাখা (আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ) এর মধ্যে ক্ষমতার সুস্পষ্ট বিভাজন একটি উত্তম সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে এবং সরকারে ভারসাম্য বজায় রাখে।

  • আইনের প্রাধান্য: সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সকল আইন এর অধীন হয়। কোনো আইন যদি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

  • জনগণের সার্বভৌমত্ব: উত্তম সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, অর্থাৎ সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের নির্বাচন ও কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

  • স্বাধীন বিচার বিভাগ: একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ উত্তম সংবিধানের জন্য অপরিহার্য। এটি সংবিধানের ব্যাখ্যা করে, আইন প্রয়োগ করে এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে।

  • সংশোধন পদ্ধতি: উত্তম সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে এটি কীভাবে সংশোধন করা যাবে। এই পদ্ধতি সাধারণত সাধারণ আইন তৈরির চেয়ে কঠিন হয়, যা সংবিধানের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি সংবিধানকে কার্যকর ও টেকসই করে তোলে, যা একটি জাতির অগ্রগতি এবং নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।


সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের মৌলিক আইন যা সরকার পদ্ধতি, জনগণের অধিকার ও কর্তব্য, এবং রাষ্ট্রের কাঠামো নির্ধারণ করে। সংবিধান তৈরির পদ্ধতিগুলো হলো: আনুষ্ঠানিক সংবিধান সভা, গণভোট, আইনসভা কর্তৃক প্রণয়ন, এবং ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে। একটি উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য হলো স্পষ্টতা, সংক্ষিপ্ততা, মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি, জনমতের প্রতিফলন, এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার সুষম বণ্টন। 

সংবিধান (Constitution) একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন যা সরকার পরিচালনা, জনগণের অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করে। এটি একটি দেশের ভিত্তি এবং এর মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের পরিচয় ও পরিচালনার নিয়মাবলী সংজ্ঞায়িত করা হয়। 

সংবিধান তৈরির পদ্ধতিগুলো: 

আনুষ্ঠানিক সংবিধান সভা:

একটি নির্বাচিত সংস্থা (যেমন - সংবিধান সভা) গঠন করে, যারা সংবিধান রচনার দায়িত্ব পালন করে।

গণভোট:

জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে সংবিধান অনুমোদন করা হয়।

আইনসভা কর্তৃক প্রণয়ন:

আইনসভা (সংসদ) সংবিধান প্রণয়ন করে।

ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে:

কিছু রাষ্ট্রে, সংবিধান ধীরে ধীরে ঐতিহ্য ও প্রথার মাধ্যমে গড়ে ওঠে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক প্রণীত হয় না।

একটি উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য:

স্পষ্টতা:

সংবিধানের ভাষা সহজ, সরল ও সুস্পষ্ট হওয়া উচিত, যাতে সকলে সহজেই বুঝতে পারে। 

সংক্ষিপ্ততা:

অপ্রয়োজনীয় বিষয় পরিহার করে সংবিধানের মূল বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা উচিত। 

মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি:

সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার (যেমন - জীবন, স্বাধীনতা, সাম্য, ইত্যাদি) নিশ্চিত করবে। 

জনমতের প্রতিফলন:

সংবিধান প্রণয়নে জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকা উচিত। 

ক্ষমতার সুষম বণ্টন:

সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতা সুষমভাবে বণ্টন করা উচিত, যাতে কোনো একটি বিভাগ এককভাবে ক্ষমতাশালী না হয়ে যায়। 

আইনের প্রাধান্য:

সংবিধানে আইনের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে আইন থাকবে। 

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা:

সংবিধানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের দুর্বল ও অনগ্রসর মানুষের অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। 

সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা:

সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা, সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধানকে পবিত্র কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। 





বাংলাদেশের সংবিধান কিভাবে প্রণয়ন করা হয়

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পেছনে ছিল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ১৯৭২ সালের ২০ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করে সংবিধান রচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ’, যাদের ওপর সংবিধান রচনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়1

১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি বিভিন্ন বৈঠকের মাধ্যমে সংবিধানের খসড়া তৈরি করে। ইংরেজি ভাষ্যের খসড়া তৈরি করেন ড. কামাল হোসেন, আর বাংলা ভাষান্তর করেন ড. আনিসুজ্জামান। গণপরিষদে খসড়া সংবিধান উত্থাপনের পর আলোচনা ও সংশোধন শেষে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়213

বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

  • লিখিত দলিল: এটি একটি সুসংগঠিত ও লিখিত সংবিধান, যাতে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ ও ৭টি তফসিল রয়েছে3

  • দুষ্পরিবর্তনীয়তা: সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন, ফলে এটি সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয়3

  • রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই চারটি মূলনীতি সংবিধানের ভিত্তি23

  • গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার: বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত4

  • সংসদীয় শাসনব্যবস্থা: সংসদীয় পদ্ধতির সরকার চালু রয়েছে, যেখানে মন্ত্রিপরিষদ প্রধান নির্বাহী4

  • মৌলিক অধিকার: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার যেমন বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমানাধিকার, চলাফেরার অধিকার ইত্যাদি সংরক্ষিত3

  • সর্বজনীন ভোটাধিকার: ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সকল নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে3

  • সর্বোচ্চ আইন: সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন; অন্য কোনো আইন সংবিধানের পরিপন্থী হলে তা বাতিলযোগ্য34

  • নাগরিকের কর্তব্য ও দায়িত্ব: সংবিধানে নাগরিকদের কর্তব্য ও দায়িত্বও নির্ধারিত3

  • সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার: সংবিধানের মূল লক্ষ্য নাগরিকদের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা23

বাংলাদেশের সংবিধান তাই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল হিসেবে বিবেচিত2134

  1. https://shampratikdeshkal.com/opinion/127531
  2. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8
  3. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  4. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF
  5. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A4%E0%A6%BF
  6. https://suggetion.com/%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6/
  7. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-957.html
  8. https://10minuteschool.com/content/constitution-of-bangladesh/
  9. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A8
  10. https://www.globalhealthrights.org/wp-content/uploads/2013/09/Bangladesh_Bangla2.pdf
  11. https://teachers.gov.bd/index.php/blog/details/804955
  12. http://www.surendranatheveningcollege.com/wp-content/uploads/2020/04/Features-of-the-Constitution-of-Bangladesh-bengali.pdf
  13. https://www.ebookbou.edu.bd/Books/Text/OS/SSC/ssc_2606/Unit-16.pdf
  14. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-30072.html
  15. https://www.ebookbou.edu.bd/Books/Text/SSHL/BABSS/bpo_6305/Unit-07.pdf
  16. https://suggetion.com/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A4/
  17. https://sattacademy.com/academy/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A4%E0%A6%BF-51934
  18. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957.html

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি

স্বাধীনতার পর প্রাথমিক পরিস্থিতি

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে একটি স্থায়ী সংবিধানের প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯৭০ সালের আইনগত কাঠামো আদেশ (Legal Framework Order) অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়।

গণপরিষদ গঠন

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা বাংলাদেশের গণ পরিষদের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন। এই গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব পায়।

সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া

১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণপরিষদে সংবিধানের মূলনীতি ঘোষণা করেন।

খসড়া কমিটি গঠন: ৩৪ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি গঠিত হয় যার সভাপতি ছিলেন ডক্টর কামাল হোসেন।

আলোচনা ও সংশোধন: গণপরিষদে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের পর সংবিধানের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

সংবিধান গৃহীত: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়।

কার্যকর হওয়া: ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে সংবিধান কার্যকর হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য

১. লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান

বাংলাদেশের সংবিধান সম্পূর্ণ লিখিত এবং এর সংশোধনের জন্য বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন।

২. চার মূলনীতি

  • জাতীয়তাবাদ: বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  • সমাজতন্ত্র: অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার
  • গণতন্ত্র: জনগণের শাসন
  • ধর্মনিরপেক্ষতা: সকল ধর্মের প্রতি সমান মর্যাদা

৩. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা

প্রাথমিকভাবে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রূপান্তরিত হয় এবং আবার সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরে আসে।

৪. মৌলিক অধিকার

সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ১৮টি মৌলিক অধিকারের বিধান রয়েছে, যেমন:

  • আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  • ধর্মীয় স্বাধীনতা
  • বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
  • চলাফেরার স্বাধীনতা
  • পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা

৫. মৌলিক নীতি

রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি হিসেবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

৬. ক্ষমতার বিভাজন

আইনসভা, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগের মধ্যে ক্ষমতার বিভাজন রয়েছে।

৭. স্বাধীন বিচারবিভাগ

বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে।

৮. একক নাগরিকত্ব

বাংলাদেশে একক নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে।

৯. ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলাম

প্রাথমিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকলেও পরবর্তীতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়েছে।

১০. জরুরি অবস্থার বিধান

বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে।

১১. সংশোধনযোগ্যতা

সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন। কিছু মৌলিক বিষয় (যেমন: প্রস্তাবনা, মৌলিক নীতি) সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রয়েছে।

১২. এককেন্দ্রিক সরকার

বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে প্রধান ক্ষমতা।

বিশেষ বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের প্রতিফলন। এটি একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হয়েছে। সংবিধানে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলা হয়েছে।


### **বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি**  

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করা হয় নিম্নলিখিত ধাপে:  


#### **১. গণপরিষদ গঠন (Constituent Assembly)**  

- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে **গণপরিষদ গঠন** করেন।  

- এই পরিষদে **১৯৭০ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত বাংলাদেশি সদস্যরা** অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (মোট ৪০৪ সদস্য)।  


#### **২. খসড়া কমিটি গঠন**  

- ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে **৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি** গঠন করা হয়।  

- কমিটি **প্রাথমিক খসড়া** তৈরি করে এবং জনসাধারণের মতামতের জন্য তা প্রকাশ করে।  


#### **৩. গণপরিষদে বিতর্ক ও অনুমোদন**  

- ১৯৭২ সালের **১২ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর** পর্যন্ত গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া আলোচনা ও সংশোধন করা হয়।  

- **৪ নভেম্বর, ১৯৭২**-এ গণপরিষদে **সর্বসম্মতিক্রমে** সংবিধান গৃহীত হয়।  


#### **৪. সংবিধান কার্যকর**  

- **১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২** (বিজয় দিবস)-এ সংবিধান **পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর** হয়।  


---


### **বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য**  


#### **১. লিখিত ও দীর্ঘ সংবিধান**  

- বাংলাদেশের সংবিধান একটি **বিশদ ও লিখিত দলিল**, যাতে **১১ ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ** এবং **৭টি তফসিল** রয়েছে।  


#### **২. অনমন্য ও সর্বোচ্চ আইন**  

- সংবিধান **সর্বোচ্চ আইন**; সকল আইন ও নীতি এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।  


#### **৩. এককেন্দ্রিক সরকার পদ্ধতি**  

- সংসদীয় গণতন্ত্র অনুসারে **এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা** (Unitary System) রয়েছে, তবে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার বিধান আছে।  


#### **৪. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা**  

- **২৬-৪৭ নং অনুচ্ছেদে** নাগরিকদের **মৌলিক অধিকার** (সমতা, স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের আশ্রয়) সুরক্ষিত আছে।  

- তবে **জরুরি অবস্থায়** কিছু অধিকার স্থগিত করা যায় (অনুচ্ছেদ ৪১ক)।  


#### **৫. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি**  

- **৮-২৫ নং অনুচ্ছেদে** রাষ্ট্রের **চার মূলস্তম্ভ** উল্লেখিত:  

  - **জাতীয়তাবাদ**  

  - **গণতন্ত্র**  

  - **সমাজতন্ত্র** (সাম্যের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার)  

  - **ধর্মনিরপেক্ষতা** (পরবর্তীতে সংশোধনী দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে)।  


#### **৬. নমনীয় ও কঠোর সংশোধন পদ্ধতি**  

- সাধারণ সংশোধনীর জন্য **সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট** প্রয়োজন (অনুচ্ছেদ ১৪২)।  

- **মৌলিক কাঠামো** (যেমন: রাষ্ট্রীয় মূলনীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা) পরিবর্তনের জন্য **জনভোট** প্রয়োজন হতে পারে।  


#### **৭. স্বাধীন বিচারবিভাগ**  

- সংবিধান **বিচারবিভাগের স্বাধীনতা** নিশ্চিত করে (অনুচ্ছেদ ২২, ৯৪-১১৬)।  

- **সুপ্রিম কোর্ট** সংবিধানের ব্যাখ্যা ও মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে।  


#### **৮. জরুরি অবস্থার বিধান**  

- রাষ্ট্রপতি **জাতীয় সংকটকালে জরুরি অবস্থা** ঘোষণা করতে পারেন (অনুচ্ছেদ ১৪১)।  


#### **৯. ধর্মীয় প্রভাব**  

- মূল সংবিধানে **ধর্মনিরপেক্ষতা** ছিল, কিন্তু **১৯৭৮ ও ১৯৮৮ সালের সংশোধনীতে** "**রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম**" যোগ করা হয়।  


---


### **সংবিধানের উল্লেখযোগ্য সংশোধনী**  

- **১৯৭৫ সালের ৪র্থ সংশোধনী**: একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু।  

- **১৯৭৯ সালের ৫ম সংশোধনী**: সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়া।  

- **১৯৯১ সালের ১২তম সংশোধনী**: সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্বহাল।  

- **২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনী**: সংবিধানে **মূল কাঠামো তত্ত্ব** যুক্ত করা হয় (যা উচ্চ আদালত দ্বারা স্বীকৃত)।  


---


### **সারসংক্ষেপ**  

বাংলাদেশের সংবিধান **একটি লিখিত, সর্বোচ্চ আইন**, যা **গণপরিষদের মাধ্যমে** প্রণয়ন করা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে **মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রের মূলনীতি, স্বাধীন বিচারবিভাগ এবং নমনীয়-কঠোর সংশোধন পদ্ধতি** বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সময়ের সাথে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সংশোধনী এসেছে, কিন্তু সংবিধান এখনও দেশের **সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তি** হিসেবে কাজ করে।


বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এটি স্বাধীনতার পরপরই দেশের জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়। নিচে বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি ও এর বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:


🔷 বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি

১. স্বাধীনতা লাভ ও প্রেক্ষাপট

  • ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

  • স্বাধীনতা-উত্তর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও লিখিত সংবিধানের প্রয়োজন ছিল।

২. গণপরিষদ গঠন

  • ১৯৭২ সালের ৭ মার্চ প্রথম গণপরিষদের অধিবেশন বসে।

  • গণপরিষদ গঠিত হয় জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে, যারা সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব পান।

৩. সংবিধান প্রণয়ন কমিটি

  • একটি ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।

  • কমিটির প্রধান ছিলেন ড. কামাল হোসেন

৪. সংবিধান প্রণয়ন ও গ্রহণ

  • সংবিধান রচনার কাজ অতি দ্রুত সম্পন্ন হয়।

  • ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

  • ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) থেকে এটি কার্যকর হয়।


🔷 বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ

বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত, পূর্ণাঙ্গ ও গণতান্ত্রিক সংবিধান। এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. লিখিত ও লিখিতভাবে সংরক্ষিত

  • বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল, যাতে ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং কয়েকটি তফসিল রয়েছে (পরবর্তীতে সংশোধিত হয়েছে)।

২. প্রস্তাবনা (Preamble)

  • সংবিধানের প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য, নীতি ও চেতনা ঘোষিত হয়েছে – “জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা”।

৩. প্রজাতন্ত্র ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা

  • বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম, গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।

৪. গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় ব্যবস্থা

  • বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

  • প্রধানমন্ত্রী প্রধান নির্বাহী, আর রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান।

৫. মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশনা

  • সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা (Part II) বলা হয়েছে যেমন:

    • অর্থনৈতিক সাম্য

    • নারী-পুরুষের সমান অধিকার

    • দারিদ্র্য দূরীকরণ

    • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ

    • ধর্ম নিরপেক্ষতা

৬. মৌলিক অধিকার

  • সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে:

    • বাকস্বাধীনতা

    • ধর্মীয় স্বাধীনতা

    • আইনের দৃষ্টিতে সমতা

    • ব্যক্তি স্বাধীনতা

    • ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার

৭. আইনের শাসন

  • সংবিধান সবাইকে আইনের আওতায় আনে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

৮. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

  • বিচার বিভাগ প্রশাসন ও সংসদ থেকে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করে।

৯. সংবিধান সংশোধনযোগ্যতা

  • সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে।

  • অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারে।


✅ সংক্ষেপে বাংলাদেশের সংবিধান:

  • প্রণীত: ৪ নভেম্বর ১৯৭২

  • কার্যকর: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২

  • মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা

  • সরকার ব্যবস্থা: সংসদীয় গণতন্ত্র

  • সংশোধন সংখ্যা: ১৭ বার (শেষ সংশোধন: ১৭তম সংশোধনী, ২০১৪)



বাংলাদেশের সংবিধান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর। এটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রণীত হয়েছিল এবং এর পেছনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন গণপরিষদের সদস্যদের বিশাল অবদান রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং গণতান্ত্রিক। এর মূল ধাপগুলো নিম্নরূপ:

১. গণপরিষদ গঠন: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ অস্থায়ী গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়। এই গণপরিষদেই সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।

২. সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন: ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে ৩৩ জন আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ১ জন ন্যাপ (মোজাফফর) সদস্য (সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত) ছিলেন।

৩. খসড়া প্রণয়ন ও আলোচনা: কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে। ১৭ এপ্রিল থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮৫ দিন কমিটি বিভিন্ন বৈঠক করে সংবিধানের খসড়া তৈরি করে। ১০ জুন সংবিধানের একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া অনুমোদিত হয়। এই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং জনগণের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত মতামত থেকে ৯৮টি সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।

৪. গণপরিষদে খসড়া উত্থাপন: ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ১৫৩টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত ৭২ পৃষ্ঠার খসড়া সংবিধান বিল আকারে গণপরিষদে উত্থাপন করেন।

৫. সাধারণ আলোচনা ও অনুমোদন: ১৯ অক্টোবর বিলের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয় যা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলে। ৩১ অক্টোবর খসড়া সংবিধানের ধারাওয়ারী আলোচনা শুরু হয়। ৩ নভেম্বর সংবিধানের কতিপয় সংশোধনীসহ সকল অনুচ্ছেদ ও তফসিল গৃহীত হয়।

৬. চূড়ান্ত গ্রহণ ও কার্যকর: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে তুমুল করতালি ও হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটিকে "বাংলাদেশের জনগণের তাজা রক্তে লেখা" সংবিধান হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিজয় দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে এটি কার্যকর হয়।

সংবিধান প্রণয়নের এই প্রক্রিয়াটি মোট ২১টি অধিবেশনে ২০৮ দিনে সম্পন্ন হয়েছিল।

বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ

বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল এবং এর কিছু স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

১. লিখিত দলিল ও সুস্পষ্টতা: বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। এতে একটি প্রস্তাবনা, ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে (মূল সংবিধানে ৪টি তফসিল ছিল, যা পরবর্তীতে সংশোধনীর মাধ্যমে ৭টিতে উন্নীত করা হয়েছে)। সরকারের তিনটি বিভাগ (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) সহ গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের ক্ষমতা ও কার্যাবলী সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

২. দুষ্পরিবর্তনীয়: বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতির। অর্থাৎ, এটি সহজে পরিবর্তন করা যায় না। সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়, যা সংবিধানের স্থায়িত্ব ও মর্যাদা বজায় রাখতে সহায়ক।

৩. প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র: বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রের প্রধান (রাষ্ট্রপতি) জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তিনি জনগণের দ্বারা বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত হন।

৪. এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র: সংবিধান বাংলাদেশকে একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারই সকল ক্ষমতার অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় আইনসভাই সার্বভৌম আইন প্রণয়নকারী সংস্থা।

৫. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: বাংলাদেশে সংসদীয় বা মন্ত্রিসভাপদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত। প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারপ্রধান এবং তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভাই দেশ পরিচালনা করে। রাষ্ট্রপতি হলেন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান।

৬. এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: বাংলাদেশের আইনসভা (জাতীয় সংসদ) এককক্ষবিশিষ্ট। ৩০০ জন নির্বাচিত সদস্য এবং ৫০ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ (বর্তমানে) মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।

৭. মৌলিক অধিকার: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহ বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, পেশার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি মৌলিক অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত হয়েছে।

৮. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছে:

* জাতীয়তাবাদ: বাঙালি জাতীয়তাবাদকে ভিত্তি করে এ রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে।

* সমাজতন্ত্র: শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

* গণতন্ত্র: গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

* ধর্মনিরপেক্ষতা: সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। (যদিও পরবর্তীতে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজিত হয়েছে, তবে ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতিও বলবৎ আছে)।

৯. আইনের প্রাধান্য: সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন অকার্যকর বলে গণ্য হবে।

১০. জনগণের সার্বভৌমত্ব: বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে এই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীনে ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।

১১. স্বাধীন বিচার বিভাগ: সংবিধানে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের বিধান করা হয়েছে, যা সংবিধানের ব্যাখ্যা, আইনের প্রয়োগ এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১২. সার্বজনীন ভোটাধিকার: সকল ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সংবিধানকে একটি গতিশীল ও প্রগতিশীল দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা রাষ্ট্রের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং জনগণের অধিকার ও কল্যাণের ভিত্তি।


বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল, যা ১৯৭২ সালে প্রণীত হয় এবং ১৬ই ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি গণপরিষদ গঠন করা হয়েছিল, যারা বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া তৈরি করে। এরপর, গণপরিষদে সেটি অনুমোদন করা হয় এবং তা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে গৃহীত হয়। 

সংবিধান প্রণয়নের মূল প্রক্রিয়াটি ছিল নিম্নরূপ:

1. গণপরিষদ গঠন:

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর, ১৯৭২ সালের ২৩শে মার্চ রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারির মাধ্যমে গণপরিষদ গঠন করেন। 

2. সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন:

গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১০ই এপ্রিল, ১৯৭২ সালে। এরপর, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। 

3. খসড়া তৈরি ও আলোচনা:

এই কমিটি বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করে এবং ২৯টি বৈঠকে প্রতিটি খসড়া বিধান নিয়ে আলোচনা করে। 

4. গণপরিষদে অনুমোদন:

সংবিধানের খসড়া গণপরিষদে উপস্থাপন করা হয় এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনার পর তা অনুমোদিত হয়। 

5. কার্যকর হওয়া:

অবশেষে, ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে সংবিধান কার্যকর হয়। 

সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:

লিখিত দলিল:

বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল, যা রাষ্ট্রের মৌলিক আইন এবং বিধি-বিধান সংকলিত করে। 

দুষ্পরিবর্তনীয়:

সংবিধান তুলনামূলকভাবে কঠিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায়, যা এটিকে স্থিতিশীল রাখে। 

মৌলিক অধিকার:

সংবিধানে নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। 

চার মূলনীতি:

সংবিধানের চারটি মূলনীতি হলো জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। 

রাষ্ট্রের কাঠামো:

সংবিধান রাষ্ট্রের গঠন কাঠামো, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত করে। 

আইনের প্রাধান্য:

সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এটি সকল আইনের ঊর্ধ্বে। 

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা:

সংবিধান একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করে। 





জাতীয় সংসদের গঠন

  • বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ হলো সর্বোচ্চ আইনসভা এবং এটি এককক্ষ বিশিষ্ট1

  • সংসদে মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন, যার মধ্যে ৩০০ জন সদস্য সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এবং বাকি ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে15

  • নারীদের সংরক্ষিত আসনগুলো নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্যের ভোটে পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হয়1

  • সংসদের মেয়াদকাল সাধারণত পাঁচ বছর, তবে সংকটকালে আইন পাসের মাধ্যমে মেয়াদ পরিবর্তন হতে পারে1

  • সংসদের প্রধান ভবন ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতি লুই আই কান দ্বারা নকশা করা হয়েছে146

জাতীয় সংসদের কার্যাবলী

  • সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা; এটি আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও বাতিলের ক্ষমতা রাখে15

  • বাজেট অনুমোদন, সরকারের কাজের তদারকি এবং নীতি নির্ধারণে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

  • সংসদে সরকার গঠন হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন1

  • সংসদ সদস্যরা সরকারের নীতিমালা ও কর্মকাণ্ডের উপর প্রশ্ন ও আলোচনা করতে পারেন, যা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

  • সংসদ বিভিন্ন কমিটি গঠন করে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করে।

  • সংবিধান অনুযায়ী সংসদ রাষ্ট্রপতির নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি এবং দেশের আইন ও নীতির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে15

  1. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC_%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6
  2. https://www.parliament.gov.bd
  3. https://parliament.portal.gov.bd
  4. https://www.dhaka.gov.bd/en/site/tourist_spot/uajl-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6-%E0%A6%AD%E0%A6%AC%E0%A6%A8
  5. https://bangladesh.gov.bd/site/page/da45a2fe-7572-4c2f-9de3-e9b7b433901c/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6
  6. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC_%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6_%E0%A6%AD%E0%A6%AC%E0%A6%A8
  7. https://www.parliament.gov.bd/session-information
  8. https://www.dhaka.gov.bd/bn/site/top_banner/cbw6-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6-%E0%A6%AD%E0%A6%AC%E0%A6%A8

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের গঠন

সংসদের প্রকৃতি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ একটি এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। এটি সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত।

সদস্য সংখ্যা ও গঠন

মোট সদস্য সংখ্যা: ৩৫০ জন

  • সরাসরি নির্বাচিত: ৩০০ জন (সাধারণ আসন)
  • সংরক্ষিত আসন: ৫০ জন (মহিলা সদস্য)

নির্বাচন পদ্ধতি

সাধারণ আসন: প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন করে সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

মহিলা সংরক্ষিত আসন: জাতীয় সংসদের নির্বাচিত ৩০০ সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ৫০ জন মহিলা সদস্য নির্বাচন করেন।

যোগ্যতা

সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা:

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  • ন্যূনতম ২৫ বছর বয়স হতে হবে
  • মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে
  • দেউলিয়া না হতে হবে
  • কোনো আদালত কর্তৃক অপরাধী সাব্যস্ত না হতে হবে

অযোগ্যতা

  • সরকারি চাকরি করলে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)
  • দুই বা ততোধিক দেশের নাগরিকত্ব থাকলে
  • মানসিক ভারসাম্যহীনতা
  • দেউলিয়া অবস্থা
  • নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হলে

মেয়াদকাল

  • জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর
  • প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে ৫ বছর পর সংসদ ভেঙে যায়
  • রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে আগে ভেঙে দিতে পারেন

জাতীয় সংসদের কার্যাবলী

১. আইন প্রণয়ন কার্যাবলী

আইন প্রণয়ন: সংসদের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। যেকোনো বিল পাশ করার জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।

বিল পাশ করার পদ্ধতি:

  • বিল উত্থাপন
  • সাধারণ আলোচনা
  • বিস্তারিত আলোচনা
  • পাশ করা
  • রাষ্ট্রপতির সম্মতি

সংশোধনী: সংসদ সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা রাখে (দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে)।

২. নির্বাহী বিভাগ নিয়ন্ত্রণ

মন্ত্রিসভার দায়বদ্ধতা: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ।

অনাস্থা প্রস্তাব: সংসদ সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে।

প্রশ্ন করার অধিকার: সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন করতে পারেন।

৩. আর্থিক কার্যাবলী

বাজেট অনুমোদন: সরকারের বার্ষিক বাজেট সংসদে উপস্থাপনা ও অনুমোদন।

কর আরোপ: নতুন কর আরোপ বা পুরাতন কর রহিত করার ক্ষমতা।

সরকারি অর্থ নিয়ন্ত্রণ: সরকারি অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ।

মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদন: সরকারি হিসাব-নিকাশ পরীক্ষা।

৪. বিচার বিভাগীয় কার্যাবলী

অভিশংসন: রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারকের বিরুদ্ধে অভিশংসন।

বিচার বিভাগীয় নিয়োগ: উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে পরামর্শ।

৫. তদারকি কার্যাবলী

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম তদারকি।

জাতীয় নিরীক্ষা কার্যক্রম: সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিরীক্ষা।

৬. নির্বাচনী কার্যাবলী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন: সংসদের নিজস্ব পদাধিকারী নির্বাচন।

৭. গণতান্ত্রিক কার্যাবলী

জনমত প্রতিফলন: জনগণের মতামত ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরা।

সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা: বিরোধী দলের মতামত শোনা ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা।

৮. প্রশাসনিক কার্যাবলী

সংবিধান রক্ষা: সংবিধানের বিধান অনুসরণ নিশ্চিত করা।

জনস্বার্থ রক্ষা: জনগণের কল্যাণে নীতি প্রণয়ন।

৯. বিশেষ ক্ষমতা

জরুরি অবস্থা অনুমোদন: রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ঘোষিত জরুরি অবস্থা অনুমোদন।

সন্ধি অনুমোদন: আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সন্ধি অনুমোদন।

১০. গঠনমূলক কার্যাবলী

নীতি নির্ধারণ: জাতীয় নীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণ।

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদন ও পর্যালোচনা।

সংসদের কার্যপ্রণালী

অধিবেশন: বছরে কমপক্ষে দুটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

কোরাম: সাধারণ কাজের জন্য ৬০ জন এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য ২০০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।

ভোটাভুটি: সাধারণ বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট এবং বিশেষ বিষয়ে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা হিসেবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বজায় রাখতে এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


### **জাতীয় সংসদের গঠন (Structure of the National Parliament)**  

বাংলাদেশের **জাতীয় সংসদ** একটি **এককক্ষবিশিষ্ট (Unicameral)** আইনসভা, যা **সংসদ ভবন (House of the Nation)** নামে পরিচিত। এর গঠন নিম্নরূপ:  


#### **১. সদস্য সংখ্যা ও নির্বাচন পদ্ধতি**  

- **৩০০টি আসন**: প্রতিটি আসনে **প্রত্যক্ষ ভোটে** জনগণ সাংসদ নির্বাচন করেন।  

- **৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন**: সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির জন্য **আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব** পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন (মোট সদস্য সংখ্যা **৩৫০**)।  


#### **২. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার**  

- **স্পিকার**: সংসদের প্রধান, যিনি সভা পরিচালনা করেন।  

- **ডেপুটি স্পিকার**: স্পিকারের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন।  


#### **৩. সংসদীয় কমিটিসমূহ**  

বিভিন্ন বিষয়ের উপর **স্থায়ী কমিটি** (যেমন: অর্থ, আইন, পররাষ্ট্র) এবং **অস্থায়ী কমিটি** গঠিত হয়।  


---


### **জাতীয় সংসদের কার্যাবলী (Functions of the National Parliament)**  


#### **১. আইন প্রণয়ন (Legislative Function)**  

- **সাধারণ আইন**: সংবিধানের সীমার মধ্যে নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরনো আইন সংশোধন।  

- **অর্থবিল**: বাজেট ও কর সংক্রান্ত আইন পাস করা।  


#### **২. নির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ (Executive Control)**  

- **প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ** সংসদের কাছে **দায়বদ্ধ**।  

- **অবিশ্বাস ভোট (No-Confidence Motion)**: সংসদ প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের অপসারণ করতে পারে।  

- **প্রশ্নোত্তর সেশন**: সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে মন্ত্রীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।  


#### **৩. সংবিধান সংশোধন (Constitutional Amendment)**  

- **দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে** সংবিধান সংশোধন করা যায় (অনুচ্ছেদ ১৪২)।  


#### **৪. বাজেট অনুমোদন (Budget Approval)**  

- সরকারের **বার্ষিক বাজেট (Annual Financial Statement)** সংসদে উপস্থাপন ও অনুমোদন করা হয়।  


#### **৫. জনগণের প্রতিনিধিত্ব (Representation of People)**  

- সংসদ সদস্যরা তাদের **নির্বাচনী এলাকার জনগণের সমস্যা** সংসদে উত্থাপন করেন।  


#### **৬. বিচারবিভাগীয় ভূমিকা (Judicial Role)**  

- **রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিশংসন (Impeachment)** প্রস্তাব করতে পারে।  


#### **৭. জরুরি অবস্থা ঘোষণায় ভূমিকা (Emergency Power)**  

- সংসদের **অনুমোদন ছাড়া** জরুরি অবস্থা **১২০ দিনের বেশি** বলবৎ থাকে না (অনুচ্ছেদ ১৪১)।  


---


### **সংসদের বিশেষ ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা**  

✅ **অধ্যাদেশ জারির অনুমোদন**: রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।  

❌ **স্বাধীন বিচারবিভাগে হস্তক্ষেপ করতে পারে না** (সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২ ও ১০৯)।  


---


### **সারসংক্ষেপ**  

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ **আইন প্রণয়ন, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, বাজেট পাস এবং সংবিধান সংশোধন**-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এটি **৩০০ নির্বাচিত ও ৫০ সংরক্ষিত আসন** নিয়ে গঠিত এবং **সংসদীয় গণতন্ত্রের** কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে।


🏛️ জাতীয় সংসদের গঠন ও কার্যাবলী (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এটি একটি এককক্ষবিশিষ্ট (unicameral) সংসদ, যা সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি।


🔷 জাতীয় সংসদের গঠন

১. আসনের সংখ্যা

  • জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি আসন রয়েছে।

    • ৩০০টি সাধারণ আসন — সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত।

    • ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন — সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত (আনুপাতিক হারে)।

২. যোগ্যতা (সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ)

জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার জন্য প্রার্থীর:

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

  • বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

  • মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।

  • দেউলিয়া, দুর্নীতিগ্রস্ত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত না হওয়া উচিত।

৩. মেয়াদ

  • সংসদের মেয়াদ: ৫ বছর (সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী)।

  • তবে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে তা ভেঙে দিতে পারেন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।

৪. সভাপতি ও উপ-সভাপতি (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার)

  • সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকারডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।

  • স্পিকার সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।


🔷 জাতীয় সংসদের কার্যাবলী

১. আইন প্রণয়ন

  • সংসদের প্রধান দায়িত্ব হলো আইন প্রণয়ন করা।

  • কোনো বিল উত্থাপন হলে তা আলোচনা, যাচাই ও পাস করে আইন আকারে গৃহীত হয়।

২. অর্থ সংক্রান্ত কার্যাবলী

  • বাজেট পেশ ও অনুমোদন সংসদের মাধ্যমে হয়।

  • কোনো অর্থ বিল সংসদের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর হয় না।

৩. সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ

  • প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

  • মন্ত্রিসভাও সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই গঠিত হয়।

  • সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারকে অপসারণ করা সম্ভব।

৪. প্রশাসনিক তদারকি

  • সংসদ সদস্যরা প্রশ্নোত্তর, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেন।

৫. মৌলিক অধিকার রক্ষার ভূমিকা

  • সংসদ আইন প্রণয়ন ও তদারকির মাধ্যমে নাগরিক অধিকার রক্ষা করে।

৬. বিশেষ অধিবেশন ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা

  • রাষ্ট্রপতি জরুরি পরিস্থিতিতে সংসদের পরামর্শ নিতে পারেন।

  • সংসদ জরুরি অবস্থার অনুমোদন বা প্রত্যাহার করতে পারে।


🔷 জাতীয় সংসদের বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্য বিবরণ
ধরণ এককক্ষবিশিষ্ট (Unicameral)
আসন সংখ্যা ৩৫০ (৩০০+৫০ সংরক্ষিত নারী আসন)
মেয়াদ ৫ বছর
অধিবেশন সংখ্যা বছরে অন্তত ৩টি অধিবেশন
ভাষা সংসদীয় ভাষা — বাংলা
অধিবেশন আহ্বান রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে
আইন কার্যকর হয় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর

🔚 উপসংহার

জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। এটি আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সরকার গঠন, বাজেট পাস, প্রশাসনিক তদারকি এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।



বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। এটি দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় সংসদের গঠন

বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এই ৩৫০ জন সদস্যকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১. প্রত্যক্ষ নির্বাচিত সদস্য (৩০০ জন): বাংলাদেশের ৩০০টি একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচিত সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন।

  1. সংরক্ষিত মহিলা আসন (৫০ জন): নারী সদস্যদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এই ৫০ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না, বরং ৩০০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ভোটে (পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে) নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যার অনুপাতে এই সংরক্ষিত আসনগুলো পেয়ে থাকে। তবে, সংরক্ষিত আসন ছাড়াও নারীরা সাধারণ ৩০০ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

জাতীয় সংসদের মেয়াদ: জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। এই মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে, রাষ্ট্রপতির বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন। যুদ্ধাবস্থায় সংসদের মেয়াদ অনধিক এক বছর বর্ধিত করা যেতে পারে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার: সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে তাদের ভোটে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। স্পিকার সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করেন এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কাজ করেন। ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালন করেন।

সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা:

  • যোগ্যতা: বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স হতে হবে।

  • অযোগ্যতা: ঋণ খেলাপি, অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার, দ্বৈত নাগরিকত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হন।

জাতীয় সংসদের কার্যাবলী

জাতীয় সংসদ কেবলমাত্র আইন প্রণয়নের কেন্দ্রস্থল নয়, এটি সরকারের জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় সংসদের প্রধান কার্যাবলী নিম্নরূপ:

১. আইন প্রণয়ন ক্ষমতা: এটি সংসদের প্রধান ও মৌলিক কাজ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত। সংসদ যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারে এবং প্রচলিত আইন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করতে পারে। কোনো বিল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে গৃহীত হওয়ার পর এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর আইনে পরিণত হয়।

২. সরকার গঠন বিষয়ক ক্ষমতা: সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় সরকার গঠনে সংসদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীই প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদের আস্থা হারালে সরকারের পতন হয়।

৩. অর্থ-সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রের অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তার ওপর সংসদ নিয়ন্ত্রণ রাখে। সংসদের অনুমোদন ও কর্তৃত্ব ব্যতীত কোনো প্রকার ব্যয় করা যায় না। আবার কোনো কর আরোপ বা কর সংগ্রহ করতেও সংসদের অনুমতি নিতে হয়। প্রতি অর্থ বছরে সরকার সংসদে বাজেট উপস্থাপন করে এবং সংসদ অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী সরকারকে চলতে হয়। রাষ্ট্রীয় ও সরকারি সকল ব্যয় সংসদের সম্মতির ভিত্তিতে করতে হয়।

৪. শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ: জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগ তথা মন্ত্রিসভাকে নিয়ন্ত্রণ করে। মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে। সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে শাসন বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

৫. বিচার বিষয়ক ক্ষমতা: সংসদ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে (পদচ্যুত করতে পারে)। সংবিধান লঙ্ঘন, গুরুতর অপরাধ, দৈহিক ও মানসিক অসুস্থতা বা অক্ষমতার জন্য সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারে। প্রয়োজনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও ন্যায়পালকে অপসারণ করার ক্ষমতাও সংসদের রয়েছে।

৬. নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ: জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ইত্যাদি পদের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও সংসদের বিভিন্ন কমিটি নির্বাচন করার ক্ষমতাও সংসদের রয়েছে।

৭. সংবিধান সংরক্ষণ ও সংশোধন: সংবিধানের আমানতদার হিসেবে সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী সংসদে উত্থাপিত ও গৃহীত হয়। সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।

৮. অন্যান্য ক্ষমতা:

* সামরিক সংক্রান্ত ক্ষমতা: প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের সংরক্ষণ এবং এগুলোতে লোক ভর্তি ও কমিশন মঞ্জুরী ইত্যাদি বিষয় সংসদের আইনের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। সংসদের সম্মতি ছাড়া কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করা যায় না বা দেশ কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে না।

* তদন্ত করার ক্ষমতা: সংসদ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করার, সাক্ষী তলব করার এবং রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করার ক্ষমতা রাখে।

* বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি: সংসদ সদস্যগণ সংসদে তাদের বক্তব্য ও কাজের জন্য বিচার বিভাগকে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।

জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রাণকেন্দ্র এবং এটি দেশের আইন প্রণয়ন, শাসনকার্য তদারকি এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।


জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা এবং এর সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন। এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং বাকি ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত, যারা নির্বাচিত ৩০০ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন, সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা, এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

গঠন:

জাতীয় সংসদ একটি এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।

মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন।

৩০০ জন সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

৫০ জন নারী সদস্য ৩০০ জন নির্বাচিত সদস্যের ভোটে (পরোক্ষ নির্বাচন) নির্বাচিত হন।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পরোক্ষভাবে হয়ে থাকে। 

কার্যাবলী:

আইন প্রণয়ন:

জাতীয় সংসদ দেশের আইন প্রণয়ন করে থাকে। 

সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ:

সংসদ বিভিন্ন প্রস্তাব, যেমন মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব এবং প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। 

普通の討論:

সংসদের সাধারণ আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয় এবং সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে। 

অর্থনৈতিক কার্যক্রম:

বাজেট অনুমোদন এবং সরকারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের উপর নজরদারি করে। 

নির্বাচন পরিচালনা:

সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের বিভিন্ন কমিটি গঠিত হয়। 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:

সংসদ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদে স্বাক্ষর করে। 

জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ:

জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে এবং জনকল্যাণমুখী আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

এছাড়াও, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ইত্যাদি পদের নির্বাচন পরিচালনা করে। সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষমতাও সংসদের রয়েছে। 





জাতীয় সংসদ কিভাবে আইন প্রণয়ন করে: আইনি প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, যা সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত। প্রধান ধাপগুলো হলো:

  1. বিল উত্থাপন

    • আইন প্রণয়নের জন্য প্রথমে একটি প্রস্তাব বিল আকারে সংসদে উত্থাপিত হয়।

    • সরকারি বিল হলে এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর মাধ্যমে এবং বেসরকারি বিল হলে কোনো সংসদ সদস্যের মাধ্যমে উত্থাপিত হতে পারে।

    • সরকারি বিলের জন্য সাধারণত ৭ দিনের নোটিশ প্রদান করা হয়, আর বেসরকারি বিলের জন্য স্পীকারের কাছে ১৫ দিনের নোটিশ দিতে হয়1234

  2. প্রথম পাঠ (First Reading)

    • বিল সংসদে আনলেই এর প্রথম পাঠ হয়, যেখানে বিলের সারাংশ সংসদ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

    • এই পর্যায়ে সাধারণত বিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয় না23

  3. দ্বিতীয় পাঠ (Second Reading)

    • বিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্ক হয়।

    • সংসদ সদস্যরা বিলের বিভিন্ন ধারার পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত দেন।

    • বিলটি স্থায়ী কমিটি বা বাছাই কমিটিতে পাঠিয়ে আরও বিশ্লেষণ ও জনমত সংগ্রহ করা যেতে পারে।

    • কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন করা হয় এবং বিল সংশোধিত হতে পারে23

  4. তৃতীয় পাঠ (Third Reading)

    • বিলের চূড়ান্ত পাঠ যেখানে ভোটাভুটি হয়।

    • বিল পাসের জন্য উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট প্রয়োজন।

    • বিল পাস হলে স্পীকার বিলটিতে স্বাক্ষর করেন1234

  5. রাষ্ট্রপতির সম্মতি

    • সংসদে গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।

    • রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনের মধ্যে বিল অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেন।

    • রাষ্ট্রপতি বিল প্রত্যাখ্যান করলে সংসদ বিল পুনর্বিবেচনা করে সংশোধনীসহ বা ব্যতিরেকে পুনরায় পাঠাতে পারে।

    • পুনরায় পাঠানোর ৭ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে বিল আইন হিসেবে গেজেটে প্রকাশিত হয়।

    • রাষ্ট্রপতির সম্মতি ব্যতীত কোনো বিল আইন হিসেবে কার্যকর হয় না1254

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিল আইনে পরিণত হয় এবং দেশের আইন হিসেবে কার্যকর হয়। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াটি গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুসারে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত12534

  1. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%A8
  2. https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%A8
  3. https://robyul.blogspot.com/2020/06/practice-blog.html
  4. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/chapter-details-1447.html
  5. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-30072.html
  6. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC_%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6%E0%A7%87_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%80%E0%A6%A4_%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE
  7. https://allnubooks.com/biofol/241913x10x9.pdf
  8. http://www.ebookbou.edu.bd/Books/Text/OS/BBS/bbs_1504/Unit-09.pdf
  9. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/act-chapter-print-1447.html
  10. https://www.youtube.com/watch?v=KyHFUDKCeO8

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া

বিল প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়

১. বিল উৎপত্তি

  • সরকারি বিল: মন্ত্রণালয় থেকে উদ্ভূত
  • বেসরকারি সদস্যের বিল: সংসদ সদস্যদের দ্বারা উত্থাপিত
  • সাধারণত আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে খসড়া প্রস্তুত করা হয়

২. বিল প্রস্তুতি

  • বিষয়বস্তু নির্ধারণ
  • আইনি যাচাই
  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন
  • মন্ত্রিসভার অনুমোদন (সরকারি বিলের ক্ষেত্রে)

আইন প্রণয়নের ধাপসমূহ

ধাপ ১: বিল উত্থাপন (Introduction of Bill)

বিল উত্থাপনের নিয়ম:

  • সংসদের যেকোনো সদস্য বিল উত্থাপন করতে পারেন
  • স্পিকারের অনুমতি নিতে হয়
  • বিলের শিরোনাম পাঠ করা হয়
  • বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংক্ষেপে বর্ণনা

বিলের প্রকার:

  • সরকারি বিল (Government Bill)
  • বেসরকারি সদস্যের বিল (Private Member's Bill)
  • অর্থ বিল (Money Bill)
  • সংবিধান সংশোধনী বিল (Constitutional Amendment Bill)

ধাপ ২: প্রথম পাঠ (First Reading)

প্রক্রিয়া:

  • বিলের শিরোনাম পাঠ করা হয়
  • বিলের মূল উদ্দেশ্য উপস্থাপন
  • সাধারণত কোনো আলোচনা হয় না
  • বিল গ্রহণ বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • প্রথম পাঠে বিলের বিরোধিতা করা যায়
  • স্পিকার বিলের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করেন

ধাপ ৩: দ্বিতীয় পাঠ (Second Reading)

সাধারণ আলোচনা:

  • বিলের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা
  • বিল উত্থাপনকারী বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন
  • সংসদ সদস্যরা মতামত প্রকাশ করেন
  • সাধারণ সমর্থন বা বিরোধিতা নির্ধারণ

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ:

  • প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়
  • কমিটি বিস্তারিত পরীক্ষা করে
  • কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন

ধাপ ৪: বিস্তারিত আলোচনা (Clause by Clause Discussion)

ধারাওয়ার আলোচনা:

  • বিলের প্রতিটি ধারা আলাদাভাবে আলোচনা
  • সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন
  • প্রতিটি ধারার উপর ভোটাভুটি
  • প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংযোজন

সংশোধনী প্রক্রিয়া:

  • যেকোনো সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব করতে পারেন
  • সংশোধনী প্রস্তাবের উপর আলোচনা
  • ভোটাভুটির মাধ্যমে সংশোধনী গ্রহণ বা বাতিল

ধাপ ৫: তৃতীয় পাঠ (Third Reading)

চূড়ান্ত অনুমোদন:

  • সংশোধিত বিলের চূড়ান্ত রূপ উপস্থাপন
  • সাধারণত কোনো নতুন সংশোধনী আনা যায় না
  • শুধুমাত্র ভাষাগত বা প্রযুক্তিগত সংশোধন
  • চূড়ান্ত ভোটাভুটি

গৃহীত হওয়ার শর্ত:

  • উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট
  • বিশেষ বিলের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট
  • কোরাম পূর্ণ থাকতে হবে

ধাপ ৬: রাষ্ট্রপতির সম্মতি (Presidential Assent)

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ:

  • সংসদে পাস হওয়ার পর বিল রাষ্ট্রপতির কাছে যায়
  • রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেন
  • সম্মতি দান বা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠান

রাষ্ট্রপতির বিকল্প:

  • সম্মতি প্রদান (বিল আইনে পরিণত হয়)
  • পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো
  • কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে ১৫ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মতি

ধাপ ৭: আইনে পরিণত হওয়া ও প্রকাশ

আইনে পরিণত:

  • রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বিল আইনে পরিণত হয়
  • আইনে একটি নম্বর ও তারিখ দেওয়া হয়
  • সরকারি গেজেটে প্রকাশ

কার্যকর হওয়া:

  • গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে কার্যকর
  • আইনে অন্য তারিখ উল্লেখ থাকলে সেই অনুযায়ী

বিশেষ ধরনের বিল

অর্থ বিল (Money Bill)

বৈশিষ্ট্য:

  • কর আরোপ, সংশোধন বা রহিতকরণ
  • সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন
  • ঋণ গ্রহণ বা প্রদান
  • শুধুমাত্র মন্ত্রীরা উত্থাপন করতে পারেন

বিশেষ প্রক্রিয়া:

  • স্পিকার অর্থ বিল সার্টিফিকেট প্রদান
  • রাষ্ট্রপতির পূর্ব অনুমতি প্রয়োজন
  • দ্রুত পাসের ব্যবস্থা

সংবিধান সংশোধনী বিল

বিশেষ শর্ত:

  • দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন
  • কমপক্ষে ২০০ সদস্যের উপস্থিতি
  • কিছু ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন

আইন প্রণয়নে সময়সীমা

সাধারণ বিল: নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই জরুরি বিল: একই দিনে তিনটি পাঠ সম্পন্ন করা যায় অর্থ বিল: দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ

সংসদীয় কমিটির ভূমিকা

স্থায়ী কমিটি:

  • বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা
  • বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ
  • সুপারিশ প্রদান

নির্বাচিত কমিটি:

  • নির্দিষ্ট বিল পরীক্ষার জন্য গঠিত
  • বিস্তারিত অধ্যয়ন ও রিপোর্ট

প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিক

স্বচ্ছতা: সকল আলোচনা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত জবাবদিহিতা: প্রতিটি পদক্ষেপে সংসদের অনুমোদন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া: বিরোধী মতের স্থান সংবিধান সম্মত: সংবিধানের বিপরীত কোনো আইন প্রণয়ন করা যায় না

এই সুদীর্ঘ ও বিস্তারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন করে এবং এর ফলে আইনের গুণগত মান ও গণতান্ত্রিক বৈধতা নিশ্চিত হয়।


### **জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া (Legislative Process in Bangladesh)**  


বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে **আইন প্রণয়ন** একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যার প্রধান ধাপগুলো নিম্নরূপ:  


---


## **১. বিল উত্থাপন (Introduction of Bill)**  

- **সরকারি বিল (Government Bill):** মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দ্বারা উত্থাপিত।  

- **প্রাইভেট বিল (Private Member’s Bill):** কোনো সংসদ সদস্য (সাধারণত বিরোধী দলের সদস্য) কর্তৃক উত্থাপিত।  

- **অর্থবিল (Money Bill):** শুধুমাত্র সরকার উত্থাপন করতে পারে (অনুচ্ছেদ ৮১)।  


---


## **২. বিলের প্রথম পাঠ (First Reading)**  

- বিলের শিরোনাম পড়ে শোনানো হয় এবং **সংসদে গৃহীত হওয়ার জন্য প্রস্তাব** করা হয়।  

- এ পর্যায়ে সাধারণত **বিতর্ক হয় না**, শুধু প্রাথমিক অনুমোদন নেওয়া হয়।  


---


## **৩. বিলের দ্বিতীয় পাঠ (Second Reading)**  

- বিলের **বিস্তারিত আলোচনা** হয়, ধারা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়।  

- সংশোধনী প্রস্তাব আনা যায়, এবং ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  


---


## **৪. কমিটিতে প্রেরণ (Committee Stage)**  

- বিলটি **সংসদীয় স্থায়ী কমিটি** বা **বিশেষ কমিটিতে** পাঠানো হয়।  

- কমিটি **জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত** নিয়ে বিল পর্যালোচনা করে এবং রিপোর্ট তৈরি করে।  


---


## **৫. বিলের তৃতীয় পাঠ (Third Reading)**  

- কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী বিলের **চূড়ান্ত সংশোধনী** আলোচনা হয়।  

- **চূড়ান্ত ভোট** গ্রহণের মাধ্যমে বিল পাস হয়।  


---


## **৬. রাষ্ট্রপতির সম্মতি (President’s Assent)**  

- সংসদে পাস হওয়ার পর বিল **রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের** জন্য প্রেরণ করা হয়।  

- রাষ্ট্রপতি **৭ দিনের মধ্যে** সম্মতি দিলে তা আইনে পরিণত হয় (অনুচ্ছেদ ৮০)।  

- **রাষ্ট্রপতি ভেটো দিলে** (বিরল ক্ষেত্রে) সংসদ পুনরায় **দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে** বিল পাস করতে পারে।  


---


## **৭. গেজেট প্রকাশ ও আইনে পরিণত (Gazette Notification)**  

- রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর **বাংলাদেশ গেজেটে** প্রকাশিত হয় এবং **আইন হিসেবে কার্যকর** হয়।  


---


### **বিশেষ ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রক্রিয়া**  

1. **অর্থবিল (Money Bill):**  

   - শুধুমাত্র জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা যায় (অনুচ্ছেদ ৮১)।  

   - রাষ্ট্রপতি **বাধ্যতামূলকভাবে সম্মতি** দেন (ভেটো দিতে পারেন না)।  


2. **সংবিধান সংশোধনী বিল:**  

   - **দুই-তৃতীয়াংশ ভোট** প্রয়োজন (অনুচ্ছেদ ১৪২)।  

   - কিছু মৌলিক নীতি পরিবর্তনে **জনভোট** লাগতে পারে।  

### **সারসংক্ষেপ**  

বাংলাদেশে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি **বিল উত্থাপন → তিনটি পাঠ → কমিটি পর্যালোচনা → রাষ্ট্রপতির সম্মতি → গেজেট প্রকাশ**—এই ধাপগুলো অনুসরণ করে। সরকারি ও প্রাইভেট বিলের প্রক্রিয়া প্রায় একই, তবে **অর্থবিল ও সংবিধান সংশোধনীর জন্য বিশেষ নিয়ম** প্রযোজ্য।


জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন একটি ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একটি প্রস্তাবিত আইন (বিল) সংসদে উত্থাপন থেকে শুরু করে তা কার্যকর হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি ধাপে পাস হয়। নিচে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আইন প্রণয়নের ধাপগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:


🔷 জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের ধাপসমূহ

✅ ১. বিল প্রস্তুতকরণ

  • আইন প্রণয়নের প্রথম ধাপে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সদস্য প্রস্তাবিত আইন বা বিধানের খসড়া প্রস্তুত করে।

  • এটি হতে পারে:

    • সরকারি বিল (সরকারের মন্ত্রী দ্বারা উত্থাপিত)

    • ব্যক্তিগত বিল (সাধারণ সংসদ সদস্য কর্তৃক উত্থাপিত)


✅ ২. প্রথম পাঠ বা উত্থাপন (First Reading)

  • সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হয়। এটি শুধু "নামপাঠ" বা "শিরোনাম পাঠ" মাত্র।

  • কোনো আলোচনা হয় না, শুধু সংসদে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়।

  • এরপর বিলটি সাধারণত স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হয়।


✅ ৩. কমিটিতে পাঠানো ও পরীক্ষা (Committee Stage)

  • সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি (Standing Committee) বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।

  • প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ, জনমত বা অন্য উৎস থেকেও মতামত নেওয়া হয়।

  • কমিটি বিলের পরিমার্জন/সংশোধনের সুপারিশসহ সংসদে প্রতিবেদন দেয়।


✅ ৪. দ্বিতীয় পাঠ বা বিস্তারিত আলোচনা (Second Reading)

  • সংসদে বিলের ধারা অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • সংসদ সদস্যরা প্রতিটি ধারা নিয়ে আলোচনা ও সংশোধনের প্রস্তাব দিতে পারেন।

  • ভোটাভুটির মাধ্যমে সংশোধন গৃহীত বা বাতিল করা হয়।


✅ ৫. তৃতীয় পাঠ বা চূড়ান্ত পাস (Third Reading)

  • বিলের সম্পূর্ণ রূপ সংসদে চূড়ান্তভাবে পাঠ করা হয়।

  • এরপর সংসদে ভোট নিয়ে বিলটি গৃহীত/বাতিল করা হয়।


✅ ৬. রাষ্ট্রপতির সম্মতি (Presidential Assent)

  • সংসদে পাস হওয়ার পর বিলটি রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠানো হয়

  • রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর দিলে তা আইন হিসেবে গণ্য হয়।

📌 রাষ্ট্রপতি চাইলে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন, তবে সংসদ দ্বিতীয়বার তা পাস করলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি বাধ্যতামূলক।


✅ ৭. গেজেটে প্রকাশ ও কার্যকারিতা

  • রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বিলটি গেজেটে প্রকাশিত হয়

  • প্রকাশের তারিখ থেকেই অথবা নির্ধারিত তারিখ থেকে আইনটি কার্যকর হয়।


📝 সংক্ষেপে ধাপগুলো (Table Format):

ধাপ বিবরণ
বিল প্রস্তুতকরণ
প্রথম পাঠ (উত্থাপন)
কমিটিতে পাঠানো ও পরীক্ষা
দ্বিতীয় পাঠ (আলোচনা ও সংশোধন)
তৃতীয় পাঠ (ভোট ও পাস)
রাষ্ট্রপতির সম্মতি
গেজেটে প্রকাশ ও কার্যকারিতা

🔚 উপসংহার:

জাতীয় সংসদের আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি সংবিধান অনুযায়ী সুগঠিত ও পর্যায়ক্রমিক। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।



জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। একটি নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইনে সংশোধনী আনার প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট আইনি ধাপ অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াকে সাধারণত 'বিল থেকে আইনে পরিণত হওয়া' বলা হয়।

আইন প্রণয়নের আইনি প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ

আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াকে প্রধানত কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়:

১. বিল উত্থাপন (Introduction of Bill):

  • আইন প্রণয়নের প্রথম ধাপ হলো একটি 'বিল' (Bill) উত্থাপন। বিল হলো আইনের একটি প্রস্তাবিত খসড়া।

  • বিল সাধারণত কোনো মন্ত্রী (সরকারি বিল) অথবা সংসদ সদস্য (বেসরকারি বিল) কর্তৃক সংসদে উত্থাপিত হয়।

  • সরকারি বিল: এটিই সবচেয়ে সাধারণ প্রকারের বিল। সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় আইনের খসড়া তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা সংসদে উত্থাপনের জন্য আইনমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • বেসরকারি বিল: কোনো বেসরকারি সদস্য (মন্ত্রী নন এমন সংসদ সদস্য) যদি কোনো বিল উত্থাপন করতে চান, তবে তাকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিতে হয়। সাধারণত, বেসরকারি বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

২. প্রথম পাঠ (First Reading):

  • বিল উত্থাপনের অনুমতি পাওয়ার পর, স্পিকারের নির্দেশক্রমে বিলের শিরোনাম সংসদে পাঠ করা হয়। এটিই 'প্রথম পাঠ' হিসেবে পরিচিত। এই ধাপে বিলের বিষয়বস্তু নিয়ে সাধারণত কোনো আলোচনা হয় না।

  • প্রথম পাঠের পর বিলটি সাধারণত সরকারি গেজেটে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়, যাতে জনসম্মুখে এটি পরিচিত হয়।

৩. দ্বিতীয় পাঠ (Second Reading):

  • প্রথম পাঠের পর একটি নির্দিষ্ট সময় বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পাঠ শুরু হয়। এটি বিল প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপে বিলের মূলনীতি ও ধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • দ্বিতীয় পাঠকে তিনটি উপ-ধাপে ভাগ করা যায়:

    • ক) বিলের মূলনীতি সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা: এই উপ-ধাপে বিলের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং এর মূলনীতি নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যরা বিলের স্বপক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

    • খ) কমিটিতে প্রেরণ (Commitment Stage): সাধারণ আলোচনার পর সংসদ যদি মনে করে বিলটি আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন, তাহলে তা একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বা একটি বিশেষ কমিটিতে (Select Committee) প্রেরণ করা হয়। কমিটি বিলের প্রতিটি ধারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব করে। কমিটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের রিপোর্ট সংসদে জমা দেয়। কমিটি যদি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না করে, তাহলে সরাসরি পরের ধাপে যাওয়া হয়।

    • গ) ধারাওয়ারী আলোচনা (Clause-by-Clause Discussion): কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের পর অথবা যদি বিল কমিটিতে না যায়, তাহলে সরাসরি এই ধাপে বিলের প্রতিটি ধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যরা প্রতিটি ধারার ওপর সংশোধনী প্রস্তাব (Amendment Proposal) উত্থাপন করতে পারেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে সংশোধনীগুলো গৃহীত বা বাতিল হয়। এই ধাপে বিলের চূড়ান্ত রূপ অনেকটাই নির্ধারিত হয়।

৪. তৃতীয় পাঠ (Third Reading):

  • দ্বিতীয় পাঠ শেষে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্ত করার পর বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য 'তৃতীয় পাঠে' আসে।

  • এই ধাপে বিলের সামগ্রিক রূপ নিয়ে আলোচনা হয়, তবে কোনো নতুন সংশোধনী প্রস্তাব সাধারণত উত্থাপিত হয় না। শুধুমাত্র বিলটি পাস করা হবে কি হবে না, সে বিষয়ে আলোচনা ও ভোট গ্রহণ করা হয়।

  • সংসদের উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিলটি গৃহীত হলে তা পাস হয়েছে বলে গণ্য হয়।

৫. রাষ্ট্রপতির সম্মতি (Assent of the President):

  • জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর বিলটি রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়।

  • সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোনো বিল পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাতে সম্মতি দেবেন অথবা কিছু সংশোধনীসহ সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন।

  • যদি রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত পাঠান, তবে সংসদ সে বিষয়ে পুনরায় বিবেচনা করে সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ছাড়াই পুনরায় পাস করতে পারে।

  • সংসদ যদি পুনরায় বিলটি পাস করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠায়, তবে রাষ্ট্রপতিকে ৭ দিনের মধ্যে তাতে সম্মতি দিতেই হবে। যদি ৭ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সম্মতি না দেন, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে তিনি সম্মতি দিয়েছেন এবং বিলটি আইনে পরিণত হবে।

  • রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পরই একটি বিল পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়।

৬. গেজেটে প্রকাশ (Gazette Notification):

  • রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর, আইনটি সরকারি গেজেটে (Bangladesh Gazette) প্রকাশিত হয়। গেজেটে প্রকাশের পরই আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। সাধারণত, গেজেটে প্রকাশের তারিখ থেকেই আইনটি কার্যকর হয়, তবে আইনে ভিন্ন কোনো কার্যকরের তারিখও উল্লেখ থাকতে পারে।

এই সুনির্দিষ্ট ধাপগুলো অনুসরণ করেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন করে, যা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের শাসনকার্য পরিচালনায় সহায়তা করে।


জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন করে কয়েকটি ধাপে। প্রথমে, একটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। এরপর, বিলটি সংসদে তিনটি পাঠের মাধ্যমে যায় এবং বিতর্ক ও আলোচনার পর ভোট হয়। বিলটি পাস হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়, এবং তার স্বাক্ষরের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়ে আইনে পরিণত হয়। 

আইন প্রণয়নের ধাপগুলো হলো:

1. বিল উত্থাপন:

সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়, যা একটি প্রস্তাবিত আইন। 

2. খসড়া তৈরি:

বিলের একটি খসড়া তৈরি করা হয়, যেখানে আইনের বিস্তারিত বিষয় উল্লেখ থাকে। 

3. প্রথম পাঠ:

বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর প্রথম পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বিলের সাধারণ আলোচনা ও নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। 

4. কমিটিতে প্রেরণ:

প্রথম পাঠের পর বিলটি প্রয়োজন হলে একটি নির্দিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সংসদে ফেরত পাঠায়। 

5. দ্বিতীয় পাঠ:

কমিটিতে পরীক্ষার পর বিলটির বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্ক হয়। এখানে সংশোধনী প্রস্তাব আনা যেতে পারে। 

6. তৃতীয় পাঠ:

এই ধাপে বিলের চূড়ান্ত আলোচনা ও বিতর্ক হয়। এরপর বিলের ওপর ভোট গ্রহণ করা হয়। 

7. পাস:

যদি বিলটি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হয়, তবে তা আইন প্রণয়নের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত হয়। 

8. রাষ্ট্রপতির অনুমোদন:

পাস হওয়া বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি বিলে সম্মতি দিলে, তা আইনে পরিণত হয়। 

9. প্রকাশনা:

সম্মতি লাভের পর বিলটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয় এবং একটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়।


 

জাতীয় সংসদে বাজেট তৈরির ধাপসমূহ

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়া সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:

  1. বাজেট প্রস্তাবনা প্রস্তুতি

    • অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরি করে।

    • বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বাজেট চাহিদা অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।

    • অর্থ মন্ত্রণালয় এই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট খসড়া তৈরি করে।

  2. বাজেট সংসদে উপস্থাপন

    • প্রধানমন্ত্রী বা অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতা করেন, যেখানে বাজেটের মূল দিকনির্দেশনা ও নীতিমালা উপস্থাপন করা হয়।

    • এটি সাধারণত প্রতি বছর ১ জুলাই বাজেট অধিবেশনে করা হয়।

  3. বাজেট আলোচনা

    • সংসদ সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করেন।

    • বাজেটের রাজস্ব ও ব্যয়ের বিভিন্ন ধারা নিয়ে প্রশ্ন ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।

  4. বাজেট সংশোধনী ও অনুমোদন

    • প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন ও অনুমোদিত হতে পারে।

    • বাজেটের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয় এবং বাজেট গৃহীত হয়।

  5. বাজেট বাস্তবায়ন ও তদারকি

    • গৃহীত বাজেট অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় শুরু হয়।

    • সংসদ বাজেটের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে তদারকি করে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সরকারি ব্যয়ের জন্য বাজেট নির্ধারণ করে এবং সরকারের আর্থিক নীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করে26.

  1. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC_%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE
  2. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC_%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6
  3. https://www.parliament.gov.bd
  4. https://parliament.portal.gov.bd
  5. https://www.dhaka.gov.bd/en/site/tourist_spot/uajl-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6-%E0%A6%AD%E0%A6%AC%E0%A6%A8
  6. https://bangladesh.gov.bd/site/page/da45a2fe-7572-4c2f-9de3-e9b7b433901c/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6
  7. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC_%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A6_%E0%A6%AD%E0%A6%AC%E0%A6%A8
  8. https://www.parliament.gov.bd/session-information

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া

বাজেট কী?

বাজেট হলো সরকারের আগামী অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের পূর্বাভাস ও পরিকল্পনা। এটি সরকারের আর্থিক নীতির মূল দলিল এবং দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা।

বাজেট প্রণয়নের প্রাক-পর্যায়

১. প্রাথমিক প্রস্তুতি (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি)

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা:

  • বাজেট প্রণয়নের সময়সূচি প্রস্তুত
  • সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বাজেট সার্কুলার প্রেরণ
  • পূর্ববর্তী বছরের ব্যয় পর্যালোচনা
  • অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন

প্রাথমিক দিকনির্দেশনা:

  • মোট বাজেটের আকার নির্ধারণ
  • অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ
  • রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
  • ঋণ গ্রহণের সীমা নির্ধারণ

২. মন্ত্রণালয়ভিত্তিক প্রস্তুতি (ফেব্রুয়ারি-মার্চ)

বিভাগীয় বাজেট প্রস্তুতি:

  • প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব বাজেট প্রস্তাব তৈরি
  • উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয়ের পৃথক হিসাব
  • প্রকল্পভিত্তিক ব্যয় নির্ধারণ
  • পূর্ববর্তী বছরের তুলনামূলক বিশ্লেষণ

সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত:

  • পরিকল্পনা কমিশনের সাথে আলোচনা
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ
  • পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য সংগ্রহ

বাজেট প্রণয়নের মূল ধাপসমূহ

ধাপ ১: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (NEC) অনুমোদন

এনইসি-তে উপস্থাপনা:

  • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি বৈঠক
  • বাজেটের মূল কাঠামো উপস্থাপন
  • উন্নয়ন বাজেটের অনুমোদন
  • বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) চূড়ান্তকরণ

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত:

  • মোট বাজেটের আকার অনুমোদন
  • অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ
  • বড় প্রকল্পের অনুমোদন

ধাপ ২: মন্ত্রিসভার অনুমোদন

মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনা:

  • অর্থমন্ত্রী কর্তৃক বাজেট উপস্থাপন
  • সকল মন্ত্রীর মতামত গ্রহণ
  • প্রয়োজনীয় সংশোধনী গ্রহণ
  • চূড়ান্ত অনুমোদন

ধাপ ৩: সংসদে বাজেট উপস্থাপনা

বাজেট বক্তৃতা:

  • সাধারণত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে
  • অর্থমন্ত্রী কর্তৃক বাজেট ভাষণ
  • বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন
  • সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র বিতরণ

বাজেট দলিল:

  • বাজেট বক্তৃতা
  • বাজেট সংক্ষিপ্তসার
  • বিস্তারিত বাজেট
  • অর্থনৈতিক সমীক্ষা

সংসদে বাজেট অনুমোদন প্রক্রিয়া

ধাপ ৪: সাধারণ আলোচনা

বাজেট নিয়ে আলোচনা:

  • উপস্থাপনার পর সাধারণ আলোচনা শুরু
  • বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্য
  • সরকারি দলের সদস্যদের মতামত
  • বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ মতামত

আলোচনার বিষয়বস্তু:

  • বাজেটের আকার ও প্রকৃতি
  • রাজস্ব ও ব্যয় নীতি
  • উন্নয়ন অগ্রাধিকার
  • সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী

ধাপ ৫: বিভাগীয় আলোচনা

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক আলোচনা:

  • প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বাজেট নিয়ে আলোচনা
  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর জবাব
  • বিভাগীয় নীতি ও পরিকল্পনা আলোচনা
  • ব্যয় বণ্টন যৌক্তিকতা

ধাপ ৬: অনুদানের দাবি ভোটাভুটি

অনুদান প্রস্তাব:

  • প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য অনুদানের দাবি
  • কাট মোশন (ব্যয় কমানোর প্রস্তাব)
  • সংশোধনী প্রস্তাব
  • ভোটাভুটির মাধ্যমে অনুমোদন

ধাপ ৭: অর্থ আইন পাস

বিল হিসেবে উপস্থাপনা:

  • বাজেটের কর ও শুল্ক প্রস্তাব
  • অর্থ বিল আকারে উপস্থাপন
  • তিনটি পাঠ সম্পন্ন করা
  • সংসদে পাস করা

ধাপ ৮: বিনিয়োগ আইন পাস

সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন:

  • সরকারি ব্যয়ের আইনি ভিত্তি
  • কনসলিডেটেড ফান্ড থেকে অর্থ ব্যয়ের অনুমতি
  • বিনিয়োগ বিল পাস করা

বাজেট প্রণয়নের বিশেষ দিক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ভূমিকা

রাজস্ব প্রাক্কলন:

  • কর রাজস্ব প্রাক্কলন প্রস্তুতি
  • আমদানি-রপ্তানি শুল্ক নির্ধারণ
  • নতুন করের প্রস্তাব
  • কর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

পরিকল্পনা কমিশনের অবদান

উন্নয়ন বাজেট:

  • বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) প্রস্তুতি
  • প্রকল্প মূল্যায়ন ও অনুমোদন
  • সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ
  • দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সাথে সমন্বয়

অর্থ বিভাগের সমন্বয়

সামগ্রিক সমন্বয়:

  • সকল মন্ত্রণালয়ের বাজেট সমন্বয়
  • ম্যাক্রো ইকোনমিক পলিসি বাস্তবায়ন
  • বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ
  • ঋণ ব্যবস্থাপনা

বাজেট বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণ

বাস্তবায়ন পর্যায়

মাসিক মনিটরিং:

  • মাসিক ব্যয় পর্যালোচনা
  • রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি
  • প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি
  • বাজেট সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা

সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ

স্থায়ী কমিটির ভূমিকা:

  • বাজেট বাস্তবায়ন তদারকি
  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা
  • ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা সভা
  • সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান

প্রাক্কলন কমিটি

বাজেট যাচাই:

  • বাজেট বরাদ্দের যথার্থতা পরীক্ষা
  • ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
  • অপচয় ও দুর্নীতি রোধ
  • সুপারিশ প্রদান

বাজেট প্রণয়নের সময়সূচি

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি: প্রাথমিক প্রস্তুতি মার্চ-এপ্রিল: মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট প্রস্তুতি মে: এনইসি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন জুন: সংসদে উপস্থাপনা জুন-জুলাই: সংসদে আলোচনা ও অনুমোদন জুলাই: অর্থবছর শুরু

আধুনিক বাজেট প্রণয়নের বৈশিষ্ট্য

অংশগ্রহণমূলক বাজেট

  • স্থানীয় সরকারের মতামত
  • সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ
  • জনগণের মতামত সংগ্রহ

মাধ্যম মেয়াদি বাজেট কাঠামো (MTBF)

  • তিন বছরের পরিকল্পনা
  • সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দ
  • ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

ডিজিটাল বাজেট ব্যবস্থাপনা

  • অনলাইন বাজেট প্রস্তুতি
  • ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট)
  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাজেট প্রণয়ন একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া যা দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে শুরু করে আইনসভা পর্যন্ত সকল স্তরের অংশগ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।


### **জাতীয় সংসদে বাজেট (বার্ষিক আর্থিক বিবরণী) প্রণয়নের ধাপসমূহ**  


বাংলাদেশে **বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনের** প্রক্রিয়াটি সংবিধানের **অনুচ্ছেদ ৮৭-৯২** এবং **আর্থিক ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১৯** দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিম্নলিখিত ধাপে সম্পন্ন হয়:


---


## **১. বাজেট প্রস্তুতি (Budget Preparation)**  

- **মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর প্রস্তাব:** প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব **বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP)** ও চলতি ব্যয়ের অনুমান জমা দেয়।  

- **অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়:** অর্থ মন্ত্রণালয় **জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)** এবং **পরিকল্পনা কমিশন**-এর সাথে আলোচনা করে মোট আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা করে।  

- **মন্ত্রিসভার অনুমোদন:** চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন ও অনুমোদিত হয়।  


---


## **২. বাজেট পেশ (Budget Presentation)**  

- **বাজেট বক্তৃতা (Budget Speech):** অর্থমন্ত্রী **জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে** (সাধারণত ১লা জুন) সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন।  

- **মূল উপাদান:**  

  - **রাজস্ব বাজেট** (কর ও অন্যান্য আয়)  

  - **ব্যয় বাজেট** (প্রশাসনিক ও উন্নয়ন ব্যয়)  

  - **অর্থবিল** (নতুন কর/শুল্ক প্রস্তাব)  


---


## **৩. সংসদীয় আলোচনা ও কমিটি পর্যালোচনা (Parliamentary Debate & Committee Scrutiny)**  

- **সাধারণ আলোচনা:** সংসদ সদস্যরা বাজেটের ওপর **প্রাথমিক বিতর্ক** করেন (৫-৭ দিন)।  

- **কমিটি পর্যায়:**  

  - **স্থায়ী কমিটিগুলো** সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পর্যালোচনা করে **রিপোর্ট দেয়**।  

  - **অর্থ মন্ত্রণালয়** প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনে।  


---


## **৪. অনুচ্ছেদভিত্তিক ভোটিং (Demand for Grants)**  

- প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের **ব্যয় প্রস্তাব (Demand for Grants)** আলাদাভাবে ভোটে উপস্থাপন করা হয়।  

- সংসদ সদস্যরা **কাটতি প্রস্তাব (Cut Motion)** আনতে পারেন (ব্যয় কমাতে চাইলে)।  


---


## **৫. অর্থবিল পাস (Passage of Finance Bill)**  

- নতুন কর/শুল্ক সংক্রান্ত **অর্থবিল** সংসদে পাস করতে হয় (অনুচ্ছেদ ৮১)।  

- এটি **রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়াই আইনে পরিণত** হয় (অনুচ্ছেদ ৮৩)।  


---


## **৬. বাজেট অনুমোদন (Budget Approval)**  

- **সর্বশেষ ভোট:** সমস্ত Demand for Grants ও অর্থবিল পাস হলে বাজেট চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়।  

- **কার্যকর হওয়া:** নতুন অর্থবছরের **১লা জুলাই** থেকে বাজেট কার্যকর হয় (যদি সময়মতো পাস হয়)।  


---


### **জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প পদ্ধতি**  

- **অস্থায়ী বাজেট (Vote on Account):** নির্বাচন বা সংকটকালে সংসদ **২-৪ মাসের** জন্য অস্থায়ী ব্যয় অনুমোদন দেয়।  

- **পরিপূরক বাজেট (Supplementary Budget):** অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হলে অর্থবছরের মধ্যে পাস করা হয়।  


---


### **সারসংক্ষেপ**  

বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো হলো:  

**প্রস্তুতি → সংসদে উপস্থাপন → বিতর্ক ও কমিটি পর্যালোচনা → অনুচ্ছেদভিত্তিক ভোট → অর্থবিল পাস → চূড়ান্ত অনুমোদন**।  

এটি একটি **জবাবদিহিতামূলক প্রক্রিয়া**, যেখানে সংসদ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।  


> **মনে রাখবেন:** বাজেট পাস না হলে সরকার **অস্থায়ী বাজেট (Vote on Account)**-এর মাধ্যমে চলতি ব্যয় চালাতে পারে, কিন্তু নতুন কর আরোপ বা উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে পারে না।


বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাজেট তৈরির ও পাসের প্রক্রিয়া একটি সাংবিধানিক ও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা। এটি প্রধানত সংবিধানের ৮৭ থেকে ৯২ অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

নিচে জাতীয় সংসদে বাজেট তৈরির ধাপগুলো ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো:


🏛️ বাজেট কী?

বাজেট (Budget) হচ্ছে একটি অর্থবছরের জন্য সরকারের আয় ও ব্যয়ের আনুমানিক হিসাব
বাংলাদেশে অর্থবছর: ১ জুলাই – ৩০ জুন


🔷 বাজেট তৈরির ধাপসমূহ

✅ ১. বাজেট প্রস্তুত (Preparation Stage)

  • বাজেট তৈরির কাজ শুরু হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে।

  • প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যয়ের প্রস্তাব পাঠায়।

  • রাজস্ব বোর্ড (NBR) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।

  • অর্থ মন্ত্রণালয় সব তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রস্তাবিত বাজেট খসড়া তৈরি করে।


✅ ২. মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন (Cabinet Approval)

  • প্রস্তাবিত বাজেট খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

  • মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দিলে এটি সংসদে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত হয়।


✅ ৩. সংসদে বাজেট উপস্থাপন (Budget Presentation)

  • অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন (সাধারণত জুন মাসের প্রথমার্ধে)।

  • এটি বাজেট বক্তৃতা আকারে হয় — যেখানে আয়-ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা, নীতিমালা, ভর্তুকি, ট্যাক্স কাঠামো, উন্নয়ন প্রকল্প ইত্যাদি তুলে ধরা হয়।


✅ ৪. বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা (General Discussion)

  • সংসদে বাজেট উত্থাপনের পর সাধারণ আলোচনা হয় (৭–১০ দিন)।

  • এই আলোচনা শুধুই নীতিগত এবং এতে কোনো ভোট গ্রহণ হয় না।

  • বিরোধী দল ও সরকারি দলের সদস্যরা পর্যালোচনা করেন।


✅ ৫. অনুদান চাওয়ার ধারা (Demand for Grants)

  • প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা আলাদা করে বরাদ্দ চাওয়া হয়।

  • সংসদ সদস্যরা এসব অনুদান নিয়ে আলোচনা করেন।

  • কোনো ধারা নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশোধনী আনা যায়।


✅ ৬. কাট মোশন (Cut Motion)

  • সংসদ সদস্যরা চাইলে মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের বিরুদ্ধে "Cut Motion" আনতে পারেন।

  • এটি সরকারের কাজ নিয়ে জবাবদিহিতা তৈরির একটি সাংসদীয় কৌশল।


✅ ৭. অনুপ্রত্যয় প্রস্তাব (Appropriation Bill)

  • সব আলোচনা শেষে সরকার একটি Appropriation Bill উত্থাপন করে যাতে মোট ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়।

  • এটি পাস হলেই সরকার নির্ধারিত ব্যয় করতে পারে।


✅ ৮. অর্থ বিল পাস (Finance Bill Passage)

  • বাজেটের অংশ হিসেবে অর্থ বিল পাস করা হয় যেখানে কর ও রাজস্ব সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাব থাকে (যেমন: ভ্যাট, শুল্ক, কর কাঠামো)।

  • এটি সাধারণত ভোটে পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আইন হিসেবে কার্যকর হয়।


✅ ৯. রাষ্ট্রপতির সম্মতি ও কার্যকারিতা

  • বাজেট ও অর্থ বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে তা গেজেটে প্রকাশিত হয়।

  • সাধারণত ১ জুলাই থেকে বাজেট কার্যকর হয়।


📝 সংক্ষেপে বাজেট প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ:

ধাপ বিবরণ
বাজেট প্রস্তুতি (অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়গুলো)
মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন
সংসদে বাজেট উপস্থাপন
বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা
অনুদান দাবির বিবরণ আলোচনা
কাট মোশন ও তদারকি
Appropriation Bill পাস
অর্থ বিল (Finance Bill) পাস
রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও বাজেট কার্যকর

🔚 উপসংহার:

জাতীয় সংসদে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া জনগণের স্বার্থে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হয়।



জাতীয় সংসদে বাজেট তৈরি একটি জটিল ও বহু-স্তরীয় প্রক্রিয়া, যেখানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং জাতীয় সংসদ সম্মিলিতভাবে কাজ করে। এটি শুধু একটি আর্থিক দলিল নয়, বরং সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকারের একটি প্রতিচ্ছবি। প্রতি বছর ১লা জুলাই থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণীত হয়।


জাতীয় সংসদে বাজেট তৈরির ধাপসমূহ

জাতীয় সংসদে বাজেট তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রধানত কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়:

১. প্রাক-বাজেট আলোচনা ও নীতি নির্ধারণ (Pre-Budget Discussion & Policy Formulation):

  • পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণ: অর্থবছরের বেশ কয়েক মাস আগে (সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে) অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো আগামী অর্থবছরের জন্য দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার এবং নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।

  • বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদা নিরূপণ: প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের একটি প্রাক্কলন তৈরি করে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এই প্রাক্কলনে তাদের উন্নয়ন প্রকল্প, রাজস্ব ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক চাহিদার বিস্তারিত বিবরণ থাকে।

  • অর্থনৈতিক সমীক্ষা: বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি, প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে, যা বাজেট প্রণয়নে সহায়ক হয়।

২. বাজেট প্রণয়ন ও খসড়া তৈরি (Budget Preparation & Drafting):

  • অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাবিত ব্যয় এবং রাজস্ব আয়ের সম্ভাব্য উৎসগুলো বিশ্লেষণ করে। তারা সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা (যেমন - জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস) অর্জনের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট কাঠামো তৈরির চেষ্টা করে।

  • বিশেষজ্ঞ কমিটি ও পরামর্শ: প্রয়োজনে অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ করে।

  • মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন: অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক তৈরি করা খসড়া বাজেট প্রথমে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভায় বিশদ আলোচনা ও অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত বাজেট হিসেবে সংসদে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত হয়।

৩. সংসদে বাজেট উপস্থাপন (Budget Presentation in Parliament):

  • তারিখ ও সময়: সাধারণত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে (সাধারণত জুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার) অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন। এটি একটি বহুল প্রতীক্ষিত ঘটনা এবং সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

  • বাজেট বক্তৃতা: অর্থমন্ত্রী একটি বিশদ বাজেট বক্তৃতা প্রদান করেন, যেখানে তিনি বিগত অর্থবছরের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা, আগামী অর্থবছরের সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের প্রাক্কলন, বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ এবং নতুন নীতি ও কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন।

  • আর্থিক বিবৃতি: বাজেট বক্তৃতার পাশাপাশি কয়েকটি আর্থিক বিবৃতি (যেমন- সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব হতে অর্থ প্রদানের ক্ষমতাসম্পারক বিল) সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

৪. সাধারণ আলোচনা (General Discussion):

  • আলোচনার সময়সীমা: বাজেট উপস্থাপনের পর সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। এটি কয়েকদিন ধরে চলতে পারে।

  • সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ: সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সংসদ সদস্যরা বাজেট প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বাজেট প্রস্তাবের গুণাগুণ, এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং জনস্বার্থে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতামত দেন। বিরোধী দল বাজেটের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরে এবং বিকল্প প্রস্তাবনা দিতে পারে।

৫. বিস্তারিত আলোচনা ও মঞ্জুরি দাবি (Detailed Discussion & Demand for Grants):

  • মন্ত্রণালয়ভিত্তিক আলোচনা: সাধারণ আলোচনার পর বাজেট প্রস্তাবের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়। এই ধাপে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ (মঞ্জুরি দাবি) নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা হয়।

  • কাট মোশন (Cut Motion): সংসদ সদস্যরা, বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যরা, কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের পরিমাণ কমানোর জন্য 'কাট মোশন' উত্থাপন করতে পারেন। এই মোশনগুলো সাধারণত ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়, তবে এর মাধ্যমে সরকারের ব্যয় নীতির ওপর আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ তৈরি হয়।

৬. নির্দিষ্টকরণ বিল পাস (Passing of Appropriation Bill):

  • ভোট গ্রহণ: মঞ্জুরি দাবিগুলো আলোচনার পর একে একে সংসদে ভোটাভুটিতে দেওয়া হয়। প্রতিটি দাবি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হওয়ার পর।

  • নির্দিষ্টকরণ বিল: সকল মঞ্জুরি দাবি অনুমোদিত হওয়ার পর একটি 'নির্দিষ্টকরণ বিল' (Appropriation Bill) সংসদে উত্থাপন করা হয়। এই বিলের মাধ্যমে সরকারকে সংযুক্ত তহবিল থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়।

  • অর্থ বিল (Finance Bill): একই সাথে 'অর্থ বিল' (Finance Bill) উত্থাপিত হয়, যেখানে নতুন কর আরোপ বা বিদ্যমান করের হার পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো থাকে। এটিও সংসদে আলোচিত ও পাস হয়।

  • চূড়ান্ত অনুমোদন: নির্দিষ্টকরণ বিল এবং অর্থ বিল সংসদে পাস হওয়ার পর, তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর বিলগুলো আইনে পরিণত হয়।

৭. গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন (Gazette Notification & Implementation):

  • আইনে পরিণত হওয়া: নির্দিষ্টকরণ বিল ও অর্থ বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে বাজেট কার্যকর হয় এবং সরকার বাজেট অনুযায়ী আয় সংগ্রহ ও ব্যয় করতে পারে।

  • বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ: বাজেট কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বাজেট অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় কমিটিগুলো বাজেটের বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষা করে।

বাজেট প্রণয়নের এই প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেশের আর্থিক নীতিমালা নির্ধারণ করে এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।


জাতীয় সংসদে বাজেট তৈরির ধাপগুলো হলো: প্রস্তুতি, প্রস্তাবনা, আলোচনা, অনুমোদন, এবং বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষা। বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সাথে আলোচনা করে এবং তাদের চাহিদা ও প্রস্তাবনা সংগ্রহ করে। এরপর, এই সমস্ত প্রস্তাবনা একত্রিত করে একটি খসড়া বাজেট তৈরি করা হয়। খসড়া বাজেট সংসদে উপস্থাপন করা হয় এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্কের পর অনুমোদন করা হয়। অনুমোদন লাভের পর বাজেট কার্যকর করা হয় এবং এর বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। 

জাতীয় সংসদে বাজেট তৈরির ধাপগুলো আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

১. প্রস্তুতি: 

অর্থ মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে আলোচনা করে এবং তাদের বাজেট চাহিদা ও প্রস্তাবনা সংগ্রহ করে।

এই পর্যায়ে, সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নীতিমালার ভিত্তিতে একটি বাজেট কাঠামো তৈরি করা হয়।

বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়।

২. খসড়া বাজেট প্রস্তাবনা: 

অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রস্তাবনা ও চাহিদা একত্রিত করে একটি খসড়া বাজেট তৈরি করা হয়।

খসড়া বাজেটে সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

এই পর্যায়ে, বিভিন্ন নীতি ও কৌশলগত বিষয় বিবেচনা করা হয়।

৩. সংসদে বাজেট উপস্থাপন ও আলোচনা: 

খসড়া বাজেট সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

সংসদ সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করেন।

এই পর্যায়ে, বাজেট প্রস্তাবনার বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করা হয় এবং প্রয়োজনে সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়।

৪. বাজেট অনুমোদন: 

সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের পর, বাজেট প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয় এবং অনুমোদন করা হয়।

অনুমোদন লাভের পর, বাজেট একটি আইনি إقرار (enactment) লাভ করে।

৫. বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষা: 

অনুমোদন লাভের পর, বাজেট কার্যকর করা হয় এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের নিজ নিজ বাজেট অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এই পর্যায়ে, বাজেটের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধন করা হয়।

একটি নির্দিষ্ট সময় পর, বাজেটের হিসাব-নিকাশ ও নিরীক্ষা করা হয়, যা সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

এই ধাপগুলো অনুসরণ করে জাতীয় সংসদে বাজেট প্রণয়ন করা হয় এবং এর মাধ্যমে সরকারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। 





বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী

গঠন

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ৯৪(১) অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে গঠিত, যা দুইটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:

  • আপীল বিভাগ (Appellate Division)

  • হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division)

সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকগণ রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হন। আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ শুধুমাত্র আপীল বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারকগণ শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করেন134

ক্ষমতা

  • আইন ও সংবিধান রক্ষা ও ব্যাখ্যা: সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক হিসেবে কাজ করে এবং সংবিধান ও দেশের সাধারণ আইন প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা করে34

  • আপীল ক্ষমতা: আপীল বিভাগ দেশের সর্বোচ্চ আপীল আদালত হিসেবে কাজ করে এবং হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল শুনানি করে12

  • হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা: হাইকোর্ট বিভাগ প্রাথমিক বিচার ও রিট, হাবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রহিবিশনসহ বিভিন্ন রিট মামলা নিষ্পত্তি করে এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে12

  • বিচারক নিয়োগ ও শৃঙ্খলা: প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতির পরামর্শে বিচারক নিয়োগ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে47

কার্যাবলী

  • বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম: সুপ্রীম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

  • আইনগত তত্ত্বাবধান: দেশের আইন ও সংবিধানের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে।

  • মানবাধিকার রক্ষা: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • বিচারক ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন: সুপ্রীম কোর্টের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

  • অনলাইন সেবা ও আধুনিকায়ন: ই-ফাইলিং, অনলাইন বেইল কনফার্মেশনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচার কার্যক্রম সহজতর করা হয়েছে12

মূল্যায়ন

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট দেশের বিচারব্যবস্থার মেরুদণ্ড এবং সংবিধানের রক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর দ্বিভাগীয় কাঠামো আপীল ও হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমের দক্ষতা ও সুবিচার নিশ্চিত করে। সংবিধান ও সাধারণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সরকারের কার্যক্রমের তদারকি সুপ্রীম কোর্টের কার্যাবলীর মূল ভিত্তি। প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিকায়ন বিচার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করেছে। তবে, বিচার ব্যবস্থায় কিছু সময় বিচারিক বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা থাকলেও সুপ্রীম কোর্টের ভূমিকা দেশের আইনি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য12347

  1. https://www.supremecourt.gov.bd/web/indexn.php?lang=b
  2. https://www.supremecourt.gov.bd
  3. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE_%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F
  4. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/chapter-details-1449.html
  5. https://file-dhaka.portal.gov.bd/files/gopalganj.gov.bd/notices/989f8ca0_58fe_47ee_bf27_659078cfe6b5/cc736bedccb1d00cc7eb05b651681ba3.pdf
  6. https://www.jugantor.com/national/884458
  7. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE_%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6
  8. https://lawjusticediv.gov.bd/site/notices/766f3b8e-f020-424f-b73b-8bdd5b85484a/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B6-%E0%A6%A8%E0%A6%82-%E0%A7%A7%E0%A7%AD%E0%A7%AF

বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের উচ্চ আদালত

সুপ্রীম কোর্টের কাঠামো

বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:

  • আপিল বিভাগ (Appellate Division)
  • উচ্চ আদালত বিভাগ (High Court Division)

উচ্চ আদালতের গঠন

১. বিচারপতি নিয়োগ

নিয়োগ কর্তৃপক্ষ:

  • রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শে নিয়োগ দেন
  • সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিয়োগ
  • প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সাথে পরামর্শ

নিয়োগের যোগ্যতা:

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  • কমপক্ষে ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে অভিজ্ঞতা
  • অথবা ১০ বছর বিচারিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা
  • উচ্চ নৈতিক চরিত্র ও যোগ্যতা

২. বিচারপতিদের সংখ্যা

বর্তমান অবস্থা:

  • সংবিধানে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই
  • প্রয়োজন অনুযায়ী সংখ্যা নির্ধারণ
  • বর্তমানে প্রায় ১০০+ বিচারপতি রয়েছেন

৩. মেয়াদকাল ও অবসর

মেয়াদকাল:

  • ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত দায়িত্ব পালন
  • সুনির্দিষ্ট মেয়াদের বিধান নেই
  • সুস্বাস্থ্য ও সক্ষমতা বজায় থাকা পর্যন্ত

অবসর গ্রহণ:

  • ৬৭ বছর বয়সে বাধ্যতামূলক অবসর
  • স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ সম্ভব
  • অসুস্থতার কারণে অবসর

৪. বরখাস্তের বিধান

অভিশংসন প্রক্রিয়া:

  • দুর্ব্যবহার বা অক্ষমতার জন্য অপসারণ
  • সংসদে অভিশংসন প্রস্তাব
  • সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত
  • রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অপসারণ

উচ্চ আদালতের ক্ষমতা ও কার্যাবলী

১. সাংবিধানিক ক্ষমতা

সংবিধান ব্যাখ্যা:

  • সংবিধানের বিধান ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা
  • সাংবিধানিক প্রশ্নের চূড়ান্ত সমাধান
  • মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত মামলার বিচার

মৌলিক অধিকার রক্ষা:

  • মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার
  • রিট এখতিয়ার প্রয়োগ
  • নাগরিক অধিকার সুরক্ষা

২. রিট এখতিয়ার

রিটের প্রকার:

  • বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus): অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে
  • পরমাদেশ (Mandamus): কর্তব্য পালনে বাধ্যকরণ
  • নিষেধাজ্ঞা (Prohibition): এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ বন্ধ
  • উৎপ্রেষণ (Certiorari): নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল
  • পদাধিকার জিজ্ঞাসা (Quo-Warranto): পদ দখলের বৈধতা প্রশ্ন

৩. আপিল এখতিয়ার

দেওয়ানি মামলা:

  • জেলা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল
  • সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা
  • পারিবারিক আইনের মামলা
  • চুক্তি ও ক্ষতিপূরণের মামলা

ফৌজদারি মামলা:

  • সেশন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল
  • মৃত্যুদণ্ডের রায় নিশ্চিতকরণ
  • যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মামলা

৪. প্রশাসনিক এখতিয়ার

সরকারি কর্মচারী নিয়ন্ত্রণ:

  • বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ
  • জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজদের নিয়োগ
  • বিচারিক প্রশিক্ষণ তত্ত্বাবধান

আদালত প্রশাসন:

  • নিম্ন আদালত তত্ত্বাবধান
  • বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
  • আদালতের কার্যক্রম সমন্বয়

৫. বিশেষ এখতিয়ার

নির্বাচনী আইন:

  • নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি
  • প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণ
  • নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা

কোম্পানি আইন:

  • কোম্পানি অধ্যাদেশের অধীন মামলা
  • ব্যাংকিং আইনের মামলা
  • বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি

বিচার ব্যবস্থায় উচ্চ আদালতের ভূমিকা

১. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

দ্রুত বিচার:

  • মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা
  • বিলম্বিত মামলার বিশেষ তালিকা
  • সময়সীমা নির্ধারণ

গুণগত বিচার:

  • আইনের সঠিক প্রয়োগ
  • নজির সৃষ্টি
  • আইনি ব্যাখ্যার সামঞ্জস্য

২. মৌলিক অধিকার সুরক্ষা

সংবিধান রক্ষা:

  • সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা
  • সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ
  • নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা

সামাজিক ন্যায়বিচার:

  • দুর্বল শ্রেণীর অধিকার রক্ষা
  • লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা
  • সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা

৩. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

সকলের জন্য সমতা:

  • আইনের চোখে সবাই সমান
  • বিচারে পক্ষপাতিত্ব রোধ
  • স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া

ক্ষমতার ভারসাম্য:

  • নির্বাহী বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ
  • আইনসভার সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ
  • ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ

উচ্চ আদালতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

১. স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা

আর্থিক স্বাধীনতা:

  • পৃথক বাজেট বরাদ্দ
  • বেতন-ভাতা নিরাপত্তা
  • অবকাঠামো উন্নয়নের স্বাধীনতা

প্রশাসনিক স্বাধীনতা:

  • বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগ
  • আদালত ব্যবস্থাপনা
  • নিজস্ব নিয়মকানুন প্রণয়ন

২. জনস্বার্থ মামলা

পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (PIL):

  • যেকোনো ব্যক্তি জনস্বার্থে মামলা করতে পারেন
  • পরিবেশ সুরক্ষার মামলা
  • দুর্নীতি বিরোধী মামলা

৩. আধুনিকায়ন

ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থা:

  • ই-ফাইলিং সিস্টেম
  • ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা
  • অনলাইন মামলা ব্যবস্থাপনা

চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা

১. মামলার জট

বিলম্বিত বিচার:

  • অত্যধিক সংখ্যক মামলা
  • বিচারপতি সংকট
  • প্রক্রিয়াগত জটিলতা

২. সম্পদের সীমাবদ্ধতা

অবকাঠামো সংকট:

  • পর্যাপ্ত আদালত ভবন নেই
  • আধুনিক সুবিধার অভাব
  • কর্মী সংকট

৩. জনগণের প্রবেশাধিকার

খরচের সমস্যা:

  • আইনি সেবার উচ্চ খরচ
  • দীর্ঘ প্রক্রিয়া
  • দূরত্বের সমস্যা

সংস্কার উদ্যোগ

১. বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ

স্বাধীন বিচার বিভাগ:

  • নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ
  • ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্বাধীনতা
  • প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হ্রাস

২. দ্রুত বিচার

বিশেষ আদালত:

  • দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল
  • সাইবার ট্রাইব্যুনাল
  • পারিবারিক আদালত

৩. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন

ডিজিটাল রূপান্তর:

  • কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
  • ইলেকট্রনিক রেকর্ড রক্ষণ
  • অনলাইন সেবা প্রদান

মূল্যায়ন ও সুপারিশ

ইতিবাচক দিক

সাংবিধানিক রক্ষক:

  • সংবিধান ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা
  • সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ
  • আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান

সামাজিক ন্যায়বিচার:

  • নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা
  • পরিবেশ সংরক্ষণ
  • দুর্নীতি দমন

উন্নয়নের ক্ষেত্র

দক্ষতা বৃদ্ধি:

  • মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি
  • বিচারপতি সংখ্যা বৃদ্ধি
  • প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ

জনবান্ধব সেবা:

  • আইনি সাহায্য সম্প্রসারণ
  • ভাষাগত সুবিধা বৃদ্ধি
  • প্রবেশাধিকার সহজীকরণ

উপসংহার

বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের উচ্চ আদালত দেশের বিচার ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। এটি সংবিধান রক্ষা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দ্রুত বিচার, সম্পদের সংকট এবং জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধিতে আরও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। সঠিক সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে উচ্চ আদালত আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হয়ে উঠতে পারে।


### **বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের উচ্চ আদালত: গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী**  


#### **১. গঠন (Structure)**  

বাংলাদেশের **সুপ্রীম কোর্ট** সংবিধানের **অনুচ্ছেদ ৯৪-১১৬** অনুযায়ী গঠিত এবং এটি **দুইটি বিভাগে** বিভক্ত:  


**ক) হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division):**  

- **নিয়োগ:** রাষ্ট্রপতি **প্রধান বিচারপতি** এবং অন্যান্য বিচারকদের নিয়োগ দেন (সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫)।  

- **সদস্য সংখ্যা:** বর্তমানে **১০০ জনের বেশি** বিচারক রয়েছেন (সংখ্যা সরকারি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা নির্ধারিত)।  

- **যোগ্যতা:**  

  - বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।  

  - উচ্চ আদালতে **অন্তত ১০ বছর** বা জেলা আদালতে **১২ বছর** অ্যাডভোকেট হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।  


**খ) আপিল বিভাগ (Appellate Division):**  

- **সদস্য সংখ্যা:** **৭ জন** (প্রধান বিচারপতি + ৬ জন বিচারক)।  

- **কার্যকাল:** বিচারকরা **৬৭ বছর** বয়স পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।  


---


### **২. ক্ষমতা ও কার্যাবলী (Powers & Functions)**  


#### **ক) হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা:**  

1. **মৌলিক অধিকার রক্ষা (Writ Jurisdiction - অনুচ্ছেদ ১০২):**  

   - **রিট আবেদন** (হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রোহিবিশন, সার্টিওরারি, কোরাম নোবিস) এর মাধ্যমে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ।  

   - উদাহরণ: সরকারি চাকরি থেকে অবৈধ বরখাস্তের বিরুদ্ধে রিট।  


2. **আদি এখতিয়ার (Original Jurisdiction):**  

   - সংবিধান বা আইনের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত মামলার সরাসরি শুনানি।  


3. **আপিল এখতিয়ার (Appellate Jurisdiction):**  

   - জেলা জজ আদালত ও ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি।  


4. **নির্বাহী বিভাগের তদারকি (Supervisory Power - অনুচ্ছেদ ১০৯):**  

   - অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম তদারকি।  


5. **সংবিধান সংক্রান্ত মামলা:**  

   - আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা (যেমন: রাষ্ট্রধর্ম সংশোধনী মামলা)।  


---


#### **খ) আপিল বিভাগের ক্ষমতা:**  

1. **সর্বোচ্চ আপিল আদালত:**  

   - হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিল শুনানি।  


2. **সাংবিধানিক ব্যাখ্যা (অনুচ্ছেদ ১০৬):**  

   - সংবিধানের ধারা সম্পর্কে **সিদ্ধান্তমূলক ব্যাখ্যা** প্রদান।  


3. **রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর অভিশংসন (Impeachment):**  

   - সংসদের পাস করা অভিশংসন প্রস্তাবের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই।  


4. **স্বতঃপ্রণোদিত ক্ষমতা (Suo Moto):**  

   - গণস্বার্থে নিজ উদ্যোগে মামলা গ্রহণ (যেমন: পরিবেশ দূষণ বা দুর্নীতি বিষয়ক মামলা)।  


---


### **৩. স্বাধীনতা ও সীমাবদ্ধতা (Independence & Limitations)**  


#### **স্বাধীনতা:**  

- বিচারকদের **সাংবিধানিক সুরক্ষা** (অনুচ্ছেদ ১১৬): অপসারণ শুধুমাত্র **সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল**-এর সুপারিশে সম্ভব।  

- **আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:** সরকারি স্বেচ্ছাচারিতা রোধে ভূমিকা (যেমন: ১৬তম সংশোধনী বাতিল রায়)।  


#### **সীমাবদ্ধতা:**  

- **নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব:** বিচারক নিয়োগে নির্বাহী বিভাগের ভূমিকা সমালোচিত।  

- **মামলার জট:** প্রায় **৪ লাখ** মামলা বিচারাধীন (২০২৪ সালের তথ্য)।  

- **সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের দুর্বলতা:** বিচারকদের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন।  


---


### **৪. ঐতিহাসিক রায় ও প্রভাব**  

- **৫ম সংশোধনী বাতিল (২০১০):** সামরিক শাসনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ।  

- **১৬তম সংশোধনী বাতিল (২০১৭):** সংসদের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা খর্ব।  

- **রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রিট (২০১৬):** ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম রাষ্ট্রধর্ম বিতর্ক।  


---


### **সারসংক্ষেপ**  

বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট **হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে** বিভক্ত, যা **মৌলিক অধিকার রক্ষা, সংবিধান ব্যাখ্যা ও আপিল শুনানির** মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করে। যদিও এটি **স্বাধীন**, তবুও **নিয়োগ প্রক্রিয়া ও মামলার জট** এর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। আদালতের সক্রিয় ভূমিকা (**সুও মোটো ও রিট**) গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।  


> **"সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক"** — বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায় থেকে।


বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং বিচার বিভাগের শীর্ষ সংস্থা। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মূল স্তম্ভ। সংবিধানের ৯৪ থেকে ১১২ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলির বিধান রয়েছে।


🔷 ১. সুপ্রিম কোর্টের গঠন

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট মূলত দুইটি ভাগে বিভক্ত:

শাখা ব্যাখ্যা
১. আপিল বিভাগ (Appellate Division) নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি করে।
২. হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) সংবিধান ও আইন অনুযায়ী মূল বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে, এবং মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করে।

✅ বিচারপতিদের নিয়োগ:

  • রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দেন।

  • প্রধান বিচারপতি (Chief Justice)–কেও রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।

  • হাইকোর্টে প্রথমে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে ২ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়, পরে স্থায়ী করা হয়।


🔷 ২. সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলি

▶️ আপিল বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

  1. চূড়ান্ত আপিল শুনানি: নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট থেকে আগত চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি করে।

  2. আইনের ব্যাখ্যা ও নজির স্থাপন: দেশের আইন কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা নির্ধারণে ব্যাখ্যা দেয় — যা "জুডিশিয়াল প্রিসিডেন্ট" হিসেবে গণ্য হয়।

  3. রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সের মতামত (৯৫ অনুচ্ছেদ): রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিষয়ে আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।


▶️ হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

১. মূল বিচারিক ক্ষমতা (Original Jurisdiction):

  • সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে:

    • রিট পিটিশন গ্রহণ করে।

    • মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নির্দেশ দেয়।

    • সরকার বা সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো বেআইনি কাজ ঠেকাতে নির্দেশ জারি করতে পারে (ম্যান্ডামাস, স্যাটোরারি, কো-ওরান্টো, প্রোহিবিশন ইত্যাদি)।

২. আপিল শুনানি (Appellate Jurisdiction):

  • নিম্ন আদালত থেকে আগত ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি করে।

৩. পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ (Superintendence):

  • নিম্ন আদালতগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।


🔷 ৩. মূল্যায়ন: সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্ব

দিক বিশ্লেষণ
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গ (নির্বাহী ও আইনসভা) থেকে স্বাধীন। এটি বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এই নীতিকে বাস্তবায়ন করে।
মৌলিক অধিকার রক্ষা নাগরিকদের সংবিধান-স্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তা রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে রিট মামলা হাইকোর্টে মৌলিক অধিকার সুরক্ষার অন্যতম মাধ্যম।
সংবিধান ব্যাখ্যা ও রক্ষক সংবিধানের অর্থ কী হবে, তা চূড়ান্তভাবে সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারণ করে। এটি সংবিধানের অভিভাবক।
আইনি উন্নয়ন ও দৃষ্টান্ত সময়োপযোগী রায় ও রুলিং-এর মাধ্যমে আদালত আইনকে উদ্ভাবন ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে।

📝 উপসংহার:

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের কেন্দ্রবিন্দু। এর মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্রের নিরাপত্তাকবচ হিসেবে কাজ করে। বিচারপতির স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে সুপ্রিম কোর্ট একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম সহায়ক শক্তি হতে পারে।



সুপ্রীম কোর্ট বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর। এটি বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে কাজ করে। সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগে বিভক্ত: আপিল বিভাগ (Appellate Division) এবং হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division)

বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট বিভাগ) কিভাবে গঠিত হয়

বাংলাদেশের সংবিধানের অষ্টম ভাগের অধীনে, সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ গঠিত হয় একজন প্রধান বিচারপতি (যিনি আপিল বিভাগেরও প্রধান) এবং হাইকোর্ট বিভাগের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক বিচারক নিয়ে।

  • বিচারপতি নিয়োগ: প্রধান বিচারপতি এবং হাইকোর্ট বিভাগের অন্যান্য বিচারকগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তার বিচক্ষণতা ব্যবহার করেন। অন্যান্য বিচারকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করা হয়, তবে এটি রাষ্ট্রপতির জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

  • বিচারকের সংখ্যা: হাইকোর্ট বিভাগে কতজন বিচারক থাকবেন, তা নির্দিষ্টভাবে সংবিধানে উল্লেখ নেই। এটি রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত, যিনি প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করেন।

  • যোগ্যতা: হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং সুপ্রীম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা বাংলাদেশের বিচার বিভাগে কমপক্ষে ১০ বছর বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। (সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ)

  • বয়স ও মেয়াদ: একজন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত তার পদে বহাল থাকেন (সংবিধানের ৯৬(২) অনুচ্ছেদ, যা ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ৬৭ বছরে উন্নীত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি বাতিল হয়েছে)। রাষ্ট্রপতি চাইলে যেকোনো সময় একজন বিচারককে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন।

হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী

হাইকোর্ট বিভাগ সুপ্রীম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এর ব্যাপক ক্ষমতা ও কার্যাবলী রয়েছে, যা দেশের আইন প্রয়োগ, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে।

১. মূল এখতিয়ার (Original Jurisdiction):

* রিট এখতিয়ার (Writ Jurisdiction): সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য অথবা অন্য যেকোনো আইনগত অধিকার লঙ্ঘিত হলে বিভিন্ন প্রকারের রিট আদেশ (যেমন - হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রো-হিবশন, সার্টিওরারি, কো-ওয়ারেন্টো) জারি করতে পারে। এটি হাইকোর্ট বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা, যা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর বৈধতা পরীক্ষা করে।

* কোম্পানি ও দেউলিয়া সংক্রান্ত বিষয়: কোম্পানি আইন এবং দেউলিয়া সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের মূল এখতিয়ার রয়েছে।

* নাবিক ও বিমান সংক্রান্ত বিষয়: নৌবাণিজ্য ও বিমান পরিবহন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু বিষয়েও হাইকোর্ট বিভাগ প্রাথমিক বিচার সম্পন্ন করে।

২. আপিল এখতিয়ার (Appellate Jurisdiction):

* দেওয়ানি আপিল: জেলা জজ আদালত এবং অন্যান্য নিম্ন আদালত থেকে আসা দেওয়ানি মামলার আপিল শুনতে পারে।

* ফৌজদারি আপিল: দায়রা জজ আদালত এবং অন্যান্য ফৌজদারি আদালত থেকে আসা মামলার আপিল শুনতে পারে। মৃত্যুদণ্ডাদেশের অনুমোদন এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের আপিল হাইকোর্ট বিভাগে বিচার করা হয়।

* অন্যান্য আপিল: বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যেতে পারে, যদি আইনে সেই বিধান থাকে।

৩. পর্যালোচনা ও তত্ত্বাবধানমূলক এখতিয়ার (Supervisory and Review Jurisdiction):

* নিম্ন আদালতের তত্ত্বাবধান: সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের (প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ছাড়া) ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। এটি নিশ্চিত করে যে নিম্ন আদালতগুলো তাদের এখতিয়ারের মধ্যে থেকে সঠিকভাবে কাজ করছে।

* আইন পুনর্রালোচনা (Judicial Review): হাইকোর্ট বিভাগ আইন ও সরকারি আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা পর্যালোচনা করতে পারে। যদি কোনো আইন বা সরকারি আদেশ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।

৪. রুলস তৈরি ও নির্দেশনা (Rule Making & Direction):

* আদালতের কার্যপ্রণালী বিধি: হাইকোর্ট বিভাগ তার নিজের এবং নিম্ন আদালতের কার্যপ্রণালী ও পদ্ধতির জন্য বিধি প্রণয়ন করতে পারে।

* নির্দেশনা: এটি বিভিন্ন মামলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে পারে, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করে।

৫. সার্টিফিকেট অফ ফিটনেস (Certificate of Fitness):

* হাইকোর্ট বিভাগ কোনো মামলাকে আপিল বিভাগের শুনানির জন্য উপযুক্ত কিনা, সেই মর্মে 'সার্টিফিকেট অফ ফিটনেস' প্রদান করতে পারে। এই সার্টিফিকেট ছাড়া আপিল বিভাগে কিছু মামলা সরাসরি আপিল করা যায় না।

৬. অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ (Interim Orders):

* বিভিন্ন রিট পিটিশন বা আপিল শুনানির সময় হাইকোর্ট বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বা স্থগিতাদেশ দিতে পারে, যা মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

মূল্যায়ন: ক্ষমতা ও কার্যাবলীর গুরুত্ব

হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • মৌলিক অধিকারের রক্ষাকর্তা: রিট এখতিয়ারের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের প্রধান রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজ করে। এটি নির্বাহী বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা এবং আইন প্রণয়নকারী সংস্থার সাংবিধানিক লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য তৈরি করে।

  • আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের পুনর্রালোচনা ক্ষমতা নিশ্চিত করে যে সরকার এবং অন্যান্য সংস্থা সংবিধানের কাঠামো ও আইনের সীমার মধ্যে কাজ করছে। এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

  • বিচারিক জবাবদিহিতা: নিম্ন আদালতগুলোর ওপর তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

  • আইনের ব্যাখ্যাকারী: হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা করে, যা আইনি প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট করে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলার জন্য একটি নজির স্থাপন করে।

  • জনগণের আস্থা: হাইকোর্ট বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা জনগণের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি নাগরিকদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির শেষ আশ্রয়স্থলগুলির মধ্যে একটি।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের মূলনীতি, মৌলিক অধিকার এবং আইনের শাসনকে রক্ষা ও বলবৎ করার জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এর বিচারকদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং ব্যাপক এখতিয়ার এটিকে দেশের বিচারিক স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত: আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ। হাইকোর্ট বিভাগ, যা উচ্চ আদালত নামেও পরিচিত, মূলত সংবিধানের অধীনে বিভিন্ন মৌলিক অধিকার এবং আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের বিষয়ে রায় দিয়ে থাকে। এটি সংবিধানের অভিভাবক হিসেবেও কাজ করে। হাইকোর্ট বিভাগ, আপিল বিভাগের চেয়ে নিচু স্তরের আদালত হলেও, দেশের বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

গঠন:

বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্ট আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত হবে। 

সংবিধানের ৯৪(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। 

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট নয়, রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। 

হাইকোর্ট বিভাগের প্রধান বিচারপতি নেই, তবে আপিল বিভাগের একজন প্রধান বিচারপতি থাকেন, যিনি সুপ্রীম কোর্টেরও প্রধান বিচারপতি হন। 

ক্ষমতা ও কার্যাবলী:

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। 

হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে রিট Pতি (writ jurisdiction) প্রয়োগ করে রায় দিতে পারে। 

বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার আপিল শুনানি এবং রায় প্রদান করে থাকে। 

অধস্তন আদালতগুলোর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে এবং তাদের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারে। 

সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং আইনের বৈধতা যাচাই করার ক্ষমতাও হাইকোর্ট বিভাগের রয়েছে। 

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন আইনি বিষয়ে পরামর্শ চাইলে, হাইকোর্ট বিভাগ সেই বিষয়ে মতামত দিতে পারে। 

সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে, দেশের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্ট বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

হাইকোর্ট বিভাগ, আপিল বিভাগের চেয়ে নিচু স্তরের আদালত হলেও, দেশের বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

এভাবে, হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান ও আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 





  • রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রধান।

  • তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (কমান্ডার ইন চিফ)।

  • রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদা ভোগ করেন এবং অন্যান্য ব্যক্তির ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন।

  • রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর, তবে দুই মেয়াদের বেশি কেউ একই ব্যক্তি এই পদে থাকতে পারবেন না।

  • রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে স্পীকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দিতে হয়।

  • রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ প্রক্রিয়া চালানো যায়।

  • : রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন।

  • : রাষ্ট্রপতির দণ্ডিত ব্যক্তির দণ্ডাদেশ স্থগিত, হ্রাস বা ক্ষমা করার অধিকার রয়েছে।

  • : সংসদে গৃহীত আইন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরই কার্যকর হয়।

  • : প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও পদত্যাগ অনুমোদন।

  • : সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও প্রয়োজনে সংসদ বিলুপ্ত করার ক্ষমতা।

  • : বিদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও প্রত্যাহারের ক্ষমতা।

  • : দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে সামরিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন।

  • : সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত ও অপসারণের ব্যবস্থা।

  • : রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারী মামলা চালানো যায় না এবং গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য পরোয়ানা জারি হয় না।

  • রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায়ে সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক কার্যাবলী পালন।

  • সংসদের গৃহীত আইন অনুমোদন ও প্রণয়নে অংশগ্রহণ।

  • সরকারের কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান।

  • জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব।

  • জরুরি অবস্থায় বা বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ।

  • রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের মাধ্যমে নির্ধারিত সীমাবদ্ধ ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রধানত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে কাজ করেন1237.

  1. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF
  2. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/section-30024.html
  3. http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957/chapter-details-1440.html
  4. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE
  5. https://www.bbc.com/bengali/articles/cd0g59vgel3o
  6. https://www.youtube.com/watch?v=IKqMBfNbiHE
  7. https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF
  8. https://www.ittefaq.com.bd/632093/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A6-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিম্নে দেওয়া হলো:

পদমর্যাদা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে সম্মানিত অবস্থানে রয়েছেন এবং সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।

তবে তত্ত্বীয়ভাবে সকলের ঊর্ধ্বে থাকলেও বাস্তবে তিনি শিরোপাবাহক প্রধান হিসেবে শুধু আনুষ্ঠানিক কার্যাদি সম্পন্ন করেন এবং প্রকৃত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নির্বাহ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদ।

রাষ্ট্রপতির প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলী

১. নির্বাহী ক্ষমতা

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: তার বিবেচনায় অধিকাংশ সংসদ-সদস্যের সমর্থন লাভে সক্ষম একজন সংসদ-সদস্যকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

অন্যান্য নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সার্ভিসের সর্বাধিনায়ক।

২. বিধানিক ক্ষমতা

সংসদ সংক্রান্ত: প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুসারে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান স্থগিতকরণ ও ভেঙ্গে দিতে পারেন।

আইন প্রণয়ন: সংসদে গৃহীত প্রতিটি বিলের জন্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন, কেননা রাষ্ট্রপতির সম্মতি ব্যতীত কোনো বিল আইনে পরিণত হয় না।

অধ্যাদেশ জারি: সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া হলে বা সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে আইন তৈরি করতে পারেন।

৩. বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতার উৎস। রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্যতর কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত শাস্তি মার্জনা, স্থগিত, বিলম্বিত ও হ্রাস করতে পারেন।

৪. আর্থিক ক্ষমতা

অর্থবিল বা সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে জড়িত যেকোন বিল রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত সংসদে পেশ করা যাবে না।

অনুপূরক বা অতিরিক্ত অনুদান হিসেবে সমন্বিত তহবিল থেকে ব্যয় অনুমোদনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে।

৫. কূটনৈতিক ক্ষমতা

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রেরণ ও গ্রহণ করেন।

৬. শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত

প্রধান বিচারপতি, প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে সংবিধানের তৃতীয় তপসিল অনুসারে রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করান।

নির্বাচন ও মেয়াদ

বর্তমানে অনুচ্ছেদ ৪৮ অনুসারে সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে ৫ বছর মেয়াদে স্বপদে আসীন থাকবেন এবং দুটি মেয়াদের অধিককাল এই পদে থাকতে পারবেন না।

বিশেষ সুবিধা

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে তার দায়িত্ব পালনকালে ত্রুটি বিচ্যূতির জন্য আদালতে জবাবদিহি থেকে বিমুক্তি দিয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি হলেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, যিনি ২৪ এপ্রিল ২০২৩ থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।


### **বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলী**  

(সংবিধানের **অনুচ্ছেদ ৪৮-৫৪** ও সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ অনুযায়ী)


---


#### **১. পদমর্যাদা (Status)**  

- **সংবিধানিক প্রধান:** রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের **সাংবিধানিক প্রধান** (অনুচ্ছেদ ৪৮)।  

- **প্রতীকী ও কার্যনির্বাহী ভূমিকা:** সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হলেও রাষ্ট্রপতির কিছু সাংবিধানিক ও জরুরি ক্ষমতা রয়েছে।  

- **নির্বাচন পদ্ধতি:**  

  - **সংসদ সদস্যদের দ্বারা** পরোক্ষভাবে নির্বাচিত (অনুচ্ছেদ ৪৮(২))।  

  - কার্যকাল **৫ বছর** (পুনর্নির্বাচনের যোগ্য)।  


---


### **২. ক্ষমতা ও কার্যাবলী (Powers & Functions)**  


#### **ক) সাংবিধানিক ক্ষমতা:**  

1. **আইন সংক্রান্ত:**  

   - সংসদে পাস হওয়া বিলে **সম্মতি দেওয়া** (অনুচ্ছেদ ৮০)।  

   - **অধ্যাদেশ জারি** করতে পারেন (সংসদ অধিবেশন না থাকলে, অনুচ্ছেদ ৯৩)।  


2. **নিয়োগ সংক্রান্ত:**  

   - **প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের** নিয়োগ (অনুচ্ছেদ ৫৬)।  

   - **সুপ্রীম কোর্টের বিচারক, নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক** প্রমুখের নিয়োগ।  


3. **সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক:**  

   - প্রতিরক্ষা কর্মকাণ্ডে **প্রতীকী নেতৃত্ব** (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)।  


4. **ক্ষমা প্রদর্শন:**  

   - **মৃত্যুদণ্ড বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা** করতে পারেন (অনুচ্ছেদ ৪৯)।  


---


#### **খ) জরুরি ক্ষমতা:**  

1. **জরুরি অবস্থা ঘোষণা (অনুচ্ছেদ ১৪১):**  

   - সংসদের অনুমোদন নিয়ে **১২০ দিন** পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বলবৎ রাখতে পারেন।  


2. **অস্থায়ী সরকার গঠন (নির্বাচনকালীন):**  

   - সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর **তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান** হিসেবে দায়িত্ব পালন (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে)।  


---


#### **গ) প্রতীকী দায়িত্ব:**  

- **আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব:** বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ ও সফর পরিচালনা।  

- **রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব:** স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে কেন্দ্রীয় ভূমিকা।  


---


### **৩. সীমাবদ্ধতা (Limitations)**  

- **প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বাধ্যতামূলক:** বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি **প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ ছাড়া** সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না (অনুচ্ছেদ ৪৮(৩))।  

- **রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা:** রাষ্ট্রপতি **সংসদ বা রাজনৈতিক দলের সদস্য** হতে পারবেন না।  

- **অভিশংসনের ঝুঁকি:** সংসদ **দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে** রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে (অনুচ্ছেদ ৫২)।  


---


### **৪. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা**  

- **১৯৭৫-১৯৯০:** একদলীয় শাসনামলে রাষ্ট্রপতি **প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা** ভোগ করতেন (৪র্থ সংশোধনী অনুযায়ী)।  

- **১৯৯১-বর্তমান:** সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর **প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা** কেন্দ্রীভূত হয়।  


---


### **৫. বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা**  

- **রাজনৈতিক সংকটে মধ্যস্থতা:** ২০০৬-০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্কে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা আলোচিত।  

- **সাংবিধানিক সংঘাত:** ১৬তম সংশোধনী বাতিল রায়ে রাষ্ট্রপতি-সংসদ সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক।  


---


### **সারসংক্ষেপ**  

| **বিষয়** | **বিবরণ** |

|-----------|------------|

| **পদমর্যাদা** | সাংবিধানিক প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন। |

| **প্রধান ক্ষমতা** | বিল অনুমোদন, নিয়োগ, ক্ষমা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা। |

| **সীমাবদ্ধতা** | প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বাধ্যতামূলক, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ। |

| **বিশেষ ভূমিকা** | সংকটকালে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষা। |


> **"রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক, তবে সংবিধান ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভেদে এর প্রভাব পরিবর্তনশীল।"** — বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ ড. রফিকুল ইসলাম।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান (Head of State), তবে কার্যকরভাবে তিনি মূলত প্রতীকীআনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনকারী। কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকলেও রাষ্ট্রপতি একটি সাংবিধানিক এবং সম্মানজনক পদ, যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব রয়েছে।


🏛️ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভিত্তি:

  • বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৮ থেকে ৫৪ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

  • বাংলাদেশ একটি সংসদীয় গণতন্ত্র, তাই রাষ্ট্রপতি মূলত অনুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে কাজ করেন।


🔷 রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা ও নিয়োগ

বিষয়ের নাম বিবরণ
পদমর্যাদা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত।
নিয়োগ পদ্ধতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে (অসাধারণ সভা) নির্বাচিত হন।
যোগ্যতা বাংলাদেশি নাগরিক, বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি, সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
মেয়াদ ৫ বছর (সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ)
পুনঃনির্বাচন টানা একবার পুনর্নির্বাচন হতে পারে
দায়মুক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন ফৌজদারি মামলা করা যায় না (সংবিধান ৫১ অনুচ্ছেদ)

🔷 রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী

✅ ১. নিয়োগ-সংক্রান্ত ক্ষমতা

  • প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ (সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে)

  • প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে:

    • মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ

    • বিচারপতি, সেনা, পুলিশ, প্রশাসনের শীর্ষপদে নিয়োগ

  • নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক, উপরাষ্ট্রপতি ইত্যাদির নিয়োগ


✅ ২. আইন সম্পর্কিত ক্ষমতা

  • সংসদে পাস হওয়া বিল অনুমোদন (ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তবে একবার সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন)

  • অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন (যদি সংসদ অধিবেশন না থাকে এবং জরুরি প্রয়োজন হয়)


✅ ৩. বিচারবিভাগ সংক্রান্ত ক্ষমতা

  • সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ

  • ক্ষমা, দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা (সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ)

  • ফৌজদারি দণ্ড মাফ করার একক ক্ষমতা রয়েছে।


✅ ৪. সামরিক ক্ষমতা

  • রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক

  • যুদ্ধ ঘোষণা ও শান্তি চুক্তি করার ক্ষমতা থাকলেও সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।


✅ ৫. সংসদ সম্পর্কিত ক্ষমতা

  • সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি ঘোষণা (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)

  • সংসদ ভেঙে দিতে পারেন (বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)

  • নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেন।


✅ ৬. অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যাবলী

  • বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানান

  • বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগে সম্মতি দেন

  • জাতীয় পুরস্কার প্রদান করেন

  • জাতীয় দিবসে ভাষণ দেন


📝 রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

দিক ব্যাখ্যা
নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে বাধ্য (সংবিধান ৪৮(৩))
স্বাধীন সিদ্ধান্তগ্রহণ সীমিত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারী হিসেবে কাজ করেন
প্রতীকী পদ কার্যকর ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে; রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করেন

🔚 উপসংহার

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি একটি সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদ। যদিও তিনি প্রধান নির্বাহী নন, তবুও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে তার উপস্থিতি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। সঠিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা দেশের শাসনব্যবস্থায় ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।



বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। তিনি বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক।1 সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক ও আলংকারিক। তবে, সংবিধান তাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও কার্যাবলী প্রদান করেছে।2

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা

১. রাষ্ট্রপ্রধান: রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।3 তিনি সমগ্র জাতির প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করেন।

২. সর্বোচ্চ পদাধিকারী: তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি এবং সংবিধান অনুযায়ী সকল ক্ষমতার উৎস জনগণের পক্ষে তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী।

৩. জাতির প্রতীক: রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে সমগ্র জাতির ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে কাজ করেন।

৪. সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক: সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়ক।4

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী

বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। যদিও তিনি মূলত একজন আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান, তবে কিছু ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী মূলত দুই ধরনের: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে প্রযুক্ত ক্ষমতা এবং স্বীয় বিবেচনাধীন ক্ষমতা

ক. প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে প্রযুক্ত ক্ষমতা (ক্ষমতার অধিকাংশ):

রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ ক্ষমতা ও কার্যাবলী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শক্রমে প্রযুক্ত হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, "প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এবং ৪৭ অনুচ্ছেদের (অধ্যাদেশ) শর্তাবলী পালন সাপেক্ষে, সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতির সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে হবে।"

১. প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ নিয়োগ:

* সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

* প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ করেন এবং তাদের মধ্যে দপ্তর বন্টন করেন।

* মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

২. আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা:

* বিলের সম্মতি: জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত যেকোনো বিলে রাষ্ট্রপতিকে সম্মতি দিতে হয়, যা ছাড়া কোনো বিল আইনে পরিণত হয় না। যদি তিনি ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি না দেন বা ফেরত পাঠান, এবং সংসদ তা পুনরায় পাস করে আবার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠায়, তবে ৭ দিনের মধ্যে তাকে সম্মতি দিতে হয়, অন্যথায় তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়।

* অধ্যাদেশ জারি (Ordinance): সংসদ অধিবেশন না থাকলে এবং জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি করতে পারেন, যার ক্ষমতা আইনের মতোই। তবে, এই অধ্যাদেশ সংসদের পরবর্তী প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে পেশ ও অনুমোদিত হতে হয়, অন্যথায় তা অকার্যকর হয়ে যায়।

৩. বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা:

* ক্ষমা প্রদর্শন: সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যেকোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দণ্ডাদেশ স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।5 এটি রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ ক্ষমতা।

* প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। অন্যান্য বিচারকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি প্রধান বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণ করেন।

৪. নির্বাহী ক্ষমতা (Executive Powers):

* নিয়োগ: অ্যাটর্নি জেনারেল, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণ, রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ, এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন।

* প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ: প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ করেন এবং তাদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করেন। তিনি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।6

* আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সম্পর্ক: অন্যান্য দেশের সাথে চুক্তি ও চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

৫. সংসদ বিষয়ক ক্ষমতা:

* সংসদ আহ্বান ও স্থগিত: রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন, স্থগিত করেন এবং সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

* সংসদ ভেঙে দেওয়া: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে তিনি জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।

* সংসদে ভাষণ: প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং যেকোনো সময় তিনি সংসদে ভাষণ দিতে পারেন।

খ. স্বীয় বিবেচনাধীন ক্ষমতা:

সংবিধানে স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রপতির কিছু ক্ষমতা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তিনি নিজ বিবেচনাধীন ব্যবহার করতে পারেন। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শের ক্ষেত্রে তিনি স্বীয় বিবেচনাধীন কাজ করেন।

১. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে অথবা জোট সরকার গঠনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, রাষ্ট্রপতি নিজ বিবেচনায় এমন একজন সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন, যার প্রতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা আছে বলে তার কাছে প্রতীয়মান হয়।

২. সংসদ ভঙ্গ: যদিও সংসদ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ভঙ্গ করা হয়, তবে সাংবিধানিক সংকটকালে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব বিবেচনার কিছু ক্ষেত্র থাকতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান এবং প্রধান নির্বাহীর ক্ষমতা মূলত তার হাতেই থাকে। রাষ্ট্রপতি মূলত একটি প্রতীকী ও আনুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে কাজ করেন, যার মূল ভূমিকা হলো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা। তার ক্ষমতা ও কার্যাবলী সংবিধান দ্বারা কঠোরভাবে নির্ধারিত, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান এবং সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী। রাষ্ট্রপতি আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কও বটে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ করেন এবং সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। 

এখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

পদমর্যাদা:

রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি। 

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন এবং সংবিধান ও আইনের দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। 

রাষ্ট্রপতিকে তাঁর দায়িত্ব পালনে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা যায় না। 

ক্ষমতা ও কার্যাবলী:

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। 

সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। 

রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও বাতিল করতে পারেন। 

প্রধানমন্ত্রী চাইলে রাষ্ট্রপতি যেকোনো বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করতে পারেন। 

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল শাখার আনুষ্ঠানিক প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

রাষ্ট্রপতি যুদ্ধ ঘোষণা বা শান্তি স্থাপন করতে পারেন, তবে এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ প্রয়োজন হয়। 

রাষ্ট্রপতি কোনো বিলে স্বাক্ষর করতে বা তাতে সম্মতি দিতে পারেন বা ভেটো দিতে পারেন। 

রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন। 

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের আওতায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি প্রয়োজন। 

রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত কর্তৃক দন্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারেন। 

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। 

সংক্ষেপে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান এবং সংসদীয় পদ্ধতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ, যাঁর উপর বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। 





  • : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকার গঠন করেন এবং মন্ত্রিপরিষদ পরিচালনা করেন। তিনি সরকারের নীতিমালা নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রধান ব্যক্তি।

  • : প্রধানমন্ত্রী সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে সরকার পরিচালনা করেন এবং সংসদের প্রতি জবাবদিহি রাখেন।

  • : দেশের নীতি-নির্ধারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি ও নির্দেশনা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব।

  • : বিদেশি রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

  • : রাষ্ট্রপতির অধীনে থাকলেও সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন প্রয়োজন।

  • : অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ ও বাজেট প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব থাকে।

  • : সংসদে আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিল উত্থাপন ও পাস করানো।

  • : দেশের নিরাপত্তা ও জনকল্যাণের জন্য জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

  • মন্ত্রিপরিষদ সভা আহ্বান ও পরিচালনা।

  • নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

  • সরকারি কর্মচারী নিয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ।

  • সংসদে সরকারের অবস্থান উপস্থাপন ও প্রশ্নোত্তর।

  • দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকি।

  • আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বৈঠকে দেশের প্রতিনিধিত্ব।

  • সরকারের জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করা।

  • বাংলাদেশের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতা সাধারণত প্রধানমন্ত্রী হন।

  • রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেন, যিনি সংসদে আস্থা পেতে পারেন।

  • প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও পরিচালনা করেন।

  • প্রধানমন্ত্রী পদে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন—এই বিষয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমত হয়েছে, যদিও কিছু শর্ত ও বিতর্ক রয়েছে12

  • প্রধানমন্ত্রী সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত দলের নেতা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন7

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের কার্যনির্বাহী শাখার প্রধান এবং সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করেন।

  1. https://www.bd-pratidin.com/first-page/2025/06/26/1130006
  2. https://bangla.thedailystar.net/news/bangladesh/politics/news-682131
  3. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE
  4. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80
  5. https://www.youtube.com/watch?v=-9M1_sjmhTI
  6. https://cabinet.gov.bd/site/biography/d8b5920d-5864-4cf2-9bc2-aa5aa734ce04/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80
  7. https://mopa.gov.bd/site/page/8cc09591-3282-4707-a4fe-e4ce0df3391d
  8. https://www.pmindia.gov.in/bn/gallery_image/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D-2/
  9. https://www.ittefaq.com.bd/732637/%E2%80%98%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E2%80%99
  10. https://www.bbc.com/bengali/articles/c9vry1eykmpo

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান এবং নির্বাহী বিভাগের প্রধান। তার ক্ষমতা ও কার্যাবলী বিস্তৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলী:

নির্বাহী ক্ষমতা:

  • মন্ত্রিসভার প্রধান হিসেবে সরকারি নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন
  • মন্ত্রীদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করা
  • সরকারি বিভাগসমূহের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ
  • জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

আইনগত ক্ষমতা:

  • সংসদের কাছে সরকারের হয়ে জবাবদিহিতা
  • বিল উত্থাপন ও পাসের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান
  • আইন প্রয়োগের তত্ত্বাবধান

প্রশাসনিক দায়িত্ব:

  • রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান
  • সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে ভূমিকা
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণার সুপারিশ

নির্বাচন পদ্ধতি:

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হন না। পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়:

ধাপসমূহ:

  1. জাতীয় সংসদ নির্বাচন: প্রথমে ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন
  2. সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন: যে দল বা জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়
  3. দলীয় নেতা নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন
  4. রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ: রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানান
  5. শপথ গ্রহণ: রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ

যোগ্যতা:

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  • কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স
  • সংসদ সদস্য হতে হবে
  • মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ
  • দেউলিয়া বা অপরাধী না হওয়া

এই পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশের সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার মেয়াদ সাধারণত পাঁচ বছর।


### **বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, কার্যাবলী ও নির্বাচন প্রক্রিয়া**  

**(সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫-৫৮ ও সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ অনুযায়ী)**


---


## **১. প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নির্বাচিত হন?**  

- **পরোক্ষ নির্বাচন:**  

  - **জাতীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) আস্থাভোটের মাধ্যমে** নির্বাচিত হন।  

  - সাধারণ নির্বাচনে **সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা** স্বাভাবিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হন।  

- **যোগ্যতা:**  

  - বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।  

  - সংসদ সদস্য (এমপি) হতে হবে।  

  - বয়স **কমপক্ষে ২৫ বছর** হতে হবে।  


---


## **২. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী**  


### **ক) নির্বাহী ক্ষমতা (Executive Powers)**  

1. **মন্ত্রিপরিষদের প্রধান:**  

   - মন্ত্রীদের নিয়োগ দেওয়া ও বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন (অনুচ্ছেদ ৫৫)।  

   - সরকারের সকল নীতি ও সিদ্ধান্তের মূল নির্ধারক।  


2. **প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ:**  

   - সকল সরকারি বিভাগ, মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকারের ওপর কর্তৃত্ব।  

   - সিভিল সার্ভিস, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম তদারকি।  


3. **আন্তর্জাতিক ক্ষমতা:**  

   - বিদেশি রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে চুক্তি স্বাক্ষর।  

   - জাতিসংঘ, জি-২০, সার্ক ইত্যাদিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব।  


---


### **খ) আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা (Legislative Role)**  

1. **সংসদীয় নেতা:**  

   - সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও স্থগিত রাখার সুপারিশ করেন।  

   - সরকারি বিল উত্থাপন ও পাস করানোর মূল দায়িত্ব তার।  


2. **অর্থবিল ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ:**  

   - বার্ষিক বাজেট প্রস্তুত ও সংসদে পাস করানো।  

   - নতুন কর বা শুল্ক প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা।  


---


### **গ) সংবিধানিক ও জরুরি ক্ষমতা**  

1. **জরুরি অবস্থা ব্যবস্থাপনা:**  

   - রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরামর্শ দিতে পারেন (অনুচ্ছেদ ১৪১)।  


2. **সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ:**  

   - প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারক নিয়োগে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন।  


3. **তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন (ঐতিহাসিক):**  

   - ১৯৯৬-২০১১ পর্যন্ত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতেন (বর্তমানে বাতিল)।  


---


## **৩. প্রধানমন্ত্রীর সীমাবদ্ধতা**  

✅ **সংসদের কাছে দায়বদ্ধ:** সংসদে প্রশ্নোত্তর ও বাজেট বিতর্কে জবাবদিহি করতে হয়।  

✅ **রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রয়োজন:** কিছু সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ছাড়া কার্যকর হয় না।  

❌ **স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা নেই:** সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে নন।  


---


## **৪. বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা**  

- **দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা:** শেখ হাসিনা **১৯৯৬-২০০১** ও **২০০৯-বর্তমান** পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।  

- **মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন:** পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো প্রকল্প তত্ত্বাবধান।  

- **রাজনৈতিক বিতর্ক:** বিরোধী দলগুলোর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানবাধিকার ইস্যুতে সমালোচনা।  


---


### **সারসংক্ষেপ: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব**  

| **বিষয়** | **বিবরণ** |

|-----------|------------|

| **নির্বাচন** | সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত। |  

| **প্রধান ক্ষমতা** | মন্ত্রিপরিষদ গঠন, প্রশাসন ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ, বিদেশনীতি নির্ধারণ। |  

| **আইন প্রণয়ন** | সংসদে বিল পাস করানো, বাজেট অনুমোদন। |  

| **সীমাবদ্ধতা** | সংসদ ও রাষ্ট্রপতির সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। |  


> **"প্রধানমন্ত্রীই বাংলাদেশের প্রকৃত নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যার হাতে সরকারের সকল কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত।"** — সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. আসিফ নজরুল।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন দেশের সরকার প্রধান (Head of Government) এবং কার্যকরভাবে সবচেয়ে ক্ষমতাধর নির্বাহী ব্যক্তি। সংসদীয় গণতন্ত্র অনুসারে, রাষ্ট্রপতির চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাস্তব ও কার্যকর ক্ষমতা অনেক বেশি।


🏛️ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পদ্ধতি

✅ কীভাবে প্রধানমন্ত্রী হন?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:

  • জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল বা জোটের নেতা হন প্রধানমন্ত্রী।

  • রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন

  • প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সংসদ সদস্য হতে হবে।

📌 অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী পরোক্ষভাবে জনগণ দ্বারা নির্বাচিত, কারণ সংসদ সদস্যদের জনগণ নির্বাচিত করে এবং সেই সংসদই প্রধানমন্ত্রীর জন্ম দেয়।


🔷 প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি

✅ ১. নির্বাহী ক্ষমতা

  • সরকার পরিচালনার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব তার হাতে।

  • মন্ত্রী পরিষদ গঠন ও পরিচালনা করেন।

  • সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তার অধীনে কাজ করে।

  • প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন।

✅ ২. মন্ত্রিসভা নিয়ন্ত্রণ

  • প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী নিয়োগ ও বরখাস্ত করেন।

  • মন্ত্রিসভার সভা আহ্বান, সভাপতিত্ব, ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দেন।

✅ ৩. রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান

  • রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চলতে বাধ্য (সংবিধান ৪৮(৩))।

  • বাজেট, যুদ্ধ ঘোষণা, বিল অনুমোদন, নির্বাচন কমিশন গঠন ইত্যাদিতে প্রধানমন্ত্রীর মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

✅ ৪. সংসদ বিষয়ক ক্ষমতা

  • সংসদ অধিবেশন আহ্বান বা মুলতবি করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন।

  • প্রয়োজনে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।

  • সংসদে আস্থাভোট বা অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে পারেন।

✅ ৫. সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতি

  • সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের সর্বোচ্চ তদারকি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে হয় (যদিও রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বাধিনায়ক)।

  • পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা তৈরি ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

✅ ৬. উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণ

  • রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ সব বড় নীতিনির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখেন।


🔷 সংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

ক্ষেত্র ক্ষমতা/কার্যাবলি
নির্বাহী প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ
আইনসভা সংসদের ওপর প্রভাব, আইন প্রস্তাবনা
বিচারব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগে ভূমিকা
বাজেট বাজেট প্রস্তুতির মূল নেতৃত্ব
কূটনীতি পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রম তদারকি

🔚 উপসংহার:

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হলেন রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি। তিনি শুধুমাত্র সরকারপ্রধান নন, বরং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির প্রধান স্থপতি। তাঁর দক্ষতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের ওপরই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।



বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সরকার প্রধান1 তিনি মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় দেশের নির্বাহী ক্ষমতার প্রকৃত অধিকারী।2 প্রধানমন্ত্রীর পদটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং দেশের সার্বিক কার্যক্রমে তার ব্যাপক ক্ষমতা ও কার্যাবলী রয়েছে।3

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কিভাবে নির্বাচিত হন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন না, বরং তিনি পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। এর প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

১. জাতীয় সংসদ নির্বাচন: প্রথমে সাধারণ জনগণ জাতীয় সংসদের ৩০০ জন সংসদ সদস্যকে (সাংসদ) সরাসরি ভোটে নির্বাচিত করে। এই নির্বাচন নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করে থাকে।

২. সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল: নির্বাচনের ফলাফলে যে রাজনৈতিক দল বা জোট জাতীয় সংসদের বেশিরভাগ আসনে (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) জয়লাভ করে, সেই দল বা জোটই সরকার গঠনের অধিকারী হয়।4

৩. সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বা জোট তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন নেতা নির্বাচন করে। এই নেতাই সাধারণত পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন।

৪. রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ: সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সেই সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন, যাকে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে তার নিকট প্রতীয়মান হয়।

৫. শপথ গ্রহণ: রাষ্ট্রপতির নিয়োগের পর, মনোনীত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেন এবং এরপর তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

সংক্ষেপে, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলেও, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আস্থা এবং তাদের দ্বারা নির্বাচিত দলের নেতা হিসেবেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।5

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী

বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীই হলেন সরকারের মূল কেন্দ্রবিন্দু।6 তার ক্ষমতা ও কার্যাবলী বিস্তৃত এবং বহুমাত্রিক।7

১. সরকার প্রধান হিসেবে ক্ষমতা:

  • শাসন কার্য পরিচালনা: প্রধানমন্ত্রী সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন।

  • মন্ত্রিপরিষদ গঠন ও পরিচালনা: তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করেন, মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন এবং তাদের কাজের তদারকি ও সমন্বয় সাধন করেন।8 তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে অপসারণও করতে পারেন।

  • নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন: সরকারের সকল গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তা বাস্তবায়িত হয়।9

  • মন্ত্রিপরিষদের প্রধান: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সকল সভার সভাপতিত্ব করেন এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।10

২. আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা:

  • সংসদ নেতা: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য এবং সংসদ নেতা। তিনি সংসদে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরে বক্তৃতা দেন এবং বিভিন্ন বিল পাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

  • আইন প্রণয়নের উদ্যোগ: সরকারের সকল গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই নেওয়া হয়।

  • অধ্যাদেশ জারি (পরামর্শ): সংসদ অধিবেশন না থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারির পরামর্শ দেন।

৩. প্রশাসনিক ক্ষমতা:

  • উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ: গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদ যেমন - সচিব, রাষ্ট্রদূত, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভিন্ন কমিশনের সদস্য ইত্যাদি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকে।

  • বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয়: সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কাজের সমন্বয় সাধন করেন, যাতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো জটিলতা না হয়।11

  • জাতীয় নিরাপত্তা: দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

৪. অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা:

  • বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপন: সরকারের বার্ষিক বাজেট প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা মুখ্য এবং তিনি বা অর্থমন্ত্রী তার পক্ষে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন।

  • আর্থিক নীতি নিয়ন্ত্রণ: দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতি, রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা অপরিহার্য।

৫. প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্ষমতা:

  • প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ: প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকতে পারেন অথবা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। যদিও রাষ্ট্রপতি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শই এখানে প্রধান।

  • যুদ্ধ ও শান্তি ঘোষণা: দেশ যুদ্ধ করবে কি করবে না, সেই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে আসে।

৬. বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা (পরোক্ষ):

  • বিচারক নিয়োগের প্রভাব: সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই নেওয়া হয়, যদিও সংবিধানে এটি রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত।

  • ক্ষমা প্রদর্শনের প্রভাব: রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা প্রয়োগেও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।

৭. দলীয় প্রধান ও জনসম্পৃক্ততা:

  • দলীয় নেতা: প্রধানমন্ত্রী সাধারণত দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং দলীয় সকল কার্যক্রম ও নীতি নির্ধারণে তার নেতৃত্ব প্রধান।12

  • জনগণ ও গণমাধ্যমের সাথে যোগাযোগ: তিনি দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের কাছে সরাসরি বক্তব্য রাখেন এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করেন।

৮. রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান:

  • সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতির অন্যান্য সকল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে প্রযুক্ত হয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতিকে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়। এর মধ্যে সংসদ আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার ও প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি।13 তার নেতৃত্বেই দেশের নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হয়।14 তিনি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। তিনি সরকারের প্রধান এবং মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী সরকারের নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন, এবং দেশের শাসন পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন।

সংক্ষেপে, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া:

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্য হতে বাধ্য এবং সাধারণত তিনি যে দল থেকে নির্বাচিত হন, সেই দলের সংসদ সদস্যদের আস্থাভাজন হন।

যদি কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, সেক্ষেত্রে একাধিক দল জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জোটের নেতা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। 

ক্ষমতা ও কার্যাবলী:

প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান এবং মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেন। 

তিনি সরকারের নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন, এবং দেশের শাসন পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন। 

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভার সদস্যদের নিয়োগ দেন এবং তাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। 

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। 

প্রধানমন্ত্রী সংসদের অধিবেশনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। 

জাতীয় স্বার্থে তিনি বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা ও বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন। 

প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। 

সংক্ষেপে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু এবং তার নেতৃত্বেই দেশ পরিচালিত হয়। 



রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, নীতি-নির্ধারণ, এবং প্রশাসন পরিচালনার জন্য গৃহীত মৌলিক নির্দেশনা বা নীতিমালাকে বোঝায়। এটি সাধারণত রাষ্ট্রের সংবিধানে উল্লিখিত থাকে এবং রাষ্ট্রের শাসনকাঠামো, নাগরিক অধিকার, শাসনের লক্ষ্য ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (ধারা ৮-২৫) বর্ণিত আছে। নিচে এর মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:


### ১. **মৌলিক নীতি** (ধারা ৮)

বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি হলো:

- **জাতীয়তাবাদ**: বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ঐক্য ও সংহতি।

- **সমাজতন্ত্র**: অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

- **গণতন্ত্র**: জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা।

- **ধর্মনিরপেক্ষতা**: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সকল ধর্মের প্রতি সমান আচরণ।


### ২. **গণতন্ত্র ও নির্বাচন** (ধারা ১১)

- রাষ্ট্র জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

- সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।


### ৩. **নাগরিক অধিকার ও সমতা** (ধারা ৯-১০)

- সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা।

- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো।


### ৪. **অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার** (ধারা ১৩-১৫)

- সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ।

- মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) নিশ্চিত করা।

- শ্রমিক, কৃষক ও নারীদের অধিকার সংরক্ষণ।


### ৫. **শিক্ষা ও সংস্কৃতি** (ধারা ১৭-২৩)

- বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।

- জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং উন্নয়ন।


### ৬. **সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ** (ধারা ১৫-১৬)

- দারিদ্র্য বিমোচন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

- গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লবের প্রচেষ্টা।


### ৭. **পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ** (ধারা ১৮ক)

- পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার।


### ৮. **আন্তর্জাতিক সম্পর্ক** (ধারা ২৫)

- শান্তি, সহযোগিতা ও অহিংস নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা।

- সকল জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান।


### **বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োগ**

- এই নীতিগুলো সংবিধানের মৌলিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে, তবে এগুলো সরাসরি আদালতে প্রয়োগযোগ্য নয় (ধারা ৮(২))।

- রাষ্ট্রের নীতি প্রণয়ন, আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এই নীতিগুলো দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।

- এগুলো জনগণের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়।


### **বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে**

বাংলাদেশের সংবিধানের এই মূলনীতিগুলো ১৯৭২ সালে প্রণীত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সংশোধনীর মাধ্যমে কিছু পরিবর্তন এসেছে (যেমন, ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ৮ম সংশোধনীতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা)। তবে, এই নীতিগুলো এখনো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।





ফ্লোর ক্রসিং (ইংরেজি: Floor Crossing) বলতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ সদস্যের নিজ দল বা জোট ত্যাগ করে অন্য দল বা জোটে যোগ দেওয়া বা তাদের পক্ষে ভোট দেওয়াকে বোঝায়। এটি সাধারণত সংসদীয় গণতন্ত্রে ঘটে, যেখানে একজন সংসদ সদস্য তাঁর দলের নীতি বা নির্দেশনার বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দেন বা দল পরিবর্তন করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ফ্লোর ক্রসিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দলীয় শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলে।


### **বাংলাদেশে ফ্লোর ক্রসিং**

বাংলাদেশের সংবিধানে ফ্লোর ক্রসিং নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সংবিধানের **ধারা ৭০** এ ফ্লোর ক্রসিং সম্পর্কিত বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মূল বিষয়গুলো হলো:


1. **নিষেধাজ্ঞা**:

   - কোনো সংসদ সদস্য যদি তাঁর নির্বাচিত দলের নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দেন বা ভোটদানে বিরত থাকেন, তবে তিনি তাঁর সংসদ সদস্য পদ হারাতে পারেন।

   - যদি কোনো সদস্য তাঁর দল ত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দেন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কোনো দলে যোগ দেন, তাহলেও তাঁর আসন শূন্য হয়।


2. **উদ্দেশ্য**:

   - এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধ করা।

   - ফ্লোর ক্রসিং প্রতিরোধের মাধ্যমে সরকার বা বিরোধী দলের শক্তি ভারসাম্যে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কমানো।


3. **ব্যতিক্রম**:

   - যদি কোনো সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়, তবে তিনি স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে সংসদে থাকতে পারেন, তবে অন্য দলে যোগ দিলে আসন হারাবেন।

   - দলের সম্মতি থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন ভোট দেওয়া যেতে পারে, তবে এটি বিরল।


### **ফ্লোর ক্রসিং-এর প্রভাব**

- **রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা**: ফ্লোর ক্রসিং নিষিদ্ধ করার ফলে সরকার বা বিরোধী দলের শক্তি হঠাৎ পরিবর্তনের ঝুঁকি কমে। তবে এটি কখনো কখনো সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত করে।

- **দলীয় আনুগত্য**: এটি দলের প্রতি আনুগত্য বাড়ায়, কিন্তু ব্যক্তিগত বিবেক বা নৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেয়।

- **বিতর্ক**: ধারা ৭০-কে কেউ কেউ অত্যন্ত কঠোর বলে মনে করেন, কারণ এটি সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা হরণ করে এবং দলীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়।


### **আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট**

বিশ্বের অনেক দেশে ফ্লোর ক্রসিং নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন আছে। উদাহরণস্বরূপ:

- **ভারত**: ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল (অ্যান্টি-ডিফেকশন আইন) ফ্লোর ক্রসিং নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বাংলাদেশের ধারা ৭০-এর মতোই কঠোর।

- **যুক্তরাজ্য**: সেখানে ফ্লোর ক্রসিং-এর উপর কঠোর বিধিনিষেধ নেই, তবে এটি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হতে পারে।


### **বাংলাদেশে উদাহরণ**

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ফ্লোর ক্রসিং-এর ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম, কারণ ধারা ৭০-এর কঠোর বিধান এটি প্রতিরোধ করে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বা বহিষ্কৃত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


### **সুবিধা ও অসুবিধা**

- **সুবিধা**:

  - দলীয় শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

  - সরকারের পতন বা অস্থিরতার ঝুঁকি কমে।

- **অসুবিধা**:

  - সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়।

  - দলীয় নেতৃত্বের প্রভাব বৃদ্ধি পায়, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রভাবিত করতে পারে।





সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে **স্পিকার** একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্পিকার সংসদের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ভূমিকা পালন করেন। সংবিধানের **ধারা ৭৪** এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারিত হয়। নিচে স্পিকারের ভূমিকা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:


### **স্পিকারের প্রধান ভূমিকা ও দায়িত্ব**

1. **সংসদীয় অধিবেশন পরিচালনা**:

   - স্পিকার সংসদের অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন এবং সভার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।

   - তিনি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) অনুসরণ করে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিল পাস, এবং অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন।

   - সভায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক বা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা তাঁর দায়িত্ব।


2. **নিরপেক্ষতা বজায় রাখা**:

   - স্পিকারকে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি দলীয় পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত থাকেন এবং সকল সদস্যের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন।

   - স্পিকার সাধারণত ভোট প্রদানে অংশ নেন না, তবে ভোটে টাই (সমান ভোট) হলে তিনি নির্ধারক ভোট (Casting Vote) দিতে পারেন।


3. **সংসদীয় কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান**:

   - স্পিকার সংসদীয় কমিটিগুলোর গঠন ও কার্যক্রম তদারকি করেন।

   - তিনি সংসদ সদস্যদের বক্তৃতার সময় নির্ধারণ, প্রশ্ন উত্থাপন, এবং মোশন (প্রস্তাব) গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা রাখেন।

   - সংসদে উত্থাপিত বিল, প্রস্তাব, এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সংবিধান ও বিধি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য কিনা তা নির্ধারণ করেন।


4. **সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ**:

   - সংসদে অশোভন আচরণ, বিধি লঙ্ঘন, বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে স্পিকার ব্যবস্থা নিতে পারেন, যেমন সদস্যকে সতর্ক করা, সভা থেকে বের করে দেওয়া, বা সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা।

   - তিনি সংসদের মর্যাদা ও গাম্ভীর্য রক্ষা করেন।


5. **সংবিধানের প্রতিনিধিত্ব**:

   - স্পিকার সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামে অংশ নেন এবং সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেন।

   - তিনি রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে বা পদ শূন্য হলে অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন (সংবিধানের ধারা ৭৪(৩))।


6. **ফ্লোর ক্রসিং নিয়ন্ত্রণ**:

   - সংবিধানের ধারা ৭০ অনুযায়ী, ফ্লোর ক্রসিং (দল ত্যাগ বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া) সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংসদ সদস্যের আসন শূন্য ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখেন।


7. **প্রশাসনিক দায়িত্ব**:

   - স্পিকার সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

   - তিনি সংসদ ভবন, সচিবালয়, এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি পরিচালনার তত্ত্বাবধান করেন।


### **বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে**

- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের কোনো সিনিয়র সদস্য এ পদে নির্বাচিত হন।

- বর্তমানে (অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হলেন **শিরীন শারমিন চৌধুরী**, যিনি ২০১৩ সাল থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন।

- স্পিকারের পাশাপাশি একজন ডেপুটি স্পিকার থাকেন, যিনি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন।


### **চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক**

- **নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন**: ক্ষমতাসীন দল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় কখনো কখনো স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধী দল প্রশ্ন তুলতে পারে।

- **সংসদে শৃঙ্খলা**: বাংলাদেশের সংসদে কখনো কখনো বিরোধী দলের সদস্যদের বয়কট বা উত্তেজনার কারণে স্পিকারের ভূমিকা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।

- **ধারা ৭০-এর প্রয়োগ**: ফ্লোর ক্রসিং-এর ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্ত কখনো বিতর্কের কারণ হতে পারে।


### **গুরুত্ব**

স্পিকার সংসদের মর্যাদা, গণতান্ত্রিক চর্চা, এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন। তাঁর নিরপেক্ষ ও দক্ষ ভূমিকা সংসদের কার্যকারিতা ও গণতন্ত্রের সফলতার জন্য অপরিহার্য।






সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী বিষয়বস্তু ছিলো নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংরক্ষণ, অর্থ বিল, সংসদ সদস্যদের শপথ ও সাংবিধানিক বিভিন্ন পদের বয়স বৃদ্ধি। এ বিলটি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ২৭ মার্চ ও ২৮ এপ্রিল ২০০৪ সালে সংসদে উত্থাপন করেন। পাশ হয় ১৬ মে এবং রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেন ১৭ মে ২০০৪। বিএনপি জামায়াত জোট সরকার বিরোধীদলের অনুপস্থিতিতেই কোন প্রকার অর্থবহ আলোচনা ছাড়াই মাত্র আড়াই ঘণ্টায় বিলটি পাশ করে। চতুর্দশ সংশোধনী বিলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:- ১। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের কার্যালয়ে এবং বিদেশে দূতাবাসে ও মিশন সমূহে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি (ছবি) প্রদর্শন করতে হবে। ২। এর অতিরিক্ত কেবল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের কার্যালয় এবং সকল অতিরিক্ত ও আধাসরকারি অফিস, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে অবস্থিত মিশনসমূহে প্রদর্শন করতে হবে। ৩। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর। ৪। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যানের ও সদস্যদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ থেকে ৬৫ বছর।

 আ.লীগের পুনর্বাসন: রাজনৈতিক কোন দল কী চায়

সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধন এর ফলে:-

১। সর্বত্রই জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি নামিয়ে ফেলা হয়।

২। সর্বত্রই কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি (ছবি) প্রদর্শন বাধ্যতামূলক হয় ।

৩। দেশে তিনটি জায়গায় এবং বিদেশে দূতাবাস ও মিশনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে রাষ্ট্রপতির ছবি প্রদর্শিত হয়।

৪। কে.এম. হাসান নামের একজন বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হওয়ার ও সুযোগ সৃষ্টি হয়।

৫। আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০১ সালে ‘জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ প্রদর্শন’ আইন বাতিল হয় । 

৬। জাতির পিতা বা স্থপতি অস্বীকার করা হয়।

চতুর্দশ সংশোধনীর প্রয়োজনে সংবিধানে নূতন অনুচ্ছেদ ৪ক সন্নিবেশিত হয়। এছাড়া অনুচ্ছেদ ৬৫, ৮২, ৯৬, ১২৯, ১৩৯, ১৪৮ এবং চতুর্থ তফসিলে সংশোধন করা হয়।

চতুর্দশ সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা অস্বীকার করা এবং আসন্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কে.এম. হাসানকে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগের কঠোর আন্দোলনে কে.এম. হাসান সদ্য অবসরপ্রাপ্ত হয়েও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হতে পারেন নাই। ফলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন নিজেই সে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এক পর্যায়ে ক্ষমতা অদৃশ্য শক্তির করতলগত হয়। ইতিহাসে এটাই ওয়ান ইলেভেন এবং সামরিক সমর্থন পুষ্ট সরকার কিংবা আধা সামরিক শাসন বলে আখ্যায়িত হয়।





বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে **বিরোধী দলের** ভূমিকা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ। বিরোধী দল সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের সংবিধান এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) অনুযায়ী বিরোধী দলের ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। নিচে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:


### **বিরোধী দলের প্রধান ভূমিকা ও দায়িত্ব**


1. **সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা**:

   - বিরোধী দল সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রমের সমালোচনা করে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।

   - সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব, মোশন, এবং আলোচনার মাধ্যমে তারা সরকারের কার্যক্রম তদারকি করে।


2. **বিকল্প নীতি প্রস্তাব**:

   - বিরোধী দল সরকারের নীতির বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এটি জনগণের সামনে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এবং গণতান্ত্রিক বিতর্ককে সমৃদ্ধ করে।

   - উদাহরণস্বরূপ, বাজেট আলোচনার সময় বিরোধী দল তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে।


3. **আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ**:

   - বিরোধী দল সংসদে উত্থাপিত বিলের ওপর আলোচনা করে, সংশোধনী প্রস্তাব করে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রভাব বিস্তার করে।

   - তারা সরকারি বিলে ত্রুটি বা জনবিরোধী দিক তুলে ধরে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করতে সহায়তা করে।


4. **জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করা**:

   - বিরোধী দল জনগণের অভিযোগ, সমস্যা এবং দাবি সংসদে তুলে ধরে।

   - বিশেষ করে সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং সরকারের নীতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে কথা বলে।


5. **সংসদীয় কমিটিতে অংশগ্রহণ**:

   - বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদীয় কমিটিগুলোতে (যেমন, স্থায়ী কমিটি, বিশেষ কমিটি) অংশ নিয়ে সরকারের কার্যক্রম তদারকি করে।

   - কিছু ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যরা এসব কমিটির নেতৃত্বও দেন।


6. **নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা**:

   - বিরোধী দল ভবিষ্যত নির্বাচনের জন্য জনগণের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে সংসদে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা তুলে ধরে।

   - তারা সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে জনগণের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করে।


7. **নেতা বিরোধী দলের ভূমিকা**:

   - সংসদে বিরোধী দলের নেতা (Leader of the Opposition) সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সমপর্যায়ের মর্যাদা পান এবং সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেন।

   - তিনি সরকারের নীতির সমালোচনা, বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলের সমন্বয় সাধন করেন।


### **বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলের ভূমিকা**

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রায়শই চ্যালেঞ্জিং এবং বিতর্কিত হয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য দিক:

- **দুর্বল বিরোধী দল**: সাম্প্রতিক কয়েকটি সংসদে (যেমন, ১০ম ও ১১তম সংসদ) বিরোধী দলের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হলেও তাদের সংসদে প্রভাব সীমিত ছিল।

- **সংসদ বয়কট**: বিরোধী দলগুলো (বিশেষ করে বিএনপি) কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন বা সংসদ বয়কট করেছে, যা তাদের সংসদীয় ভূমিকাকে সীমিত করেছে।

- **ধারা ৭০-এর প্রভাব**: সংবিধানের ধারা ৭০ (ফ্লোর ক্রসিং নিষিদ্ধ) বিরোধী দলের সদস্যদের দলীয় নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য করে, যা তাদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ কমিয়ে দেয়।

- **রাজনৈতিক মেরুকরণ**: বাংলাদেশের রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণের কারণে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা প্রায়শই বাধাগ্রস্ত হয়।


### **বর্তমান পরিস্থিতি (অক্টোবর ২০২৫)**

- বর্তমান ১২তম জাতীয় সংসদে (২০২৪ সালে নির্বাচিত) জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছে, তবে তাদের আসন সংখ্যা সীমিত। এছাড়া, স্বতন্ত্র সদস্য এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোও সংসদে বিরোধী ভূমিকা পালন করছে।

- বিরোধী দলের নেতা হিসেবে জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেতা দায়িত্ব পালন করছেন, তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের প্রভাব সীমিত।


### **চ্যালেঞ্জ**

- **দুর্বল উপস্থিতি**: সংসদে বিরোধী দলের সীমিত আসন সংখ্যা তাদের কার্যকারিতা হ্রাস করে।

- **সরকারের প্রাধান্য**: ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিরোধী দলের প্রস্তাব বা সমালোচনা প্রায়শই গৃহীত হয় না।

- **বয়কট ও অংশগ্রহণের অভাব**: প্রধান বিরোধী দলগুলোর (যেমন, বিএনপি) সংসদে অনুপস্থিতি বিরোধী দলের ভূমিকাকে দুর্বল করে।

- **শৃঙ্খলার অভাব**: সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক বা অশোভন আচরণ বিরোধী দলের ইমেজের ক্ষতি করে।


### **গুরুত্ব**

বিরোধী দল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, জনগণের অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে বিরোধী দলের কার্যকর উপস্থিতি ও গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।





বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে **বিল** হলো এমন একটি প্রস্তাবিত আইন, যা সংসদে উত্থাপিত হয় এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাস হলে আইনে পরিণত হয়। বিল সাধারণত দুই ধরনের হয়: **সরকারি বিল** এবং **বেসরকারি বিল**। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:


### **বিল কী?**

- বিল হলো একটি খসড়া আইন, যা সংসদে উত্থাপন করা হয় আলোচনা, সংশোধন এবং অনুমোদনের জন্য।

- বাংলাদেশের সংবিধান এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) অনুযায়ী বিল পাসের জন্য তিনটি পর্যায়ে পড়া (Reading) এবং সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

- বিল পাস হলে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়, এবং অনুমোদন পেলে তা আইনে পরিণত হয়।


### **সরকারি বিল ও বেসরকারি বিলের পার্থক্য**


| **বিষয়** | **সরকারি বিল** | **বেসরকারি বিল** |

|-----------|----------------|------------------|

| **সংজ্ঞা** | সরকারের পক্ষ থেকে (মন্ত্রী বা সরকারি প্রতিনিধি) সংসদে উত্থাপিত বিল। | সংসদ সদস্যদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত সদস্য (সাধারণত বিরোধী দল বা স্বতন্ত্র সদস্য) কর্তৃক উত্থাপিত বিল। |

| **উত্থাপনকারী** | সরকারের কোনো মন্ত্রী বা সরকারি প্রতিনিধি। | যেকোনো সংসদ সদস্য, যিনি সরকারের অংশ নন (Private Member)। |

| **উদ্দেশ্য** | সরকারের নীতি, প্রশাসনিক প্রয়োজন বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন। | জনসাধারণের স্বার্থে বা সংসদ সদস্যের নিজস্ব উদ্যোগে কোনো বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব। |

| **অগ্রাধিকার** | সরকারি বিল সংসদে অগ্রাধিকার পায় এবং দ্রুত আলোচনা ও পাসের সম্ভাবনা বেশি। | বেসরকারি বিলের অগ্রাধিকার কম, এবং এগুলো পাস হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। |

| **উদাহরণ** | বাজেট বিল, অর্থ বিল, জাতীয় নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত বিল। | নারী অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা বা স্থানীয় সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো সংসদ সদস্যের প্রস্তাবিত বিল। |

| **প্রক্রিয়া** | সরকারি বিল সাধারণত সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সহজে পাস হয়। | বেসরকারি বিলের ক্ষেত্রে সরকারের সমর্থন না থাকলে পাস হওয়া কঠিন। |

| **আর্থিক বিল** | অর্থ বিল (Money Bill) শুধু সরকারই উত্থাপন করতে পারে (সংবিধানের ধারা ৮১)। | বেসরকারি সদস্য অর্থ বিল উত্থাপন করতে পারেন না। |

| **প্রস্তুতি** | সরকারি বিল সাধারণত মন্ত্রণালয় বা সরকারি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়। | বেসরকারি বিল সংসদ সদস্য নিজে বা সীমিত সহায়তায় প্রস্তুত করেন। |


### **বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে**

- **সরকারি বিল**: বাংলাদেশের সংসদে বেশিরভাগ বিল সরকারি বিল হয়, কারণ ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এগুলো সহজে পাস হয়। উদাহরণস্বরূপ, বার্ষিক বাজেট বিল বা জাতীয় নিরাপত্তা আইন সংশোধনী বিল।

- **বেসরকারি বিল**: বেসরকারি বিল খুব কমই সংসদে উত্থাপিত হয় এবং পাস হওয়ার সম্ভাবনা আরও কম। বিরোধী দল বা স্বতন্ত্র সদস্যরা মাঝে মাঝে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেসরকারি বিল উত্থাপন করেন, তবে সরকারের সমর্থন না থাকলে এগুলো সাধারণত আলোচনার পর্যায়ে থেমে যায়।

- **কার্যপ্রণালী**: সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্যকে নির্দিষ্ট নোটিশ দিতে হয় এবং স্পিকারের অনুমোদন প্রয়োজন। সরকারি বিলের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সহজতর হয়।


### **বিল পাসের প্রক্রিয়া (উভয়ের জন্য প্রযোজ্য)**

1. **প্রথম পাঠ**: বিল উত্থাপন করা হয় এবং সাধারণভাবে পরিচিতি দেওয়া হয়।

2. **দ্বিতীয় পাঠ**: বিলের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, সংশোধনী প্রস্তাব করা যায়।

3. **তৃতীয় পাঠ**: বিলের চূড়ান্ত রূপ নিয়ে ভোটাভুটি হয় এবং পাস হলে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।

4. **রাষ্ট্রপতির অনুমোদন**: রাষ্ট্রপতি বিলে সম্মতি দিলে তা আইনে পরিণত হয়। তিনি বিল ফেরত পাঠালে সংসদ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।


### **গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ**

- **সরকারি বিল**: এগুলো সরকারের নীতি বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার। তবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কখনো কখনো পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই পাস হয়, যা বিতর্কের কারণ হতে পারে।

- **বেসরকারি বিল**: এগুলো সংসদ সদস্যদের স্বাধীন উদ্যোগের প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু সরকারের সমর্থনের অভাবে এগুলোর সফলতার হার কম। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা যায়।


### **উদাহরণ**

- **সরকারি বিল**: ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা বার্ষিক বাজেট বিল।

- **বেসরকারি বিল**: কোনো সংসদ সদস্য কর্তৃক পরিবেশ সুরক্ষা বা নারী অধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিল (যদিও এ ধরনের বিল খুব কমই পাস হয়)।





বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় **কমিটি** সংসদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সুষ্ঠু এবং তদারকিমূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংসদীয় কমিটিগুলো সংসদের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত তদন্ত, পর্যালোচনা এবং নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) অনুযায়ী কমিটির কাজ নির্ধারিত হয়। নিচে সংসদীয় কমিটির প্রধান কাজগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:


### **সংসদীয় কমিটির প্রকারভেদ**

কমিটির কাজ বোঝার আগে জানা দরকার যে, বাংলাদেশের সংসদে বিভিন্ন ধরনের কমিটি রয়েছে:

1. **স্থায়ী কমিটি (Standing Committees)**: প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক স্থায়ী কমিটি থাকে, যেমন অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি।

2. **বিশেষ কমিটি (Select Committees)**: নির্দিষ্ট বিল বা বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত।

3. **অন্যান্য কমিটি**: যেমন, সরকারি হিসাব কমিটি, সুযোগ-সুবিধা কমিটি, পিটিশন কমিটি, ব্যবসায় পরামর্শক কমিটি ইত্যাদি।


### **সংসদীয় কমিটির কাজ**


1. **সরকারের কার্যক্রম তদারকি**:

   - কমিটিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

   - উদাহরণস্বরূপ, সরকারি হিসাব কমিটি (Public Accounts Committee) সরকারি ব্যয় এবং আর্থিক শৃঙ্খলা তদারকি করে।


2. **বিল পর্যালোচনা ও সংশোধনী প্রস্তাব**:

   - সংসদে উত্থাপিত বিলগুলো বিশদভাবে পরীক্ষা করার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়।

   - কমিটি বিলের ধারা-উপধারা পর্যালোচনা করে, সংশোধনী প্রস্তাব করে এবং সংসদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

   - বিশেষ করে বিশেষ কমিটি বা স্থায়ী কমিটি এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


3. **নীতি প্রণয়নে সহায়তা**:

   - কমিটিগুলো সরকারের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদান করে।

   - তারা বিশেষজ্ঞদের মতামত, জনগণের প্রতিক্রিয়া এবং গবেষণার ভিত্তিতে নীতি সংক্রান্ত সুপারিশ তৈরি করে।


4. **জনগণের অভিযোগ শ্রবণ**:

   - কিছু কমিটি (যেমন, পিটিশন কমিটি) জনগণের অভিযোগ বা আবেদন শুনে সেগুলোর সমাধানের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করে।

   - এটি জনগণের সঙ্গে সংসদের সংযোগ স্থাপন করে।


5. **তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরি**:

   - কমিটিগুলো নির্দিষ্ট বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করে, যেমন দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।

   - তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে তারা সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয়, যা সরকারের পদক্ষেপের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।


6. **আর্থিক তদারকি**:

   - সরকারি হিসাব কমিটি, সরকারি প্রাক্কলন কমিটি (Public Estimates Committee) এবং সরকারি উদ্যোগ কমিটি (Committee on Public Undertakings) সরকারি ব্যয়, বাজেট বাস্তবায়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে।

   - তারা আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।


7. **সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা**:

   - ব্যবসায় পরামর্শক কমিটি (Business Advisory Committee) সংসদের কার্যসূচি নির্ধারণে স্পিকারকে সহায়তা করে।

   - এটি সংসদের অধিবেশনের সময়সূচি, আলোচ্য বিষয় এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে।


8. **সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ন্ত্রণ**:

   - সুযোগ-সুবিধা কমিটি (Committee of Privileges) সংসদ সদস্যদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা রক্ষা এবং লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে।

   - এটি সংসদের মর্যাদা ও সদস্যদের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে।


### **বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে**

- বাংলাদেশের সংসদে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে স্থায়ী কমিটি রয়েছে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।

- উল্লেখযোগ্য কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  - **সরকারি হিসাব কমিটি**: সরকারি ব্যয় ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা।

  - **অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি**: বাজেট ও আর্থিক নীতি তদারকি।

  - **ব্যবসায় পরামর্শক কমিটি**: সংসদের কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ।

- কমিটির সদস্যরা সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন, এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যরা উভয়ই এতে অংশ নেন।


### **চ্যালেঞ্জ**

- **সরকারের প্রভাব**: ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কমিটিগুলোর কার্যক্রমে সরকারের প্রভাব থাকতে পারে, যা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

- **কার্যকারিতার সীমাবদ্ধতা**: কমিটির সুপারিশগুলো সরকার বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করতে বাধ্য নয়, ফলে অনেক ক্ষেত্রে এগুলো কার্যকর হয় না।

- **সম্পদ ও দক্ষতার অভাব**: কমিটিগুলোর তদন্ত ও পর্যালোচনার জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ বা বিশেষজ্ঞ সহায়তার অভাব থাকতে পারে।

- **বিরোধী দলের দুর্বল উপস্থিতি**: বিরোধী দলের সীমিত অংশগ্রহণ কমিটির কার্যক্রমের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।


### **গুরুত্ব**

সংসদীয় কমিটিগুলো সংসদের কার্যক্রমকে আরও বিশেষায়িত ও গভীর করে। তারা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে কমিটি ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো গেলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হতে পারে।





বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বা আইন পরিষদে **ব্যাক বেঞ্চার সদস্য** (Backbencher) বলতে সেই সংসদ সদস্যদের বোঝায়, যারা সরকার বা বিরোধী দলের নেতৃস্থানীয় পদে (যেমন, মন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, হুইপ, বা কমিটির চেয়ারম্যান) নেই এবং সংসদের অধিবেশনে পেছনের সারিতে বসেন। এরা সাধারণত ক্ষমতাসীন দল বা বিরোধী দলের সাধারণ সদস্য হন, যাদের কোনো প্রশাসনিক বা নীতিনির্ধারণী পদ নেই। তবে, তাদের ভূমিকা সংসদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ব্যাক বেঞ্চার সদস্যদের পরিচয় এবং তাদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:


### **ব্যাক বেঞ্চার সদস্য কারা?**

- **সংজ্ঞা**: ব্যাক বেঞ্চার সদস্যরা হলেন সেই সংসদ সদস্য (এমপি), যারা সরকার বা বিরোধী দলের নেতৃত্বের অংশ নন এবং সংসদের কক্ষে সাধারণত পেছনের সারিতে (Backbench) বসেন। এরা কোনো মন্ত্রী, ডেপুটি মন্ত্রী, হুইপ, বা সংসদীয় কমিটির প্রধান নন।

- **অবস্থান**: বাংলাদেশের সংসদে স্পিকারের মুখোমুখি বসার ব্যবস্থায় সামনের সারিতে মন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা বসেন। ব্যাক বেঞ্চাররা তাদের পেছনে বসেন।

- **উদাহরণ**: বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বা বিরোধী দলের (যেমন, জাতীয় পার্টি বা বিএনপি) সাধারণ সংসদ সদস্যরা, যারা কোনো নেতৃত্বের পদে নেই, ব্যাক বেঞ্চার হিসেবে বিবেচিত হন।


### **ব্যাক বেঞ্চার সদস্যদের ভূমিকা**

ব্যাক বেঞ্চার সদস্যরা সংসদের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের প্রধান কাজগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:


1. **আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ**:

   - ব্যাক বেঞ্চার সদস্যরা সংসদে উত্থাপিত বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নেন, মতামত প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনে সংশোধনী প্রস্তাব করেন।

   - তারা বেসরকারি বিল (Private Member’s Bill) উত্থাপন করতে পারেন, যদিও বাংলাদেশে এটি খুব কম ঘটে।


2. **জনগণের প্রতিনিধিত্ব**:

   - ব্যাক বেঞ্চাররা তাদের নির্বাচনী এলাকার জনগণের সমস্যা, দাবি এবং অভিযোগ সংসদে তুলে ধরেন।

   - তারা প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করে স্থানীয় সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন।


3. **সরকারের তদারকি**:

   - ব্যাক বেঞ্চাররা, বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যরা, সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন।

   - তারা সংসদে সরকারি নীতির ত্রুটি বা জনবিরোধী দিক তুলে ধরেন।


4. **সংসদীয় কমিটিতে অংশগ্রহণ**:

   - ব্যাক বেঞ্চার সদস্যরা বিভিন্ন সংসদীয় কমিটিতে (যেমন, স্থায়ী কমিটি, সরকারি হিসাব কমিটি) সদস্য হিসেবে কাজ করেন এবং সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা, তদন্ত এবং সুপারিশ প্রদানে অংশ নেন।

   - কিছু ক্ষেত্রে তারা কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন, তবে সাধারণত তারা সদস্য হিসেবে কাজ করেন।


5. **দলীয় নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা**:

   - ক্ষমতাসীন দলের ব্যাক বেঞ্চাররা দলের নীতি ও কর্মসূচি সমর্থন করেন এবং সংসদে দলীয় অবস্থান বজায় রাখেন।

   - বিরোধী দলের ব্যাক বেঞ্চাররা দলের সমালোচনামূলক অবস্থান তুলে ধরেন এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করেন।


6. **জনমত গঠন**:

   - ব্যাক বেঞ্চাররা সংসদে তাদের বক্তৃতা ও আলোচনার মাধ্যমে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।

   - তারা স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যুতে সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করেন।


7. **গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা**:

   - ব্যাক বেঞ্চাররা সংসদে স্বাধীন মতামত প্রকাশের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করেন।

   - তবে, বাংলাদেশের সংবিধানের **ধারা ৭০** (ফ্লোর ক্রসিং নিষিদ্ধ) তাদের দলের নির্দেশনার বাইরে মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত করে।


### **বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ব্যাক বেঞ্চারদের ভূমিকা**

- **সীমিত প্রভাব**: বাংলাদেশের সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ব্যাক বেঞ্চারদের প্রভাব কখনো কখনো সীমিত থাকে। বিশেষ করে ধারা ৭০-এর কারণে তারা দলীয় নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য।

- **বিরোধী ব্যাক বেঞ্চার**: বিরোধী দলের ব্যাক বেঞ্চাররা সরকারের সমালোচনা ও জনগণের সমস্যা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে, বিরোধী দলের দুর্বল উপস্থিতি (যেমন, ১০ম বা ১১তম সংসদে) তাদের ভূমিকাকে সীমিত করেছে।

- **ক্ষমতাসীন ব্যাক বেঞ্চার**: আওয়ামী লীগের ব্যাক বেঞ্চাররা সরকারি নীতি সমর্থন এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করে। তারা প্রায়শই স্থানীয় সমস্যা সংসদে তুলে ধরেন।

- **উদাহরণ**: বাংলাদেশের ১২তম সংসদে (২০২৪ সালে নির্বাচিত) ব্যাক বেঞ্চাররা বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যু (যেমন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা সমস্যা) তুলে ধরছেন এবং সংসদীয় কমিটিতে অংশ নিচ্ছেন।


### **চ্যালেঞ্জ**

- **ধারা ৭০-এর সীমাবদ্ধতা**: ব্যাক বেঞ্চাররা দলের নির্দেশনার বাইরে মত প্রকাশ করলে তাদের আসন হারানোর ঝুঁকি থাকে, যা তাদের স্বাধীনতা সীমিত করে।

- **সীমিত প্রভাব**: সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রাধান্যের কারণে ব্যাক বেঞ্চারদের প্রস্তাব বা সমালোচনা প্রায়শই গৃহীত হয় না।

- **দক্ষতা ও সচেতনতার অভাব**: কিছু ব্যাক বেঞ্চার সংসদীয় প্রক্রিয়া বা কমিটির কাজে পর্যাপ্ত অবদান রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে কার্যকারিতা হারান।


### **গুরুত্ব**

ব্যাক বেঞ্চার সদস্যরা সংসদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করেন। তারা স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং সংসদীয় আলোচনাকে সমৃদ্ধ করেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখে।


No comments:

Post a Comment