Search This Blog

Sunday, August 3, 2025

সংক্ষিপ্ত POL-207 Military and Politics in the Third World (with Special Reference to Bangladesh) তৃতীয় বিশ্বের সামরিক ও রাজনীতি (বাংলাদেশের বিশেষ উল্লেখ সহ) (Dr. Mohammad Sohrab Hossain)

 সামরিক পেশাদারিত্ব (Military Professionalism) বলতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আচরণবিধি, দক্ষতা, এবং নৈতিকতাকে বোঝায়, যা তাদের কর্মজীবনে সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক বাহিনীর প্রতি আনুগত্য, শৃঙ্খলা, এবং দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করা, যা একটি সুশৃঙ্খল এবং কার্যকর সামরিক বাহিনী গঠন করে। 

সামরিক পেশাদারিত্বের মূল উপাদানগুলো হলো:

শৃঙ্খলা ও আনুগত্য:

সামরিক পেশাদারিত্বের প্রথম এবং প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আনুগত্য বজায় রাখা। সৈন্যদের অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং তাদের নির্দেশাবলী অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে হবে। 

দক্ষতা:

সামরিক পেশাদারিত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামরিক সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। সৈন্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের যুদ্ধ দক্ষতা, কৌশলগত জ্ঞান এবং শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। 

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ:

সামরিক পেশাদারিত্বে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সৈন্যদের অবশ্যই সততা, ন্যায়পরায়ণতা, এবং শ্রদ্ধার মতো নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। 

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা:

সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন বা বিরোধিতা করা উচিত নয়। 

সাংবিধানিক আনুগত্য:

সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকতে হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে হবে। 

নাগরিকদের নিরাপত্তা:

সামরিক বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাদের জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। 

জনগণের সেবা:

সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। 

মোটকথা, সামরিক পেশাদারিত্ব একটি সামরিক বাহিনীর সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। এটি একটি সুশৃঙ্খল, দক্ষ, এবং নৈতিকভাবে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করে, যা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। 




আধুনিক সামরিক বাহিনীর পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল: ১. প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব, ২. প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্ব, ৩. সুসংগঠিত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ৪. দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও অভিযোজন ক্ষমতা এবং ৫. সুপরিকল্পিত সরবরাহ ও রসদ ব্যবস্থা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি আধুনিক সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে আরও কার্যকর করে তোলে।
১. প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব: আধুনিক সামরিক বাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যেমন - উন্নত যুদ্ধাস্ত্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নজরদারি সরঞ্জাম এবং সাইবার যুদ্ধ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে।
২. প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্ব: সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কঠোর প্রশিক্ষণ এবং উন্নত সামরিক শিক্ষার মাধ্যমে পেশাদারিত্বের একটি উচ্চ মান বজায় রাখা হয়। নিয়মিত অনুশীলন এবং সিমুলেশন যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
৩. সুসংগঠিত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: একটি সুসংগঠিত কমান্ড কাঠামো এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য তাদের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন এবং আদেশ পালনে সক্ষম। এর ফলে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকরভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যায়।
৪. আধুনিক সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে এবং অভিযোজন করতে সক্ষম হতে হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হয়।
৫. সুপপরিকল্পিত সরবরাহ ও রসদ ব্যবস্থা: যুদ্ধের সময় সৈন্যদের জন্য রসদ, গোলাবারুদ, খাদ্য এবং চিকিৎসা সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। একটি সুপরিকল্পিত সরবরাহ ব্যবস্থা সৈন্যদের মনোবল বজায় রাখতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক।
এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি আধুনিক সামরিক বাহিনীকে কেবল যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে না, বরং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়তা করে।




গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা হওয়া উচিত দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংবিধান ও আইনের শাসনকে সম্মান করা এবং রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। সামরিক বাহিনীকে একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে থাকতে হবে, যারা কেবল দেশের প্রতিরক্ষার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখবে। 
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে আলোচনা করা হলো: 
সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা:
সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং তাদের কার্যক্রম সংবিধান ও আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা:
সামরিক বাহিনীর সদস্যদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন বা বিরোধিতা করা উচিত নয়।
দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা:
সামরিক বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং যেকোনো ধরনের বাহ্যিক হুমকি থেকে দেশকে নিরাপদ রাখা।
গণতন্ত্রের প্রতি সমর্থন:
সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং নির্বাচিত সরকারের অধীনে কাজ করতে হবে।
পেশাদারিত্ব বজায় রাখা:
সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে এবং তাদের প্রশিক্ষণে সর্বদা আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ:
দুর্যোগ মোকাবিলা বা জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পরিহার করা:
সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা সীমিত এবং সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত। তাদের প্রধান কাজ হবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচিত সরকারের অধীনে কাজ করা।



সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক বলতে একটি দেশের বেসামরিক সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যেকার সম্পর্ককে বোঝায়। এটি একটি জটিল বিষয়, যা সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ এবং সমাজের উপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। 
সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করে: 
সামরিক বাহিনীর উপর বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ:
সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে থাকতে হবে এবং তাদের কাজের জন্য তাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
সামরিক বাহিনীর ভূমিকা:
সামরিক বাহিনীর প্রধান কাজ হল দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তবে তাদের দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে অন্যান্য কার্যক্রমেও জড়িত করা যেতে পারে।
সামরিক বাহিনীর উপর সমাজের প্রভাব:
সামরিক বাহিনীর কার্যকলাপ সমাজের উপর গভীর প্রভাব ফেলে, তাই তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব:
সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত রাখা উচিত, যাতে তারা দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে।
সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক একটি দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুস্থ সম্পর্ক নিশ্চিত করার জন্য, সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে এবং তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। 




বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া হল সামরিক শাসনের পর একটি দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। সহজ ভাষায়, সামরিক বাহিনীর হাত থেকে ক্ষমতা বেসামরিক সরকার বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া, যার মধ্যে নির্বাচন, রাজনৈতিক দল গঠন, এবং সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা হ্রাস করার মতো বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে। 
এখানে আরও কিছু বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো: 
সামরিক শাসনের অবসান:
বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হল সামরিক শাসনের অবসান ঘটানো। এর অর্থ হল সামরিক বাহিনীর হাত থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা এবং একটি নির্বাচিত সরকার গঠন করা।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক দল গঠন:
গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করে। এছাড়াও, রাজনৈতিক দল গঠন ও তাদের কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।
সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা হ্রাস:
সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা হ্রাস করা বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং তাদের কার্যক্রমকে বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা অন্তর্ভুক্ত।
সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার জন্য সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন বা নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
আন্তর্জাতিক সমর্থন:
অনেক সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে থাকে। এটি প্রক্রিয়াটিকে আরও মসৃণ করতে পারে।
উদাহরণ:
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান একটি বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।




সামরিক হস্তক্ষেপের বিভিন্ন উপায় রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো: সরাসরি সামরিক আক্রমণ, ছায়া যুদ্ধ (covert operations), অর্থনৈতিক চাপ, এবং কূটনৈতিক চাপ। এছাড়াও, সামরিক জোট গঠন বা অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে পরোক্ষ হস্তক্ষেপও একটি উপায়। 
সামরিক হস্তক্ষেপের উপায়গুলির বিস্তারিত বিবরণ: 
সরাসরি সামরিক আক্রমণ:
এই পদ্ধতিতে, একটি দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, যেমন বিমান হামলা, স্থল অভিযান, বা নৌ-আক্রমণ।
ছায়া যুদ্ধ (Covert Operations):
এখানে, একটি দেশ অন্য দেশে গুপ্ত অভিযান চালায়, যেমন - রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা, বিদ্রোহীদের সমর্থন করা, বা সাইবার হামলা চালানো।
অর্থনৈতিক চাপ:
একটি দেশ অন্য দেশের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, যা তাদের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয় এবং সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
কূটনৈতিক চাপ:
একটি দেশ অন্যান্য দেশগুলির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে, আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে তাদের বাদ দিতে পারে, বা তাদের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সামরিক জোট গঠন:
একটি দেশ অন্য কয়েকটি দেশের সাথে জোট গঠন করে, এবং সম্মিলিতভাবে একটি দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পরোক্ষ হস্তক্ষেপ:
একটি দেশ অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যেখানে তারা অন্য কোনো দেশকে সামরিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, বা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
সামরিক হস্তক্ষেপ একটি জটিল বিষয় এবং এর অনেকগুলো দিক রয়েছে। এটি সাধারণত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচিত হয় এবং এর ফলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। 




১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত, এটি ছিল একটি জনযুদ্ধ, যেখানে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মুক্তিফৌজের সাথে united হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। 
যুদ্ধের শুরুতে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, আনসার, পুলিশসহ বাঙালি সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। এই সম্মিলিত আক্রমণ মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মিত্রবাহিনীর সহায়তায় চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে সহায়ক হয়। 
মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের সাহসী ও আত্মত্যাগী ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। 




সামরিক একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসন ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং তারা কোনো নির্বাচিত কর্তৃপক্ষের অধীনে না থেকে নিজেরাই দেশ শাসন করে। এটি সাধারণত সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এখানে ব্যক্তি বা দলের শাসনের পরিবর্তে সামরিক কর্মকর্তাদের একটি দল বা একজন সামরিক নেতা দেশ পরিচালনা করেন। 
সামরিক একনায়কতন্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো: 
সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ:
রাষ্ট্রের শাসনভার সামরিক বাহিনীর হাতে ন্যস্ত থাকে।
একনায়কতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য:
এখানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয় না, বরং সামরিক কর্মকর্তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন।
অভ্যুত্থান:
সাধারণত সামরিক একনায়কতন্ত্র সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্বেচ্ছাচারিতা:
সামরিক শাসকরা প্রায়শই জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা হরণ করে এবং স্বেচ্ছাচারীভাবে দেশ পরিচালনা করে।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা:
সামরিক একনায়কতন্ত্র রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।
মিয়ানমার যুদ্ধ: মিয়ানমারের ...
উদাহরণস্বরূপ, অনেক দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশ শাসন করেছে। এই ধরনের শাসনে সাধারণত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় এবং জনগণের স্বাধীনতা সীমিত থাকে। Some sources say যে সামরিক একনায়কতন্ত্রে হত্যা, নির্যাতন এবং অন্তর্ধানের মতো নৃশংস মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটতে পারে. 




জাতীয় নিরাপত্তা বলতে একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য গৃহীত ব্যবস্থা ও নীতিগুলিকে বোঝায়। এটি একটি দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
জাতীয় নিরাপত্তা মূলত দুটি প্রধান দিক থেকে সংজ্ঞায়িত করা যায়:
১. সামরিক নিরাপত্তা: 
একটি দেশের সামরিক বাহিনী, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সক্ষমতা, যা বাহ্যিক আক্রমণ বা হুমকি থেকে দেশকে রক্ষা করে।
এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যে কোনো দেশ অন্য কোনো দেশ বা শক্তির দ্বারা আগ্রাসন বা সামরিক হুমকির শিকার না হয়।
২. অসামরিক নিরাপত্তা: 
একটি দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশগত নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গৃহীত ব্যবস্থা।
এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যে দেশের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যেকোনো ধরনের সংকট মোকাবিলা করার জন্য দেশটি প্রস্তুত এবং স্থিতিশীল।
জাতীয় নিরাপত্তা একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে। 
আরও বিস্তারিতভাবে, জাতীয় নিরাপত্তা নিম্নলিখিত উপাদানগুলির উপর ভিত্তি করে গঠিত: 
সামরিক সক্ষমতা:
একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা:
একটি শক্তিশালী অর্থনীতি দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং বাহ্যিক চাপ মোকাবিলা করতে সহায়ক।
ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক:
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক তৈরি করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা:
অভ্যন্তরীণ শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সাইবার নিরাপত্তা:
সাইবার জগৎ থেকে উদ্ভূত হুমকি মোকাবিলা করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখনকার দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পরিবেশগত নিরাপত্তা:
পরিবেশগত বিপর্যয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করাও জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংক্ষেপে, জাতীয় নিরাপত্তা একটি দেশের অস্তিত্ব, শান্তি এবং সমৃদ্ধি রক্ষার জন্য একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।




বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর পদমর্যাদাগুলোকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো: অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও), নন-কমিশন্ড অফিসার (এনসিও) এবং সাধারণ সৈনিক। কমিশন্ড অফিসাররা প্রথম শ্রেণীর, জেসিওরা প্রথম শ্রেণীর (নন-ক্যাডার), এনসিওদের মধ্যে সার্জেন্ট দ্বিতীয় শ্রেণীর এবং অন্যান্য এনসিওরা তৃতীয় শ্রেণীর সদস্য হিসেবে বিবেচিত। সাধারণ সৈনিকরাও তৃতীয় শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। 
iiab.me
আরো বিস্তারিতভাবে পদমর্যাদাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
কমিশন্ড অফিসার:
জেনারেল (General) (সেনাবাহিনীতে সর্বোচ্চ পদ)
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (Lieutenant General)
মেজর জেনারেল (Major General)
ব্রিগেডিয়ার (Brigadier)
কর্নেল (Colonel)
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (Lieutenant Colonel)
মেজর (Major)
ক্যাপ্টেন (Captain)
লেফটেন্যান্ট (Lieutenant)
সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট (Second Lieutenant)

জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও): 
ওয়ারেন্ট অফিসার (Warrant Officer), 
সিনিয়র কমিশন্ড অফিসার (Senior Commissioned Officer), 
সাব-লেফটেন্যান্ট (Sub-Lieutenant).

নন-কমিশন্ড অফিসার (এনসিও): 
সার্জেন্ট (Sergeant), 
কর্পোরাল (Corporal), 
ল্যান্স কর্পোরাল (Lance Corporal). 
সাধারণ সৈনিক:
সৈনিক (Soldier), 
সৈনিক (বিশেষ পদবি) (Soldier (Special Designation)).
এই পদবিগুলো বাহিনীর শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 



প্রথাগত নিরাপত্তা বলতে সাধারণত একটি রাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং অন্যান্য দেশের সাথে তার সম্পর্ককে বোঝায়, যা বাহ্যিক হুমকি থেকে দেশকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত জাতি-রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে সম্পর্কিত। 
প্রথাগত নিরাপত্তা ধারণার মূল বিষয়গুলি হল: 
সামরিক শক্তি:
একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকা এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করার ক্ষমতা।
আঞ্চলিক অখণ্ডতা:
একটি দেশের ভূখন্ডকে অন্য কোনো দেশ বা শক্তির দখল থেকে রক্ষা করা।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা:
দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যা বাইরের হস্তক্ষেপ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক:
অন্যান্য দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিরস্ত্রীকরণ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ:
অস্ত্র প্রতিযোগিতা হ্রাস করা এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা।
প্রথাগত নিরাপত্তা সাধারণত একটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এটি সাধারণত ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে একটি প্রধান ধারণা ছিল।




সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় ভূত আদেশ (Central Armed Police Forces - CAPF) বলতে বোঝায়, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা বিভিন্ন আধা-সামরিক বাহিনী, যেমন - BSF, CRPF, CISF, ITBP, SSB, এবং NSG। এই বাহিনীগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
"ভূত" শব্দটি এখানে "আধা-সামরিক" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে এই বাহিনীগুলো সরাসরি সামরিক বাহিনীর অধীনে না থাকলেও, প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীর সাথে যৌথভাবে কাজ করে থাকে। 
এই বাহিনীগুলোর প্রধান কাজ হলো: 
সীমান্ত সুরক্ষা: BSF (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) পাকিস্তানের সাথে এবং নেপালের সাথে ভারতের সীমান্ত L
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা: CRPF (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মোতায়েন থাকে, বিশেষ করে বিদ্রোহ প্রবণ এলাকাগুলোতে।
শিল্প ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা: CISF (সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স) বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সশস্ত্র সীমান্ত সুরক্ষা: ITBP (ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ) চীন-ভারত সীমান্তে মোতায়েন থাকে।
সশস্ত্র সীমান্ত সুরক্ষা: SSB (সশস্ত্র সীমা বল) নেপাল ও ভুটান সীমান্তে মোতায়েন থাকে।
সন্ত্রাস বিরোধী কার্যকলাপ: NSG (ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড) একটি বিশেষ এলিট ফোর্স, যারা সন্ত্রাস দমন এবং জিম্মি উদ্ধারের মতো কাজে নিয়োজিত।
এই বাহিনীগুলো বিভিন্ন ধরণের নিরাপত্তা বিষয়ক কাজে নিয়োজিত থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। 




বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ায় গণভোটের মূল ধারণা হলো, সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য অপরিহার্য।
গণভোটের মাধ্যমে বেসামরিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা: 
জনগণের সম্মতি:
গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের মতামত জানাতে পারে যে, তারা সামরিক শাসনের পরিবর্তে বেসামরিক শাসন চায় কিনা। এতে জনগণের সম্মতি নিশ্চিত হয়, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি।
স্বেচ্ছাচারিতা রোধ:
সামরিক শাসন প্রায়শই স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচারী হতে পারে। গণভোটের মাধ্যমে বেসামরিকীকরণের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলে, এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করা সম্ভব।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা:
সামরিক শাসনের অবসানে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। গণভোটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
উন্নয়ন ও অগ্রগতি:
একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পরিবেশে দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
সামরিক শাসনের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সমর্থন লাভের পথ সুগম করে।
গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা বেসামরিকীকরণকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে।




পরোক্ষ সামরিক শাসন বলতে বোঝায়, যেখানে সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল না করে, পর্দার আড়াল থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে, সামরিক বাহিনী বেসামরিক সরকারের উপর প্রভাব খাটিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করে অথবা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সরকারে বসিয়ে ক্ষমতা ভোগ করে।
পরোক্ষ সামরিক শাসনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
সামরিক বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই বেসামরিক সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
সামরিক বাহিনীর পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো।
সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করা।
গণতন্ত্রের মুখোশ পরে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো দেশে যদি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষমতা দখল না করে, কিন্তু সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা বা শীর্ষ কর্মকর্তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রভাবিত করে বা সরকারে নিজেদের পছন্দসই ব্যক্তিদের বসিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখে, তবে সেটি পরোক্ষ সামরিক শাসন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সংক্ষেপে, পরোক্ষ সামরিক শাসন হলো এক ধরনের ছদ্মবেশী শাসন, যেখানে সামরিক বাহিনী সরাসরি ক্ষমতা না নিয়ে পর্দার আড়াল থেকে বেসামরিক সরকারের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে। 




সামরিক আমলাতন্ত্র বলতে বোঝায় সামরিক বাহিনীর মধ্যে আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি, যেখানে একটি সুসংগঠিত, শ্রেণিবদ্ধ কাঠামো এবং পেশাদার কর্মকর্তাদের একটি দল সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই ব্যবস্থায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আদেশ পালনে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং সাধারণত এটি একটি স্থিতিশীল, দীর্ঘমেয়াদী কাঠামো হিসাবে কাজ করে। 
সামরিক আমলাতন্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো: 
শ্রেণিবদ্ধ কাঠামো:
সামরিক আমলাতন্ত্রে পদমর্যাদার ভিত্তিতে একটি সুস্পষ্ট স্তরবিন্যাস থাকে, যেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধস্তনদের নির্দেশ দেন এবং তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন।
নিয়ম ও পদ্ধতি:
সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতি থাকে, যা সকলের জন্য প্রযোজ্য এবং যা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
পেশাদারিত্ব:
সামরিক আমলাতন্ত্রে কর্মীরা তাদের কাজের প্রতি নিবেদিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হন, যা তাদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করে।
স্থিতিশীলতা:
সামরিক আমলাতন্ত্র সাধারণত রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে থাকে এবং একটি স্থিতিশীল কাঠামো হিসাবে কাজ করে, যা দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি উন্নত দেশে, সামরিক আমলাতন্ত্র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনেও থাকতে পারে, যেখানে সামরিক কর্মকর্তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে

No comments:

Post a Comment