Search This Blog

Saturday, August 16, 2025

সংক্ষিপ্ত POL(A)-209 Introduction to Political Anthropology রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানের ভূমিকা (Dr. S. M. Arif Mahmud)

 পোষ্য ও পোষক সম্পর্ক কি

পোষ্য ও পোষক সম্পর্ক বলতে সাধারণত এমন একটি সম্পর্ককে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উপর নির্ভরশীল থাকে। এই সম্পর্কটি রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যেতে পারে, যেখানে একটি পক্ষ সুবিধাভোগী হয় এবং অন্য পক্ষ সুবিধা প্রদানকারী বা আশ্রয়দাতা হয়। এটিকে "পোষক-পোষ্য সম্পর্ক" বা " clientelism" ও বলা যেতে পারে। 

এখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হলো: 

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

একটি রাজনৈতিক দলে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের অনুসারীদের বিভিন্ন সুবিধা (যেমন চাকরি, অর্থ, বা সুরক্ষা) দিয়ে তাদের সমর্থন আদায় করে। একে পোষক-পোষ্য সম্পর্ক বলা হয়। এখানে প্রভাবশালী ব্যক্তি "পোষক" এবং অনুসারীরা "পোষ্য"।

সামাজিক প্রেক্ষাপট:

সমাজে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের চেয়ে দুর্বলদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে তাদের সমর্থন আদায় করে। এটিও এক ধরনের পোষক-পোষ্য সম্পর্ক।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট:

অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দুর্বলদের বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে তাদের শোষণ করে। এটিও এক ধরনের পোষক-পোষ্য সম্পর্ক।

এই ধরনের সম্পর্ক সাধারণত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যেখানে প্রভাবশালী পক্ষ সুবিধাভোগী হয় এবং দুর্বল পক্ষ শোষিত হয়। এই সম্পর্কটি অনেক সময় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকে পরিচালিত করে।





কর্তৃত্বের সংজ্ঞা


কর্তৃত্ব মানে হল বৈধ বা স্বীকৃত ক্ষমতা যা এক ব্যক্তি বা দলের অন্য ব্যক্তির উপর থাকে এবং এটি প্রয়োগ করার অধিকার বোঝায়। সহজ ভাষায়, কর্তৃত্ব মানে হল অন্যদের নির্দেশ দেওয়ার এবং তাদের কাজ করিয়ে নেওয়ার আইনি বা সামাজিক অধিকার। 

আরও বিস্তারিতভাবে, কর্তৃত্বের সংজ্ঞা নিম্নরূপ:

কর্তৃত্ব হল একটি সামাজিক ধারণা যা একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যদের উপর বৈধ বা স্বীকৃত প্রভাবের অনুশীলনকে বোঝায়। 

এটি এমন একটি ক্ষমতা যা অন্যদের আচরণকে প্রভাবিত করে এবং তাদের বাধ্য করে। 

কর্তৃত্বের ধারণাটি বৈধতার উপর নির্ভরশীল, যা এটিকে ক্ষমতার সাধারণ ধারণা থেকে আলাদা করে। 

কর্তৃত্ব শুধুমাত্র শক্তি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রয়োগ করা যায় না, বরং এটি স্বীকৃতি এবং সমর্থনের মাধ্যমেও আসে। 

কর্তৃত্ব বিভিন্ন রূপে আসতে পারে, যেমন ঐতিহ্যগত, চারিস্ম্যাটিক, বা আইনানুগ-যুক্তিভিত্তিক। 

কর্তৃত্বের ধারণাটি প্রায়শই রাজনৈতিক, সামাজিক, এবং সাংগঠনিক প্রেক্ষাপটে আলোচনা করা হয়। 

উদাহরণস্বরূপ, একটি কোম্পানির পরিচালক তার কর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দিতে পারেন, কারণ তার সেই কর্তৃত্ব রয়েছে। আবার, একজন শিক্ষক ক্লাসে ছাত্রদের পড়াতে পারেন, কারণ তার সেই কর্তৃত্ব রয়েছে। 





রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানের পরিধি


রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানের পরিধি বেশ ব্যাপক, যা বিভিন্ন সমাজের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ক্ষমতা কাঠামো, এবং সংস্কৃতির রাজনৈতিক দিকগুলির তুলনামূলক অধ্যয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, দ্বন্দ্ব নিরসন, এবং বিভিন্ন সমাজের রাজনৈতিক রীতিনীতি অন্তর্ভুক্ত। 

রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানের পরিধিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:

ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব:

রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞান ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের প্রকৃতি, উৎস, এবং প্রয়োগের উপর আলোকপাত করে। এটি বিভিন্ন সমাজে ক্ষমতা কিভাবে বণ্টিত হয় এবং কিভাবে এটি চর্চা করা হয় তা নিয়ে আলোচনা করে। 

রাজনৈতিক ব্যবস্থা:

বিভিন্ন সমাজের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যেমন- রাজ্য, সরকার, এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলির গঠন ও কার্যাবলী এই শাখার অধ্যয়নের বিষয়। এটি আদিবাসী সমাজ থেকে আধুনিক রাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করে। 

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:

রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞান সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্ব দেয়। এটি কিভাবে নীতি তৈরি হয়, কিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এবং এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান কিভাবে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে আলোচনা করে। 

দ্বন্দ্ব নিরসন:

রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞান সমাজে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব এবং সংঘাতের কারণ ও সমাধান নিয়ে গবেষণা করে। এটি বিভিন্ন সমাজে দ্বন্দ্ব নিরসনের পদ্ধতি, যেমন- সালিশি, মধ্যস্থতা, এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করে। 

সাংস্কৃতিক প্রভাব:

রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞান সংস্কৃতির রাজনৈতিক প্রভাবকেও গুরুত্ব দেয়। সংস্কৃতি কিভাবে রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ, এবং আচরণকে প্রভাবিত করে তা এই শাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। 

আইনি ব্যবস্থা:

রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞান সমাজের আইনি ব্যবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থার উপর আলোকপাত করে। এটি বিভিন্ন সমাজে কিভাবে বিচার করা হয় এবং আইন কিভাবে সামাজিক নিয়মকানুন ও রীতিনীতিকে প্রভাবিত করে তা নিয়ে আলোচনা করে। 

জাতিগত ও জাতীয়তাবাদ:

জাতিগত পরিচয়, জাতীয়তাবাদ, এবং রাজনৈতিক সংহতির মতো বিষয়গুলিও রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। 

নাগরিক সমাজ:

নাগরিক সমাজের গঠন, কার্যাবলী, এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এর প্রভাবও এই শাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

সংক্ষেপে, রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞান সমাজের রাজনৈতিক দিকগুলির একটি ব্যাপক এবং তুলনামূলক অধ্যয়ন, যা ক্ষমতা, রাজনীতি, সংস্কৃতি, এবং সমাজের অন্যান্য দিকগুলির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। 





চীফডম কী


চীফডম (Chiefdom) হল নৃবিজ্ঞানে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের একটি পর্যায়, যেখানে একটি অঞ্চলের একাধিক সম্প্রদায়ের উপর একজন প্রধান বা দলনেতা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। এই ব্যবস্থায়, প্রধান প্রায়শই ঐশ্বরিক ক্ষমতা বা বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হিসাবে বিবেচিত হন, যা তার কর্তৃত্বকে ন্যায্যতা দেয়। চীফডমগুলি বহু-স্তরীয় হতে পারে, যেখানে উচ্চপদস্থ প্রধানরা তাদের অধীনস্থদের চেয়ে বেশি ক্ষমতা রাখেন। 

আরও বিশদভাবে, চীফডমকে নিম্নলিখিতভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে:

একাধিক সম্প্রদায়ের উপর কর্তৃত্ব:

চীফডম একটি রাজনৈতিক ইউনিট যা একাধিক সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং একজন প্রধান দ্বারা শাসিত হয়। 

ঐতিহ্যগত ক্ষমতা:

প্রধানরা প্রায়শই তাদের ক্ষমতার উৎস হিসাবে ঐতিহ্য, বংশ বা ঐশ্বরিক সংযোগের উপর নির্ভর করে। 

পুনর্বণ্টন:

চীফডম ব্যবস্থায়, প্রধানরা প্রায়শই সম্পদ সংগ্রহ করেন এবং তারপর সেগুলি জনগণের মধ্যে বিতরণ করেন, যা তাদের ক্ষমতা ও প্রভাবকে আরও সুসংহত করে। 

রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরবিন্যাস:

চীফডমগুলিতে সাধারণত একটি স্পষ্ট সামাজিক স্তরবিন্যাস থাকে, যেখানে প্রধান এবং তার পরিবার সমাজের শীর্ষে থাকে, আর সাধারণ মানুষ তাদের নিচে থাকে। 

রাজ্য থেকে আলাদা:

চীফডম সাধারণত রাষ্ট্রের চেয়ে কম জটিল রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার, আমলাতন্ত্র এবং কঠোর আইন প্রণয়ন ব্যবস্থা থাকে না। 





এথনোগ্রাফি কি


এথনোগ্রাফি হলো নৃবিজ্ঞান বা নৃতত্ত্বের একটি শাখা যা কোনো নির্দিষ্ট সংস্কৃতি বা সমাজের মানুষের জীবনধারা, রীতিনীতি, বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠান গভীরভাবে অধ্যয়নের জন্য পরিচিত। এটি সাধারণত মাঠ পর্যায়ে গবেষণা পরিচালনা করে, যেখানে গবেষক একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ে বসবাস করে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে অংশ নেয়, তাদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। 

এথনোগ্রাফি একটি গুণগত গবেষণা পদ্ধতি, যা সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবতাবাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনকে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে সাহায্য করে। 

এথনোগ্রাফির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

ক্ষেত্র গবেষণা:

এথনোগ্রাফিতে গবেষক একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে অংশ নেন। 

অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ:

গবেষক শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ করেন না, বরং অংশগ্রহণকারীদের সাথে সক্রিয়ভাবে মিথস্ক্রিয়া করেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা বুঝতে চেষ্টা করেন। 

গুণগত ডেটা সংগ্রহ:

এথনোগ্রাফিতে সাধারণত সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য গুণগত পদ্ধতি ব্যবহার করে ডেটা সংগ্রহ করা হয়। 

বর্ণনামূলক গবেষণা:

এথনোগ্রাফি একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতি বা সমাজের একটি বিস্তারিত এবং গভীর বর্ণনা প্রদান করে।

এথনোগ্রাফি সামাজিক বিজ্ঞান, যেমন - নৃবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, এবং মানবতাবাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সামাজিক রীতিনীতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ধর্মীয় বিশ্বাস, বা অর্থনৈতিক কার্যকলাপ অধ্যয়নে ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়াও, এথনোগ্রাফি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা (UX) ডিজাইন এবং ব্যবসার ক্ষেত্রেও মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করা যেতে পারে। 





উন্নয়ন কি


উন্নয়ন (Development) বলতে সাধারণত কোন কিছুর উন্নতি বা অগ্রগতি বোঝায়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা কোনো ব্যক্তি, সমাজ, বা দেশের অবস্থার উন্নতি ঘটায়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত, বা প্রযুক্তিগত যেকোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন হতে পারে। 

সংক্ষেপে, উন্নয়ন মানে হল:

অগ্রগতি:

বিদ্যমান অবস্থার উন্নতি, যা ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। 

সমৃদ্ধি:

একটি সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি, যেখানে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। 

পরিবর্তন:

একটি প্রক্রিয়া যা একটি পূর্ব-বিদ্যমান অবস্থা থেকে উন্নত অবস্থায় নিয়ে যায়। 

উন্নয়নের সংজ্ঞা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণভাবে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এবং অগ্রগতির প্রক্রিয়া। 





নৃবিজ্ঞানে ব্যান্ড এর বৈশিষ্ট্য কি


নৃবিজ্ঞানে "ব্যান্ড" হল একটি ছোট, যাযাবর বা আধা-যাযাবর আকারের সামাজিক সংগঠন, যেখানে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি সদস্য থাকে না। এই দলগুলো সাধারণত শিকার ও সংগ্রহ (foraging) করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বা সামাজিক স্তরবিন্যাস দেখা যায় না। 

ব্যান্ড এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

ছোট আকারের:

ব্যান্ড সাধারণত ছোট আকারের হয়, যেখানে ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি সদস্য থাকে না। 

যাযাবর বা আধা-যাযাবর:

ব্যান্ডগুলো সাধারণত যাযাবর বা আধা-যাযাবর জীবনযাপন করে, অর্থাৎ তারা স্থান পরিবর্তন করে। 

সমতাবাদী:

ব্যান্ডগুলোতে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বা সামাজিক স্তরবিন্যাস দেখা যায় না। সকলে মোটামুটি সমমর্যাদার অধিকারী হয়। 

জীবিকা:

শিকার ও সংগ্রহ (foraging) করে খাদ্য সংগ্রহ করা তাদের প্রধান জীবিকা। 

সহযোগিতা:

খাদ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা, আচার-অনুষ্ঠান এবং শিশুদের যত্ন নেওয়ার মতো কাজে সকলে সহযোগিতা করে। 

বিরোধ নিষ্পত্তি:

সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তা সাধারণত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। 

উদাহরণ:

কিছু ঐতিহাসিক উদাহরণ হল গ্রেট বেসিনের শোশোন, দক্ষিণ আফ্রিকার সান জনগণ, এবং মধ্য আফ্রিকার ইতুরি রেইনফরেস্টের এমবুতি। 

এই বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যান্ডকে অন্যান্য সামাজিক সংগঠন থেকে আলাদা করে। উদাহরণস্বরূপ, গোষ্ঠী (tribe) বা সম্প্রদায় (chiefdom) এর তুলনায় ব্যান্ড অনেক ছোট এবং বেশি সমতাবাদী হয়। 





নৃবিজ্ঞানে দলাদলি এর বৈশিষ্ট্য কি


নৃবিজ্ঞানে "দলাদলি" বলতে সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বা রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বোঝায়। এটি একটি সমাজের কাঠামো এবং মানুষের মধ্যেকার সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

নৃবিজ্ঞানে দলাদলির কিছু বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো:

শ্রেণী এবং ক্ষমতার সম্পর্ক:

দলাদলি প্রায়শই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বিদ্যমান ক্ষমতা এবং সম্পদের অসম বণ্টনের কারণে ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, একটি সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বিভেদ দেখা যেতে পারে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

সাংস্কৃতিক বিভাজন:

ভাষা, ধর্ম, জাতি বা ঐতিহ্যগত রীতিনীতির কারণেও দলাদলি হতে পারে। এই ধরনের বিভাজন প্রায়শই পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং শত্রুতার দিকে পরিচালিত করে।

রাজনৈতিক মেরুকরণ:

রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই বিভিন্ন আদর্শ বা স্বার্থের ভিত্তিতে গঠিত হয়, যা সমাজের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে। এই মেরুকরণ প্রায়শই "আমরা" এবং "ওরা" এই ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, যা সমাজের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সংঘাত ও সহিংসতা:

দলাদলির চরম পরিণতি হল সংঘাত এবং সহিংসতা। যখন দুটি দল নিজেদের মধ্যে মতভেদ মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা একে অপরের প্রতি শারীরিক বা মৌখিক আক্রমণ করতে পারে।

সামাজিক পরিবর্তন:

দলাদলি সমাজের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে এবং সামাজিক পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, দলাদলি সমাজের উন্নতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে বেশিরভাগ সময় এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

নৃবিজ্ঞানীরা এই দলাদলিগুলির কারণ, প্রক্রিয়া এবং প্রভাবগুলি অধ্যয়নের মাধ্যমে সমাজের জটিলতাগুলি বুঝতে চেষ্টা করেন। তারা বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং সমাজের মধ্যেকার এই বৈশিষ্ট্যগুলি তুলনা করে, মানুষের আচরণ এবং সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা তৈরি করেন।





সামাজিক অসমতা কি


সামাজিক অসমতা মানে সমাজের মানুষের মধ্যে সুযোগ, সম্পদ, ক্ষমতা এবং মর্যাদার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকা। সহজ ভাষায়, এটি সমাজের বিভিন্ন দল বা ব্যক্তির মধ্যে সুযোগ এবং সম্পদের অসম বন্টন। 

আরও স্পষ্টভাবে, সামাজিক অসমতা বলতে বোঝায়:

বৈষম্য:

যখন কিছু মানুষ বা দলের সাথে অন্যদের চেয়ে ভিন্ন আচরণ করা হয়, তাদের প্রতি সুযোগ-সুবিধা কম দেওয়া হয় অথবা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। 

সুযোগের অভাব:

সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকা, যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুযোগের অভাব। 

ক্ষমতার পার্থক্য:

কিছু মানুষের হাতে সমাজের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকা, যার ফলে অন্যরা সেই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হয়। 

সম্পদের অভাব:

সমাজের কিছু মানুষের কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ (যেমন অর্থ, জমি, ইত্যাদি) না থাকা, যা তাদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। 

মর্যাদার অভাব:

কিছু মানুষকে সমাজের চোখে ছোট করে দেখা বা তাদের সম্মান না করা। 

সামাজিক অসমতা বিভিন্ন রূপে প্রকাশ হতে পারে, যেমন: 

অর্থনৈতিক বৈষম্য: আয় এবং সম্পদের অসম বন্টন।

জাতিগত বৈষম্য: জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য।

লিঙ্গ বৈষম্য: লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য।

শিক্ষাগত বৈষম্য: শিক্ষার সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্য।

রাজনৈতিক বৈষম্য: রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্য। 

সামাজিক অসমতা সমাজের শান্তি ও উন্নতির জন্য একটি বড় বাধা। এটি সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং সকলের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে বাধা দেয়। 





কেন্দ্রীয়ভূত রাজনৈতিক ব্যবস্থা


কেন্দ্রীয়ভূত রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে একটি কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী হয়। অন্যান্য সরকার বা অঞ্চলের উপর তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং স্থানীয় সরকার বা আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ক্ষমতা সাধারণত সীমিত থাকে অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে ন্যস্ত থাকে। 

একটি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

একক কর্তৃপক্ষ:

রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা একটি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। 

ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন:

স্থানীয় বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর ক্ষমতা সীমিত বা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ থাকে। 

একক আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ:

কেন্দ্রীয় সরকারই রাষ্ট্রের জন্য আইন প্রণয়ন করে এবং তা প্রয়োগ করে। 

জাতীয় ঐক্য ও সংহতি:

কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা সাধারণত জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার জন্য পরিচিত। 

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ:

কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়, যা সংকটকালে বা জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়ক হতে পারে। 

উদাহরণস্বরূপ, অনেক দেশে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা (Unitary State) দেখা যায়, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারই চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। 

No comments:

Post a Comment