Search This Blog

Tuesday, June 2, 2026

Sa'd ibn Abi Waqqas سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)

সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. (আরবি: سعد بن أبي وقاص) ছিলেন মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম প্রধান সাহাবী[] ১৭ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি ১৭ তম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি ছিলেন[] ৬৩৬ সালে পারস্য বিজয়ে তার নেতৃত্ব প্রদান ও তার শাসক হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত। ৬৪৬ ও ৬৫১ সালে তাকে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে চীন পাঠানো হয়। ধারণা করা হয় যে, নৌ রুটে চীন যাওয়ার পথে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে থেমেছেন এবং বাংলাকে ইসলামের সাথে পরিচয় করানোয় তার অবদান রয়েছে ধারণা করা হয়, তিনি ৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের লালমনিরহাটে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা স্থানীয়ভাবে আবু আক্কাস মসজিদ নামে পরিচিত[][] চীনা মুসলিমদের মতে, চীনের ক্যান্টন বন্দরে তার কবর আছে। অবশ্য আরবদের মতে তার কবর আরবে অবস্থিত[]


মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহন করেন খ্রিস্টিয় ৫৭০ সালে। এর মাত্র ৫০ বছর পর ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে তথা উপমহাদেশে প্রথম ইসলাম আসে !আর উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে শুরু হয় যাত্রা!

বিভিন্ন গবেষণা ও প্রাপ্ত শিলালিপি এমন দাবিই জোরালো করেছে। এতে আরও দেখা যায়, ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে দেশের প্রথম মসজিদটিও নির্মিত হয় এই জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ‘মজেদের আড়া’ নামক গ্রামে।

১৯৮৭ সালে পঞ্চগ্রামে জঙ্গল খননের সময় প্রাচীন মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এর একটি ইটে কালেমা তাইয়্যেবা ও ৬৯ হিজরি লেখা রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হয়, মসজিদটি হিজরি ৬৯ অর্থাৎ ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে স্থাপন কিংবা সংস্কার করা হয়।

রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.)-এর মামা, মা আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রা.) ৬২০ থেকে ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)।


অনেকে অনুমান করেন, পঞ্চগ্রামের মসজিদটিও তিনি নির্মাণ করেন যা ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কার করা হয়।

দেশের প্রথম ও প্রাচীন এই মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ২১ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। মসজিদের ভিতরে রয়েছে একটি কাতারের জন্য ৪ ফুট প্রস্থ জায়গা।
মসজিদের চার কোণে রয়েছে অষ্টকোণ বিশিষ্ট স্তম্ভ। ধ্বংসাবশেষ থেকে মসজিদের চূড়া ও গম্বুজ পাওয়া গেছে।
মতিউর রহমান বসুনিয়া রচিত ‘রংপুরে দ্বীনি দাওয়াত’ গ্রন্থেও এই মসজিদের বিশদ বিবরণ আছে।

‘দেশে ইসলাম প্রচার করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন খিলজী’ এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত থাকলেও এসব তথ্য প্রমান করে যে, এর অনেক আগেই এদেশে ইসলাম প্রচারিত হয়। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন খিলজীর বাংলা বিজয়ের প্রায় ৬০০ বছর আগেই সাহাবীদের দ্বারা বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হয়। প্রথম মসজিদও নির্মিত হয় সেই সময়েই।


লালমনিরহাটে অবস্থিত সাহাবি হযরত সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা)র হাতে তৈরি মসজিদ, নির্মিত হয়েছে ৬৯ হিজরীতে।হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) ছিলেন রাসূল (সা.) এর মামা। নৌপথে তিনি চীন দেশে গমনের সময় বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং লালমনিরহাটে এই রুট ব্যবহার করে চীনে যাওয়ার সময় যাত্রাবিরতি দিয়েছিলেন।

আবিষ্কারের ইতিহাস:
১৯৮৬ সাল। লালমনিরহাটের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে এক জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে উন্মোচিত হয় মাটির নিচে চাপা পড়া এক বিস্ময়কর ইতিহাস। স্থানীয়ভাবে ‘মজদের আড়া’ বা ‘হারানো মসজিদ’ নামে পরিচিত। এই ধ্বংসাবশেষের একটি ইটে স্পষ্ট আরবি হরফে খোদাই করা ছিল-“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ ও ৬৯ হিজরি” (৬৮৯ খ্রিস্টাব্দ)। ৬৯ হিজরি-অর্থাৎ প্রিয় নবিজি (সা.)-এর ওফাতের মাত্র ৫৮ বছর পরের সময়কাল, যখন অনেক সাহাবী পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন এবং ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ছিলেন।
বিখ্যাত ব্রিটিশ গবেষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক টিম স্টিল (TIM STEEL) দীর্ঘ গবেষণা শেষে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাচীনকালে আরবের বণিকরা বিখ্যাত ‘সিল্ক রোড’ ধরে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের রুট ব্যবহার করে চীনের ক্যান্টন বন্দরে যাতায়াত করতেন। গবেষকদের প্রবল ধারণা, রাসুল (সা.)-এর মামা এবং বিখ্যাত সাহাবী হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি দল সফরের সময় এই পথেই যাত্রা করেছিলেন। যাত্রাবিরতিকালে তাঁদের পবিত্র হাতেই এই অঞ্চলের মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আসেন এবং তাদের জন্য নির্মিত হয় ঐতিহাসিক এই সাহাবী মসজিদ।
এই মসজিদটি দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক জীবন্ত দলিল। এটি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে, ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজীর আগমনের বহু আগেই এই উর্বর জনপদে ইসলামের সুশীতল ছায়া পৌঁছেছিল। ৬৯ হিজরির এই নিদর্শন সাক্ষ্য দেয়-বাংলার মাটির সাথে ইসলামের সম্পর্ক কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং আমাদের শেকড় প্রোথিত আছে সরাসরি সাহাবীদের যুগে, যা আমাদের ঐতিহ্যকে করেছে মহিমান্বিত।



তথ্যসূত্র

  1.  Hughes, Thomas Patrick (১৮৯৫)। A dictionary of Islam; being a cyclopaedia of the doctrines, rites, ceremonies, and customs, together with the technical and theological terms, of the Muhammadan religion। Harold B. Lee Library। London, W. H. Allen & co.।
  2. Mahmood, Kajal Iftikhar Rashid (১৯ অক্টোবর ২০১২)। সাড়ে তেরো শ বছর আগের মসজিদ [1350 Year-old Mosque]দৈনিক প্রথম আলো। ৬ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৮ {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: অবৈধ |script-title=: উপসর্গ অনুপস্থিত (সাহায্য)
  3. "History and archaeology: Bangladesh's most undervalued assets?"deutschenews24.deবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২১ ডিসেম্বর ২০১২। ১৫ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৮
  4. "Sa'ad Ibn Abi Waqqas (radhi allahu anhu)"web.archive.org। ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৫। ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২০
  5. Jabir; Tabari (১ জানুয়ারি ১৯৯২)। The History of al-Tabari Vol. 12: The Battle of al-Qadisiyyah and the Conquest of Syria and Palestine A.D. 635-637/A.H. 14-15 (ইংরেজি ভাষায়)। SUNY Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-০৭৩৩-২
  6. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৮ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২০
  7. Jammāʻīlī, ʻAbd al-Ghanī ibn ʻAbd al-Wāḥid (২০০৪)। Short Biographies of the Prophet and His Ten Companions who Were Given the Tidings of Paradise (ইংরেজি ভাষায়)। Darussalam। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৬০-৮৯৯-১২-১
  8.  https://www.waytojannah.net/blog/2015/08/21/biography-of-sad-bin-abi-waqqas/