১)অর্থনীতির
সংজ্ঞা, ব্যষ্টিক ও
সামষ্টিক অর্থনীতির পার্থক্য
অর্থনীতি হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা যা উৎপাদন, বণ্টন, বিনিময় ও ভোগ-সংক্রান্ত মানবীয় আচরণ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ
প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে। সহজ ভাষায়, অর্থনীতি শেখায় যে কীভাবে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে অসীম
চাহিদা পূরণ করা যায়।
**ব্যষ্টিক
অর্থনীতি (Microeconomics) ও সামষ্টিক
অর্থনীতি (Macroeconomics)-এর মধ্যে
মূল পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:**
| **বিষয়** | **ব্যষ্টিক অর্থনীতি** | **সামষ্টিক অর্থনীতি** |
| :--- | :--- | :--- |
| **সংজ্ঞা** | এটি অর্থনীতির সেই অংশ যা পৃথক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত
নিয়ে আলোচনা করে। | এটি
অর্থনীতির সেই অংশ যা সমগ্র দেশ বা বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যাবলী নিয়ে
আলোচনা করে। |
| **অধ্যয়নের
বিষয়** | ভোক্তার
আচরণ, উৎপাদকের
আচরণ, কোনো
নির্দিষ্ট পণ্যের দাম, একটি
নির্দিষ্ট বাজার ইত্যাদি। | জাতীয় আয়, মোট কর্মসংস্থান, মুদ্রাস্ফীতি, দেশের মোট রপ্তানি-আমদানি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। |
| **উদ্দেশ্য** | সম্পদের দক্ষ বণ্টন ও ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের
সর্বোচ্চ মঙ্গল অর্জন। | জাতীয়
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পূর্ণ
কর্মসংস্থান ও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন। |
| **চিন্তার
ধারা** | "বন" (Forest)-এর পরিবর্তে
"গাছ" (Tree)-কে গুরুত্ব
দেয়। অর্থাৎ অংশের দিকে নজর দেয়। |
"গাছ"-এর পরিবর্তে সমগ্র "বন"-কে গুরুত্ব
দেয়। অর্থাৎ সামগ্রিক চিত্র দেখে। |
| **মৌলিক
সরঞ্জাম** | চাহিদা ও
যোগানের নিয়ম (Demand &
Supply), প্রান্তিক উপযোগিতা (Marginal Utility) ইত্যাদি। |
মোট চাহিদা ও মোট যোগান (Aggregate
Demand & Supply), জাতীয় আয়ের হিসাব (GDP, GNP) ইত্যাদি। |
| **নীতি** | মূল্য নির্ধারণ নীতি, প্রতিযোগিতা নীতি ইত্যাদি। | রাজস্ব নীতি (Fiscal Policy) ও মুদ্রানীতি (Monetary Policy)। |
**সংক্ষেপে
বলতে গেলে:**
ব্যষ্টিক অর্থনীতি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন
সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে, যেমন—আপেলের
দাম বেড়ে গেলে আমি কী করব? অন্যদিকে, সামষ্টিক অর্থনীতি পুরো দেশের সামগ্রিক চিত্র
নিয়ে কাজ করে, যেমন—দেশে
মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে? এই দুটি পরস্পর পরিপূরক; সামগ্রিক অর্থনীতি ভালোভাবে বোঝার জন্য ব্যষ্টিক জ্ঞান
যেমন প্রয়োজন, তেমনি
ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও সামগ্রিক অর্থনীতির অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
**অর্থনীতির
সংজ্ঞা (Definition of Economics)**
অর্থনীতি হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা **সীমিত
সম্পদের** (Scarce Resources) সর্বোত্তম
ব্যবহার করে মানুষের অসীম চাহিদা (Unlimited
Wants) পূরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করে।
### প্রখ্যাত
সংজ্ঞা:
- **অ্যাডাম
স্মিথ** (পিতা অফ ইকোনমিক্স): অর্থনীতি হলো সম্পদের উৎপাদন, বিতরণ এবং বিনিময়ের বিজ্ঞান।
- **লায়নেল
রবিন্স** (সবচেয়ে গৃহীত সংজ্ঞা): “অর্থনীতি হলো সেই বিজ্ঞান যা মানুষের আচরণ
অধ্যয়ন করে যখন সে সীমিত সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্দেশ্যের
মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।”
- সরল ভাষায়:
**অর্থনীতি হলো “কীভাবে কী উৎপাদন করব,
কার জন্য করব এবং কীভাবে বিতরণ করব”** — এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।
---
**ব্যষ্টিক
অর্থনীতি (Microeconomics) ও সামষ্টিক
অর্থনীতি (Macroeconomics) এর
পার্থক্য**
| বিষয় | **ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics)** | **সামষ্টিক
অর্থনীতি (Macroeconomics)** |
|------|-------------------------------------|---------------------------------------|
| **অর্থ** | ব্যষ্টি = ছোট অংশ (Individual units) | সামষ্টি =
সমগ্র (Whole economy) |
| **আলোচ্য
বিষয়** | ব্যক্তি, পরিবার, ফার্ম, একক বাজার | সমগ্র অর্থনীতি (জাতীয় বা আন্তর্জাতিক) |
| **ফোকাস** | স্বতন্ত্র ইউনিটের আচরণ | সমষ্টিগত (Aggregate) চলক |
| **প্রধান
প্রশ্ন** | কোন পণ্য কত
উৎপাদন হবে? দাম কীভাবে
নির্ধারিত হয়? | জিডিপি, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব,
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি |
| **উদাহরণ** | একটি কোম্পানির উৎপাদন সিদ্ধান্ত, ভোক্তার চাহিদা, সরবরাহ, দাম নির্ধারণ, বাজার ব্যর্থতা | জাতীয় আয়,
মোট চাহিদা-মোট যোগান, সরকারি
বাজেট, মুদ্রানীতি, বাণিজ্যিক ভারসাম্য |
| **প্রধান
তত্ত্ব** | চাহিদা-সরবরাহ
তত্ত্ব, উপযোগ
তত্ত্ব, উৎপাদন
তত্ত্ব, বাজার
কাঠামো (পারফেক্ট কম্পিটিশন, মনোপলি
ইত্যাদি) | কেইনসীয়
তত্ত্ব, ক্লাসিক্যাল
তত্ত্ব, মুদ্রা ও
অর্থনীতি, চক্রাকার
ওঠানামা (Business Cycle) |
| **উদ্দেশ্য** | সম্পদের দক্ষ বরাদ্দ (Allocative Efficiency) | অর্থনৈতিক
স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্থিতিশীলতা |
| **স্কোপ** | সংকীর্ণ (একটি নির্দিষ্ট বাজার) | বিস্তৃত (সমগ্র দেশ বা বিশ্ব অর্থনীতি) |
### সহজ উদাহরণ:
- **ব্যষ্টিক**:
একজন ভোক্তা কতটা চাল কিনবে, একটি মোবাইল
কোম্পানি কত দামে ফোন বিক্রি করবে, কোন শ্রমিক
কত মজুরিতে কাজ করবে — এসব নিয়ে আলোচনা।
- **সামষ্টিক**:
দেশের মোট উৎপাদন (জিডিপি) কত বাড়ল,
মূল্যস্ফীতি কত হলো, বেকারত্বের
হার কমল কি না, সরকার কত
টাকা খরচ করবে — এসব নিয়ে আলোচনা।
---
**সারাংশ**:
- **ব্যষ্টিক
অর্থনীতি** “বৃক্ষ” দেখে (পরিবার, ফার্ম, বাজার)।
- **সামষ্টিক
অর্থনীতি** “বন” দেখে (সমগ্র অর্থনীতি)।
দুটোই পরস্পর সম্পর্কিত। ব্যষ্টিকের সমষ্টিই সামষ্টিক
অর্থনীতি গঠন করে।
অর্থনীতি মূলত এমন একটি বিজ্ঞান যা আলোচনা করে কীভাবে
মানুষ সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে তার অসীম অভাব পূরণ করতে পারে। সহজ কথায়, সম্পদ সীমিত
কিন্তু আমাদের চাহিদা শেষ নেই—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করার বিদ্যাই হলো অর্থনীতি।
নিচে অর্থনীতির সহজ সংজ্ঞা এবং এর প্রধান দুটি
শাখা—ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির মূল পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:
অর্থনীতির সংজ্ঞা
অর্থনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Economics এসেছে গ্রিক
শব্দ Oikonomia থেকে, যার অর্থ
"গৃহস্থালি পরিচালনা"।
আধুনিক অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith) ১৭৭৬ সালে
তাঁর বিখ্যাত বইতে অর্থনীতিকে "সম্পদের বিজ্ঞান" বলে অভিহিত করেছেন। তবে
সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞাটি দিয়েছেন অধ্যাপক এল রবিন্স (L. Robbins)। তাঁর মতে:
"অর্থনীতি
এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের
মধ্যে সমন্বয়কারী মানবীয় আচরণ বিশ্লেষণ করে।"
ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির পার্থক্য
অর্থনীতিকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। একটি হলো ব্যষ্টিক
অর্থনীতি (Microeconomics) এবং অন্যটি সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics)। এদের মূল পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
|
বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র |
ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) |
সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics) |
|
শব্দগত অর্থ |
গ্রিক শব্দ Mikros থেকে এসেছে, যার অর্থ ক্ষুদ্র। |
গ্রিক শব্দ Makros থেকে এসেছে, যার অর্থ বৃহৎ। |
|
আলোচনার পরিধি |
এটি অর্থনীতির যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বা একক অংশ নিয়ে
আলোচনা করে। |
এটি অর্থনীতির সমগ্র বা সামগ্রিক রূপ নিয়ে
আলোচনা করে। |
|
বিশ্লেষণের বিষয় |
একজন নির্দিষ্ট ভোক্তা, একটি মাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বা একটি
নির্দিষ্ট পণ্যের দাম ও চাহিদা নিয়ে কাজ করে। |
দেশের মোট জাতীয় আয় (GDP), সামগ্রিক বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং সরকারের বাজেট নিয়ে কাজ করে। |
|
মূল লক্ষ্য |
কীভাবে সীমিত সম্পদ দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান
সর্বোচ্চ লাভ বা উপযোগ পেতে পারে, তা
নির্ধারণ করা। |
পুরো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা বজায়
রাখা। |
|
উদাহরণ |
একজন শ্রমিকের মজুরি কিংবা ইলিশ মাছের দাম নির্ধারণ। |
বাংলাদেশের মোট জাতীয় বাজেট বা দেশের বেকারত্বের হার। |
সহজ একটি উদাহরণ দিয়ে বলা যায়—ব্যষ্টিক অর্থনীতি যদি হয়
বনের একটি নির্দিষ্ট
গাছ, তবে
সামষ্টিক অর্থনীতি হলো পুরো বনটি।
অর্থনীতি হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যা মানব
আচরণের সাথে সীমিত সম্পদ এবং তার বিকল্প ব্যবহারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। এটি মূলত সমাজে পণ্য ও সেবার উৎপাদন, বণ্টন এবং
ভোগের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে। [1, 2, 3, 4]
মূলত অর্থনীতিকে দুটি প্রধান শাখায় ভাগ করা হয়েছে: ব্যষ্টিক (Microeconomics) ও সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics)। [1, 2]
ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির মধ্যে প্রধান পার্থক্য
|
ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) |
সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics) |
|
|
সংজ্ঞা |
এটি একক ব্যক্তি, পরিবার বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের
অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করে। |
এটি পুরো দেশ বা বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে
আলোচনা করে। |
|
কেন্দ্রবিন্দু |
নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার দাম, ব্যক্তিগত
আয়, নির্দিষ্ট
শিল্পের উৎপাদন ইত্যাদি। |
জাতীয় আয় (GDP), মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, দারিদ্র্য
ইত্যাদি। |
|
পরিধি |
তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র বা সীমিত। |
ব্যাপক বা সামগ্রিক। |
|
লক্ষ্য |
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও
মুনাফা অর্জন। |
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা
ও কল্যাণ সাধন। |
|
উদাহরণ |
রহিম সাহেবের আয়, একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির লাভ-লোকসান বা দাম নির্ধারণ। |
বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদন, পুরো
বিশ্বে তেলের দাম বৃদ্ধি বা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি। |
ইনভেস্টোপিডিয়া-এর মতো বিশ্বস্ত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এই দুটি শাখাকে
অর্থনীতির অপরিহার্য দুই স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২) ভোক্তার ভারসাম্য কি? নিরপেক্ষ রেখা ও বাজেট রেখার মাধ্যমে কিভাবে
ভোক্তার ভারসাম্য ব্যাখ্যা করা যায়?
অথবা, নিরপেক্ষ
রেখা ও বাজেট রেখার সাহায্যে ভোক্তার ভারসাম্য ব্যাখ্যা কর। অথবা, নিরপেক্ষ রেখা বিশ্লেষণের সাহায্যে ভোক্তার
ভারসাম্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ভূমিকা: আয়-ব্যয় এবং মূল্যের সীমাবদ্ধতার অধীনে
ভোক্তার দ্বারা প্রাপ্ত উপযোগের সর্বাধিকীকরণকে ভোক্তার ভারসাম্য অবস্থা বা
সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত অবস্থা বলে। একজন ভোক্তা দুটি পণ্যের সংমিশ্রণ কিনতে চায় যা
তার উপযোগিতাকে সর্বাধিক করে তোলে।
একটি ভোক্তার ভারসাম্য: একটি প্রদত্ত বাজেট লাইন দেওয়া
হলে, ভোক্তা
সর্বাধিক উপযোগী হয় যখন তিনি সর্বাধিক নিরপেক্ষ লাইনে পৌঁছাতে সক্ষম হন। এই
ইউটিলিটি-সর্বোচ্চ অবস্থান হল ভোক্তার ভারসাম্যের অবস্থান। যে দুটি পণ্যের
সংমিশ্রণে এই সর্বোচ্চ উপযোগিতা পাওয়া যায় তাকে কাঙ্খিত সংমিশ্রণ বলে। ভারসাম্য
পৌঁছায় যখন ভোক্তার ক্রয় করার ইচ্ছা এবং ক্রয় ক্ষমতা সমান হয়।
অনুমানের শর্ত: নিরপেক্ষ রেখার সাথে ভোক্তার ভারসাম্য
নির্ধারণের জন্য কতগুলি অনুমান করা হয়। অর্থাৎ:
১. ভোক্তার একটি নির্দিষ্ট আয় আছে অর্থাৎ তার ক্রয়
ক্ষমতা সীমিত।
২.বাজারের প্রতিটি পণ্যই একজাতীয়।
৩. ভোক্তা একজন যুক্তিবাদী মানুষ অর্থাৎ তিনি সর্বোচ্চ
সন্তুষ্টি পেতে চান।
৪. ভোক্তারা বাজার মূল্য প্রভাবিত করতে পারে না।
৫. ভোক্তাদের রুচি অপরিবর্তিত থাকে।
৬. সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
৭. দুটি পণ্যের বিভিন্ন স্থানাঙ্কের একটি নিরপেক্ষ রেখা
থাকবে এবং
৮. ভোক্তা পছন্দের তত্ত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভারসাম্যের শর্ত: ভারসাম্য অর্জনের জন্য ভোক্তার জন্য
দুটি শর্ত হল:-
১. বাজেট লাইন নিরপেক্ষ লাইন স্পর্শ করবে – প্রয়োজনীয়
শর্ত
২. যদি ভারসাম্য স্থিতিশীল হতে হয়, তাহলে নিরপেক্ষ রেখাটি উৎপত্তির দিকে ঠিক
উত্তল হতে হবে। এটি একটি যথেষ্ট শর্ত।
প্রথম শর্ত বা প্রয়োজনীয় শর্তঃ প্রথম শর্তকে ভোক্তার
ভারসাম্য অর্জনের প্রাথমিক শর্ত বা প্রয়োজনীয় শর্ত বলে। ভোক্তার বাজেট রেখা এবং
দুটি দ্রব্যের নিরপেক্ষ রেখা পরস্পরের সঙ্গে স্পর্শক হবে। স্পর্শ বিন্দুতে বাজেট
রেখার ঢাল ও নিরপেক্ষ রেখার ঢাল পরস্পরের সমান। নিরপেক্ষ রেখার ঢাল হচ্ছে দুটি
দ্রব্যের (MRS) বিকল্পনের
প্রান্তি।
ক. হার এবং বাজেট রেখার ঢাল হল। দ্রব্য দুটির দামের
অনুপাত (px/py)
dy/dx=MRSxy=px/py
বাজেট রেখা যখন নিরপেক্ষ রেখার কোন বিন্দুতে স্পর্শ করে, তখন সেই স্পর্শ বিন্দুতে উক্ত শর্তটি পালিত
হয়। উপযোগ সর্বাধিকরণের শর্ত হিসেবে প্রথম শর্তকে এভাবেও লিখা যায়ঃ
dy/dx=0 হতে হবে।
দ্বিতীয় শর্ত বা পর্যাপ্ত শর্ত: ভোক্তার তৃপ্তির পরিমাণ
সর্বোচ্চ হতে হলে স্পর্শ বিন্দুতে নিরপেক্ষ রেখা কেন্দ্রের দিকে উত্তল (Convex) হতে হবে।
এটি ভারসাম্যের পর্যাপ্ত শর্ত। কারণ নিরপেক্ষ রেখা উত্তল না হয়ে অবতল হলে ঐ অবতল
নিরপেক্ষ রেখা ও বাজেট রেখার সম্পর্শক হলে স্পর্শ বিন্দুতে ভোক্তা সর্বোচ্চ তৃপ্তি
লাভ করবে না বরং ঐ বিন্দুতে ভোক্তার তৃপ্তির পরিমাণ সর্বনিম্ন হবে। সুতরাং
কেন্দ্রের দিকে উত্তল নিরপেক্ষ রেখা বাজেট রেখার সঙ্গে স্পর্শক হলে ঐ বিন্দুতেই
ভোক্তার ভারসাম্য স্থায়ী হয়। পর্যাপ্ত শর্তটিকে নিম্নোক্ত ভাবে প্রকাশ করা যায়।
ভোক্তার ভারসাম্য শর্ত পালন করতে হলে এই শর্ত পূরণ হতে হবে।আলাদানী তাhen paar গাণিতিক
ব্যাখ্যাঃ প্রথম বা প্রয়োজনীয় শর্ত: উপযোগ অপেক্ষক, U = xy
নিরপেক্ষ রেখার সাহায্যে ভারসাম্য শর্ত নির্ণয়ঃ ভোক্তার
বাজেট রেখা নিরপেক্ষ রেখাকে স্পর্শ করলেই তার ভারসাম্য অবস্থা নির্ধারিত হয়। বাজেট
রেখাকে নিরপেক্ষ মানচিত্রে বসিয়ে দিলে যে বিন্দুতে বাজেট রেখা নিরপেক্ষ রেখাকে
স্পর্শ করবে সেই বিন্দুকেই ভোক্তার ভারসাম্য বিন্দু বলা হয়।
রেখা চিত্রের সাহায্যে ভোক্তার ভারসাম্য প্রকাশ: নিম্নে
রেখা চিত্রে নিরপেক্ষ রেখার সাহায্যে ভোক্তার ভারসাম্য অবস্থা নির্ণয় করা হলঃ
চিত্রে,
OX অক্ষে X দ্রব্যের
পরিমাণ ও OY অক্ষে Y দ্রব্যের পরিমাণ দেখান হল।IC, IC, ও IC, এই তিনটি নিরপেক্ষ রেখা রয়েছে এবং AB হল বাজেট রেখা।
ভোক্তা সব সময়ই উচ্চতর নিরপেক্ষ রেখায় যেতে চায়। কিন্তু
বাজেট সব সময় তা অনুমোদন দেয় না। তাই সীমিত বাজেটের মধ্যেই যতটা সম্ভব উচু
নিরপেক্ষ রেখাতে পৌঁছাতে চায়।
বাজেট রেখার বাইরে IC) তে ভোক্তার পক্ষে পৌঁছা সম্ভব নয়। বাজেট রেখার অর্জন
যোগ্য অঞ্চলে তিনটি বিন্দু বিবেচনা করা যাক। G, EGFI FG বিন্দু IC
তে অবস্থিত। তা থেকে প্রাপ্ত উপযোগ ।। E বিন্দুটি IC;
তে অবস্থিত এবং তা থেকে প্রাপ্ত উপযোগ । যেহেতু u, u এবং u₂ এর বেশি উপযোগ। তাই । বিন্দুটিতেই ভোক্তার সর্বোচ্চ
উপযোগ অর্জিত হয়। E বিন্দুকেই
ভারসাম্য বিন্দু বলা যায়। এ অবস্থায় দ্রব্যের কাম্য সংমিশ্রণ হল x-এর OM ও Y-এর ON.
এখানে E বিন্দুতে MRSxy = px/py
অর্থাৎ নিরপেক্ষ রেখার ঢাল = বাজেট রেখার ঢাল।
উপসংহারঃ উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি যে, নিরপেক্ষ রেখা যে বিন্দুতে বাজেট রেখাকে
স্পর্শ করলে ভোক্তার সর্বোচ্চ তৃপ্তি অর্জিত হয়, সে বিন্দুতেই ভোক্তার ভারসাম্য অর্জিত হয়।
৩.খ)চাহিদার সংকোচন-সম্প্রসারণ এবং চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি
উত্তর বুঝতে এই লিংকে ক্লিক করতে হবে
https://www.youtube.com/watch?v=O1-2SQU70H8
৩.ক) চাহিদার নির্ধারকসমূহ
৪.ক) মোট উপযোগ ও
প্রান্তিক উপযোগের সংজ্ঞা
অর্থনীতিতে মোট উপযোগ (Total Utility) এবং প্রান্তিক
উপযোগ (Marginal Utility) হলো ভোগ ও তৃপ্তি পরিমাপের দুটি মৌলিক একক। [1, 2]
মোট উপযোগ (Total Utility):
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক ভোগ করে যে মোট তৃপ্তি বা
সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, তার
সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলে। সহজ কথায়,
সবগুলো একক থেকে প্রাপ্ত উপযোগের যোগফলই হলো মোট উপযোগ। [1, 2, 3]
- গাণিতিকভাবে, \(TU = \sum MU\)
প্রান্তিক উপযোগ (Marginal Utility):
অতিরিক্ত এক একক দ্রব্য ভোগের ফলে মোট উপযোগে যে পরিবর্তন বা অতিরিক্ত
তৃপ্তি আসে, তাকে
প্রান্তিক উপযোগ বলে। [1, 2]
- গাণিতিকভাবে, \(MU = \frac{\Delta TU}{\Delta Q}\) (এখানে, \(TU\) হলো
মোট উপযোগের পরিবর্তন এবং \(Q\)
হলো ভোগের পরিমাণের পরিবর্তন)।
সম্পর্ক সম্পর্কে আরও জানতে ও উদাহরণ দেখতে Khan Academy Total and Marginal Utility Overview এবং
বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য BYJU'S Difference between Total and Marginal Utility পড়তে পারেন।
৪.খ) উপযোগ বিধি ব্যতিক্রমসহ
No comments:
Post a Comment