Search This Blog

Sunday, October 18, 2026

10 কার্ল মার্ক্সের মৌলনীতি / মূলতত্ত্ব / রাষ্ট্রদর্শন আলোচনা কর

 ### *কার্ল মার্ক্সের রাষ্ট্রদর্শন / মূলনীতি / মৌলনীতি*

 

*কার্ল মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩)* - তার রাষ্ট্রদর্শনকে ৭টি স্তম্ভের উপর দাঁড় করানো যায়। পরীক্ষায় ১০ নম্বরের প্রশ্ন আসলে এই ৭টি পয়েন্টই লিখবে - ১০ এ ১০ পাবে।

 

#### *১. দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ (Dialectical Materialism) - মার্কসের দর্শনের ভিত্তি*

 

মার্কসের গুরু হেগেল বলতেন - পৃথিবী চলে ভাব বা আইডিয়া দিয়ে। মার্কস বলেন - উল্টো, পৃথিবী চলে বস্তু বা টাকা দিয়ে।

 

*দ্বন্দ্বমূলক মানে কি?*

প্রতিটি জিনিসের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। যেমন:

- *বাদ (Thesis):* ধনী

- *প্রতিবাদ (Antithesis):* গরিব

- *সমন্বয় (Synthesis):* বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন সমাজ

 

এই দ্বন্দ্ব থেকেই পরিবর্তন। আজ মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব, কাল বিপ্লব, পরশু নতুন সমাজ। ইতিহাস এভাবেই এগোয়।

 

*বস্তুবাদ মানে কি?*

ভাব নয়, বস্তুই প্রধান। মানুষ কি চিন্তা করে তা দিয়ে ইতিহাস বোঝা যায় না, মানুষ কিভাবে রুটি-রোজগার করে তা দিয়ে ইতিহাস বোঝা যায়। অর্থনীতিই সবকিছুর মূল।

 

#### *২. ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (Historical Materialism) - ইতিহাসের ব্যাখ্যা*

 

ইতিহাস রাজা-রানীর যুদ্ধের গল্প নয়, ইতিহাস হলো উৎপাদন ব্যবস্থার গল্প।

 

মার্কস বলেন, সমাজের ২টি কাঠামো আছে:

 

*ক) ভিত্তি (Base):* অর্থনীতি - কে কি বানায়, কিভাবে বানায়।

- উৎপাদনের উপকরণ (জমি, কারখানা)

- উৎপাদনের সম্পর্ক (মালিক-শ্রমিক)

 

*খ) উপরিকাঠামো (Superstructure):* ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে - রাষ্ট্র, আইন, ধর্ম, রাজনীতি, শিক্ষা, পরিবার।

 

*সূত্র:* ভিত্তি বদলালে উপরিকাঠামো বদলায়। অর্থনীতি বদলালে রাজনীতি বদলায়।

 

তাই মার্কস ইতিহাসকে ৫টি যুগে ভাগ করেছেন - প্রতিটি যুগ বদলেছে উৎপাদন ব্যবস্থা বদলানোর কারণে:

১. আদিম সাম্যবাদ

২. দাস সমাজ

৩. সামন্ত সমাজ

৪. পুঁজিবাদ (বর্তমান)

৫. সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ (ভবিষ্যৎ)

 

#### *৩. শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্ব (Class Struggle) - ইতিহাসের চালিকাশক্তি*

 

> "এ যাবতকালের সমস্ত সমাজের ইতিহাস হলো শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস।"

 

প্রতিটি যুগে ২টি শ্রেণি - শোষক ও শোষিত। দাস-দাস মালিক, জমিদার-কৃষক, বর্তমানে বুর্জোয়া-প্রলেতারিয়েত।

 

মালিকের লাভ মানেই শ্রমিকের ক্ষতি। তাই এই দ্বন্দ্ব কখনো মিটবে না, একমাত্র বিপ্লবের মাধ্যমেই মিটবে।

 

#### *৪. উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব (Theory of Surplus Value) - শোষণের অঙ্ক*

 

এটি মার্কসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আবিষ্কার।

 

শ্রমিক দিনে ৮ ঘণ্টায় ১০০০ টাকার পণ্য বানায়। মালিক তাকে দেয় ৩০০ টাকা। বাকি ৭০০ টাকা মালিক রেখে দেয়। এই ৭০০ টাকাই উদ্বৃত্ত মূল্য।

 

মার্কস বলেন - মুনাফা, সুদ, খাজনা - সবই এই উদ্বৃত্ত মূল্য থেকে আসে, মানে সবই শ্রমিকের পকেট কেটে নেওয়া।

 

#### *৫. রাষ্ট্র সম্পর্কে তত্ত্ব - রাষ্ট্র হলো শোষণের যন্ত্র*

 

বুর্জোয়া দার্শনিকরা বলেন - রাষ্ট্র সবার, রাষ্ট্র নিরপেক্ষ।

মার্কস বলেন - মিথ্যা কথা।

 

*রাষ্ট্র হলো একটি শ্রেণির হাতে অন্য শ্রেণিকে দমনের যন্ত্র।*

 

পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে - রাষ্ট্র হলো বুর্জোয়াদের কার্যকরী কমিটি। পুলিশ, সেনাবাহিনী, আদালত, আইন - সবই শ্রমিককে পিটিয়ে ঠান্ডা রাখার জন্য। গরিব চুরি করলে জেল, ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা মেরে দিলে বিদেশে পালিয়ে যায় - এটাই তার প্রমাণ।

 

তাই মার্কস বলেন - পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলতে হবে।

 

#### *৬. বিপ্লব ও সর্বহারার একনায়কত্ব (Revolution and Dictatorship of the Proletariat)*

 

পুঁজিবাদ নিজের কবর নিজেই খুঁড়বে:

- বেশি লাভের জন্য মালিক বেশি জিনিস বানাবে, কিন্তু শ্রমিকের বেতন কম হওয়ায় কেউ কিনতে পারবে না - মন্দা হবে।

- ছোট মালিকরা মরবে, বড় মালিক আরও বড় হবে - বৈষম্য বাড়বে।

- তখন শ্রমিকরা শ্রেণি চেতনা পাবে, বিপ্লব করবে।

 

বিপ্লবের পর কি হবে?

*২টি ধাপ:*

 

*ধাপ ১: সমাজতন্ত্র - সর্বহারার একনায়কত্ব:*

রাষ্ট্র থাকবে, কিন্তু মালিকানা বদলে যাবে। কারখানা, জমি সব রাষ্ট্রের। বুর্জোয়াদের দমন করার জন্য শ্রমিকদের রাষ্ট্র - এটাই সর্বহারার একনায়কত্ব। নীতি হবে - "প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে, কাজ অনুযায়ী পাবে।"

 

*ধাপ ২: সাম্যবাদ - শ্রেণিহীন, রাষ্ট্রহীন সমাজ:*

যখন শ্রেণি থাকবে না, তখন রাষ্ট্রেরও দরকার নেই। রাষ্ট্র "বিলুপ্ত" (Wither away) হয়ে যাবে। থাকবে শুধু প্রশাসন। নীতি হবে - "প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে, প্রয়োজন অনুযায়ী পাবে।" এটাই চূড়ান্ত স্বর্গরাজ্য।

 

#### *৭. বিচ্ছিন্নতাবোধ (Alienation)*

 

পুঁজিবাদে মানুষ মানুষ থাকে না।

 

- শ্রমিক তার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন - যে জুতা বানায়, সে জুতা কিনতে পারে না।

- মানুষ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন - মালিক শ্রমিককে মানুষ নয়, মেশিন ভাবে।

- মানুষ নিজের থেকেই বিচ্ছিন্ন - সে সারাদিন মেশিনের মতো কাজ করে, তার সৃজনশীলতা মরে যায়।

 

#### *পরীক্ষার জন্য একসাথে ৭টি মূলনীতি - এই ছকটি মুখস্থ করো*

ক্রম | মূলনীতি | এক লাইনে

১ | দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ | ভাব নয়, বস্তুই প্রধান, দ্বন্দ্ব থেকেই পরিবর্তন

২ | ঐতিহাসিক বস্তুবাদ | অর্থনীতিই ইতিহাসের মূল, ভিত্তি বদলালে সব বদলায়

৩ | শ্রেণি সংগ্রাম | ইতিহাস হলো শোষক-শোষিতের লড়াই

৪ | উদ্বৃত্ত মূল্য | মুনাফা মানেই শ্রমিকের শ্রম চুরি

৫ | রাষ্ট্র তত্ত্ব | রাষ্ট্র হলো ধনীদের লাঠিয়াল বাহিনী

৬ | বিপ্লব ও একনায়কত্ব | বিপ্লব অনিবার্য, তারপর শ্রমিকের রাষ্ট্র, শেষে রাষ্ট্রহীন সমাজ

৭ | বিচ্ছিন্নতাবোধ | পুঁজিবাদ মানুষকে মানুষ থেকে আলাদা করে দেয়

#### *সমালোচনা - ২ লাইনে শেষ করবে*

 

মার্কসের ভবিষ্যৎবাণী পুরোপুরি মেলেনি। উন্নত পুঁজিবাদী দেশে বিপ্লব হয়নি, বিপ্লব হয়েছে পিছিয়ে থাকা দেশে। মধ্যবিত্ত বিলীন হয়নি, বরং বড় হয়েছে। আর সাম্যবাদী দেশে রাষ্ট্র বিলুপ্ত হয়নি, রাষ্ট্র আরও শক্তিশালী হয়েছে।

 

তবুও - বিশ্বব্যাংক বলছে, বিশ্বের ১% মানুষের হাতে ৪৫% সম্পদ। গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিকের বৈষম্য, ২০০৮ এর মন্দা - এসব কি মার্কসকে আজও প্রাসঙ্গিক করে না?

 

> মার্কসবাদ ব্যর্থ হয়নি, মার্কসবাদের প্রয়োগ ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

 

কার্ল মার্ক্সের মূলতত্ত্ব হলো: সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামোই রাজনীতি, আইন, ধর্ম ও সংস্কৃতিকে নির্ধারণ করে; আর ইতিহাস চলে শ্রেণিসংগ্রামের মাধ্যমে। তাঁর রাষ্ট্রদর্শন অনুযায়ী, রাষ্ট্র নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নয়—বরং প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষাকারী যন্ত্র।[plato.stanford][plato.stanford][nubbd]

ঐতিহাসিক বস্তুবাদ

মার্ক্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো ঐতিহাসিক বস্তুবাদ বা historical materialism। এর মতে, মানুষের বস্তুগত জীবন—অর্থাৎ উৎপাদনের উপায় ও সম্পর্ক—সমাজের রাজনৈতিক, আইনগত ও সাংস্কৃতিক জীবনকে নির্ধারণ করে।[plato.stanford][info.fpn.bg.ac]

  • উৎপাদনশক্তি: জমি, শ্রম, যন্ত্রপাতি, কারখানা ও প্রযুক্তি—যেগুলো দিয়ে মানুষ জীবনধারণের উপকরণ তৈরি করে।[plato.stanford][plato.stanford]
  • উৎপাদন সম্পর্ক: উৎপাদনের সময় মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যেমন মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক।[plato.stanford][plato.stanford]
  • ভিত্তি ও উপরিকাঠামো: অর্থনৈতিক কাঠামো হলো সমাজের “ভিত্তি”; রাষ্ট্র, আইন, ধর্ম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি হলো তার “উপরিকাঠামো”। ভিত্তি পরিবর্তন হলে উপরিকাঠামোও পরিবর্তিত হয়।[plato.stanford][info.fpn.bg.ac]

শ্রেণিসংগ্রাম

মার্ক্সের বিখ্যাত বক্তব্য হলো, অতীতের সব সমাজের ইতিহাসই শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। তিনি মনে করেন, উৎপাদনের উপায়ের মালিক শ্রেণি ও তার শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য শ্রেণির মধ্যে স্বার্থগত দ্বন্দ্বই সমাজ পরিবর্তনের চালিকাশক্তি।[plato.stanford][plato.stanford][bn.wikipedia]

পুঁজিবাদী সমাজে এই দ্বন্দ্ব মূলত বুর্জোয়া বা পুঁজিপতি শ্রেণি এবং প্রলেতারিয়েত বা শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। পুঁজিপতিরা উৎপাদনের উপায়ের মালিক; শ্রমিকরা জীবিকার জন্য শ্রমবিক্রয় করে।[plato.stanford][plato.stanford]

শ্রমমূল্য ও অতিরিক্ত মূল্য

মার্ক্সের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয় তা উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় শ্রমসময় দ্বারা। এটি তাঁর শ্রমমূল্য তত্ত্বের মূল বিষয়।[plato.stanford]

  • শ্রমিক নির্দিষ্ট সময়ে তার জীবনধারণের প্রয়োজনীয় মূল্য তৈরি করে, যার বিনিময়ে মজুরি পায়।
  • কিন্তু কর্মদিবসের বাকি সময়ে সে যে মূল্য সৃষ্টি করে, তা পুঁজিপতি অতিরিক্ত মূল্য বা surplus value হিসেবে আত্মসাৎ করে।
  • মার্ক্সের মতে, এই অতিরিক্ত মূল্য আত্মসাতই পুঁজিবাদী মুনাফা ও শোষণের মূল উৎস।[plato.stanford][plato.stanford]

বিচ্ছিন্নতা

মার্ক্সের প্রাথমিক লেখায় বিচ্ছিন্নতা বা alienation একটি কেন্দ্রীয় ধারণা। পুঁজিবাদে শ্রমিক নিজের শ্রম, উৎপাদিত পণ্য, কর্মপ্রক্রিয়া এবং অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।[plato.stanford][plato.stanford]

অর্থাৎ, শ্রমিক তার নিজের সৃষ্ট জিনিসের মালিক নয়; বরং সে যন্ত্রের মতো কাজ করে এবং তার শ্রমফল পুঁজিপতির সম্পত্তিতে পরিণত হয়। মার্ক্সের মতে, এই বিচ্ছিন্নতা প্রযুক্তির ফল নয়, বরং পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের ফল।[plato.stanford]

রাষ্ট্রদর্শন

মার্ক্সের মতে, রাষ্ট্র সবার সমান স্বার্থের প্রতিনিধি নয়। বরং রাষ্ট্র হলো সেই শ্রেণির হাতিয়ার, যার হাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র মূলত বুর্জোয়া শ্রেণির শাসন ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করে।[nubbd]

  • রাষ্ট্র শ্রেণিশাসনের যন্ত্র: আইন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা ও সেনাবাহিনী শাসক শ্রেণির কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যবহৃত হয়।[nubbd]
  • রাষ্ট্রের আপাত নিরপেক্ষতা: রাষ্ট্র নিজেকে সবার সাধারণ স্বার্থের প্রতিনিধি দেখায়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা বিদ্যমান উৎপাদন সম্পর্ক ও সম্পত্তিবাদ রক্ষা করে।[plato.stanford][nubbd]
  • বিপ্লবের প্রয়োজন: শ্রমিক শ্রেণিকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে পুরনো পুঁজিবাদী কাঠামো ভাঙতে হবে; এটিই মার্ক্সের বিপ্লবী রাজনীতির মূল বার্তা।[plato.stanford][bn.wikipedia]

সমাজতন্ত্র ও রাষ্ট্রের বিলুপ্তি

মার্ক্সের দৃষ্টিতে পুঁজিবাদের পরে আসবে সমাজতন্ত্র, যেখানে উৎপাদনের উপায় ব্যক্তিমালিকানার বদলে সমাজের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এ পর্যায়ে শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র পুরনো শোষণমূলক কাঠামো ভাঙার কাজ করবে।[plato.stanford][bibortonpoth]

শেষ পর্যায়ে, শ্রেণি ও শোষণ বিলুপ্ত হলে শ্রেণিশাসনের যন্ত্র হিসেবে রাষ্ট্রেরও প্রয়োজন থাকবে না। তখন রাষ্ট্র ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হবে এবং প্রতিষ্ঠিত হবে শ্রেণিহীন, শোষণহীন সাম্যবাদী সমাজ।[plato.stanford][bibortonpoth]

মূল্যায়ন

মার্ক্সের তত্ত্ব রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও সমাজকে একই কাঠামোয় বিশ্লেষণ করার একটি শক্তিশালী পদ্ধতি দিয়েছে। বিশেষত শ্রেণিসংগ্রাম, শোষণ, বৈষম্য ও রাষ্ট্রের শ্রেণিচরিত্র বিশ্লেষণে তাঁর অবদান রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানে অত্যন্ত প্রভাবশালী।[plato.stanford][plato.stanford]

তবে সমালোচকেরা বলেন, পুঁজিবাদের পতন ও সাম্যবাদের আগমন যে অনিবার্য, এমন ভবিষ্যদ্বাণী ইতিহাসে সর্বজনীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। এছাড়া বাস্তব সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা প্রায়ই ব্যক্তিস্বাধীনতা সীমিত করেছে।[plato.stanford][bn.wikipedia]

সংক্ষেপে: মার্ক্সের মূলনীতি হলো ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, শ্রেণিসংগ্রাম, শোষণ ও বিচ্ছিন্নতার বিশ্লেষণ। তাঁর রাষ্ট্রদর্শন অনুযায়ী রাষ্ট্র হলো শাসক অর্থনৈতিক শ্রেণির হাতিয়ার; শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্র অবশেষে বিলুপ্ত হবে।[plato.stanford][plato.stanford][bibortonpoth]

 

 

 

কার্ল মার্ক্সের মূলতত্ত্ব ও রাষ্ট্রদর্শন

ভূমিকা

কার্ল মার্ক্স (১৮১৮–১৮৮৩) জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও বিপ্লবী চিন্তাবিদ। শিল্পবিপ্লবের ফলে ইউরোপে শ্রমিক শোষণ, দারিদ্র্য ও শ্রেণিবৈষম্য চরমে উঠলে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন। বন্ধু ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের সঙ্গে রচিত কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো (১৮৪৮) এবং তাঁর বিশাল গ্রন্থ দাস ক্যাপিটাল (প্রথম খণ্ড ১৮৬৭) মার্ক্সীয় চিন্তার মূল ভিত্তি। তাঁর দর্শনকে সাধারণত "বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র" বলা হয়।

মার্ক্সীয় তত্ত্বের দার্শনিক ভিত্তি

মার্ক্স জার্মান দর্শন (বিশেষত হেগেল ও ফয়েরবাখ), ইংরেজ রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি (অ্যাডাম স্মিথ, ডেভিড রিকার্ডো) এবং ফরাসি কল্পনাবিলাসী সমাজতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত হন। তবে তিনি হেগেলের ভাববাদী দ্বন্দ্বতত্ত্বকে উল্টে দিয়ে বস্তুবাদী ভিত্তিতে দাঁড় করান। হেগেল মনে করতেন ধারণা বা চেতনাই ইতিহাস চালায়; মার্ক্স বলেন, বস্তুগত অবস্থা ও উৎপাদন পদ্ধতিই চেতনাকে নির্ধারণ করে।

মার্ক্সের মূলতত্ত্বসমূহ

১. দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ

এটি মার্ক্সীয় দর্শনের মৌলিক পদ্ধতি। এর দুটি অংশ: বস্তুবাদ অনুসারে বস্তুই প্রথম, চেতনা তার প্রতিফলন। দ্বন্দ্বতত্ত্ব অনুসারে প্রতিটি বস্তু ও সমাজের ভেতরে পরস্পরবিরোধী শক্তির সংঘাত থাকে, এবং এই দ্বন্দ্বই পরিবর্তন ও অগ্রগতির চালিকাশক্তি। পুরনো ব্যবস্থার অন্তর্দ্বন্দ্ব থেকেই নতুন ব্যবস্থার জন্ম হয়।

২. ঐতিহাসিক বস্তুবাদ

মার্ক্স ইতিহাসকে অর্থনৈতিক ভিত্তির আলোকে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে প্রতিটি সমাজে দুটি স্তর আছে:

  • ভিত্তি (Base): উৎপাদন শক্তি (শ্রমিক, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি) ও উৎপাদন সম্পর্ক (মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক) মিলে গঠিত অর্থনৈতিক কাঠামো।
  • উপরিকাঠামো (Superstructure): আইন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতা।

ভিত্তিই উপরিকাঠামোকে নির্ধারণ করে। উৎপাদন শক্তি বিকশিত হলে পুরনো উৎপাদন সম্পর্কের সঙ্গে সংঘাত বাধে, ফলে সামাজিক বিপ্লব ঘটে। এভাবে ইতিহাস এগিয়েছে আদিম সাম্যবাদ, দাসপ্রথা, সামন্ততন্ত্র ও পুঁজিবাদের স্তর পেরিয়ে, এবং ভবিষ্যতে আসবে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ।

৩. শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব

ম্যানিফেস্টো-র সূচনা বাক্যে মার্ক্স বলেন, এযাবৎকালের সব সমাজের ইতিহাস শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। প্রতিটি যুগে সমাজ দুটি বিরোধী শ্রেণিতে বিভক্ত থেকেছে: শোষক ও শোষিত (দাস-প্রভু, সামন্ত-ভূমিদাস, পুঁজিপতি-শ্রমিক)। পুঁজিবাদী সমাজে এই দুই শ্রেণি হলো বুর্জোয়া (উৎপাদনের উপায়ের মালিক) ও প্রলেতারিয়েত (শ্রমশক্তি বিক্রি করে বেঁচে থাকা শ্রমিক)। উভয়ের স্বার্থ মৌলিকভাবে বিরোধী, তাই সংঘাত অনিবার্য।

৪. উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব

দাস ক্যাপিটাল-এ মার্ক্স পুঁজিবাদী শোষণের অর্থনৈতিক রহস্য উন্মোচন করেন। তাঁর মতে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয় তাতে ব্যয়িত শ্রমের দ্বারা। শ্রমিক দৈনিক যতটুকু মূল্য সৃষ্টি করে, মজুরি হিসেবে পায় তার একটি অংশমাত্র; বাকি অংশ, অর্থাৎ উদ্বৃত্ত মূল্য, পুঁজিপতি মুনাফা হিসেবে আত্মসাৎ করে। এটাই পুঁজিবাদী শোষণের ভিত্তি।

৫. বিচ্ছিন্নতাবোধ (Alienation)

পুঁজিবাদে শ্রমিক চারভাবে বিচ্ছিন্ন হয়: নিজের শ্রমের ফল থেকে, উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে, নিজের মানবিক সত্তা থেকে, এবং অন্য মানুষের কাছ থেকে। কাজ তখন সৃজনশীল আনন্দের বদলে বাধ্যতামূলক বোঝায় পরিণত হয়।

৬. পুঁজিবাদের সংকট ও পতন

মার্ক্স মনে করতেন, পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বই তার পতন ডেকে আনবে। প্রতিযোগিতার ফলে পুঁজি কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, মুনাফার হার কমার প্রবণতা দেখা দেয়, বারবার অর্থনৈতিক সংকট আসে, এবং শ্রমিক শ্রেণি সংখ্যায় ও সংগঠনে বাড়ে। শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরা বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করবে।

মার্ক্সের রাষ্ট্রদর্শন

১. রাষ্ট্র শ্রেণিশাসনের যন্ত্র

মার্ক্সের মতে রাষ্ট্র নিরপেক্ষ বা সর্বজনীন কল্যাণের প্রতিষ্ঠান নয়। এটি অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী শ্রেণির হাতে অন্য শ্রেণিকে দমন করার হাতিয়ার। ম্যানিফেস্টো-তে তিনি বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পুরো বুর্জোয়া শ্রেণির সাধারণ বিষয়াদি পরিচালনার একটি কমিটির মতো। সামন্ত যুগে রাষ্ট্র ছিল জমিদারদের স্বার্থরক্ষক, পুঁজিবাদী যুগে তা পুঁজিপতিদের।

২. রাষ্ট্রের উৎপত্তি

রাষ্ট্র চিরন্তন বা ঐশ্বরিক নয়। আদিম সাম্যবাদী সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও শ্রেণিবিভাজন ছিল না, তাই রাষ্ট্রও ছিল না। উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও ব্যক্তিমালিকানা দেখা দিলে সমাজ শ্রেণিতে ভাগ হয়, আর শ্রেণিদ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এঙ্গেলস পরিবার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন।

৩. রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগমূলক চরিত্র

সেনাবাহিনী, পুলিশ, আদালত ও আমলাতন্ত্র রাষ্ট্রের দমনযন্ত্র। বুর্জোয়া গণতন্ত্রে সবাইকে ভোটাধিকার দিলেও মার্ক্সের মতে প্রকৃত ক্ষমতা অর্থনৈতিক শক্তির হাতেই থাকে। আইনও তাই সম্পত্তিবান শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে।

৪. প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব

বিপ্লবের পর শ্রমিক শ্রেণি বুর্জোয়া রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে নিজেদের রাষ্ট্র গঠন করবে। মার্ক্স একে বলেছেন "প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব", যার কাজ হলো পুরনো শাসক শ্রেণির প্রতিরোধ দমন করা, উৎপাদনের উপায় সামাজিক মালিকানায় আনা এবং শ্রেণিহীন সমাজের পথ প্রস্তুত করা। এটি একটি সাময়িক ও অন্তর্বর্তী পর্যায়। তাঁর ধারণায় এই একনায়কত্ব মানে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবীর শাসন, ব্যক্তির স্বৈরশাসন নয়।

৫. রাষ্ট্রের বিলুপ্তি

শ্রেণিবিভাজন লোপ পেলে শ্রেণিদমনের যন্ত্র হিসেবে রাষ্ট্রের আর প্রয়োজন থাকবে না, ফলে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে "ক্ষয়ে যাবে" (withering away)। তখন মানুষের ওপর শাসনের জায়গা নেবে বস্তুর ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিচালনা। এই চূড়ান্ত পর্যায়ই সাম্যবাদ, যার মূলনীতি: প্রত্যেকে সামর্থ্য অনুযায়ী দেবে, প্রয়োজন অনুযায়ী পাবে।

মার্ক্সবাদের প্রভাব

মার্ক্সের চিন্তা বিংশ শতাব্দীর রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লব, চীন, কিউবা ও ভিয়েতনামের বিপ্লব মার্ক্সীয় ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত। লেনিন, মাও ও গ্রামশি তাঁর তত্ত্বকে বিভিন্নভাবে বিকশিত করেছেন। পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইতিহাসচর্চা ও সাংস্কৃতিক তত্ত্বে মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গি বিশাল প্রভাব ফেলেছে। শ্রমিক অধিকার, শ্রমিক আন্দোলন ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের পেছনেও এর অনুপ্রেরণা ছিল।

সমালোচনা

মার্ক্সবাদ বহুমুখী সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে:

  • অর্থনৈতিক নির্ধারণবাদ: ইতিহাসের সবকিছু অর্থনীতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা অতি সরলীকরণ; ধর্ম, জাতীয়তাবাদ, সংস্কৃতি ও ব্যক্তির ভূমিকাও ইতিহাস গড়ে।
  • ভবিষ্যদ্বাণীর ব্যর্থতা: পুঁজিবাদ ভেঙে পড়েনি; বরং কল্যাণরাষ্ট্র, ট্রেড ইউনিয়ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশে নিজেকে সংস্কার করে টিকে গেছে। বিপ্লবও ঘটেছে শিল্পোন্নত দেশে নয়, মূলত কৃষিপ্রধান দেশে।
  • রাষ্ট্র সম্পর্কে একপেশে ধারণা: রাষ্ট্র কেবল শ্রেণিস্বার্থের হাতিয়ার নয়; আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও কল্যাণমূলক ভূমিকাও তার আছে।
  • একনায়কত্বের ঝুঁকি: প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্বের ধারণা বাস্তবে সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে একদলীয় স্বৈরশাসনে রূপ নিয়েছে, আর রাষ্ট্র "ক্ষয়ে যাওয়ার" বদলে আরও শক্তিশালী হয়েছে।
  • ব্যক্তিস্বাধীনতার অবহেলা: উদারনীতিবাদীরা বলেন, মার্ক্সবাদ সমষ্টির স্বার্থে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে গৌণ করে।

উপসংহার

মার্ক্স রাষ্ট্র ও সমাজকে বুঝতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রেণিদ্বন্দ্বকে কেন্দ্রে এনেছেন। তাঁর মতে রাষ্ট্র শোষক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার যন্ত্র, যা শ্রেণিহীন সমাজে বিলীন হবে। যদিও তাঁর অনেক ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে মেলেনি এবং তাঁর তত্ত্বের প্রয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক আছে, পুঁজিবাদী সমাজের বৈষম্য, শোষণ ও ক্ষমতার কাঠামো বিশ্লেষণে মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গি আজও প্রাসঙ্গিক। রাজনৈতিক চিন্তার ইতিহাসে মার্ক্স তাই অন্যতম প্রভাবশালী ও বিতর্কিত চিন্তাবিদ হিসেবে স্বীকৃত।

 

 

 

কার্ল মার্ক্সের চিন্তাধারার মূল ভিত্তি হলো **দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ** (Dialectical Materialism) এবং তার উপর প্রতিষ্ঠিত **ঐতিহাসিক বস্তুবাদ** (Historical Materialism)। এই দার্শনিক কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে তিনি পুঁজিবাদী সমাজের অর্থনৈতিক শোষণ, শ্রেণিসংগ্রাম এবং রাষ্ট্রের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র কোনো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি শাসক শ্রেণীর শোষণ ও দমনের যন্ত্র। নিচে তাঁর মৌলনীতি ও রাষ্ট্রদর্শন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

 

### 🧠 ১. দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ (Dialectical Materialism)

মার্ক্সের দর্শনের ভিত্তি হলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। তিনি হেগেলের ভাববাদী দ্বান্দ্বিকতাকে বস্তুবাদী রূপ দেন। তাঁর মতে, জগতের সবকিছুই গতিশীল এবং পরস্পরবিরোধী শক্তির দ্বন্দ্বের মাধ্যমে বিকশিত হয়। এই দ্বন্দ্বের তিনটি স্তর হলো: **থিসিস** (বর্তমান অবস্থা), **অ্যান্টিথিসিস** (এর বিপরীত শক্তি) এবং **সিনথেসিস** (দ্বন্দ্বের সমন্বয়ে নতুন অবস্থা)। এই প্রক্রিয়ায় বস্তুজগতই বাস্তব, আর চিন্তা বা ভাব হলো বস্তুজগতের প্রতিফলন।

 

### 🏗️ ২. ঐতিহাসিক বস্তুবাদ ও ভিত্তি-অধিগঠন (Historical Materialism & Base-Superstructure)

ঐতিহাসিক বস্তুবাদ হলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের নীতি মানব সমাজ ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ। এর মূল কথা হলো—**“অর্থনৈতিক কাঠামোই সমাজের ভিত্তি, আর রাজনীতি, আইন, ধর্ম, শিল্প-সাহিত্য ইত্যাদি হলো সেই ভিত্তির উপর গড়ে ওঠা অধিগঠন”** (Superstructure)। সমাজের উৎপাদন পদ্ধতি ও উৎপাদন সম্পর্কই হলো ভিত্তি (Base), যা সমাজের অন্যান্য সকল দিক নির্ধারণ করে। ভিত্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে অধিগঠনও পরিবর্তিত হয়।

 

### 💰 ৩. অতিরিক্ত মূল্যের তত্ত্ব (Theory of Surplus Value)

মার্ক্সের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো অতিরিক্ত মূল্যের তত্ত্ব, যা পুঁজিবাদী শোষণের রহস্য উন্মোচন করে। শ্রমিক তার শ্রমশক্তি বিক্রি করে এবং যে মূল্য উৎপাদন করে, তার একটি অংশ মজুরি হিসেবে পায়। কিন্তু শ্রমিক আসলে তার মজুরির চেয়ে বেশি মূল্য উৎপাদন করে। এই অতিরিক্ত অংশটুকুই হলো **Surplus Value**, যা পুঁজিপতি আত্মসাৎ করে। এই শোষণই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।

 

### 🔗 ৪. বিচ্ছিন্নতা বা অ্যালিয়েনেশন (Alienation)

মার্ক্সের মতে, পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিক তার নিজের শ্রম, উৎপাদিত পণ্য এবং নিজের মানবিক সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন (alienated) হয়ে পড়ে। শ্রমিক যে পণ্য উৎপাদন করে, তা তার নিয়ন্ত্রণে থাকে না; বরং সেই পণ্যই তার উপর একটি বিদেশি, শত্রু শক্তি হিসেবে দাঁড়ায়। এই বিচ্ছিন্নতা মানুষকে তার সৃজনশীল ও মুক্ত সত্তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

 

### ⚔️ ৫. শ্রেণিসংগ্রামের তত্ত্ব (Theory of Class Struggle)

মার্ক্সের মতে, **“আজ পর্যন্ত বিদ্যমান সকল সমাজের ইতিহাসই হলো শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস”**। সমাজ সর্বদা দুটি প্রধান পরস্পরবিরোধী শ্রেণীতে বিভক্ত—**শোষক ও শোষিত** (যেমন: পুঁজিপতি ও শ্রমিক)। এই দুই শ্রেণীর স্বার্থ পরস্পরবিরোধী, এবং তাদের মধ্যে একটি অবিরাম সংগ্রাম চলে। এই সংগ্রামই ইতিহাসের গতিশীলতার চালিকাশক্তি।

 

### 🏛️ ৬. মার্কসীয় রাষ্ট্রদর্শন (Marxist Theory of the State)

মার্কসের রাষ্ট্রদর্শন তাঁর ঐতিহাসিক বস্তুবাদ ও শ্রেণিসংগ্রামের তত্ত্বেরই Logical পরিণতি। তাঁর রাষ্ট্রতত্ত্বের মূল বক্তব্যগুলো হলো:

 

- **রাষ্ট্র শাসক শ্রেণীর শোষণ ও দমনের যন্ত্র:** রাষ্ট্র কোনো নিরপেক্ষ বা সার্বজনীন প্রতিষ্ঠান নয়। এটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী শাসক শ্রেণীর হাতের একটি যন্ত্র, যা দিয়ে তারা শোষিত শ্রেণীকে দমন করে এবং নিজেদের শোষণ ও সম্পত্তির ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখে। রাষ্ট্রের হাতে থাকা পুলিশ, সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র, গোয়েন্দা বাহিনী—সবই এই দমন-যন্ত্রের অঙ্গ।

- **রাষ্ট্রের উৎপত্তি:** রাষ্ট্র চিরকালীন নয়। আদিম সাম্যবাদী সমাজে রাষ্ট্র ছিল না। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উত্থান এবং শ্রেণীবিভাজনের ফলেই রাষ্ট্রের জন্ম। শোষক শ্রেণী নিজেদের সুবিধা রক্ষার জন্যই রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে।

- **সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব (Dictatorship of the Proletariat):** পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকে ভেঙে দিয়ে শ্রমিক শ্রেণীকে নিজেদের রাষ্ট্রক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই রাষ্ট্র হবে শ্রমিক শ্রেণীর একনায়কত্ব, যা পূর্বতন শোষক শ্রেণীকে দমন করবে এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

- **রাষ্ট্রের বিলোপ (Withering Away of the State):** সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শ্রেণীবিভাজন ও শোষণ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হলে, রাষ্ট্রের আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না। তখন রাষ্ট্র “ক্রমশ ক্ষয় পাইতে-পাইতে অন্তর্হিত” হবে এবং একটি শ্রেণীহীন, রাষ্ট্রহীন কমিউনিস্ট সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

### 🚩 ৭. সাম্যবাদ (Communism)

মার্ক্সের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি শ্রেণীহীন, শোষণহীন এবং রাষ্ট্রহীন **কমিউনিস্ট সমাজ** প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রত্যেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভোগ করবে।

 

সারসংক্ষেপে, মার্ক্সের মৌলনীতি ও রাষ্ট্রদর্শন হলো একটি বৈজ্ঞানিক ও বিপ্লবী কাঠামো, যা পুঁজিবাদী শোষণের অন্তর্নিহিত কারণগুলো উন্মোচন করে এবং শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির পথ দেখায়।

 

 

 

কার্ল মার্ক্সের মূলনীতি বা রাষ্ট্রদর্শন

কার্ল মার্ক্সের (Karl Marx) রাষ্ট্রদর্শন মূলত ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, শ্রেণিসংগ্রাম, অর্থনৈতিক কাঠামো, শ্রেণিশোষণ এবং শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর মতে, রাষ্ট্রকে বুঝতে হলে সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও শ্রেণিসম্পর্ক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

Stanford Encyclopedia of Philosophy

+1

১. দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ

মার্ক্স হেগেলের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি গ্রহণ করলেও তার ভাববাদী ভিত্তির পরিবর্তে বস্তুগত বাস্তবতার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর দর্শনে সমাজ ও প্রকৃতির পরিবর্তনকে বস্তুগত অবস্থা, পারস্পরিক বিরোধ এবং দ্বন্দ্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

২. ঐতিহাসিক বস্তুবাদ

ঐতিহাসিক বস্তুবাদ মার্ক্সের অন্যতম প্রধান তত্ত্ব। তাঁর মতে, ইতিহাসের গতিপথ বুঝতে উৎপাদনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উৎপাদনশক্তির বিকাশ বিশ্লেষণ করতে হয়। অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন সমাজের রাজনৈতিক, আইনি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করে।

Stanford Encyclopedia of Philosophy

+1

৩. শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব

মার্ক্সের মতে, শ্রেণিবিভক্ত সমাজের ইতিহাসে শ্রেণিসংগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। উৎপাদনের উপকরণের মালিকানা ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির সৃষ্টি হয়।

পুঁজিবাদী সমাজে প্রধান দুটি শ্রেণি হলো—

  • বুর্জোয়া শ্রেণি: যারা উৎপাদনের উপকরণের মালিক।
  • প্রলেতারিয়েত শ্রেণি: যারা জীবিকা অর্জনের জন্য নিজেদের শ্রম বিক্রি করে।

এই দুই শ্রেণির স্বার্থের সংঘাত পুঁজিবাদী সমাজের শ্রেণিসংগ্রামের কেন্দ্রীয় বিষয়।

Stanford Encyclopedia of Philosophy

+1

৪. রাষ্ট্র একটি শ্রেণিশাসনের হাতিয়ার

মার্ক্সের রাষ্ট্রদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাষ্ট্রের শ্রেণিগত চরিত্র। তাঁর ও এঙ্গেলসের The Communist Manifesto অনুসারে, আধুনিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে বুর্জোয়া শ্রেণির সাধারণ স্বার্থ রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

মার্ক্সের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্র সব সময় সমাজের সব শ্রেণির স্বার্থ সমানভাবে রক্ষা করে—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী শ্রেণি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের নীতিকে নিজেদের স্বার্থে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে মার্ক্সের রচনায় একাধিক ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়।

Stanford Encyclopedia of Philosophy

+1

৫. উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব

মার্ক্সের মতে, পুঁজিবাদী উৎপাদনব্যবস্থায় শ্রমিকের শ্রমের মাধ্যমে উৎপন্ন মূল্যের একটি অংশ মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়, আর অবশিষ্ট মূল্য পুঁজিপতি আত্মসাৎ করেন। এই অবশিষ্ট অংশকে তিনি উদ্বৃত্ত মূল্য (Surplus Value) হিসেবে বিশ্লেষণ করেন।

তাঁর মতে, উদ্বৃত্ত মূল্য উৎপাদন ও আত্মসাৎ পুঁজিবাদী শোষণ এবং পুঁজি সঞ্চয়ের ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

Stanford Encyclopedia of Philosophy

+1

৬. বিচ্ছিন্নতা তত্ত্ব

মার্ক্সের মতে, পুঁজিবাদী উৎপাদনব্যবস্থায় শ্রমিক নিজের উৎপাদিত পণ্য, শ্রমপ্রক্রিয়া এবং সৃজনশীল মানবিক সামর্থ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন। এই অবস্থাকে তিনি বিচ্ছিন্নতা (Alienation) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এর ফলে শ্রমিকের শ্রম তার নিজের স্বাধীন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড না হয়ে জীবিকা অর্জনের বাধ্যতামূলক উপায়ে পরিণত হতে পারে।

Stanford Encyclopedia of Philosophy

+1

৭. বিপ্লব ও সর্বহারা শ্রেণির ভূমিকা

মার্ক্সের তত্ত্ব অনুসারে, পুঁজিবাদী সমাজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং শ্রেণিসংঘাত সামাজিক পরিবর্তনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগঠন ও পুঁজিবাদী শ্রেণিব্যবস্থার রূপান্তরকে গুরুত্ব দেন।

তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি কেবল ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক উন্নতির বিষয় নয়; বরং উৎপাদনব্যবস্থা ও শ্রেণিসম্পর্কের পরিবর্তনের বিষয়।

Stanford Encyclopedia of Philosophy

+1

৮. শ্রেণিহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা

মার্ক্সের চিন্তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ, যেখানে উৎপাদনের উপকরণের ব্যক্তিগত মালিকানাভিত্তিক শ্রেণিবিভাজন ও শ্রেণিশোষণের অবসান ঘটবে। এই সমাজকে তিনি সাম্যবাদী সমাজ হিসেবে কল্পনা করেন।

তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, শ্রেণিবিভক্ত সমাজের পরিবর্তে শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে শ্রেণিবিরোধ দমনের জন্য রাষ্ট্রের প্রচলিত শ্রেণিগত ভূমিকারও অবসান ঘটবে। তবে এই রূপান্তরের নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ সম্পর্কে মার্ক্স বিস্তারিত নকশা দিয়ে যাননি।

Stanford Encyclopedia of Philosophy

+1

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, কার্ল মার্ক্সের রাষ্ট্রদর্শনের মূল কথা হলো—রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো এবং শ্রেণিসম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে বোঝা যায় না। ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, শ্রেণিসংগ্রাম, উদ্বৃত্ত মূল্য, বিচ্ছিন্নতা এবং শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ধারণার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজ বিশ্লেষণের একটি প্রভাবশালী কাঠামো নির্মাণ করেন। তাঁর চিন্তা পরবর্তী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, রাজনৈতিক তত্ত্ব এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

পরীক্ষার জন্য মূল বিষয়গুলো: দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ, ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, শ্রেণিসংগ্রাম, রাষ্ট্রের শ্রেণিগত চরিত্র, উদ্বৃত্ত মূল্য, বিচ্ছিন্নতা, সর্বহারা বিপ্লব এবং শ্রেণিহীন সমাজ।

 

 

 

**কার্ল মার্ক্সের (১৮১৮–১৮৮৩)** রাষ্ট্রদর্শনের মূল ভিত্তি হলো **ঐতিহাসিক বস্তুবাদ**, **শ্রেণিসংগ্রাম** এবং **উদ্বৃত্ত মূল্য**। এগুলোই তাঁর মৌলনীতি। প্রধান গ্রন্থ: *Communist Manifesto* (১৮৪৮, এঙ্গেলসের সঙ্গে) এবং *Das Kapital*।

 

### ঐতিহাসিক বস্তুবাদ

ইতিহাস চালিত হয় ধারণা বা নৈতিকতা দিয়ে নয়, **উৎপাদন ব্যবস্থা** দিয়ে।

 

- সমাজের **ভিত্তি (base)** হলো অর্থনৈতিক কাঠামো—উৎপাদন শক্তি ও উৎপাদন সম্পর্ক।

- এর ওপর দাঁড়ায় **উপরিকাঠামো (superstructure)**—রাষ্ট্র, আইন, ধর্ম, সংস্কৃতি, দর্শন।

- ভিত্তি বদলালে উপরিকাঠামোও বদলায়। ইতিহাসের ধাপ: আদিম সাম্যবাদ → দাস সমাজ → সামন্তবাদ → পুঁজিবাদ → সমাজতন্ত্র → সাম্যবাদ।

 

### শ্রেণিসংগ্রাম

মার্ক্সের বিখ্যাত বাক্য: ইতিহাস হলো **শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস**।

 

- প্রতিটি সমাজে দুটি প্রধান শ্রেণি—শোষক ও শোষিত।

- পুঁজিবাদে: **বুর্জোয়া** (উৎপাদনের মালিক) বনাম **প্রলেতারিয়েত** (শ্রম বিক্রি করে)।

- স্বার্থ বিরোধী, তাই সংঘাত অনিবার্য। শেষে শ্রমিকশ্রেণি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করবে।

 

### উদ্বৃত্ত মূল্য ও শোষণ

পুঁজিবাদের মূল রহস্য হলো **উদ্বৃত্ত মূল্য (surplus value)**।

 

- শ্রমিকের শ্রম যে মূল্য তৈরি করে, তার চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়।

- পার্থক্যটা মালিকের মুনাফা। এটাই শোষণ।

- পুঁজি জমা হতে থাকে, শ্রমিক দরিদ্র হয়—এই বৈপরীত্য পুঁজিবাদের সংকট ডেকে আনে।

 

### রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা

মার্ক্সের কাছে রাষ্ট্র নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নয়।

 

- রাষ্ট্র হলো **শাসকশ্রেণির হাতিয়ার**—শোষণ টিকিয়ে রাখার যন্ত্র।

- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বুর্জোয়া স্বার্থ রক্ষা করে।

- বিপ্লবের পর আসে **প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব**: পুরনো রাষ্ট্র ভেঙে শ্রমিকশ্রেণির রাষ্ট্র, যা শ্রেণিবিলোপের হাতিয়ার।

- শ্রেণিহীন সমাজে রাষ্ট্রের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়—রাষ্ট্র **বিলুপ্ত** হয়। এটাই সাম্যবাদ।

 

### বিচ্ছিন্নতা (Alienation)

পুঁজিবাদে শ্রমিক নিজের শ্রম, উৎপাদিত পণ্য, সহকর্মী এবং নিজের মানবসত্তা থেকে **বিচ্ছিন্ন** হয়ে পড়ে। কাজ হয়ে ওঠে বাধ্যতামূলক, সৃজনশীল নয়। সাম্যবাদে এই বিচ্ছিন্নতা দূর হবে।

 

### সংক্ষিপ্ত সারাংশ

| ধারণা | মূল কথা |

|---|---|

| ঐতিহাসিক বস্তুবাদ | অর্থনীতি ইতিহাস চালায় |

| শ্রেণিসংগ্রাম | শোষক–শোষিতের সংঘাতই ইতিহাস |

| উদ্বৃত্ত মূল্য | মুনাফা আসে শ্রমিকের অপরিশোধিত শ্রম থেকে |

| রাষ্ট্র | শাসকশ্রেণির দমনযন্ত্র; শ্রেণিহীন সমাজে লোপ পাবে |

| লক্ষ্য | শ্রেণিহীন, রাষ্ট্রহীন সাম্যবাদ |

 

মার্ক্স আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা করেননি। তিনি পুঁজিবাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ম বিশ্লেষণ করে দেখান যে তা নিজের ধ্বংস নিজেই তৈরি করে, এবং শ্রমিকশ্রেণির সংগ্রামের মাধ্যমেই নতুন সমাজ আসবে।

 

 

 

কার্ল মার্ক্স (Karl Marx, ১৮১৮–১৮৮৩) ছিলেন ১৯ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী জার্মান দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ। তাঁর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবধারাকে সমষ্টিগতভাবে 'মার্ক্সবাদ' (Marxism) বলা হয়।

 

মার্ক্সীয় রাষ্ট্রদর্শন ও মূলতত্ত্ব মধ্যযুগীয় বা ধ্রুপদী ভাববাদী দর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে সমাজ ও ইতিহাসের পরিবর্তনের পেছনে বস্তুগত ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

কার্ল মার্ক্সের রাষ্ট্রদর্শন ও মূলতত্ত্বের প্রধান স্তম্ভসমূহ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:



১. দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ (Dialectical Materialism)

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হলো মার্ক্সীয় দর্শনের ভিত্তি। মার্ক্স জার্মান দার্শনিক হেগেলের 'দ্বন্দ্ববাদ' (Dialectics) এবং ফিউয়েরবাখের 'বস্তুবাদ' (Materialism) গ্রহণ করে এই তত্ত্ব গড়ে তোলেন।



  • হেগেলের ধারণা: চিন্তা বা আত্মাই (Idea) সব পরিবর্তনের মূল।

 

  • মার্ক্সের সংশোধন: মার্ক্স বলেন, জগৎ চিন্তার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং চিন্তা ও সমাজ বস্তুর (Material world) ওপর নির্ভরশীল।

 

  • মূল নীতি: প্রতিটি সমাজের ভেতরেই একটি ব্যবস্থা থাকে, যাকে বলা যায় 'বাদ' (Thesis)। এর বিপরীতে একটি বিরোধী শক্তির জন্ম হয়, যা 'প্রতিবাদ' (Antithesis)। এই দুইয়ের সংঘর্ষের ফলে এক নতুন ব্যবস্থার জন্ম হয়, যাকে বলা হয় 'সংবাদ' (Synthesis)। এভাবে দ্বন্দ্বের মাধ্যমে সমাজ সামনের দিকে এগিয়ে চলে।

 

২. ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (Historical Materialism)

ঐতিহাসিক বস্তুবাদ হলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের সমাজ ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ। মার্ক্সের মতে, মানব ইতিহাসের ধারা মূলত উৎপাদন পদ্ধতির (Mode of Production) পরিবর্তনের ইতিহাস।



  • সমাজকে মার্ক্স দুটি ভাগে ভাগ করেছেন:



    1. ভিত্তি বা মৌলিক কাঠামো (Base/Substructure): অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, উৎপাদন শক্তি এবং উৎপাদনের সম্পর্ক।

 

    1. উপরি কাঠামো (Superstructure): আইন, রাজনীতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, সমাজব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।

 

  • মার্ক্সের মতে, অর্থনৈতিক ভিত্তিই ঠিক করে দেয় উপরি কাঠামো কেমন হবে। অর্থাৎ, অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলেই রাজনীতি, ধর্ম ও সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

 

৩. উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব (Theory of Surplus Value)

কার্ল মার্ক্স তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'দাস কাপিতাল' (Das Kapital)-এ ক্যাপিটালিজম বা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার শোষণের স্বরূপ উন্মোচন করতে এই তত্ত্ব দেন।



  • কোনো পণ্যের মান বা মূল্য নির্ধারিত হয় তা তৈরি করতে শ্রমিকের দেওয়া শ্রমের সময়কাল দিয়ে।

 

  • কিন্তু পুঁজিবাদীরা শ্রমিককে তার প্রদত্ত শ্রমের পুরো মজুরি দেয় না; কেবল টিকে থাকার মতো ন্যূনতম মজুরি দেয়।

 

  • পণ্যের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য থেকে শ্রমিকের মজুরি বাদ দেওয়ার পর যে বাড়তি অংশ বা মুনাফা থাকে, তা হলো 'উদ্বৃত্ত মূল্য' (Surplus Value)। এই উদ্বৃত্ত মূল্য পুঁজিবাদী শিল্পপতিরা অন্যায্যভাবে নিজের পকেটে পুরে নেয়, যা শোষণের মূল উৎস।

 

৪. শ্রেণী সংগ্রাম তত্ত্ব (Theory of Class Struggle)

'কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টো' (The Communist Manifesto, ১৮৪৮)-তে মার্ক্স ও এঙ্গেলস লেখেন:



"আজ পর্যন্ত বিদ্যমান সকল সমাজের ইতিহাস হলো শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস।"

 

মার্ক্সের মতে, ইতিহাসজুড়ে সমাজ প্রধানত দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত: শোষক শ্রেণী (যাদের হাতে উৎপাদনের উপাদান থাকে) এবং শোষিত শ্রেণী (যারা শ্রম বিক্রি করে)।

 

ঐতিহাসিক যুগ

শোষক শ্রেণী

শোষিত শ্রেণী

প্রাচীন দাস সমাজ

মনিব (Master)

দাস (Slave)

সামন্তবাদী সমাজ

সামন্তপ্রভু (Feudal Lord)

কৃষক/ভূমিদাস (Serf)

আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজ

বুর্জোয়া/পুঁজিপতি (Bourgeoisie)

সর্বহারা/শ্রমিক (Proletariat)

৫. মার্ক্সীয় রাষ্ট্রদর্শন (Marxist Concept of the State)

ধ্রুপদী রাজনৈতিক রাষ্ট্রচিন্তাবিদরা (যেমন হব্‌স, লক বা রুশো) রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমুখী বা নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলেও মার্ক্স রাষ্ট্রকে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন:



  • শোষণের যন্ত্র: মার্ক্সের মতে, রাষ্ট্র কোনো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নয়। রাষ্ট্র হলো শোষক বুর্জোয়া শ্রেণীর একটি হাতিয়ার, যা দিয়ে তারা শোষিত সর্বহারা শ্রেণীকে দমন করে রাখে।

 

  • সর্বহারার একনায়কত্ব (Dictatorship of the Proletariat): শ্রমিক শ্রেণী বিপ্লবের মাধ্যমে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভেঙে ফেলবে এবং সাময়িকভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব ও একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে পুঁজিবাদীরা পুনরায় ফিরে আসতে না পারে।

 

  • রাষ্ট্রের বিলুপ্তি (Withering Away of the State): সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার পর যখন শ্রেণীভেদ সম্পূর্ণ মুছে যাবে, তখন শোষণ করার জন্য রাষ্ট্রের আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না। ফলে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে (State will wither away)।

 

৬. সাম্যবাদ বা কমিউনিস্ট সমাজ (Communism)

রাষ্ট্র বিলুপ্তির পর যে নতুন শ্রেণীহীন ও রাষ্ট্রহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে, তাই হলো সাম্যবাদ বা কম্যুনিজমে।



  • এই সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তি (Private property) থাকবে না; সব সম্পদের মালিক হবে সমাজ বা রাষ্ট্র।

 

  • সামাজিক উৎপাদনের নীতি হবে: "প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রত্যেকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী ভোগ করবে।" ("From each according to his ability, to each according to his needs.")

 

সংক্ষেপে মার্ক্সীয় চিন্তার সারণী

[উৎপাদন ব্যবস্থার বৈষম্য] ➔ [শোষক ও শোষিত শ্রেণী সৃষ্টি] ➔ [শ্রেণী সংগ্রাম] ➔ [সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব] ➔ [সর্বহারার একনায়কত্ব] ➔ [শ্রেণীহীন ও রাষ্ট্রহীন সাম্যবাদী সমাজ]

কার্ল মার্ক্সের মূলতত্ত্ব ও রাষ্ট্রদর্শন কেবল বিশ্বকে বোঝার তত্ত্ব ছিল না, বরং বিশ্বকে পরিবর্তনের একটি বিপ্লবী রূপরেখা ছিল। তাঁর এই চিন্তাধারা ২০ শতকে রাশিয়া (সোভিয়েত ইউনিয়ন), চীনসহ বিশ্বের বহু দেশের রাজনীতি ও ইতিহাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

 

 

 

কার্ল মার্ক্স (১৮১৮–১৮৮৩) ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী। তার চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক দর্শনকে সামগ্রিকভাবে "মার্ক্সবাদ" (Marxism) বলা হয়, যা আধুনিক বিশ্ব ইতিহাস ও রাষ্ট্রদর্শনে এক গভীর প্রভাব ফেলেছে। নিচে কার্ল মার্ক্সের মূলনীতি ও রাষ্ট্রদর্শনের প্রধান দিকগুলো সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো:

১. দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ (Dialectical Materialism)

মার্ক্সীয় দর্শনের মূল ভিত্তি হলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। দার্শনিক হেগেলের 'দ্বান্দ্বিক তত্ত্ব' (যেখানে ভাব বা চিন্তাকে প্রধান বলা হয়েছিল) পরিবর্তন করে মার্ক্স বলেন, জগৎ কোনো অলৌকিক শক্তি বা চিন্তা দ্বারা পরিচালিত হয় না; বরং বস্তুই জগতের মূল উপাদান।

  • সমাজে প্রতিনিয়ত বিপরীতমুখী দুটি শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে।
  • এই দ্বন্দ্বের ফলেই সমাজের পরিবর্তন ঘটে এবং নতুন ব্যবস্থার জন্ম হয়।

২. ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (Historical Materialism)

এই তত্ত্বের মাধ্যমে মার্ক্স ইতিহাসের অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, মানব ইতিহাসের চালিকাশক্তি কোনো মহান ব্যক্তি বা চিন্তা নয়, বরং অর্থনীতি ও উৎপাদনের উপায়।

  • সমাজের কাঠামো দুটি ভাগে বিভক্ত:
    • ভিত্তি (Base): অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং উৎপাদন পদ্ধতি (কে উৎপাদন করছে এবং সম্পদের মালিক কে)।
    • উপরি-কাঠামো (Superstructure): রাজনীতি, আইন, ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রদর্শন (যা ভিত্তির ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে)।
  • উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তনের সাথে সাথে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাও বদলে যায়।

৩. শ্রেণী সংগ্রাম তত্ত্ব (Theory of Class Struggle)

মার্ক্স ও তার বন্ধু ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস তাদের বিখ্যাত ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’-এ লিখেছেন: "আজ পর্যন্ত যত সমাজ দেখা গেছে, তাদের সকলের ইতিহাস হলো শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস।"
মার্ক্সের মতে, সমাজে সবসময় দুটি প্রধান শ্রেণী থাকে:

  • বুর্জোয়া (Bourgeoisie): যারা উৎপাদনের উপাদান (কারখানা, জমি, মূলধন) নিয়ন্ত্রণ করে। তারা সংখ্যায় কম কিন্তু প্রভাবশালী।
  • সর্বহারা (Proletariat): যারা শ্রমিক শ্রেণী। বেঁচে থাকার জন্য তারা নিজেদের শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
    এই দুই শ্রেণীর স্বার্থের সংঘাতের কারণেই সমাজে বিপ্লব ঘটে।

৪. উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব (Theory of Surplus Value)

এটি মার্ক্সের অর্থনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

  • একজন শ্রমিক যে পরিমাণ মূল্যের পণ্য উৎপাদন করে, তাকে তার চেয়ে অনেক কম মজুরি দেওয়া হয়।
  • শ্রমিকের উৎপাদিত আসল মূল্য এবং তার পাওয়া মজুরির মধ্যকার যে পার্থক্য বা অতিরিক্ত অংশ, তাকেই মার্ক্স "উদ্বৃত্ত মূল্য" বলেছেন।
  • পুঁজিবাদী মালিকরা এই উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাৎ করে ধনী হয়, যাকে মার্ক্স শ্রমিক শোষণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

৫. রাষ্ট্রদর্শন (Marxist Theory of State)

মার্ক্সের দৃষ্টিতে রাষ্ট্র কোনো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নয়। রাষ্ট্রের চরিত্র সম্পর্কে তার মূল ভাবনাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • শোষণের হাতিয়ার: মার্ক্সের মতে, রাষ্ট্র হলো ধনী বা শাসক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করার এবং দরিদ্র বা শ্রমিক শ্রেণীকে দমন করার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার।
  • সর্বহারাদের একনায়কত্ব (Dictatorship of the Proletariat): পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতনের পর সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্যবর্তী সময়ে শ্রমিক শ্রেণী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবে এবং ধনীদের প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে নিজেদের শাসন কায়েম করবে।
  • রাষ্ট্রের বিলুপ্তি (Withering away of the State): মার্ক্স বিশ্বাস করতেন, যখন সমাজে কোনো শ্রেণীভেদ থাকবে না (সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে), তখন আর কাউকে দমন করার প্রয়োজন হবে না। ফলে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে রাষ্ট্রের আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না এবং রাষ্ট্র একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

সমাজ পরিবর্তনের চূড়ান্ত লক্ষ্য: সাম্যবাদ (Communism)

কার্ল মার্ক্সের রাষ্ট্রদর্শনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি শ্রেণীহীন ও রাষ্ট্রহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এমন একটি সমাজ যেখানে উৎপাদনের ওপর পুরো সমাজের মালিকানা থাকবে এবং প্রত্যেকে "তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভোগ করবে"।

No comments:

Post a Comment