### *অভিবাসন (Migration) বলতে কি বুঝায়?*
সহজ ভাষায় - *এক জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাস করাই অভিবাসন।*
মানুষ জন্ম থেকে অভিবাসী। আদিম মানুষ গুহা ছেড়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে গেছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সংজ্ঞা:
> যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তার স্বাভাবিক বাসস্থান ত্যাগ করে অন্য স্থানে গিয়ে বসবাসের উদ্দেশ্যে গমন করে, তখন তাকে অভিবাসন বলে।
*২টি শব্দ মনে রাখো - পরীক্ষায় আসে:*
১. *বহির্গমন (Emigration):* দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া - যেমন বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়া, বাংলাদেশের জন্য এটি Emigration।
২. *অন্তর্গমন (Immigration):* দেশে ঢোকা - ইতালির জন্য এটি Immigration।
#### *১. অভিবাসনের ধরণ - ৬টি ভাগে ভাগ করবে*
*ক) সীমানা অনুযায়ী ২ প্রকার:*
১. *অভ্যন্তরীণ অভিবাসন (Internal Migration):* দেশের ভেতরেই এক জেলা থেকে আরেক জেলায়। যেমন - রংপুর থেকে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতে আসা। এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি।
- গ্রাম থেকে শহরে
- শহর থেকে গ্রামে
- গ্রাম থেকে গ্রামে
- শহর থেকে শহরে
২. *আন্তর্জাতিক অভিবাসন (International Migration):* এক দেশ থেকে আরেক দেশে। যেমন - বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব।
*খ) স্থায়িত্ব অনুযায়ী ২ প্রকার:*
৩. *স্থায়ী অভিবাসন (Permanent):* একেবারে চলে যাওয়া। যেমন - বাংলাদেশ থেকে কানাডায় PR নিয়ে চলে যাওয়া। আর ফিরবে না।
৪. *অস্থায়ী / সাময়িক অভিবাসন (Temporary):* কিছুদিনের জন্য। যেমন - সৌদিতে ৫ বছরের জন্য কাজ করতে যাওয়া, পড়াশোনার জন্য আমেরিকা যাওয়া। এর মধ্যে আবার *মৌসুমি অভিবাসন* আছে - ধান কাটার সময় উত্তরবঙ্গ থেকে শ্রমিক আসে।
*গ) ইচ্ছা অনুযায়ী ২ প্রকার:*
৫. *স্বেচ্ছা অভিবাসন (Voluntary):* নিজের ইচ্ছায় ভালো থাকার জন্য যাওয়া। যেমন - উন্নত জীবনের জন্য আমেরিকা যাওয়া।
৬. *জোরপূর্বক / বাধ্যতামূলক অভিবাসন (Forced):* বাধ্য হয়ে যাওয়া। যেমন -
- ১৯৭১ সালে ১ কোটি বাঙালি ভারতে শরণার্থী
- রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে
- যুদ্ধ, দাঙ্গা, নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাধ্য হয়ে যাওয়া। একে *উদ্বাস্তু* বলে।
*আরো ২টি গুরুত্বপূর্ণ ধরণ:*
৭. *মেধা পাচার (Brain Drain):* মেধাবীরা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়া। বাংলাদেশের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আমেরিকায় চলে যাচ্ছে।
৮. *Chain Migration:* একজন যায়, তারপর তার ভাই, চাচা, গ্রামের সবাইকে নিয়ে যায়। সিলেট থেকে লন্ডনে এভাবে গেছে।
#### *২. অভিবাসনের প্রধান কারণ - ৫টি কারণ - Everett Lee এর Push-Pull Theory দিয়ে লিখবে*
পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নম্বর পাবে Push-Pull তত্ত্ব দিয়ে লিখলে।
সমাজবিজ্ঞানী *Everett Lee* বলেন - প্রতিটি জায়গায় কিছু *Push Factor (ঠেলে দেওয়ার কারণ)* আছে যা মানুষকে বের করে দেয়, আর কিছু *Pull Factor (টেনে নেওয়ার কারণ)* আছে যা মানুষকে টেনে নেয়।
Push Factor (কেন গ্রাম/দেশ ছাড়ে) | Pull Factor (কেন শহর/বিদেশে যায়)
**১. অর্থনৈতিক কারণ (সবচেয়ে বড়):** বেকারত্ব, জমি নেই, ফসল হয় না, ঋণ | চাকরি, বেশি বেতন, ব্যবসা, গার্মেন্টস, বিদেশে ডলার
**২. সামাজিক কারণ:** জাতিভেদ, ধর্মীয় নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, সামাজিক নিরাপত্তা নেই | শহরে স্বাধীনতা, শিক্ষা, হাসপাতাল, আধুনিক জীবন, মেয়েদের স্বাধীনতা
**৩. রাজনৈতিক কারণ:** যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, রোহিঙ্গা নির্যাতন | শান্তি, গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, কানাডা/আমেরিকায় আইনের শাসন
**৪. প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত কারণ:** নদীভাঙন, বন্যা, খরা, জলবায়ু পরিবর্তন, সিডর, আইলা | নিরাপদ আশ্রয়, উঁচু জায়গা, বাঁধ আছে এমন এলাকা
**৫. জনসংখ্যাগত কারণ:** জমিতে জনসংখ্যা বেশি, ভাগে কম পড়ে | শহরে সুযোগ বেশি মনে হয়
*বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৩টি প্রধান কারণ উদাহরণসহ:*
১. *অর্থনৈতিক - ৮০%:* গ্রামে কাজ নেই, তাই ঢাকায়। দেশে বেতন ১৫ হাজার, দুবাইয়ে ৮০ হাজার, তাই বিদেশে।
২. *পরিবেশগত:* প্রতি বছর নদীভাঙনে ১ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়, তারা ঢাকায় বস্তিতে আসে। কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তু।
৩. *সামাজিক - Chain Migration:* আমার মামা ইতালিতে আছে, সে আমাকে নেবে - তাই আমিও যাবো।
#### *৩. অভিবাসনের ফলাফল - ২ লাইনে (উপসংহারে লিখবে)*
*ভালো দিক:* রেমিট্যান্স আসে (বাংলাদেশের ২য় আয়), বেকারত্ব কমে, জ্ঞান বাড়ে।
*খারাপ দিক:* গ্রাম ফাঁকা হয়, শহরে বস্তি বাড়ে, মেধা পাচার হয়, পরিবার ভাঙে।
*পরীক্ষায় শেষ করার ট্রিক:*
> অভিবাসন হলো মানব ইতিহাসের চিরন্তন সত্য। মানুষ যেখানে Push (অভাব, ভয়) দেখে, সেখান থেকে পালায়, আর যেখানে Pull (আশা, সুযোগ) দেখে, সেখানে যায়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন হলো গ্রাম থেকে শহরে, আর আন্তর্জাতিক অভিবাসন হলো দক্ষিণ থেকে উত্তরে - গরিব দেশ থেকে ধনী দেশে। তাই অভিবাসন বন্ধ করা যাবে না, একে পরিকল্পিত করতে হবে।
*এক লাইনে মুখস্থ:*
অভিবাসন = Push + Pull। ঠেলে দেয় অভাব, টেনে নেয় আশা।
অভিবাসন (Migration) হলো জীবনযাপন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা বা পারিবারিক কারণে মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি স্থানান্তর। এটি দেশের অভ্যন্তরে হতে পারে, আবার এক দেশ থেকে অন্য দেশেও হতে পারে।[bn.banglapedia][sathee.iitk.ac]
অভিবাসনের সংজ্ঞা
বাংলাপিডিয়ার মতে, অভিবাসন হলো এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে মানুষের স্থানান্তর; এতে গ্রাম থেকে শহরে যাওয়া, স্থান বদল, সাময়িক অনুপস্থিতি বা স্থায়ী আবাস পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক ভূগোল ও জনসংখ্যাতত্ত্বের দৃষ্টিতে এটি জনসংখ্যার পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কারণ এটি শ্রমশক্তি, নগরায়ণ ও উন্নয়নের ভৌগোলিক বণ্টনকে প্রভাবিত করে।[bn.banglapedia][sathee.iitk.ac]
অভিবাসনের ধরণ
| ভিত্তি | ধরণ | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| ভৌগোলিক সীমা | অভ্যন্তরীণ অভিবাসন | একই দেশের মধ্যে গ্রাম থেকে শহরে, বা এক প্রদেশ/অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর। [sathee.iitk.ac] |
| ভৌগোলিক সীমা | আন্তর্জাতিক অভিবাসন | এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা। [sathee.iitk.ac][testbook] |
| সময়ের দৈর্ঘ্য | সাময়িক অভিবাসন | কাজ, পড়াশোনা বা পারিবারিক কারণে সাময়িকভাবে স্থান পরিবর্তন; পরে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। [bn.banglapedia] |
| সময়ের দৈর্ঘ্য | স্থায়ী অভিবাসন | আজীবনের জন্য নতুন স্থানে বসতি স্থাপন। [bn.banglapedia][teachers.gov] |
| ইচ্ছার ভিত্তি | স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন | ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্তে—যেমন চাকরি, শিক্ষা বা উন্নত জীবনযাত্রার জন্য—অভিবাসন। [anusoron] |
| ইচ্ছার ভিত্তি | বলপূর্বক অভিবাসন | যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বা দুর্যোগের কারণে বাধ্য হয়ে স্থান ত্যাগ। [anusoron] |
| দিকের ভিত্তি | অভিগমন ও অভিপ্রয়াণ | গন্তব্য দেশের দৃষ্টিতে মানুষের আগমন হলো অভিগমন; উৎস দেশের দৃষ্টিতে দেশত্যাগ হলো অভিপ্রয়াণ। |
প্রধান কারণ
অভিবাসনের কারণকে সাধারণত দুই ভাগে বিশ্লেষণ করা হয়: বিকর্ষণমূলক বা ধাক্কা কারণ (Push Factors) এবং আকর্ষণমূলক বা টান কারণ (Pull Factors)।[teachers.gov][sattacademy]
বিকর্ষণমূলক কারণ
এগুলো মানুষকে নিজ আবাস ছেড়ে যেতে বাধ্য বা উদ্বুদ্ধ করে।[sattacademy]
- দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাব।[sattacademy][as.wikipedia]
- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ।[sattacademy][geogyan]
- যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতন।[anusoron]
- ধর্মীয়, জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা।[sattacademy][as.wikipedia]
- জমির অভাব, জনসংখ্যাচাপ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক মন্দা।[sattacademy]
আকর্ষণমূলক কারণ
এগুলো গন্তব্যস্থলের সুবিধার কারণে মানুষকে সেখানে যেতে উৎসাহিত করে।[sattacademy]
- কর্মসংস্থান, উচ্চ মজুরি ও অর্থনৈতিক সুযোগ।[sattacademy]
- উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা।[sattacademy]
- আত্মীয়স্বজন, জাতিগত সম্প্রদায় বা পূর্বে অভিবাসী পরিবারের উপস্থিতি।[sattacademy]
- বিবাহ, পারিবারিক পুনর্মিলন ও সম্পত্তি লাভের সুযোগ।[sattacademy]
- দক্ষ শ্রমিক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক বা পেশাদারদের জন্য বিশেষ চাহিদা।[sattacademy]
সামাজিক তাৎপর্য
অভিবাসন কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কাঠামোকে প্রভাবিত করে। গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন নগরায়ণ ত্বরান্বিত করে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন রেমিট্যান্স, শ্রমবাজার ও জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তন করে, আর বলপূর্বক অভিবাসন শরণার্থী সংকট ও মানবাধিকার প্রশ্ন তৈরি করে।[bn.banglapedia][anusoron]
অভিবাসন: সংজ্ঞা, ধরন ও প্রধান কারণ
অভিবাসনের সংজ্ঞা
অভিবাসন (Migration) হলো মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের উদ্দেশ্যে, ভৌগোলিক স্থানান্তর। এটি একটি দেশের ভেতরেও ঘটতে পারে, আবার এক দেশ থেকে অন্য দেশেও। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর সংজ্ঞায়, অভিবাসী এমন ব্যক্তি, যিনি নিজের স্বাভাবিক বসবাসের স্থান ছেড়ে অন্যত্র যান, তা রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে হোক বা একই দেশের ভেতরে, এবং কারণ, সময়কাল বা স্বেচ্ছা-অনিচ্ছা যা-ই হোক।
একই প্রক্রিয়াকে দুই দিক থেকে দেখা যায়:
- দেশান্তর বা Emigration: নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যাওয়া। যেমন, বাংলাদেশ থেকে কেউ মালয়েশিয়ায় গেলে সে বাংলাদেশের দৃষ্টিতে দেশান্তরী।
- অভিবাসন বা Immigration: অন্য দেশ থেকে এসে কোনো দেশে বসতি স্থাপন করা। একই ব্যক্তি মালয়েশিয়ার দৃষ্টিতে অভিবাসী।
অভিবাসনের ধরন
অভিবাসনকে বিভিন্ন মানদণ্ডে ভাগ করা যায়।
১. সীমানার ভিত্তিতে
- অভ্যন্তরীণ অভিবাসন: দেশের ভেতরেই স্থানান্তর, যেমন গ্রাম থেকে শহরে বা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়া। গ্রাম-শহর অভিবাসন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সবচেয়ে প্রচলিত রূপ।
- আন্তর্জাতিক অভিবাসন: এক রাষ্ট্র থেকে অন্য রাষ্ট্রে যাওয়া। এর মধ্যে আবার মহাদেশীয় ও আন্তঃমহাদেশীয় অভিবাসন আছে।
২. সময়কালের ভিত্তিতে
- স্থায়ী অভিবাসন: চিরতরে নতুন জায়গায় বসবাসের উদ্দেশ্যে যাওয়া।
- সাময়িক অভিবাসন: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, যেমন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক বা শিক্ষার্থী।
- মৌসুমি অভিবাসন: বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কাজের খোঁজে যাওয়া ও ফিরে আসা, যেমন ফসল কাটার মৌসুমে শ্রমিকদের স্থানান্তর।
- চক্রাকার অভিবাসন: উৎস ও গন্তব্য অঞ্চলের মধ্যে বারবার যাতায়াত।
৩. ইচ্ছার ভিত্তিতে
- স্বেচ্ছা অভিবাসন: ভালো কাজ, শিক্ষা বা জীবনযাত্রার আশায় নিজের সিদ্ধান্তে যাওয়া।
- বাধ্যতামূলক অভিবাসন: যুদ্ধ, নিপীড়ন, দুর্যোগ বা জোরজবরদস্তির কারণে পালাতে বাধ্য হওয়া। শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা এর অন্তর্ভুক্ত। দাসপ্রথার যুগে আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় জোরপূর্বক নেওয়া মানুষ এর ঐতিহাসিক উদাহরণ।
৪. আইনি মর্যাদার ভিত্তিতে
- বৈধ অভিবাসন: ভিসা, কাজের অনুমতি বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া মেনে যাওয়া।
- অবৈধ বা অনিয়মিত অভিবাসন: যথাযথ অনুমতি ছাড়া সীমান্ত পার হওয়া বা ভিসার মেয়াদ শেষের পরও থেকে যাওয়া।
৫. উদ্দেশ্য ও অন্যান্য ধরন
- শ্রম অভিবাসন, পারিবারিক অভিবাসন (পরিবারের সদস্যের সঙ্গে মিলিত হতে), শিক্ষা অভিবাসন এবং প্রত্যাবাসন (নিজ দেশে ফিরে আসা)।
- শৃঙ্খল অভিবাসন: একজন আগে গিয়ে বসতি গড়লে আত্মীয় ও পরিচিতরা তাঁকে অনুসরণ করে যায়।
অভিবাসনের প্রধান কারণ
অভিবাসনের কারণ বোঝার সবচেয়ে প্রচলিত কাঠামো হলো ঠেলা ও টান ফ্যাক্টর (Push-Pull Factors), যা ই. এস. লি-র তত্ত্বে বিশেষভাবে আলোচিত। মানুষকে উৎস অঞ্চল থেকে "ঠেলে" বের করে দেয় কিছু প্রতিকূল অবস্থা, আর গন্তব্য অঞ্চল তাকে "টানে" আকর্ষণীয় সুযোগ দিয়ে।
১. অর্থনৈতিক কারণ
এটি সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ। ঠেলা ফ্যাক্টরের মধ্যে আছে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, কম মজুরি ও জমির অভাব। টান ফ্যাক্টর হলো উচ্চ আয়, বেশি কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নত অঞ্চলে ভালো সুযোগ। শিল্প বিপ্লবের সময় ইউরোপে গ্রাম থেকে শহরে এবং উনিশ শতকে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় বিপুল অভিবাসনের পেছনে এটিই প্রধান কারণ ছিল।
২. রাজনৈতিক কারণ
যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, স্বৈরশাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও জাতিগত সহিংসতা মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। সিরিয়া, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট এর সাম্প্রতিক উদাহরণ। বিপরীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা গন্তব্য দেশের আকর্ষণ বাড়ায়।
৩. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ
ধর্মীয় বা জাতিগত বৈষম্য, সামাজিক অবহেলা, বিবাহ বা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার প্রয়োজন, এবং আত্মীয়-স্বজনের আগে থেকে বসবাস করা এই শ্রেণির কারণ। অনেকে উন্নত জীবনযাত্রার মান বা সামাজিক মর্যাদার আশায়ও যায়।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যগত কারণ
উচ্চশিক্ষা, গবেষণা-সুবিধা ও উন্নত চিকিৎসার সন্ধানে বহু মানুষ, বিশেষত তরুণরা, বিদেশে যায়। এ থেকে অনেক সময় "মেধা পাচার" (Brain Drain) ঘটে, যখন দক্ষ মানুষ গন্তব্য দেশে থেকে যান।
৫. পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক কারণ
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন, ভূমিকম্প ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের অভিবাসন ক্রমশ বাড়ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় ও নদীভাঙন-প্রবণ অঞ্চল থেকে শহরমুখী অভিবাসন এর পরিচিত উদাহরণ।
৬. জনতাত্ত্বিক কারণ
অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও জনচাপ একটি অঞ্চল থেকে মানুষকে অন্যত্র ঠেলে দেয়। আবার উন্নত দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়লে শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে সেখানে অভিবাসী শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হয়।
৭. প্রযুক্তি ও যোগাযোগ
পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমের কারণে বিদেশের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সহজে পাওয়া যায় এবং যাতায়াত সহজ হয়। রেমিট্যান্স ও অভিবাসন-নেটওয়ার্কও নতুন অভিবাসীদের উৎসাহিত করে।
উপসংহার
অভিবাসন একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া, যা ইতিহাসের শুরু থেকেই মানব সমাজের অংশ। বাস্তবে সাধারণত একটি কারণ নয়, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। যেমন, একজন শ্রমিক অর্থনৈতিক অভাবের কারণে দেশ ছাড়েন, আবার জলবায়ু-বিপর্যয় বা পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। অভিবাসন উৎস ও গন্তব্য উভয় সমাজের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জনসংখ্যাকে প্রভাবিত করে, আর সেই কারণেই এটি সমাজবিজ্ঞান ও ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।
**অভিবাসন (Immigration)** বলতে সাধারণভাবে বোঝায়—কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর নিজের দেশ বা স্বাভাবিক বসবাসের স্থান ছেড়ে অন্য একটি দেশে বা অঞ্চলে গিয়ে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদীভাবে বসবাস করা। আন্তর্জাতিক আইনের পরিভাষায়, অভিবাসন হলো "নিজের দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে প্রবেশ করে সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের কাজ"। এটি পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদী শিক্ষার মতো সাময়িক ভ্রমণ থেকে আলাদা, যদিও অনেক ক্ষেত্রে মানুষ প্রথমে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা ছাড়াই অভিবাসন করে।
---
### 📌 অভিবাসনের ধরন (Types of Immigration)
অভিবাসনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। প্রধান শ্রেণিবিভাগগুলো নিচে দেওয়া হলো:
#### ১. ইচ্ছা ও বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে
- **স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন (Voluntary Migration):** নিজের ইচ্ছায়, ভালো জীবনের আশায় বা পছন্দের স্থানে বসবাসের জন্য স্থান ত্যাগ করা।
- **বাধ্যতামূলক অভিবাসন (Forced Migration):** যুদ্ধ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া। এদের মধ্যে শরণার্থী (Refugees) এবং আশ্রয়প্রার্থী (Asylum Seekers) অন্তর্ভুক্ত।
#### ২. ভৌগোলিক পরিধির ভিত্তিতে
- **অভ্যন্তরীণ অভিবাসন (Internal Migration):** একই দেশের ভেতরে এক অঞ্চল বা শহর থেকে অন্য অঞ্চলে বা শহরে যাওয়া (যেমন: গ্রাম থেকে শহরে)।
- **আন্তর্জাতিক অভিবাসন (International Migration):** এক দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে বসতি স্থাপন করা।
#### ৩. আইনি অবস্থান ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে (প্রধান চার ধরন)
আন্তর্জাতিক অভিবাসীদেরকে সাধারণত চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:
- **স্থায়ী বসতি স্থাপনকারী (Permanent Settlers):** যারা গন্তব্য দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি পায় এবং নাগরিকদের সমান অধিকার ভোগ করে।
- **অভিবাসী শ্রমিক (Migrant Workers):** যারা নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কাজের শর্তে সীমিত সময়ের জন্য বসবাসের অনুমতি পায়; কাজ শেষ হলে ফিরে যেতে হয়।
- **অনথিভুক্ত/অবৈধ অভিবাসী (Undocumented Migrants):** যারা গন্তব্য দেশের প্রবেশ, অবস্থান বা কাজের সমস্ত আইনি শর্ত পূরণ করেনি।
- **শরণার্থী (Refugees):** যারা নিজ দেশে জাতি, ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ ইত্যাদির কারণে নিপীড়নের ভয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেয়।
এছাড়াও **পরিবার পুনর্মিলন (Family Reunification)**, **দক্ষ অভিবাসন (Skilled Migration)**, এবং **অস্থায়ী/মৌসুমী শ্রম অভিবাসন** উল্লেখযোগ্য।
---
### ⚙️ অভিবাসনের প্রধান কারণসমূহ (Causes of Immigration)
অভিবাসনের কারণগুলো বিশ্লেষণের সবচেয়ে প্রচলিত কাঠামো হলো **"পুশ-পুল ফ্যাক্টর" (Push-Pull Factors)** তত্ত্ব। এখানে **পুশ ফ্যাক্টর** হলো সেই বাধ্যবাধকতা যা মানুষকে নিজের দেশ ছাড়তে ঠেলে দেয়, আর **পুল ফ্যাক্টর** হলো গন্তব্য দেশের সেই আকর্ষণ যা মানুষকে সেখানে টেনে নেয়।
#### ১. অর্থনৈতিক কারণ (Economic Factors)
- **পুশ:** নিজ দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিম্ন মজুরি, অর্থনৈতিক মন্দা বা জীবনযাত্রার নিম্নমান।
- **পুল:** গন্তব্য দেশে উচ্চ মজুরি, উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ, উচ্চ জীবনযাত্রার মান এবং শিক্ষার সুযোগ।
#### ২. সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ (Socio-Political Factors)
- **পুশ:** যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক নিপীড়ন, ধর্মীয় বা জাতিগত বৈষম্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন। এসব কারণে মানুষ প্রায়ই শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় খোঁজে।
- **পুল:** রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, আইনের শাসন এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি সহনশীলতা।
#### ৩. জনসংখ্যাতাত্ত্বিক কারণ (Demographic Factors)
- **পুশ:** উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সম্পদের ওপর চাপ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কাজের অভাব।
- **পুল:** উন্নত দেশগুলোতে জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং জন্মহার হ্রাসের কারণে শ্রমশক্তির ঘাটতি, যা অভিবাসী শ্রমিকদের আকর্ষণ করে।
#### ৪. পরিবেশগত ও জলবায়ু কারণ (Environmental & Climate Factors)
- **পুশ:** বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প বা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এসব কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে স্থান ত্যাগ করে।
- **পুল:** তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ।
#### ৫. পারিবারিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক (Family & Social Networks)
- ইতিমধ্যে অভিবাসিত পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের উপস্থিতি গন্তব্য দেশে যাওয়ার একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে, যা **"পরিবার পুনর্মিলন"** অভিবাসনের মূল ভিত্তি।
---
সংক্ষেপে, অভিবাসন কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, পরিবারের ভবিষ্যৎ, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং বেঁচে থাকার তাগিদে গৃহীত একটি জটিল সিদ্ধান্ত—যেখানে পুশ ও পুল ফ্যাক্টরগুলো একসঙ্গে করে।
অভিবাসন বলতে কী বোঝায়? এর ধরন ও প্রধান প্রধান কারণ বর্ণনা করুন।
ভূমিকা
মানবসমাজের ইতিহাসে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জনমিতিক প্রক্রিয়া। মানুষ জীবিকা অর্জন, উন্নত জীবনযাপন, শিক্ষা, নিরাপত্তা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে। এর ফলে জনসংখ্যার বণ্টন, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটে।
১. অভিবাসনের সংজ্ঞা
সাধারণ অর্থে, অভিবাসন (Migration) হলো জীবিকা, শিক্ষা, নিরাপত্তা বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক বসবাসের স্থান পরিবর্তন করে অন্য স্থানে গিয়ে বসবাস করার প্রক্রিয়া।
সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, অভিবাসন বলতে এমন একটি জনসংখ্যাগত প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মানুষ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে এক ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের কোনো গ্রামের মানুষ কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে বসবাস করলে তা অভিবাসনের উদাহরণ। আবার বাংলাদেশ থেকে কেউ চাকরির জন্য সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্রে গেলে সেটিও অভিবাসন।
২. অভিবাসনের ধরন
অভিবাসনকে বিভিন্ন ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। প্রধান ধরনগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
ক. অভ্যন্তরীণ অভিবাসন (Internal Migration)
একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বসবাসের উদ্দেশ্যে স্থানান্তরিত হওয়াকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বলে।
উদাহরণ: বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি গ্রাম থেকে ঢাকায় বা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে বসবাস করা।
অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের প্রধান উপধরনগুলো হলো—
গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন: কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নত সুযোগ-সুবিধার জন্য গ্রাম থেকে শহরে গমন।
শহর থেকে শহরে অভিবাসন: চাকরি, ব্যবসা বা উন্নত জীবনযাপনের জন্য এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়া।
গ্রাম থেকে গ্রামে অভিবাসন: কৃষিকাজ, জমি বা পারিবারিক কারণে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়া।
শহর থেকে গ্রামে অভিবাসন: অবসর গ্রহণ, কৃষিকাজ বা পারিবারিক কারণে শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়া।
খ. আন্তর্জাতিক অভিবাসন (International Migration)
একটি দেশের সীমানা অতিক্রম করে অন্য দেশে বসবাসের উদ্দেশ্যে স্থানান্তরিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন বলে।
উদাহরণ: বাংলাদেশ থেকে কোনো ব্যক্তি চাকরি বা উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডা, যুক্তরাজ্য কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে গমন করা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রধানত দুই প্রকার—
বহির্গমন বা Emigration: নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বসবাসের উদ্দেশ্যে চলে যাওয়া।
অন্তঃপ্রবেশ বা Immigration: অন্য দেশ থেকে কোনো দেশে এসে বসবাস শুরু করা।
যেমন, বাংলাদেশের একজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলে বাংলাদেশের দৃষ্টিতে তিনি বহির্গামী অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে অন্তঃপ্রবেশকারী অভিবাসী।
গ. স্থায়িত্বের ভিত্তিতে অভিবাসন
১. স্থায়ী অভিবাসন: যখন কোনো ব্যক্তি বা পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে অন্য স্থানে চলে যায়।
২. অস্থায়ী অভিবাসন: যখন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্য স্থানে গিয়ে বসবাস বা কাজ করা হয় এবং পরে ফিরে আসার পরিকল্পনা থাকে।
৩. মৌসুমি অভিবাসন: বছরের নির্দিষ্ট মৌসুমে কাজের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া। যেমন, কৃষিশ্রমিকদের ফসল কাটার মৌসুমে অন্য অঞ্চলে গমন।
ঘ. স্বেচ্ছামূলক ও বাধ্যতামূলক অভিবাসন
১. স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন: ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় উন্নত কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ব্যবসা বা জীবনযাপনের আশায় স্থান পরিবর্তন করে।
২. বাধ্যতামূলক অভিবাসন: যুদ্ধ, নির্যাতন, রাজনৈতিক সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা উচ্ছেদের কারণে মানুষ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বসতভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
উদাহরণ: যুদ্ধের কারণে নিজ দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্য দেশে যাওয়া।
৩. অভিবাসনের প্রধান প্রধান কারণ
অভিবাসনের পেছনে বিভিন্ন অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, পরিবেশগত ও ব্যক্তিগত কারণ কাজ করে। প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
১. অর্থনৈতিক কারণ
অভিবাসনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অর্থনৈতিক উন্নতি ও জীবিকার সন্ধান। মানুষ বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও কম আয়ের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় অন্য স্থানে যায়।
উদাহরণ: বাংলাদেশের বহু মানুষ কর্মসংস্থান ও অধিক আয়ের জন্য ঢাকা কিংবা বিদেশে গমন করে।
২. কর্মসংস্থানের সুযোগ
শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, নির্মাণকাজ ও সেবা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ মানুষকে অভিবাসনে উৎসাহিত করে। যেখানে কাজের সুযোগ বেশি, সেখানে মানুষ সাধারণত বেশি আকৃষ্ট হয়।
৩. শিক্ষা ও উন্নত প্রশিক্ষণ
উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ লাভের জন্য মানুষ অন্য শহর বা দেশে গমন করে।
উদাহরণ: উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়া।
৪. রাজনৈতিক কারণ
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এসব পরিস্থিতিতে মানুষ নিরাপদ জীবন ও স্বাধীনতার জন্য অন্য স্থানে আশ্রয় নেয়।
৫. সামাজিক ও পারিবারিক কারণ
পরিবারের সঙ্গে বসবাস, বিবাহ, আত্মীয়স্বজনের কাছে যাওয়া এবং সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যেও মানুষ অভিবাসন করে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একজন সদস্য বিদেশে যাওয়ার পর অন্য সদস্যরাও সেখানে চলে যান।
৬. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, খরা, ভূমিধস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের বসতি ও জীবিকার ক্ষতি করে। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যায়।
উদাহরণ: বাংলাদেশের নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অন্য জেলা বা শহরে চলে যেতে পারে।
৭. জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত অবক্ষয়
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, পানির সংকট এবং ভূমির উর্বরতা হ্রাসের কারণে মানুষের জীবিকা ব্যাহত হয়। এসব সমস্যা বিশেষ করে কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরে বাধ্য করতে পারে।
৮. উন্নত জীবনযাত্রা ও নাগরিক সুবিধা
উন্নত আবাসন, চিকিৎসা, পরিবহন, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা লাভের আশায় মানুষ গ্রাম থেকে শহরে কিংবা উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে অভিবাসন করে।
৯. জনসংখ্যার চাপ ও ভূমির অভাব
কোনো অঞ্চলে জনসংখ্যা বেশি হলে জমি, খাদ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় অনেক মানুষ জীবিকার বিকল্প সন্ধানে অন্য অঞ্চলে চলে যায়।
১০. বিবাহ ও পারিবারিক পুনর্মিলন
বিবাহের পর স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস এবং বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার জন্য মানুষ স্থান পরিবর্তন করে। আন্তর্জাতিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে পারিবারিক পুনর্মিলন একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
১১. ধর্মীয় ও জাতিগত নিপীড়ন
ধর্মীয় বিশ্বাস, জাতিগত পরিচয় বা সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হলে মানুষ নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অন্য স্থানে আশ্রয় নিতে পারে।
১২. উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা
উন্নত চিকিৎসাসেবা, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসুবিধা এবং নিরাপদ পরিবেশ লাভের উদ্দেশ্যেও মানুষ অন্য শহর বা দেশে স্থানান্তরিত হতে পারে।
৪. অভিবাসনের কারণ ব্যাখ্যায় ধাক্কা ও আকর্ষণ তত্ত্ব
অভিবাসনের কারণ ব্যাখ্যা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো ধাক্কা ও আকর্ষণ তত্ত্ব (Push-Pull Theory)।
ধাক্কা সৃষ্টিকারী কারণ (Push Factors)
যেসব প্রতিকূল পরিস্থিতি মানুষকে বর্তমান স্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য বা উৎসাহিত করে।
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব
যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
জমি ও জীবিকার অভাব
আকর্ষণ সৃষ্টিকারী কারণ (Pull Factors)
যেসব সুবিধা মানুষকে নতুন কোনো স্থানে যেতে আকৃষ্ট করে।
উন্নত চাকরি ও বেশি আয়
উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
উন্নত জীবনযাত্রা
উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের কোনো গ্রামের একজন ব্যক্তি কর্মসংস্থানের অভাবে (ধাক্কা) এবং ঢাকায় বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় (আকর্ষণ) ঢাকায় চলে যেতে পারেন।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, অভিবাসন একটি বহুমাত্রিক সামাজিক ও জনমিতিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে মানুষ নিজের বসবাসের স্থান পরিবর্তন করে নতুন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, রাজনৈতিক নিরাপত্তা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং পরিবেশগত পরিবর্তন অভিবাসনের প্রধান কারণ। অভিবাসনের ধরন ও কারণগুলো যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করলে জনসংখ্যার স্থানান্তর, নগরায়ণ এবং সমাজের পরিবর্তন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়।
**অভিবাসন** হলো মানুষের এমন স্থানান্তর, যাতে সে স্বাভাবিক বসবাসের জায়গা বদলে অন্য এলাকা বা দেশে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। শুধু ভ্রমণ, সফর বা অল্প সময়ের বেড়ানো অভিবাসন নয়—এখানে বসবাসের কেন্দ্র বদল হয়।
যে যায় সে **অভিবাসী**। নিজ দেশ ছেড়ে গেলে তাকে **প্রবাসী** বা দেশত্যাগী, নতুন দেশে ঢুকলে **অভিবাসী** (immigrant) বলা হয়।
## ধরন
**১. ভৌগোলিক সীমানা অনুসারে**
| ধরন | অর্থ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| অভ্যন্তরীণ | একই দেশের ভেতরে স্থান বদল | গ্রাম থেকে ঢাকা, এক শহর থেকে অন্য শহর |
| আন্তর্জাতিক | এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া | বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্র |
অভ্যন্তরীণ আবার চার রকম: গ্রাম→শহর, শহর→শহর, গ্রাম→গ্রাম, শহর→গ্রাম (প্রত্যাবর্তন বা অবসর)।
**২. সময় অনুসারে**
- **স্থায়ী** — নতুন জায়গায় দীর্ঘমেয়াদে বা চিরকাল থাকার ইচ্ছা।
- **অস্থায়ী / মৌসুমি / বৃত্তাকার** — কাজের মৌসুম শেষে বা কয়েক বছর পর ফেরা (যেমন ফসল কাটা, নির্মাণশ্রম, চুক্তিভিত্তিক প্রবাস)।
**৩. ইচ্ছা ও বাধ্যবাধকতা অনুসারে**
- **স্বেচ্ছায়** — কাজ, শিক্ষা, উন্নত জীবন বা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য।
- **বাধ্যতামূলক** — যুদ্ধ, নিপীড়ন, দুর্ভিক্ষ বা দুর্যোগে ঘরছাড়া। দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হলে **IDP**, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাইলে **শরণার্থী**। শরণার্থী ও সাধারণ শ্রম-অভিবাসী এক নয়: প্রথমজনের ফেরার নিরাপত্তা থাকে না।
**৪. আইনি অবস্থা অনুসারে**
- **নিয়মিত** — ভিসা, চুক্তি বা অনুমতি নিয়ে।
- **অনিয়মিত** — বৈধ কাগজপত্র ছাড়া প্রবেশ বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে থেকে যাওয়া।
**৫. উদ্দেশ্য অনুসারে**
শ্রম, পারিবারিক পুনর্মিলন, শিক্ষা, বিবাহ, অবসর, এবং জলবায়ু বা পরিবেশগত অভিবাসন।
## প্রধান কারণ
এভারেট লি-র **ধাক্কা–টান** কাঠামো দিয়ে কারণ বোঝা সহজ। উৎস এলাকা ঠেলে বের করে (**push**), গন্তব্য টানে (**pull**); মাঝখানে দূরত্ব, খরচ, ভিসা ও ভাষা বাধা দেয়।
**অর্থনৈতিক** — সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।
- ধাক্কা: বেকারত্ব, নিম্ন মজুরি, জমির অভাব, দারিদ্র্য, ঋণ।
- টান: চাকরি, বেশি আয়, ব্যবসার সুযোগ, রেমিট্যান্স পাঠানোর সম্ভাবনা।
**সামাজিক ও জনতাত্ত্বিক**
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও তরুণ শ্রমশক্তির চাপ।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নাগরিক সুবিধার অভাব।
- আগে যাওয়া আত্মীয়ের নেটওয়ার্ক (চেইন মাইগ্রেশন)—নতুনজনের ঝুঁকি ও খরচ কমায়।
- বিয়ে, পরিবার পুনর্মিলন।
**রাজনৈতিক**
- যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, নিপীড়ন, বৈষম্য, রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
- টান: নিরাপত্তা, আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, আশ্রয়ের সুযোগ।
**পরিবেশগত**
- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি।
- জীবিকা (কৃষি, মৎস্য) নষ্ট হলে মানুষ আগে শহরে, পরে প্রবাসে সরে।
**সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক**
- উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষতা অর্জন, ভিন্ন জীবনধারা।
- কুসংস্কার বা সামাজিক বাধা থেকে মুক্তি (যেমন লিঙ্গ বা বর্ণভিত্তিক বৈষম্য)।
## সংক্ষেপে
অভিবাসন হলো বসবাসের স্থান বদল—দেশের ভেতরে বা বাইরে, স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে, সাময়িক বা স্থায়ীভাবে। কারণ একক নয়: উৎসের দারিদ্র্য, সংঘাত বা দুর্যোগ মানুষকে ঠেলে দেয়, গন্তব্যের কাজ, নিরাপত্তা ও নেটওয়ার্ক টানে। বাস্তবে বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত এই ধাক্কা ও টানের একসঙ্গে কাজ করার ফল।
১. অভিবাসনের প্রধান ধরণসমূহ
ক) ভৌগোলিক সীমার ভিত্তিতে:
- আভ্যন্তরীণ অভিবাসন (Internal Migration): এটি একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে ঘটে থাকে। যেমন—বাংলাদেশ বা যেকোনো দেশের গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে শহরে চলে আসা (Rural to Urban Migration)।
- আন্তর্জাতিক অভিবাসন (International Migration): এক দেশের জাতীয় সীমানা পার হয়ে অন্য স্বাধীন দেশে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য যাওয়া। যেমন—দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য বা উত্তর আমেরিকায় পাড়ি জমানো।
খ) ইচ্ছার ভিত্তিতে:
- স্বেচ্ছায় বা স্বতঃস্ফূর্ত অভিবাসন (Voluntary Migration): যখন কোনো ব্যক্তি উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চশিক্ষা, ভালো চাকরি বা ভালো ভবিষ্যতের উদ্দেশ্যে নিজ ইচ্ছায় অন্য জায়গায় স্থানান্তর হয়।
- বাধ্যতামূলক বা বলপূর্বক অভিবাসন (Forced Migration): যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, দুর্ভিক্ষ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যখন মানুষ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জীবন বাঁচাতে স্থান ত্যাগ করে। (উদাহরণ: শরণার্থী বা বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী)।
গ) স্থায়িত্বের ভিত্তিতে:
- স্থায়ী অভিবাসন (Permanent Migration): যেখানে অভিবাসী ব্যক্তি নতুন দেশে বা স্থানে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার নিয়ে চিরতরে থেকে যান।
- অস্থায়ী বা ঋতুভিত্তিক অভিবাসন (Temporary / Seasonal Migration): নির্দিষ্ট চুক্তি, কাজ বা মৌসুম শেষ হলে মানুষ পুনরায় নিজ স্থানে ফিরে আসে। যেমন—কৃষি মৌসুমে বা নির্দিষ্ট মেয়াদী শ্রম চুক্তিতে প্রবাসী হওয়া।
২. অভিবাসনের প্রধান প্রধান কারণসমূহ
ক) বিকর্ষণমূলক কারণ (Push Factors) — যা মানুষকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে:
খ) আকর্ষণমূলক কারণ (Pull Factors) — যা মানুষকে নতুন স্থানের প্রতি আকৃষ্ট করে:
সারসংক্ষেপ
- অভ্যন্তরীণ অভিবাসন: দেশের অভ্যন্তরে এক অঞ্চল বা শহর থেকে অন্য অঞ্চলে বসতি পরিবর্তন (যেমন: গ্রাম থেকে শহরে বা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গমন)।
- আন্তর্জাতিক অভিবাসন: একটি দেশের ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে অন্য দেশে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাস করা।
- ঐচ্ছিক অভিবাসন: নিজের ইচ্ছা, উন্নত চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা ব্যবসায়িক কারণে স্বাধীনভাবে যে অভিবাসন ঘটে।
- কর্মসংস্থানের অভাব: নিজ এলাকায় বে-কারি বা কাজের সুযোগ না থাকা।
- উন্নত আয়ের আশা: অন্য দেশ বা শহরে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ।
- উন্নত শিক্ষা: উচ্চতর ডিগ্রি বা গবেষণার জন্য ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সান্নিধ্যে যাওয়া।
- চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মান: উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া।
- যুদ্ধ ও সংঘাত: দেশের ভেতরে গৃহযুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাত থেকে বাঁচা।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ঘূর্ণিঝড় বা ভূমিকম্পের কারণে বসতি নষ্ট হওয়া।
No comments:
Post a Comment